ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে সিইও হওয়ার গল্প শোনালেন শরণ রাস্তার সংস্কার চাই শোবার ঘর হোক শান্ত ও আরামদায়ক প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায়ের ১৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র দরজায় কাফনের কাপড়, চিরকুটে হুমকির বার্তা! রাবি ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যকর খাবারের স্বল্পতা এল নিনো: জলবায়ুর অস্থিরতা ও বাংলাদেশের ঝুঁকি মাস্টারকার্ড, এমটিবি ও জিপের যৌথ উদ্যোগে কো-ব্র্যান্ডেড প্রিপেইড কার্ড চালু এমআইএসটিতে দেশের প্রথম ফর্মুলা স্টুডেন্ট অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সামিট ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুতে ফাটল, থেমে গেল ভারী যান চলাচল হাসপাতালে ভর্তি নজরুল ইসলাম খান চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা না দেওয়ার জন্য মানববন্ধন ও সমাবেশ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ডিসকাউন্ট ফেস্ট সন্ত্রাসবাদকে কখনোই যৌক্তিক বলা যেতে পারে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের তাৎপর্য সেনেগাল ম্যাচের আগে সতর্ক বেলজিয়াম চমেক হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীরা পেল হাইজিন কিট ও আর্থিক অনুদান সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিসের যাত্রা শুরু মাঠে ফেরার লড়াইয়ে পাকুয়েতা আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েডে ওপেনক্ল অ্যাপ টাইব্রেকারে জার্মানির বিদায়ের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য রোগীদের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে চিকিৎসকদের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কুড়িগ্রামে তিস্তা ছাড়া সব নদ-নদীর পানি কমছে সন্তানরা ফিরিয়ে নিয়েছেন মুখ! অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের শরণাপন্ন মা সমর্থকদের ভালোবাসাই আমাদের জয়ের মূল চালিকাশক্তি: আগুইরে কালুখালীতে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে চালক নিহত সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে গাছ কাটার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২ রাজশাহীতে আরডিএ পার্ক উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী নরসিংদীতে কিশোরী ও প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার আমি স্বেচ্ছায় নির্বাসনে গিয়েছি: সৈয়দ আব্দুল হাদী

কুড়িগ্রামে তিস্তা ছাড়া সব নদ-নদীর পানি কমছে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
কুড়িগ্রামে তিস্তা ছাড়া সব নদ-নদীর পানি কমছে
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামে উজানের ঢল কমে আসা এবং গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নিম্নমুখী থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিস্তা নদীর পানি সামান‌্য বেড়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) কু‌ড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পাউবো জানায়, সকাল ৯টা পর্যন্ত কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ৩১ মিটার, যা বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবা‌হিত হচ্ছে। সকাল ৬টার তুলনায় পানি ২ সেন্টিমিটার কমেছে। একইভাবে তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার নদী পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে ২৯ দশমিক ৮২ ‌সে‌ন্টিমিটারে নেমেছে, যা বিপদসীমার ১ দশমিক ০৫ ‌মিটার নিচে রয়েছে।

এ দি‌কে দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৩৩ মিটার। এটি বিপদসীমার ২৭ সে‌ন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৬টার তুলনায় এ পয়েন্টে পানি ৩ সেন্টিমিটার কমেছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ২৫ দশমিক ০৭ মিটারে স্থির রয়েছে। অন্যদিকে হাতিয়া পয়েন্টে পানি ২ সেন্টিমিটার কমে ২৩ দশমিক ৫৩ মিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার কমে ২২ দশমিক ৪৯ মিটারে নেমেছে। দুটি পয়েন্টেই পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ৫‌ সে‌ন্টি‌মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ মিটার। যা বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবা‌হিত হ‌চ্ছে। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে তিস্তার পানি আবারও বাড়তে পারে বলে পাউবো জা‌নিয়েছে।

এ দিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু জায়গায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। বাড়ি, ঘর বিলীন হচ্ছে নদ-নদীতে। ভাঙনের ঝুঁকিতে বাড়ি, ঘর, রাস্তা, সরকারি প্রতিষ্ঠান। 

কু‌ড়িগ্রাম পা‌নি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রা‌কিবুল হাসান খবরের কাগজকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামে কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায়, মঙ্গলবার থেকে নদ-নদীর পা‌নি কমতে শুরু করছে। তবে তি‌স্তা নদীর পা‌নি সামান‌্য বৃ‌দ্ধি পেয়েছে।

জিএম সিরাজ/থিওটোনিয়াস/

দরজায় কাফনের কাপড়, চিরকুটে হুমকির বার্তা!

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
দরজায় কাফনের কাপড়, চিরকুটে হুমকির বার্তা!
ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের বাঁশভাগ গ্রামে এক কৃষকের শোবার ঘরের দরজার সামনে পাওয়া গেছে কাফনের কাপড় আর চিরকুট।

ওই কৃষক স্থানীয় জামাতকর্মী। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেও ওই চিরকুটে তাকে বলা হয়েছে তাকে আল্লাহ ছাড়া বাঁচাবার মতো কেউ নাই। 

ভুক্তভোগী ওই কৃষকের নাম আব্দুল গফুর(৬০)। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা।

আব্দুল গফুর জানান,বুধবার (১ জুলাই) ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলতেই সামনে পড়ে থাকতে দেখেন এক টুকরা কাফনের কাপড় আর একটি চিরকুট।

ওই চিরকুটে লেখা হয়েছে, সময় থাকতে ভাল হয়ে যা। পরে আর নাও সময় পেতে পারিস। আল্লাহ ছাড়া বাঁচাবার মতো কেউ নাই। অবস্থা খারাপ হওয়ার আগে ভাল হয়ে যা। আল্লাহ তোকে হেদায়েত দিক। মানুষের উপর নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে আল্লাহ ভীরু হো"।

এক প্রশ্নের জবাবে গফুর দাবি করেন,মঙ্গলবার দিনগত রাতের যে কোন সময় ওই কাপড় আর চিরকুট রেখে গেছে কেউ। এরপর থেকেই পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, তার জানামতে কোন শত্রু নেই। কারো কোন ক্ষতি করেছেন বলেও মনে পড়ে না।

স্থানীয় অধিবাসী জিয়া জানান, তাদের জানামতে গফুর জামাতের সক্রিয় কর্মী। নিজে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার পাশাপাশি মানুষের উপকার ছাড়া কখনও ক্ষতির চিন্তাও করেন না। তার বাড়িতে এমন ঘটনা,দুঃখজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, বেশ কিছুদিন থেকেই ওই এলাকাসহ নলডাঙ্গা উপজেলায় হেলমেট বাহিনী  তান্ডব চালিয়ে জামাত নেতা এমনকি বিএনপি কর্মীদেরও মারপিট করেছে। এখন ওই এলাকায় সর্বহারা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারাই এমন কাজ করতে পারে। এলাকাবাসীর শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি বলেও দাবি তাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নলডাঙ্গার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি০ নূরে আলম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে অপরাধীদের সনাক্তে কাজ চলছে।

কামাল মৃধা/এসএন

ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুতে ফাটল, থেমে গেল ভারী যান চলাচল

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুতে ফাটল, থেমে গেল ভারী যান চলাচল
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুর স্টিলের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় সেতু দিয়ে সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। 

বুধবার (১ জুলাই) সকালে পাটাতন ভেঙে একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক সেতুর ওপর আটকে পড়লে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে সেতুর দুই প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটির বিভিন্ন স্থানে স্টিলের পাটাতন ভেঙে গেছে এবং লোহার প্লেট (ট্যাংক জ্যাম) খুলে গেছে। এরপরও জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছিল।

জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু নির্মিত হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেতুর একটি অংশ ধ্বংস করা হয়। স্বাধীনতার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে সেতুটি সংস্কার করে ভূরুঙ্গামারীর দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়ন এবং কচাকাটা ও মাদারগঞ্জ এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ চালু করা হয়।

নির্মাণকালে সেতুটির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০০ বছর। সেই হিসেবে প্রায় ৪০ বছর আগেই এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেতুটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে সেতুটি অচল হয়ে গেলে সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর পাশে দুধকুমার নদের দক্ষিণাংশে ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণ শেষ হয়নি। এতে স্থানীয়দের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। তারা দ্রুত নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

সোনাহাট সেতু সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও নুর ইসলাম বলেন, পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচলের সময় পুরো সেতু থরথর করে কেঁপে ওঠে। সেতুটি এতটাই সরু যে, একটি ট্রাক চলাচলের সময় অন্য কোনো যানবাহনের যাওয়ার সুযোগ থাকে না। এতে প্রায়ই দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম বলেন, প্রায়ই সেতুর পাটাতন ভেঙে যায়, পরে সড়ক বিভাগ তা মেরামত করে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতু দিয়ে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হলে স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, সেতুটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সেতুটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ করে, যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।

এসএন/

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা না দেওয়ার জন্য মানববন্ধন ও সমাবেশ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা না দেওয়ার জন্য মানববন্ধন ও সমাবেশ
মানববন্ধন ও সমাবেশ করছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যরা। ছবি: খবরের কাগজ

বৈশ্বিক শক্তিগুলোর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে চট্টগ্রাম বন্দরকে টেনে আনার চেষ্টা চলছে। এ কারণে বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেছেন, বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা।

নেতারা বলেন, বর্তমান সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। সরকারকে দুর্বল অবস্থানে না থেকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে নগরের জামালখান এলাকায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন।

বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন, বন্দর রক্ষা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আবুল মোমেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড শাহ আলম, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার এবং ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আমাদের আন্দোলন সরকারবিরোধী নয়। দেশের সার্বভৌমত্ব, সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দাবিতেই এ কর্মসূচি। যদি সরকারের অদক্ষতার কারণে বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দেওয়ার যুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে একই যুক্তিতে কি সরকারও বিদেশিদের দিয়ে চালানো হবে? এটা আমরা চাই না। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশীয় অপারেটরের ব্যবস্থাপনায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবছর প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। লাভজনক এসব টার্মিনালের প্রতিই বিদেশি
প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাই বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সরকারকে তা বিবেচনায় নিতে হয়। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

এর আগে গত ২৯ জুন সংবাদ সম্মেলন করে বন্দর রক্ষা কমিটি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো :

১। এনসিটি ও সিসিটি দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের নিকট ইজারা প্রদানের সব উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২। চট্টগ্রাম বন্দরের সব টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হতে হবে।
৩। পতেঙ্গা, পানগাঁও, লালদিয়া চরসহ বন্দর-সংশ্লিষ্ট সব চুক্তি জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
৪। জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো গোপন সমঝোতা বা চুক্তি করা যাবে না।
৫। চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা, জাতীয় নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নিরাপত্তার আওতায় সংরক্ষণের বিষয়ে সরকারকে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।

নাঈম/

কুড়িগ্রামে তিস্তা ছাড়া সব নদ-নদীর পানি কমছে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
কুড়িগ্রামে তিস্তা ছাড়া সব নদ-নদীর পানি কমছে
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামে উজানের ঢল কমে আসা এবং গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নিম্নমুখী থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিস্তা নদীর পানি সামান‌্য বেড়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) কু‌ড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পাউবো জানায়, সকাল ৯টা পর্যন্ত কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ৩১ মিটার, যা বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবা‌হিত হচ্ছে। সকাল ৬টার তুলনায় পানি ২ সেন্টিমিটার কমেছে। একইভাবে তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার নদী পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে ২৯ দশমিক ৮২ ‌সে‌ন্টিমিটারে নেমেছে, যা বিপদসীমার ১ দশমিক ০৫ ‌মিটার নিচে রয়েছে।

এ দি‌কে দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৩৩ মিটার। এটি বিপদসীমার ২৭ সে‌ন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৬টার তুলনায় এ পয়েন্টে পানি ৩ সেন্টিমিটার কমেছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ২৫ দশমিক ০৭ মিটারে স্থির রয়েছে। অন্যদিকে হাতিয়া পয়েন্টে পানি ২ সেন্টিমিটার কমে ২৩ দশমিক ৫৩ মিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার কমে ২২ দশমিক ৪৯ মিটারে নেমেছে। দুটি পয়েন্টেই পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ৫‌ সে‌ন্টি‌মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ মিটার। যা বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবা‌হিত হ‌চ্ছে। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে তিস্তার পানি আবারও বাড়তে পারে বলে পাউবো জা‌নিয়েছে।

এ দিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু জায়গায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। বাড়ি, ঘর বিলীন হচ্ছে নদ-নদীতে। ভাঙনের ঝুঁকিতে বাড়ি, ঘর, রাস্তা, সরকারি প্রতিষ্ঠান। 

কু‌ড়িগ্রাম পা‌নি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রা‌কিবুল হাসান খবরের কাগজকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামে কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায়, মঙ্গলবার থেকে নদ-নদীর পা‌নি কমতে শুরু করছে। তবে তি‌স্তা নদীর পা‌নি সামান‌্য বৃ‌দ্ধি পেয়েছে।

জিএম সিরাজ/থিওটোনিয়াস/

সন্তানরা ফিরিয়ে নিয়েছেন মুখ! অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের শরণাপন্ন মা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
সন্তানরা ফিরিয়ে নিয়েছেন মুখ! অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের শরণাপন্ন মা
ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত ছয় সন্তানের জননী মোছা. চম্পা বেগম। ছবি: খবরের কাগজ
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ির মোছা. চম্পা বেগম (৮০)। চার ছেলে থাকা সত্বেও ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত এই বৃদ্ধা এবার নিজের ভিটায় থাকার অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
 
এই বৃদ্ধার অভিযোগ, ছেলেরা তাকে নিয়মিত ভরণপোষণ দেন না। এমনকি বসবাসের ঘর ভেঙে দিয়ে তাকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে স্বামী ইউনুছ আলীর মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারে বিরোধ শুরু হয়। বয়সের ভারে চলাফেরায় অক্ষম চম্পা বেগমের দাবি, তার তিন ছেলে আব্দুল কাদের, আব্দুল আজিজ ও ইব্রাহিম দীর্ঘদিন ধরে তার দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছেন না।

তিনি জানান, প্রথমে দ্বিতীয় ছেলে আব্দুল কাদেরের জায়গায় একটি ঘরে থাকতেন। সেখানে বিভিন্ন সময় মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। একপর্যায়ে নাতি পারভেজের লাঠির আঘাতে আহত হওয়ার পর ছোট ছেলে ইব্রাহিম ও নাতি সেলিম তার ঘরটি সরিয়ে আরেক ছেলে আব্দুল আজিজের জায়গায় নির্মাণ করে দেন।

চম্পা বেগমের অভিযোগ, প্রায় ১০ দিন আগে আব্দুল আজিজ ঘরটি ভেঙে ফেলেন এবং তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন। বর্তমানে তিনি বড় ছেলে চাঁন মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে শেষ জীবনে নিজের স্বামীর ভিটাতেই থাকতে চান বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবারের পক্ষ থেকে বৃদ্ধার জন্য একটি জরাজীর্ণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, যা একটি পরিত্যক্ত নর্দমার পাশে অবস্থিত।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী এবং একজন বৃদ্ধ নারীর জন্য সেখানে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর।

ঘটনার পর চম্পা বেগমের দুই মেয়ে ও তাদের স্বামীরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নিলেও অভিযুক্ত ছেলেরা উপস্থিত না হওয়ায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে তিনি প্রশাসনের শরণাপন্ন হন।

চম্পা বেগম বলেন, ’স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই কষ্টে আছি। ছেলেরা আমার ভরণপোষণ দেয় না, থাকার ঘরও ভেঙে দিয়েছে। এখন অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। আমি শুধু নিজের স্বামীর ভিটায় শেষ জীবনটা কাটাতে চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল কাদের ও ইব্রাহিম বলেন, ’চার ভাই মিলে বাবার কবরের পাশে তাদের মায়ের জন্য নতুন একটি ঘর নির্মাণ করবেন। পাশাপাশি দুই বোনের প্রাপ্য জমিও নিয়ম অনুযায়ী বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

তবে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, মৃত ইউনুছ আলীর নামে প্রায় ৩৬ শতাংশ জমি থাকলেও এখনো তা উত্তরাধিকারীদের নামে বণ্টন হয়নি। আইন অনুযায়ী চম্পা বেগম ও তার দুই মেয়েরও ওই সম্পত্তিতে অধিকার রয়েছে। অথচ জমি থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধা মায়ের স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা হয়নি।

এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বৃদ্ধা মা তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন এবং নিরাপদে নিজ ভিটায় বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত হবে।

জুয়েল রানা/আজহার/