কুড়িগ্রামে উজানের ঢল কমে আসা এবং গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নিম্নমুখী থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিস্তা নদীর পানি সামান্য বেড়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পাউবো জানায়, সকাল ৯টা পর্যন্ত কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ৩১ মিটার, যা বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৬টার তুলনায় পানি ২ সেন্টিমিটার কমেছে। একইভাবে তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার নদী পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে ২৯ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটারে নেমেছে, যা বিপদসীমার ১ দশমিক ০৫ মিটার নিচে রয়েছে।
এ দিকে দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৩৩ মিটার। এটি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৬টার তুলনায় এ পয়েন্টে পানি ৩ সেন্টিমিটার কমেছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ২৫ দশমিক ০৭ মিটারে স্থির রয়েছে। অন্যদিকে হাতিয়া পয়েন্টে পানি ২ সেন্টিমিটার কমে ২৩ দশমিক ৫৩ মিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার কমে ২২ দশমিক ৪৯ মিটারে নেমেছে। দুটি পয়েন্টেই পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ মিটার। যা বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে তিস্তার পানি আবারও বাড়তে পারে বলে পাউবো জানিয়েছে।
এ দিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু জায়গায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। বাড়ি, ঘর বিলীন হচ্ছে নদ-নদীতে। ভাঙনের ঝুঁকিতে বাড়ি, ঘর, রাস্তা, সরকারি প্রতিষ্ঠান।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান খবরের কাগজকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামে কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায়, মঙ্গলবার থেকে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করছে। তবে তিস্তা নদীর পানি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
জিএম সিরাজ/থিওটোনিয়াস/