অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে স্বামী ইউনুছ আলীর মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারে বিরোধ শুরু হয়। বয়সের ভারে চলাফেরায় অক্ষম চম্পা বেগমের দাবি, তার তিন ছেলে আব্দুল কাদের, আব্দুল আজিজ ও ইব্রাহিম দীর্ঘদিন ধরে তার দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছেন না।
তিনি জানান, প্রথমে দ্বিতীয় ছেলে আব্দুল কাদেরের জায়গায় একটি ঘরে থাকতেন। সেখানে বিভিন্ন সময় মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। একপর্যায়ে নাতি পারভেজের লাঠির আঘাতে আহত হওয়ার পর ছোট ছেলে ইব্রাহিম ও নাতি সেলিম তার ঘরটি সরিয়ে আরেক ছেলে আব্দুল আজিজের জায়গায় নির্মাণ করে দেন।
চম্পা বেগমের অভিযোগ, প্রায় ১০ দিন আগে আব্দুল আজিজ ঘরটি ভেঙে ফেলেন এবং তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন। বর্তমানে তিনি বড় ছেলে চাঁন মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে শেষ জীবনে নিজের স্বামীর ভিটাতেই থাকতে চান বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবারের পক্ষ থেকে বৃদ্ধার জন্য একটি জরাজীর্ণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, যা একটি পরিত্যক্ত নর্দমার পাশে অবস্থিত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী এবং একজন বৃদ্ধ নারীর জন্য সেখানে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর।
ঘটনার পর চম্পা বেগমের দুই মেয়ে ও তাদের স্বামীরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নিলেও অভিযুক্ত ছেলেরা উপস্থিত না হওয়ায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে তিনি প্রশাসনের শরণাপন্ন হন।
চম্পা বেগম বলেন, ’স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই কষ্টে আছি। ছেলেরা আমার ভরণপোষণ দেয় না, থাকার ঘরও ভেঙে দিয়েছে। এখন অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। আমি শুধু নিজের স্বামীর ভিটায় শেষ জীবনটা কাটাতে চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল কাদের ও ইব্রাহিম বলেন, ’চার ভাই মিলে বাবার কবরের পাশে তাদের মায়ের জন্য নতুন একটি ঘর নির্মাণ করবেন। পাশাপাশি দুই বোনের প্রাপ্য জমিও নিয়ম অনুযায়ী বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
তবে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, মৃত ইউনুছ আলীর নামে প্রায় ৩৬ শতাংশ জমি থাকলেও এখনো তা উত্তরাধিকারীদের নামে বণ্টন হয়নি। আইন অনুযায়ী চম্পা বেগম ও তার দুই মেয়েরও ওই সম্পত্তিতে অধিকার রয়েছে। অথচ জমি থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধা মায়ের স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা হয়নি।
এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বৃদ্ধা মা তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন এবং নিরাপদে নিজ ভিটায় বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত হবে।
জুয়েল রানা/আজহার/