যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে বজ্রপাতের ঝুঁকি দেখা দিলেই খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। স্থানীয় বজ্রপাত নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ৮ মাইল (প্রায় ১৩ কিলোমিটার) ব্যাসার্ধের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলেই ম্যাচ স্থগিত করা বাধ্যতামূলক।
এরপর টানা ৩০ মিনিট নতুন কোনো বজ্রপাত না হলে খেলা পুনরায় শুরু করা যাবে। তবে এ সময়ের মধ্যে আবার বজ্রপাত হলে ৩০ মিনিটের গণনা নতুন করে শুরু হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বজ্রপাতের ঝুঁকি শুধু ঝড়ের কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নয়; ঝড় থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেও বজ্রপাত হতে পারে। তাই মেঘের গর্জন শোনা মাত্রই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলেছে, বজ্রঝড়ের সময় খোলা জায়গায় অবস্থান নিরাপদ নয়; দ্রুত পাকা বা মজবুত ভবনে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আবহাওয়াবিদ ক্রিস ভেগাস্কির মতে, বজ্রাহত হওয়ার অনেক ঘটনা সরাসরি বজ্রপাতের কারণে নয়, বরং বিদ্যুতের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে ঘটে। সম্পূর্ণ ছাদযুক্ত ও আবদ্ধ স্টেডিয়াম তুলনামূলক নিরাপদ হলেও উন্মুক্ত বা আংশিক উন্মুক্ত স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের ঝুঁকি বেশি থাকে। সতর্কবার্তা জারি হলে দর্শকদের নিরাপদ করিডোর বা আবদ্ধ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।
ঐতিহাসিক আবহাওয়া বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিকেল ও সন্ধ্যার শুরুতে বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি, আর বিশ্বকাপের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও এ সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৬–২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটলে ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও মিয়ামি ও কানসাস সিটির উন্মুক্ত স্টেডিয়ামগুলোতে বজ্রপাতের আশঙ্কা বেশি। তাই এসব ভেন্যুতে ম্যাচ পরিচালনায় আয়োজকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
পাপ্পু/অন্তরা/