ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পেতে কাউকে কোথাও যেতে হবে না; বরং সংশ্লিষ্ট কর্মীরাই প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।
শনিবার (৪ জুলাই) রংপুর বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। জনগণ ও সংসদের কাছেই সরকারের জবাবদিহিতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দুর্নীতি করলে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।”
প্রতিবন্ধী শিক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের প্রায় ১ হাজার ৭০০টি স্কুল পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সেগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দক্ষ শিক্ষকের সংকট। দেশে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষক তৈরির উদ্দেশ্যে মাত্র একটি কলেজে এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে সমাজকল্যাণ ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, অতীতে নির্বাচন নিয়ে জনমনে আস্থার সংকট ছিল। তার ভাষায়, ভোটার উপস্থিতি ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়েছে, এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন বা ‘ডামি’ নির্বাচনও হয়েছে। সে সময় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার পরিবর্তে কিছু কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীলতা বেশি ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কী পরিমাণ বরাদ্দ আসছে, সে সম্পর্কেও অনেক জনপ্রতিনিধি অবগত থাকতেন না বলে দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে সরকার ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক খাতে বরাদ্দ রেখেছে, যা আগের সময়ের তুলনায় বেশি। তিনি বলেন, “যারা সরকারি সহায়তা পাওয়ার উপযুক্ত, তারা যেন তাদের ন্যায্য অধিকার পান, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল এবং বর্তমান সরকার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।”
মন্ত্রী বলেন, “বিগত সময়ে কী ধরনের সহযোগিতা পাওয়া গেছে এবং চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কী কী সহায়তা মিলেছে, তার মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করতে হবে। আপনারা যত বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, সরকারও তত বেশি আপনাদের পাশে থাকবে। কিন্তু আপনারা যদি নিষ্ক্রিয় থাকেন, তাহলে সরকারও কার্যকরভাবে এগোতে পারবে না। নিজ নিজ এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরতে হবে। উপজেলা পর্যায়ের সমস্যা উপজেলা থেকে, জেলা পর্যায়ের সমস্যা জেলা থেকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হলে সেগুলো কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি হবে।”
এর আগে সরকারী শিশু পরিবার বালিকা, অঞ্চিলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এসময় নারী সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারী কর্তকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সেলিম সরকার/এসএন