ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দেবহাটায় ব্ল্যাকমেইল করে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ, এরপর... ‘কে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, তা ঠিক করবে কম্পিউটার’ ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি উখিয়ার ট্রে ওভেন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন জাইকা প্রেসিডেন্ট আবারও বড় ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যানার্জী The Grocer and the Fruit seller বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৮ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর ম্যাকডোনাল্ডস-বাস টার্মিনাল এখন ক্লিনিক অপহরণ-মানবপাচার রোধে টেকনাফে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাজেটে অনেক পরিকল্পনা রাখা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী খামেনির দাফন, ট্রাম্পের কটাক্ষ আর ‘রফা’ প্রসঙ্গে নতুন বিতর্ক চকবাজারে আশিক টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে শ্যামনগরে ১৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার মাদক জব্দ স্বাস্থ্যখাতে খারাপ চর্চার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ-সৌদি আরবের সুসম্পর্ক স্থাপনে হজ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ১৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র অপরিচ্ছন্ন টয়লেটে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ভোগে বেরোবির শিক্ষার্থীরা ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচে বজ্রঝড়ের শঙ্কা কোটচাঁদপুরে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আসামির বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সেমিফাইনাল, আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল ফাইনাল, হবে কি পাগলাটে বিশ্বকাপ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৩৩ ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্রসহ কেএনএফ সদস্য আটক মিশ্র এআই ক্রলার ব্লক করবে ক্লাউডফ্লেয়ার ভাঙ্গুড়ায় যুবলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় বিক্ষোভ সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সব হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতায় ৬ নির্দেশনা An Honest Farmer বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ৭ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাইকা প্রেসিডেন্ট সাতক্ষীরায় দাবি না মানলে ৬ জুলাই থেকে ডাকঘর কর্মচারীদের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি খাগড়াছড়িতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ছাত্রলীগ নেতা আটক

স্বাস্থ্যখাতে খারাপ চর্চার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
স্বাস্থ্যখাতে খারাপ চর্চার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাতে কিছু খারাপ চর্চা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পুরো প্রক্রিয়াকে ‘রিসেট’ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা আগের মতো চলতে থাকলে কোনো পরিবর্তন আসবে না। কীভাবে গুণগত পরিবর্তন আনা যায়, সে বিষয়ে চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিজস্ব পরিকল্পনা সরকারের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।’

তিনি বলেন, ‘সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে- প্রয়োজনীয়তা, অগ্রাধিকার, কার্যকারিতা এবং পরিবেশগত বিবেচনা। অতীতের মতো দুর্নীতি বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, যেসব প্রকল্প থেকে জনগণ সর্বোচ্চ উপকার পাবে, সেসব প্রকল্পেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। চমেক হাসপাতালসহ পুরো স্বাস্থ্যখাতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে। সরকার প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। কারণ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমবে। মানুষের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপরও চাপ কমে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত। স্বাস্থ্যখাতে এবারের মতো এত বড় বরাদ্দ অতীতে কখনও দেওয়া হয়নি। তবে সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বৈশ্বিক সেরা চর্চাগুলো অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থ ব্যয় করলেই পরিবর্তন আসবে না, সেবার মান বাড়াতে প্রশাসনিক ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।’

এরপর ডেঙ্গু প্রকোপ বাড়ার কারণে চমেক হাসপাতালের ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫০ বেডের ডেঙ্গু ব্লক প্রস্তুত করা হয়েছে। দুপুরে মন্ত্রী ডেঙ্গু ব্লক উদ্বোধন করেন।

এরআগে, শনিবার সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বন্দর, বিমানবন্দর, ফ্রি জোন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রেল অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর ওপারে প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

খসরু বলেন, ‘শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো ও প্যাসেঞ্জার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক করিডর একটি শক্তিশালী লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে এবং দেশের বন্দরগুলো আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক্যাল সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে বাজেটে পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিতে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে, এরপর সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলোকে কাজে লাগানো হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে এবং বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।’

রিফাত/

‘কে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, তা ঠিক করবে কম্পিউটার’

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
‘কে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, তা ঠিক করবে কম্পিউটার’
রংপুর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পেতে কাউকে কোথাও যেতে হবে না; বরং সংশ্লিষ্ট কর্মীরাই প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

শনিবার (৪ জুলাই) রংপুর বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। জনগণ ও সংসদের কাছেই সরকারের জবাবদিহিতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দুর্নীতি করলে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।”

প্রতিবন্ধী শিক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের প্রায় ১ হাজার ৭০০টি স্কুল পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সেগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দক্ষ শিক্ষকের সংকট। দেশে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষক তৈরির উদ্দেশ্যে মাত্র একটি কলেজে এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে সমাজকল্যাণ ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, অতীতে নির্বাচন নিয়ে জনমনে আস্থার সংকট ছিল। তার ভাষায়, ভোটার উপস্থিতি ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়েছে, এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন বা ‘ডামি’ নির্বাচনও হয়েছে। সে সময় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার পরিবর্তে কিছু কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীলতা বেশি ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কী পরিমাণ বরাদ্দ আসছে, সে সম্পর্কেও অনেক জনপ্রতিনিধি অবগত থাকতেন না বলে দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে সরকার ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক খাতে বরাদ্দ রেখেছে, যা আগের সময়ের তুলনায় বেশি। তিনি বলেন, “যারা সরকারি সহায়তা পাওয়ার উপযুক্ত, তারা যেন তাদের ন্যায্য অধিকার পান, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল এবং বর্তমান সরকার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।”

মন্ত্রী বলেন, “বিগত সময়ে কী ধরনের সহযোগিতা পাওয়া গেছে এবং চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কী কী সহায়তা মিলেছে, তার মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করতে হবে। আপনারা যত বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, সরকারও তত বেশি আপনাদের পাশে থাকবে। কিন্তু আপনারা যদি নিষ্ক্রিয় থাকেন, তাহলে সরকারও কার্যকরভাবে এগোতে পারবে না। নিজ নিজ এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরতে হবে। উপজেলা পর্যায়ের সমস্যা উপজেলা থেকে, জেলা পর্যায়ের সমস্যা জেলা থেকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হলে সেগুলো কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি হবে।”

এর আগে সরকারী শিশু পরিবার বালিকা, অঞ্চিলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এসময় নারী সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারী কর্তকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

সেলিম সরকার/এসএন

চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাজেটে অনেক পরিকল্পনা রাখা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাজেটে অনেক পরিকল্পনা রাখা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মেয়র শাহাদাত। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় বাজেটে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম পৌঁছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট করা হয়েছে। বন্দর থাকার কারণে চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বভাবতই অনেক বেশি। শুধু সমুদ্র বন্দর নয়, চট্টগ্রামের একটা ভৌগলিক অবস্থান আছে। স্ট্র্যাটেজিক একটা অবস্থান আছে। সবকিছু মিলিয়ে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে আমাদের পরিকল্পনায় অনেক কিছু নিয়ে এসেছি।

মন্ত্রী বলেন, নদীর (কর্ণফুলী) ওপারে ৬০০ একর জমি নিয়ে একটা ফ্রি (ট্রেড) জোনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে অনেকগুলো পোর্ট আমরা
একসঙ্গে করতে যাচ্ছি। আমি আগে বারবার বলেছি, চট্টগ্রামকে একটা লজিস্টিক্যাল হাব করার জন্য। বাজেটে সেটার প্রতিফলন ঘটেছে।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর নিয়ে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এটাকে কার্গো হাব ও প্যাসেঞ্জার হাব করার পরিকল্পনা আছে। এখানে চাইনিজ ইকোনমিক জোন হতে যাচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম লিংকের জন্য লাকসামের যে বিষয়টা আছে (কর্ডলাইন) এতে ট্রেনের দুই ঘণ্টা ট্র্যাভেল টাইম কমে আসবে, পরিকল্পনায় সেটাও বলা আছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম যখন লজিস্টিক্যাল হাব হবে, তখন বন্দরগুলো অনেক বেশি কাজ করতে পারবে। আবার ওদিকে মাতারবাড়িতে বড় ধরণের একটা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এই অঞ্চলের যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আছে তা মাথায় রেখে বাজেটে পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এই কাজ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে। কাজগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুরু করার চেষ্টা চলছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু বলেন, কঠিন সময়ে এত বড় একটা বাজেট, আমরা যেটা বিগত সরকারগুলো থেকে ইনহেরিট করেছি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধসহ নানা কারণে অর্থনীতিটা এখন খুবই খারাপ অবস্থায় আছে, যেটা আমারা পেয়েছি। এখান থেকে আগে বেরিয়ে আসতে হবে। ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে হবে, তারপর সম্ভাবনার দিকে যাব। অর্থনীতির যে প্রসপেরিটি সেটা শুরু হয়ে যাবে তৃতীয়-চতুর্থ বছর থেকে এবং তখন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। দেশের সব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ওয়ান ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির যে ফোরকাস্ট আমরা করেছি, সেদিকে এগিয়ে যাব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর ও আইনজীবী আবদুস সাত্তারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট পেশের পর শনিবার সকালে প্রথম বারের মতো নিজ শহর চট্টগ্রাম আসেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার আগমন উপলক্ষে দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী বিমানবন্দরে উপস্থিত হন।

নাঈম/

চকবাজারে আশিক টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
চকবাজারে আশিক টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর চকবাজারের হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেট (খাজা মার্কেট) এলাকার আশিক টাওয়ারের আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে লালবাগ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পরে সহায়তার জন্য সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের আরও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে পথে তীব্র যানজটের কারণে ইউনিটগুলোর চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

তিনি বলেন, মোট ছয়টি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বিকাল ৩টা ১৪ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

২৪ ঘণ্টায় হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৩৩

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
২৪ ঘণ্টায় হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৩৩
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত সন্দেহে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৩৩ জন শিশু।

 শনিবার ৯৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৩৮ জন শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৩১ জন শিশু মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৬৯৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৫২৬।

এসএন/

সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সব হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতায় ৬ নির্দেশনা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সব হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতায় ৬ নির্দেশনা
সংগৃহীত

বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে সারা দেশের সব হাসপাতাল সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

একই সঙ্গে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ আগস্ট ২০২৬ বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে হাসপাতালগুলোর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা নিয়মিত করতে ছয়টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো: 

১) সব প্রতিষ্ঠান প্রধান স্ব-স্ব হাসপাতাল নিজ দায়িত্বে সার্বক্ষণিকভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন।

২) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অধীনস্থ হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মনিটর করবেন।

৩)পরিচালক, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল/বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতি শনিবার হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবেন।

৪) প্রত্যেক বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) উল্লিখিত তারিখসমূহে সংযুক্ত তালিকা (সংযুক্ত-১) অনুযায়ী জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষে সচিত্র পরিদর্শন প্রতিবেদন মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিচালক (প্রশাসন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর প্রেরণ করবেন।

৫) প্রত্যেক সিভিল সার্জন মাসের প্রত্যেক শনিবার সংযুক্ত তালিকা (সংযুক্ত-০২) অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। এরপর সচিত্র পরিদর্শন প্রতিবেদন মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিচালক (প্রশাসন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর প্রেরণ করবেন।

৬) ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে সব স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের বায়োমেট্রিক মেশিন সচল করে নিয়মিত বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করবেন। ব্যর্থতায় প্রতিষ্ঠান প্রধান দায়ী থাকবেন।

রিফাত/