ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা কঠিন লড়াইয়ের মানসিকতা থাকতে হবে : মার্তিনেস ফ্রান্সের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ বনাম গিল প্রাচীর ‘আহাদ! আহাদ!’ ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া নগরকান্দায় প্রবাসীর বাড়ি দখল করে তালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা বুবিস্তার নাটোরে ৩৫ ফুট কালী প্রতিমা ঘিরে পূজা ও মেলা মায়ানমারে বিমান হামলার আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ পদ্মায় শতাধিক ড্রেজারে বালু উত্তোলন ডাকসুর উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি-অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে কিনশাসা খবরের কাগজ ‘বন্ধুজন’ শৈলকুপা উপজেলা কমিটি গঠিত সহজ প্রতিপক্ষ বলা সমালোচকদের জবাব দিলেন স্কালোনি ইতিহাসের সাক্ষী জিগাগাড়ী জামে মসজিদ জুলাই শহিদদের স্মরণে আজ বিশেষ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসালেন মেসি আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ তিব্বতের পতাকা নিয়ে জাতিসংঘের সামনে আত্মহত্যা বাড়ছে জমি নিবন্ধনের খরচ ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন অভিজ্ঞতার ঢাল, গতির তলোয়ার ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে যে বার্তা দিলেন মিশরের কোচ ইসলামী ব্যাংক: ছুটি থেকে এসে জানতে পারেন চাকরি নেই আরাগচি-গালিবাফকেও হত্যা করতে চেয়েছিল ইসরায়েল কষ্টার্জিত জয়ে আত্মসমালোচনায় মেসি চট্টগ্রামে রাজস্ব আদায়ে শীর্ষে জ্বালানি-গাড়ি আমদানি অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে মেসির আরও একটি নতুন ইতিহাস উদাস করা বাবলা ফুল

বাড়ছে জমি নিবন্ধনের খরচ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
বাড়ছে জমি নিবন্ধনের খরচ
প্রতীকী ছবি।

সরকার এলাকাভেদে ফ্ল্যাট ও প্লটের প্রকৃত বিক্রয় মূল্য ও মৌজা মূল্যের মধ্যে ব্যবধান কমানোর উদ্যোগ দিয়েছে। এজন্য ফ্ল্যাট ও প্লট বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি চলতি অর্থ বছরের শুরু থেকে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

  • মৌজা মূল্য ও প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান কমাতে সরকার টাস্কফোর্স গঠন করেছে।
  • বাজারমূল্যে নিবন্ধন হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, তবে ক্রেতার খরচও বাড়বে।
  • ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বাড়তি নিবন্ধন ব্যয়ে আবাসন খাতে ক্রেতা কমবে।

সূত্র আরও জানায়, বিভিন্ন এলাকার ফ্ল্যাট ও প্লটের জন্য সরকার নির্ধারিত মৌজা মূল্যও ভিন্ন। এসব সম্পদের বিক্রয় মূল্য হিসেবে মৌজা মূল্য দলিলে উল্লেখ করা হয়। মৌজা মূল্যের ওপর হিসাব কষে কর আদায় হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে এসব সম্পদের প্রকৃত বিক্রয় দাম মৌজা মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।

নিবন্ধন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জমি নিবন্ধন থেকে সরকার বছরে সাত হাজার থেকে আট হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। বাজারমূল্য অনুযায়ী নিবন্ধন করা হলে এ খাত থেকে সরকারের আয় বেড়ে দ্বিগুণের কাছাকাছি হবে। রাজস্ব আদায় করতেই সরকার নতুন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজস্ব খাতের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নতুন এই উদ্যোগ কার্যকর হলে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে।

তবে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাজার দর অনুযায়ী ফ্ল্যাট ও প্লট বেচাকেনা হয়। মৌজা মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি থাকে প্রকৃত বিক্রয় মূল্য। প্রকৃত বিক্রয় মূল্যের হিসাবে কর আদায় করা হলে নিবন্ধন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। আবাসন খাতে ক্রেতা কমবে। সামগ্রিকভাবে আবাসন খাতের ব্যবসায়ে ধস নামবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, জমি ও ফ্ল্যাটের মৌজা মূল্য এবং প্রকৃত বাজার মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দূর করতে সরকার কাজ করছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে মৌজা রেট প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম নির্ধারিত থাকে, যা পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি কাজ করছে। সারা দেশে মৌজাভিত্তিক জরিপ পরিচালনা করে সম্পত্তির সঠিক মান বা রিয়েল ভ্যালু নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জমি ও ফ্ল্যাটের মৌজা মূল্য বাজারমূল্যের কাছাকাছি আনার জন্য সরকার সম্পত্তি নিবন্ধনের করহার যৌক্তিকীকরণের পদক্ষেপ নিয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, কর ফাঁকি দিতে ক্রেতা-বিক্রেতারা দলিলে কম মূল্য (মৌজা রেট) দেখান। এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। প্রকৃত বিক্রয় মূল্য এবং মৌজা মূল্য এক থাকলে মৌজা মূল্য অনুযায়ী কর কম দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়লেও আবাসন খাতের ক্রেতাদের খরচ বাড়বে। এতে খরচের কারণে অনেকে সম্পত্তি কেনা কমিয়ে দিতে পারেন। ফলে আবাসন খাতের ব্যবসায়ে ধস নামার আশঙ্কা থাকছে।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূইয়া খবরের কাগজকে বলেন, আবাসন ব্যবসা শহরকেন্দ্রিক। এখানে সাধারণত মৌজা মূল্য থেকে প্রকৃত বিক্রয় মূল্য অনেক বেশি। সরকার রাজস্ব আদায় বাড়াতে গিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। মৌজা মূল্য উল্লেখ করে কর দেওয়া হয়। প্রকৃত বিক্রয় মূল্য দলিলে উল্লেখ করতে আইন করা হলে ক্রেতার খরচ বাড়বে। এতে অনেকে ফ্ল্যাট ও প্লট কেনা কমিয়ে দেবে। ফলে আবাসন ব্যবসায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কেনাবেচা মূল্যের তুলনায় দলিল মূল্য কম হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে। বিক্রেতার বিপুল পরিমাণ অর্থ অপ্রদর্শিত বা অবৈধ আয়ে রূপান্তর হচ্ছে।

চলতি অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মৌজা মূল্য অনুযায়ী দলিল মূল্য লেখার সুযোগ দেওয়া হলেও প্রকৃত বিক্রয় মূল্য রিটার্নে উল্লেখ করতে আইনে বিধান আনা হয়। এ ক্ষেত্রে যে বাড়তি অর্থ লেনদেন হয়, তার ওপর বর্ধিত হারে কর ধার্য করা হয়। তবে নৈতিকতার প্রশ্নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আপত্তির মুখে বাজেট চূড়ান্তকালে তা বাতিল করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৌজা দর মানে হচ্ছে সর্বনিম্ন দর অর্থাৎ মৌজা দরের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে কেউ জমি কেনাবেচা করতে পারবে না। মৌজা দর নির্ধারণের কাজটি হয় ‘সর্বনিম্ন বাজারমূল্য বিধিমালা’ অনুযায়ী। বিধিমালা অনুযায়ী বাজারমূল্য নির্ধারণ করে একটি কমিটি। কমিটির মাধ্যমে দুই বছর পরপর বাজারমূল্য হালনাগাদ করার কথা আছে। এ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়ে (২২ মাস) দলিলে উল্লেখ করা দামের গড় করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। পরে এর ভিত্তিতে মৌজা দর চূড়ান্ত করে ভূমি নিবন্ধন অধিদপ্তর।

নিবন্ধন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার গুলশান সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অধীন মৌজা আছে ১৪টি। এই ১৪ মৌজায় ৮ ধরনের জমি আছে। মৌজা দর অনুযায়ী ধরনভেদে এই এলাকার ১ শতাংশ জমির দাম ১ লাখ থেকে ৫৮ লাখ টাকা এবং এর থেকে কিছু বেশি।

অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুলশানের কোথাও কোটি টাকার নিচে ১ শতাংশ জমি কেনাবেচা হয় না। ধানমন্ডি এলাকার মৌজা দর অনুযায়ী ১ শতাংশ জমির দাম ৪৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩০০ টাকা এবং এর থেকে কিছু বেশি। কিন্তু বাস্তবে ধানমন্ডির কোথাও এ দামে জমি বেচাকেনা হয় না। আরও বেশি দামে বেচাকেনা হয়।

বর্তমানে জমির ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি দেড় শতাংশ, নিবন্ধন মাশুল, স্থানীয় সরকার কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), উৎসে করসহ ১২ থেকে ১৪ শতাংশ।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশে নিবন্ধন ফি অনেক বেশি। এর সঙ্গে মৌজা মূল্যের পরিবর্তে প্রকৃত দর অনুযায়ী কর আরোপ হলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ এএম
দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের কয়েকটি অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সেই সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (০৪ জুলাই) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওইসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্তরা/

মায়ানমারে বিমান হামলার আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
মায়ানমারে বিমান হামলার আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে মায়ানমারের সীমান্ত শহরগুলোতে শুক্রবার (৩ জুলাই) নতুন করে হামলা না হলেও কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে সীমান্তবর্তী এলাকার বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে নাফ নদী ও সীমান্তসংলগ্ন জলসীমায় টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে কিছুটা যুদ্ধবিরতি থাকলেও চলতি জুলাই মাসে মায়ানমারের পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়েছে। গত ১ ও ২ জুলাই জান্তা বাহিনী বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পালংখালী এলাকার বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হোয়াইক্যং উলুবনিয়া নাফ নদী সীমান্তের ওপার থেকে বোমার শব্দ শোনা গেলেও শুক্রবার সকাল থেকে আর কোনো শব্দ শোনা যায়নি। কিন্তু তার পরও সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মংডু শহরের এক বাসিন্দা বলেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আবার বিমান হামলা শুরু হয়েছে। এতে রোহিঙ্গারা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করবে কি না–এ প্রশ্নের উত্তরে আলোচনা হলে তিনি বলেন, অনেক রোহিঙ্গা মনে করে তারা নিজেদের জন্মভূমিতেই মরবে। তারা বাংলাদেশে যেতে চায় না। তার ভাষায়, বাংলাদেশ থেকে অনেক রোহিঙ্গা আগে কষ্ট পেয়ে মায়ানমারে ফিরে এসেছে। তবে বড় বড় ঘটনা ঘটলে কিছু রোহিঙ্গা অর্থ ও খাদ্যের অভাবে বাংলাদেশে চলে যেতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং, পৌরসভা, হ্নীলা এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তের কয়েক কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বিকট শব্দ শুনতে পান, যার ফলে অনেকের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতির সৃষ্টি হয়। জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বসবাসকারীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

হ্নীলা ইউনিয়নের হোয়াকিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আয়েশা ছিদ্দিকী বলেন, মায়ানমারের ভেতরে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মিকে লক্ষ্য করে দেশটির জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও পড়ছে। সীমান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে ভয় কাটছে না।

মায়ানমারভিত্তিক গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্কের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, অভ্যুত্থানকারী সেনাবাহিনী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত এলাকা আরাকান রাজ্যের বুথিডং টাউনশিপের ওয়ার নেট ইয়োন গ্রামের আশপাশে যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে বিমান হামলা চালিয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে বোমা হামলা চালাতে তিনটি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়। গত ১ জুলাই বুথিডং টাউনশিপের সাবেক মিলিটারি অপারেশনস কমান্ড নং ১৫ (সাকাখা ১৫)-এর ওপরও বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। অন্যদিকে ২ জুলাই অভ্যুত্থানকারী সামরিক বাহিনী মংডু টাউন শহরের কেইন চাউং গ্রামে নাখাখা ৭ ঘাঁটির কাছে অবস্থিত একটি যুদ্ধবন্দি শিবিরে জেট ফাইটার এবং একটি ওয়াই-১২ ব্যবহার করে বিমান হামলা চালায়, এতে একজন সামরিক যুদ্ধবন্দি ক্যাপ্টেনসহ চারজন নিহত হন।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ জানান, গত কয়েক দিন মায়ানমার সীমান্তে বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে সীমান্তের এপারের বাড়িঘরও কেঁপে উঠছে। এ কারণে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতেও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সীমান্তবর্তী এলাকার বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যাতায়াত না করতে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, মায়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে রাতভর সংঘর্ষের কারণে সীমান্ত এলাকায় বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতির কোনো নেতিবাচক প্রভাব যাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও জলসীমায় না পড়ে, সে লক্ষ্যে কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে নাফ নদী ও সীমান্তসংলগ্ন জলসীমায় টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী জানান, মায়ানমারের অভ্যন্তরে যুদ্ধের ফলে সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান যুদ্ধের কারণে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সীমান্ত ও নাফ নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ না ঘটে, বিশেষ করে নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশ রোধে বিজিবির সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া নদীপথ ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে, যাতে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে কিনশাসা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে কিনশাসা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ১৭৯ স্কোর নিয়ে আজ শীর্ষে রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা। তালিকায় ৪৪তম অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। বায়ু মান সূচকে ঢাকার স্কোর ৫৭, যা ‘সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান বিষয়ক ওয়েবসাইট আইকিউএয়ারে এ তথ্য জানা যায়।

বায়ুদূষণে এ দিন বিশ্বের শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উগান্ডার কাম্পালা, যার স্কোর ১৬৭। তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, এই শহরের স্কোর ১৬২। ১৬০ ও ১৫৮ স্কোর নিয়ে তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারতের দিল্লি ও ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী ও সবচেয়ে বড় শহর জাকার্তা।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচকে ০ থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো, ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ পর্যায় হিসেবে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়।

অন্তরা/

জুলাই শহিদদের স্মরণে আজ বিশেষ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
জুলাই শহিদদের স্মরণে আজ বিশেষ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে আজ শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ স্মরণসভা। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ঐতিহাসিক ‘৩৬ জুলাই’-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জুলাই ২৪ শহিদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধার’ যৌথ উদ্যোগে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। 

স্মরণসভায় সরকারের একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি এবং শহিদ পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহক ভোগান্তি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহক ভোগান্তি
প্রতীকী ছবি।

একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, অন্যদিকে প্রি-পেইড ও ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটারে অস্বাভাবিক বিল কেটে নেওয়ার অভিযোগ। বিদ্যুৎ-সংকটের এই দ্বিমুখী চাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকরা। কয়েক মাস ধরে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মে ও জুন মাসে বিলের নামে গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের ব্যবহার প্রায় আগের মতো থাকলেও বিল বেড়েছে দ্বিগুণ, কোথাও কোথাও তিন গুণ পর্যন্ত। অনেকের ভাষায়, এটি বিদ্যুৎ বিল নয়, বিলের নামে প্রকাশ্য ‘ডাকাতি’।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী থেকে বিভাগীয় শহর, জেলা থেকে উপজেলা–দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত বিলের প্রতিবাদে কোথাও মানববন্ধন, কোথাও সড়ক অবরোধ, আবার কোথাও বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও বিদ্যুৎ ভবনের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে।

অন্যদিকে শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি লোডশেডিং হওয়ায় বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। গ্রাহকদের প্রশ্ন, যখন কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎই পাওয়া যাচ্ছে না, তখন অস্বাভাবিক বিলের বোঝা কেন?

গ্রাহকরা জানিয়েছেন, আগে ১ হাজার টাকার রিচার্জে ১৫ থেকে ২০ দিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করা গেলেও এখন সেই টাকা তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ বাড়িতে নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র যোগ হয়নি বা বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রি-পেইড মিটারে ভুতুড়ে বিল আসছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ২২ জুন ৫ হাজার টাকা রিচার্জ করি। কিন্তু ডিপিডিসির পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার্ড মোবাইল নাম্বারে টাকা জমা দেওয়ার কোনো মেসেজ আসেনি। অন্যদিকে মাত্র আট দিনের মাথায় ১ জুলাই ৫ হাজার ৯৯২ টাকা বিল বকেয়া দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিজ বলেন, ‘আগে মাসিক বিদ্যুৎ খরচ মোটামুটি নির্দিষ্ট ছিল। এখন কয়েক হাজার টাকা রিচার্জ করার পরও কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাস্তব ব্যবহারের সঙ্গে এই বিলের কোনো মিল পাচ্ছি না।’

শুধু বিলের পরিমাণ নয়, রিচার্জের পর কোন খাতে কত টাকা কাটা হচ্ছে, তা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্য খাতে অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তার স্বচ্ছ হিসাব অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় না। ফলে প্রকৃত বিদ্যুৎ বিল ও অতিরিক্ত চার্জের পরিমাণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহক রিচার্জের তথ্য ও মিটারের ছবি প্রকাশ করে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন। অনেকের দাবি, আগে যেখানে মাসে এক থেকে দেড় হাজার টাকায় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা যেত, এখন একই ব্যবহারে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন অভিযোগ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ডিজিটাল মিটারের সফটওয়্যার, কনফিগারেশন, ওভার-রিডিং কিংবা বিলিং ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে তদন্ত করা জরুরি। তাদের মতে, ডিজিটাল ব্যবস্থায় যদি অনিয়ম ঘটে থাকে, তবে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি ডি রহমতউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আগে অনিয়ম হতো ম্যানুয়ালি, এখন হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। যদি মিটারের প্রোগ্রামিংয়ে ভুল থাকে বা ওভার-রিডিং হয়, তাহলে এর দায় কে নেবে? এখন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনার জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে দেখা যায়নি।

সারা দেশে বিদ্যুৎ বিলের নামে ‘ডাকাতি’র ঘটনায় গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রকাশের পর বিদ্যুৎ বিভাগও বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ ও চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় অস্বাভাবিক বিলের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত অভিযোগ নিরসনে বিতরণ সংস্থার সঙ্গে সরাসরি বা হটলাইনে যোগাযোগের জন্য গ্রাহকদের অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ ক্ষেত্রে হটলাইন নাম্বারগুলো হলো–বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা-১৬৯৯৯, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কল সেন্টার-১৬২০০, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (পবিবো) কল সেন্টার-১৬৮৯৯, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) কল সেন্টার-১৬১১৬, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (ডেসকো) কল সেন্টার-১৬১২০, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) কল সেন্টার-১৬৬০৩, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) কল সেন্টার-১৬১১৭।

এদিকে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও লোডশোডিং প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গণমাধ্যমে কথা বলেন। গতকাল যশোর সার্কিট হাউসে জেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘এই তপ্ত গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সার্ভিস নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে। কয়েক জায়গায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে, আমরা প্রতিটি বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ সেন্টার করেছি। সেখানে যোগাযোগ করে সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছি। জনগণকে সেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তবে রাষ্ট্রীয় সংস্থায় দুর্নীতি বন্ধ না হলে জনগণের সঙ্গে এসব প্রতারণা চলতে থাকবে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। তার মতে, বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির অভাবের ফল।

শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ খাতে কাঠামোগত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ না করলে শুধু গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত মূল্য চাপিয়ে এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। যারা অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও ভোক্তার ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং পুরো খাতে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

এদিকে খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যেও জনদুর্ভোগের চিত্র ফুটে উঠেছে।

পাবনা প্রতিনিধি জানান, মিটার রিডিং না দেখেই জুন মাসে মনগড়া ও ‘ভুতুড়ে’ অতিরিক্ত বিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন কাশীনাথপুর জোনাল ও সাঁথিয়া সাব-জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও বিপাকে পড়েছেন বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার শত শত সাধারণ গ্রাহক। ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি করা এই অস্বাভাবিক বিলের বোঝা তাদের ওপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, কাশীনাথপুর জোনাল অফিসের আওতায় গ্রাহক সংখ্যা ৪ লাখ ৩২ হাজার ৮২৩ জন। এই গ্রাহকদের একটি বড় অংশই চলতি মাসের বিল হাতে পেয়ে হতবাক হয়ে গেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও বিলের অঙ্ক যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছে, তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। যেখানে আগে একটি পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ বিল আসত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, সেখানে চলতি জুনে তাদের বিল গুনতে হচ্ছে ১ থেকে ২ হাজার টাকা।

ফজলুল হক নামে এক ভুক্তভোগী গ্রাহক তার বিলের কাগজ দেখিয়ে বলেন, ‘গত মে মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল ছিল ৬৪৬ টাকা এবং ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৬০ ইউনিট। অথচ জুন মাসে এসে সেই বিল দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭২ টাকা আর ব্যবহারের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১১০ ইউনিট। আমাদের এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরের বিল এই মাসে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে।’

বিদ্যুৎ বিলের এই ভুতুড়ে কাণ্ড ও গ্রাহক হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কাশীনাথপুর জোনাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আহমেদ শাহ আল জাবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি মৌখিকভাবে জানান, যদি কোনো গ্রাহক অতিরিক্ত বা ভুল বিলের কাগজ নিয়ে অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন, তবে সেটি তদন্তসাপেক্ষে সংশোধন বা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধর করেন এলাকাবাসী। গাজীপুর, সাতক্ষীরা, জামালপুর, টাঙ্গাইলসহ কয়েকটি উপজেলায় দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, ভাঙচুর ও মানববন্ধন হয়েছে কয়েক দফা। কয়েক দিন ধরে এমন চিত্র দেখা গেছে।