ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ইরানি কূটনীতিকদের হত্যার প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলল ইসরায়েল খামেনির জানাজায় ১৪ মাস বয়সি নাতনির ছোট্ট কফিন ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ২৬৪৫ মৃত্যু, আহত ১২ হাজার ৬৬৬ খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়: লাখো মানুষের ঢল, আবেগাপ্লুত শীর্ষ ইরানি নেতৃত্ব শেরপুরে নিখোঁজের ১ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার বিশ্ব এখন আমাদের চেনে: ডিফেন্ডার পিকো লোপেস দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা শৈলকুপায় ইজিবাইক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত কঠিন লড়াইয়ের মানসিকতা থাকতে হবে: মার্তিনেস ফ্রান্সের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ বনাম গিল প্রাচীর ‘আহাদ! আহাদ!’ ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া নগরকান্দায় প্রবাসীর বাড়ি দখল করে তালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা বুবিস্তার নাটোরে ৩৫ ফুট কালী প্রতিমা ঘিরে পূজা ও মেলা মায়ানমারে বিমান হামলার আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ পদ্মায় শতাধিক ড্রেজারে বালু উত্তোলন ডাকসুর উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি-অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে কিনশাসা খবরের কাগজ ‘বন্ধুজন’ শৈলকুপা উপজেলা কমিটি গঠিত সহজ প্রতিপক্ষ বলা সমালোচকদের জবাব দিলেন স্কালোনি ইতিহাসের সাক্ষী জিগাগাড়ী জামে মসজিদ জুলাই শহিদদের স্মরণে আজ বিশেষ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসালেন মেসি আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ তিব্বতের পতাকা নিয়ে জাতিসংঘের সামনে আত্মহত্যা বাড়ছে জমি নিবন্ধনের খরচ ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন অভিজ্ঞতার ঢাল, গতির তলোয়ার

অভিজ্ঞতার ঢাল, গতির তলোয়ার

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
অভিজ্ঞতার ঢাল, গতির তলোয়ার
আশরাফ হাকিমি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই আলাদা নাটক, আলাদা উত্তেজনা। শেষ ষোলোর এমনই এক মহারণে মরক্কো মুখোমুখি হচ্ছে কানাডার। উত্তর আমেরিকার মাটিতে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে বিভোর দুই দল- একদিকে প্রথমবার নকআউট জয় পাওয়া কানাডা, অন্যদিকে ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। তবে এই লড়াইয়ের কেন্দ্রে উঠে আসছে এক নাম- আশরাফ হাকিমি।

মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি কেবল একজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নন; তিনি আধুনিক ফুটবলের পূর্ণাঙ্গ প্রতীক। গতি, শক্তি, আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষমতা এবং ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার দক্ষতায় তিনি প্রতিপক্ষের জন্য এক বড় হুমকি। জাতীয় দলের হয়ে ইতোমধ্যে ৯৬ ম্যাচ খেলেছেন এই ডিফেন্ডার, যা বর্তমান মরক্কো দলে সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতার প্রমাণ। রক্ষণভাগে খেলেও ১১ গোল করেছেন- সংখ্যাটি জানিয়ে দেয়, সুযোগ পেলে আক্রমণেও কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন তিনি।

হাকিমির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমাত্রিকতা। ডান প্রান্তে ডিফেন্স সামলানোর পাশাপাশি মুহূর্তেই ওভারল্যাপ করে আক্রমণে উঠে যেতে পারেন। তার ক্রস, কাট-ব্যাক কিংবা বক্সের বাইরে থেকে শট- সবই প্রতিপক্ষের রক্ষণে অস্বস্তি তৈরি করে। কানাডার বিপক্ষে এই গুণই হতে পারে মরক্কোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

বিশেষ করে কানাডার আক্রমণাত্মক প্রেসিং ফুটবলের বিপক্ষে হাকিমির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কোচ হেসে মার্শচের দল প্রতিপক্ষের অর্ধে দ্রুত চাপ তৈরি করে খেলে। শেষ বত্রিশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তারা ১০০টির বেশি ফাইনাল-থার্ড প্রেসার তৈরি করেছিল। সেই চাপ ভাঙতে মরক্কোর প্রয়োজন হবে দ্রুত পাসিং এবং ফ্ল্যাঙ্ক ব্যবহার- যেখানে হাকিমি হতে পারেন মূল চালিকাশক্তি।

২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর রূপকথার অন্যতম স্থপতিও ছিলেন এই ডিফেন্ডার। আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠার পথে তার নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও লড়াকু মানসিকতা দলকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। চার বছর পরও সেই আগুন নিভে যায়নি। বরং অধিনায়কত্বের ভার তাকে আরও পরিণত করেছে।

মরক্কো এবারও দারুণ ছন্দে আছে। শেষ বত্রিশে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করেছে। হারিয়েছে টাইব্রেকারে। অ্যাটলাস লায়ন্সরা পুরো ম্যাচে ৮০১টি সফল পাস সম্পন্ন করে তারা বল নিয়ন্ত্রণে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বও দেখিয়েছে। এই দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল থাকলেও সংকটময় মুহূর্তে সবার চোখ যায় হাকিমির দিকে।

অন্যদিকে কানাডাও কম ভয়ংকর নয়। বিশেষ করে কাউন্টার অ্যাটাকে তাদের গতি ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে। তাই হাকিমির জন্য কাজটা সহজ হবে না; তাকে একদিকে ডিফেন্স সামলাতে হবে, অন্যদিকে আক্রমণের ভারও নিতে হবে।

ফুটবলে কিছু খেলোয়াড় থাকেন, যাদের উপস্থিতি পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে ম্যাচের আবহ বদলে দেয়। আশরাফ হাকিমি ঠিক তেমনই একজন। তিনি গোল করতে পারেন, গোল বানাতে পারেন, আবার বিপদের সময় শেষ রক্ষাকবচও হতে পারেন।

হিউস্টনের রাত তাই শুধু মরক্কো বনাম কানাডার লড়াই নয়; এটি অনেকটাই হাকিমির নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও প্রভাবেরও পরীক্ষা। শেষ বাঁশি বাজার পর প্রশ্ন একটাই-কানাডার স্বপ্ন কি থামিয়ে দেবেন মরক্কোর অধিনায়ক, নাকি নতুন ইতিহাস লিখবে ম্যাপল লিফের দল?

বিশ্ব এখন আমাদের চেনে: ডিফেন্ডার পিকো লোপেস

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
বিশ্ব এখন আমাদের চেনে: ডিফেন্ডার পিকো লোপেস
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও ফুটবল বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছে কেপ ভার্দে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ান আর্জেন্টিনাকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কঠিন লড়াইয়ে রেখে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি প্রমাণ করেছে, সাহস আর আত্মবিশ্বাস থাকলে বড় দলগুলোকেও চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে আর্জেন্টিনার কাছে হারে কেপ ভার্দে। ম্যাচের ১১১ মিনিটে ডিনে বোর্হেসের আত্মঘাতী গোলে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার পিকো লোপেস বলেন, তাদের যাত্রা বিশ্বের ছোট দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবে। আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘আমরা দেখাতে চেয়েছি, বড় স্বপ্ন আর সাহস থাকলে সবকিছুই সম্ভব। আশা করি, আমাদের এই দল কেপ ভার্দের নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। আমরা প্রমাণ করেছি, বিশ্বের অন্যতম সেরা দলগুলোর বিপক্ষেও সমানতালে লড়া যায়।’

মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে নজর কাড়ে। নকআউট পর্বেও আর্জেন্টিনাকে একাধিকবার চাপে ফেলে তারা।

শ্যামরক রোভার্সের ডিফেন্ডার লোপেস জানান, ‘বিশ্বকাপে ওঠার পর থেকেই আমরা প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম যে এখানে খেলার যোগ্যতা আমাদের আছে। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে আজকের ম্যাচ-সব জায়গাতেই আমরা দেখিয়েছি বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি।’

শেষে আবেগঘন কণ্ঠে লোপেস বলেন, ‘সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, এখন আর কাউকে বলতে হবে না কেপ ভার্দে কোথায়। বিশ্ব এখন আমাদের চেনে। আর যারা কেপ ভার্দেতে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তাদের জন্য আমরা একটা পথ তৈরি করে যেতে পেরেছি।’

পাপ্পু/এএফ

কঠিন লড়াইয়ের মানসিকতা থাকতে হবে: মার্তিনেস

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭ এএম
কঠিন লড়াইয়ের মানসিকতা থাকতে হবে: মার্তিনেস
আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচজুড়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হলেও শেষ মুহূর্তে একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেস।

ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মার্তিনেস বলেন, এই ধরনের কঠিন ম্যাচ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তবে দুই গোল হজম করায় নিজের হতাশার কথাও জানান তিনি।

‘ওদের দ্বিতীয় গোলটি ছিল অসাধারণ। কিন্তু প্রথম গোলটি আমি ঠেকাতে পারতাম। দলকে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে না দিতে আমার আরও ভালো করতে হবে। ক্লিন শিট রাখতে না পারায় আমি হতাশ।’ বলেন অ্যাস্টন ভিলার এই গোলরক্ষক।

রক্ষণভাগের উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা রক্ষণ সামলাই, তাই কোথায় ভুল হয়েছে এবং কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সেটি নিয়ে কাজ করতে হবে। এই ভুলগুলোই ভবিষ্যতের ম্যাচে আমাদের আরও শক্তিশালী করবে।’

চাপের মুহূর্তে লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন মার্তিনেস। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের অভিযানের কথা স্মরণ করেন।

তার ভাষ্যে, ‘কাতারে সৌদি আরব, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে আমাদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। বড় টুর্নামেন্টে সফল হতে হলে প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার মানসিকতা থাকতে হবে।’

শেষে তিনি বলেন, ‘আজকের ম্যাচ ছিল এই বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম বড় পরীক্ষা। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ আসবে, তবে আমাদের সেই অভিজ্ঞতা আছে এবং আমরা জানি কীভাবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হয়।’

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের আগে নিজেদের পারফরম্যান্স আরও নিখুঁত করে তুলতেই এখন মনোযোগ দিচ্ছেন মার্তিনেস ও তার সতীর্থরা।

পাপ্পু/এএফ

ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ দল হিসেবে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে কলম্বিয়া। রাউন্ড অব ৩২-এর শেষ ম্যাচে লাতিন আমেরিকার দলটি ১-০ গোলে হারিয়েছে ঘানাকে। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন জন অ্যারিয়াস।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল কলম্বিয়ার হাতে। মাঝমাঠে আধিপত্য ধরে রেখে ঘানাকে চাপে রাখে তারা। ঘানার খেলায় পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। কলম্বিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙতে কার্যকর কোনো বিকল্প কৌশলও দেখা যায়নি।

ম্যাচের ৮ মিনিটেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন কলম্বিয়ার স্ট্রাইকার জন কর্দোবা। তাঁর বদলি হিসেবে নামেন লুইস সুয়ারেজ। তবে এই পরিবর্তনেও কলম্বিয়ার আক্রমণাত্মক খেলায় তেমন প্রভাব পড়েনি।

১৩ মিনিটে চোট পান ঘানার ডিফেন্ডার মারভিন সেনায়া। তাঁকেও মাঠ ছাড়তে হয়। ম্যাচের শুরুতে দুই দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক লড়াই ও ফাউল বেশি হওয়ায় রেফারিকে বারবার খেলা থামাতে হয়।

সেনায়া মাঠ ছাড়ার পর কিছুটা ছন্দ হারায় ঘানা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৪ মিনিটে কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেন অ্যারিয়াস। প্রায় একক প্রচেষ্টায় গোলটি করেন এই উইঙ্গার।

গোল হজমের পর ঘানা পাল্টা আক্রমণনির্ভর কৌশল নেয়। ২০ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

এরপর পাল্টা আক্রমণে আরও সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া। ২১ মিনিটে লুইস দিয়াজের জোরালো শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স জিগি।

এই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ঘানা। আফ্রিকার নয়টি দল দ্বিতীয় পর্বে উঠলেও মিশর ও মরক্কো ছাড়া আর কোনো দল শেষ ষোলোয় জায়গা করতে পারেনি।

কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা বুবিস্তার

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা বুবিস্তার
কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারলেও নিজেদের পারফরম্যান্সে গর্বিত কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা। তার মতে, ফল নিজেদের পক্ষে না এলেও বিশ্বমঞ্চে দলটি দেশের মর্যাদা উজ্জ্বল করেছে।

ম্যাচ শেষে বুবিস্তা বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের মর্যাদাকে উঁচিয়ে ধরেছি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আমরা দুইবার সমতায় ফিরেছি এবং ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেছি। সবকিছুর চেয়ে বড় কথা, আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত, যারা বিশ্বকাপে বীরত্বের সঙ্গে লড়েছে। আমরা আমাদের পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি।’

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই লিওনেল মেসির কর্নার থেকে পাওয়া বল জোরালো শটে জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেন সেন্টার-ব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেস। তবে কেপ ভার্দে হাল ছাড়েনি। ১০৩তম মিনিটে বাম দিক থেকে ভেতরে কেটে এসে ডান পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করে আফ্রিকার দলটিকে আবারও সমতায় ফেরান সিডনি লোপেস কাবরাল।

ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ভাগ্য আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলে। শেষ মুহূর্তে বোর্হেসের আত্মঘাতী গোলে ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপরও কেপ ভার্দে শেষ চেষ্টা চালালেও ভাগ্য সহায় ছিল না তাদের। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করে তৃতীয়বারের মতো সমতায় ফেরার স্বপ্ন ভেঙে দেন আফ্রিকান দলটির।

পাপ্পু/এএফ

সহজ প্রতিপক্ষ বলা সমালোচকদের জবাব দিলেন স্কালোনি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
সহজ প্রতিপক্ষ বলা সমালোচকদের জবাব দিলেন স্কালোনি
আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই ম্যাচে দুইবার স্তব্ধ করে দিয়েছিল ছোট্ট আফ্রিকান দেশটি। তবে শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচ শেষে দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি মনে করিয়ে দিলেন-নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচই সহজ নয়।

ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন, ‘যারা বলেছিলেন ড্রতে আমরা সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছি, এই ম্যাচটি ছিল তাদের জন্য একটি বার্তা। আমরা অবশ্যই জয় এবং পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার যোগ্য ছিলাম। তবে ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও কঠিন।’

সামর্থ্যের বিচারে যোজন যোজন পিছিয়ে থাকা কেপ ভার্দে শুরু থেকেই চাপে রাখে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। দুইবার সমতায় ফিরে তারা ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত টেনে নেয়।

তবে নিজেদের খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে স্কালোনি বলেন, ‘ম্যাচ শেষে ছেলেরা পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। আমাদের কিছু জায়গায় উন্নতির সুযোগ আছে, তবে আজ দল অসাধারণ সহনশীলতা দেখিয়েছে। অতিরিক্ত সময় খেলতে হওয়ায় সবাইকে অনেক বেশি দৌড়াতে হয়েছে, কয়েকজনের পায়ে খিঁচুনিও ধরেছিল। কিন্তু তারা হৃদয় উজাড় করে খেলেছে। এভাবেই যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। আজ দল তাদের চরিত্র ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।’

অতিরিক্ত সময়ে কেপ ভার্দের দ্বিতীয় সমতাসূচক গোলের পর ম্যাচে অঘটনের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। লেফট-ব্যাক সিডনি লোপেস কাবরালের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে ম্যাচে ফেরে আফ্রিকার দলটি।

সেই মুহূর্তের অনুভূতি জানিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমি শুধু চাইছিলাম ম্যাচটা দ্রুত শেষ হোক। ওরা দারুণ একটি গোল করেছে। বাইরে থেকে আমাকে যতটা চিন্তিত দেখাচ্ছিল, ভেতরে আমি তার চেয়ে কিছুটা শান্ত ছিলাম। সবাই ভেবেছিল আমরা সহজেই জিতব, কিন্তু আমরা জানতাম কাজটা মোটেও সহজ হবে না।’

পাপ্পু/এএফ