ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ২৬৪৫ মৃত্যু, আহত ১২ হাজার ৬৬৬ আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়: লাখো মানুষের ঢল, আবেগাপ্লুত শীর্ষ ইরানি নেতৃত্ব শেরপুরে নিখোঁজের ১ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার বিশ্ব এখন আমাদের চেনে: ডিফেন্ডার পিকো লোপেস দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা শৈলকুপায় ইজিবাইক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত কঠিন লড়াইয়ের মানসিকতা থাকতে হবে: মার্তিনেস ফ্রান্সের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ বনাম গিল প্রাচীর ‘আহাদ! আহাদ!’ ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া নগরকান্দায় প্রবাসীর বাড়ি দখল করে তালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা বুবিস্তার নাটোরে ৩৫ ফুট কালী প্রতিমা ঘিরে পূজা ও মেলা মায়ানমারে বিমান হামলার আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ পদ্মায় শতাধিক ড্রেজারে বালু উত্তোলন ডাকসুর উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি-অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে কিনশাসা খবরের কাগজ ‘বন্ধুজন’ শৈলকুপা উপজেলা কমিটি গঠিত সহজ প্রতিপক্ষ বলা সমালোচকদের জবাব দিলেন স্কালোনি ইতিহাসের সাক্ষী জিগাগাড়ী জামে মসজিদ জুলাই শহিদদের স্মরণে আজ বিশেষ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসালেন মেসি আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ তিব্বতের পতাকা নিয়ে জাতিসংঘের সামনে আত্মহত্যা বাড়ছে জমি নিবন্ধনের খরচ ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন অভিজ্ঞতার ঢাল, গতির তলোয়ার ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে যে বার্তা দিলেন মিশরের কোচ ইসলামী ব্যাংক: ছুটি থেকে এসে জানতে পারেন চাকরি নেই আরাগচি-গালিবাফকেও হত্যা করতে চেয়েছিল ইসরায়েল

ইতিহাসের সাক্ষী জিগাগাড়ী জামে মসজিদ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ইতিহাসের সাক্ষী জিগাগাড়ী জামে মসজিদ
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিসংলগ্ন জিগাগাড়ী গ্রামে মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে/ খবরের কাগজ

দূর থেকে তাকালে মনে হবে বিশাল জলরাশির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের কোনো স্মৃতিচিহ্ন। চারদিকে থই থই পানি। সেই পানির মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি ধ্বংসপ্রায় মসজিদ। পাশে কয়েকটি তাল ও খেজুরগাছ। অথচ দুই দশক আগেও এখানে ছিল মানুষের বসতি, হাট-বাজার, স্কুল, মাদ্রাসা ও ফসলের মাঠ। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কারণে সেই জিগাগাড়ী গ্রামসহ আশপাশের সাতটি গ্রামের অস্তিত্ব এখন শুধু স্মৃতির পাতায়।

২০০৫ সালে বড়পুকুরিয়া ভূগর্ভস্থ কয়লা খনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে ভূমিধস দেখা দেয়। একসময় জিগাগাড়ী, কালুপাড়া, রসুলপুর, বৈদ্যনাথপুর, পাতি গ্রাম, পাতরা পাড়া ও মৌপুকুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা দেবে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়। যেখানে একসময় বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাট-বাজার ও কৃষিজমি ছিল, সেখানে এখন তৈরি হয়েছে বড় জলাশয়।

সবকিছু হারিয়েও জিগাগাড়ী জামে মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। শতবর্ষের এই মসজিদের গম্বুজ এখনো দেখা যায়। তবে বর্ষা মৌসুমে মসজিদের অর্ধেকের বেশি অংশ পানিতে ডুবে যায়। চারদিকে পানি থাকায় সেখানে নিয়মিত নামাজ আদায়ও সম্ভব হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘এখানে একসময় বড় হাট বসত। মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল সবই ছিল। ধান, ভুট্টা ও গমের চাষ হতো। এখন সেখানে শুধু পানি। চোখের সামনে পুরো গ্রাম হারিয়ে যেতে দেখেছি।’

নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘যেখানে একসময় মানুষের কোলাহল আর শিশুদের হাসির শব্দ ছিল, সেখানে এখন নীরবতা। বিঘার পর বিঘা জমিতে ধান ফলত। এখন সবই পানির নিচে।’

স্থানীয় কৃষক আব্দুল গফুর বলেন, ‘সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। কিন্তু বাবার ভিটা, পূর্বপুরুষের কবর, গ্রামের স্মৃতি– এসব কি টাকায় ফেরত পাওয়া যায়? মাঝে মাঝে এখানে এসে মসজিদের দিকে তাকিয়ে বুকটা হাহাকার করে ওঠে।’

গৃহবধূ রওশন আরা বেগম বলেন, ‘এই মসজিদেই আমাদের পরিবারের সবাই নামাজ পড়তেন। ঈদের জামাত হতো। এখন সন্তানদের সেই গ্রামের গল্প শোনাই, কিন্তু তারা বিশ্বাসই করতে চায় না যে, এই পানির নিচে একসময় এত বড় জনপদ ছিল।

স্থানীয় শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এই মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি হারিয়ে যাওয়া একটি সভ্যতার প্রতীক। যথাযথ সংরক্ষণ করা হলে এটি দেশের শিল্পায়নের মূল্য এবং মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণের সময় অনেক পরিবার ক্ষতিপূরণ পেলেও গ্রামের ঐতিহ্য, সামাজিক বন্ধন ও পূর্বপুরুষের স্মৃতির কোনো মূল্যায়ন হয়নি। এখনো অনেক উচ্ছেদ হওয়া মানুষ এখানে এসে মসজিদের পাশে দাঁড়ান। কেউ দোয়া করেন, কেউ নীরবে ফিরে যান।

অন্যদিকে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, খনির কারণে আশপাশের প্রায় ১৩টি গ্রামের ৩ হাজার একরেরও বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসে শত শত ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। অনেক এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে পানির সংকট।

বর্তমানে জিগাগাড়ী জামে মসজিদ ও তার চারপাশের লেকসদৃশ এলাকা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। কেউ ইতিহাস জানতে আসেন, কেউ ছবি তোলেন, আবার কেউ হারিয়ে যাওয়া জনপদের স্মৃতি নিয়ে ফিরে যান।

নাটোরে ৩৫ ফুট কালী প্রতিমা ঘিরে পূজা ও মেলা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
নাটোরে ৩৫ ফুট কালী প্রতিমা ঘিরে পূজা ও মেলা
ছবি: খবরের কাগজ

নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের ভাটোদাঁড়া গ্রামে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী কালীপূজা ও মেলা। ২৯২ বছরের পুরোনো এই আয়োজনের এবার প্রধান আকর্ষণ ৩৫ ফুট উচ্চতার কালী প্রতিমা। নাটোর উত্তরা গণভবনের অদূরে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের পাশের এই পূজায় এবার প্রায় ৩০০ পাঁঠা বলি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে প্রায় ২৫টি পাঁঠা বলির মধ্য দিয়ে পূজা শুরু হবে। সোমবার রাতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পূজা ও মেলা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীবাড়ি চত্বর ও আশপাশে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। মেলায় বসেছে মিষ্টি, খেলনা, নাগরদোলা, খাট, আলমারি, পাঁপড়, চটপটিসহ শতাধিক দোকান। নিরাপত্তায় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি পূজামণ্ডপে বসানো হয়েছে ১২টি সিসি ক্যামেরা।

প্রতিমাশিল্পী তাপস কুমার পাল জানান, কালীমন্দিরে কালী ছাড়াও জয়, বিজয়, ডাকিনী, যোগিনী, শিব মহাদেব ও ভৈরবীর প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। কালী ও শিব মহাদেবের প্রতিমার উচ্চতা ৩৫ ফুট। তিনি বলেন, ভাটোদাঁড়া ছাড়া বাংলাদেশের কোথাও ৩৫ ফুট উচ্চতার কালী প্রতিমা হয় না। কালী প্রতিমার হাতে রয়েছে শম্ভু রাজার মুণ্ডু এবং গলায় ১০৮টি মুণ্ডমালা।

মেলা উদযাপন কমিটির সহসভাপতি গণেশ চন্দ্র ভট্টাচার্জ জানান, ২৯২ বছর আগে কয়েকজন সনাতনী ভক্ত মানত করেছিলেন, কাজে সফল হলে ওই স্থানে কালীমাতার মন্দির প্রতিষ্ঠা করবেন। সফলতার পর তারা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিন দিনব্যাপী পূজা ও মেলার আয়োজন শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।

মন্দির কমিটির সভাপতি তপন কুমার পাল জানান, গত বছর ২৮০টির মতো পাঁঠা বলি দেওয়া হয়েছিল। এবার প্রায় ৩০০ পাঁঠা বলি হতে পারে। ভক্তরা বাড়ি থেকে ফল ও মানতের পাঁঠা নিয়ে এসে নির্ধারিত ফি জমা দেন। বলির পর মাথা রেখে শরীরটি মানতকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার ঘোষ জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারতের কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ ও মালদহ থেকে ভক্তরা আসেন। পূজার জন্য ৩১টি ঢাক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালীপূজা ও মেলা উপলক্ষে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক কমিটির আহ্বায়ক পলাশ কুমার জানান, কালীপূজা ও মেলা উপলক্ষে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম যুবকরাও বরাবরের মতোই স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা করছেন।

সদর থানার ওসি মনসুর রহমান জানান, কালীপূজা ও মেলায় সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাসের সাক্ষী জিগাগাড়ী জামে মসজিদ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ইতিহাসের সাক্ষী জিগাগাড়ী জামে মসজিদ
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিসংলগ্ন জিগাগাড়ী গ্রামে মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে/ খবরের কাগজ

দূর থেকে তাকালে মনে হবে বিশাল জলরাশির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের কোনো স্মৃতিচিহ্ন। চারদিকে থই থই পানি। সেই পানির মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি ধ্বংসপ্রায় মসজিদ। পাশে কয়েকটি তাল ও খেজুরগাছ। অথচ দুই দশক আগেও এখানে ছিল মানুষের বসতি, হাট-বাজার, স্কুল, মাদ্রাসা ও ফসলের মাঠ। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কারণে সেই জিগাগাড়ী গ্রামসহ আশপাশের সাতটি গ্রামের অস্তিত্ব এখন শুধু স্মৃতির পাতায়।

২০০৫ সালে বড়পুকুরিয়া ভূগর্ভস্থ কয়লা খনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে ভূমিধস দেখা দেয়। একসময় জিগাগাড়ী, কালুপাড়া, রসুলপুর, বৈদ্যনাথপুর, পাতি গ্রাম, পাতরা পাড়া ও মৌপুকুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা দেবে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়। যেখানে একসময় বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাট-বাজার ও কৃষিজমি ছিল, সেখানে এখন তৈরি হয়েছে বড় জলাশয়।

সবকিছু হারিয়েও জিগাগাড়ী জামে মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। শতবর্ষের এই মসজিদের গম্বুজ এখনো দেখা যায়। তবে বর্ষা মৌসুমে মসজিদের অর্ধেকের বেশি অংশ পানিতে ডুবে যায়। চারদিকে পানি থাকায় সেখানে নিয়মিত নামাজ আদায়ও সম্ভব হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘এখানে একসময় বড় হাট বসত। মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল সবই ছিল। ধান, ভুট্টা ও গমের চাষ হতো। এখন সেখানে শুধু পানি। চোখের সামনে পুরো গ্রাম হারিয়ে যেতে দেখেছি।’

নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘যেখানে একসময় মানুষের কোলাহল আর শিশুদের হাসির শব্দ ছিল, সেখানে এখন নীরবতা। বিঘার পর বিঘা জমিতে ধান ফলত। এখন সবই পানির নিচে।’

স্থানীয় কৃষক আব্দুল গফুর বলেন, ‘সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। কিন্তু বাবার ভিটা, পূর্বপুরুষের কবর, গ্রামের স্মৃতি– এসব কি টাকায় ফেরত পাওয়া যায়? মাঝে মাঝে এখানে এসে মসজিদের দিকে তাকিয়ে বুকটা হাহাকার করে ওঠে।’

গৃহবধূ রওশন আরা বেগম বলেন, ‘এই মসজিদেই আমাদের পরিবারের সবাই নামাজ পড়তেন। ঈদের জামাত হতো। এখন সন্তানদের সেই গ্রামের গল্প শোনাই, কিন্তু তারা বিশ্বাসই করতে চায় না যে, এই পানির নিচে একসময় এত বড় জনপদ ছিল।

স্থানীয় শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এই মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি হারিয়ে যাওয়া একটি সভ্যতার প্রতীক। যথাযথ সংরক্ষণ করা হলে এটি দেশের শিল্পায়নের মূল্য এবং মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণের সময় অনেক পরিবার ক্ষতিপূরণ পেলেও গ্রামের ঐতিহ্য, সামাজিক বন্ধন ও পূর্বপুরুষের স্মৃতির কোনো মূল্যায়ন হয়নি। এখনো অনেক উচ্ছেদ হওয়া মানুষ এখানে এসে মসজিদের পাশে দাঁড়ান। কেউ দোয়া করেন, কেউ নীরবে ফিরে যান।

অন্যদিকে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, খনির কারণে আশপাশের প্রায় ১৩টি গ্রামের ৩ হাজার একরেরও বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসে শত শত ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। অনেক এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে পানির সংকট।

বর্তমানে জিগাগাড়ী জামে মসজিদ ও তার চারপাশের লেকসদৃশ এলাকা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। কেউ ইতিহাস জানতে আসেন, কেউ ছবি তোলেন, আবার কেউ হারিয়ে যাওয়া জনপদের স্মৃতি নিয়ে ফিরে যান।

ঐতিহ্যের স্থাপনা ‘গৌরীপুর লজ’ এখন ব্যাংকারদের গেস্ট হাউস

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
ঐতিহ্যের স্থাপনা ‘গৌরীপুর লজ’ এখন ব্যাংকারদের গেস্ট হাউস
ময়মনসিংহ শহরের জুবিলী রোড এলাকায় অবস্থিত প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘গৌরীপুর লজ’/ খবরের কাগজ

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহাসিক ভবন ‘গৌরীপুর লজ’। একসময় এটি ছিল জমিদারি ঐতিহ্য, শাস্ত্রীয় সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক আভিজাত্যের কেন্দ্র। তবে ময়মনসিংহের জুবিলী রোড এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি আর আগের মতো নেই। এটি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গেস্ট হাউস ও রান্নাঘর হিসেবে। যথাযথ সংরক্ষণের অভাব ও ভবনটির ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় ইতিহাস গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

দুই তলাবিশিষ্ট গৌরীপুর লজ নির্মিত হয়েছে কাঠ ও ঢেউটিন দিয়ে। এর কাঠের দেয়াল, দরজা-জানালা, চীনা কারিগরদের নির্মাণশৈলীর ছাপ, পাথর বসানো মেঝে, মজবুত স্তম্ভ ও বারান্দার নান্দনিক খিলান ভবনটির স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যকে আজও স্বতন্ত্র করে রেখেছে। সময়ের নানা ঝড়ঝাপটা পেরিয়েও ভবনটি তার অতীত গৌরবের স্মৃতি বহন করছে।

ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, ১৮২৮ সালে গৌরীপুর জমিদার পরিবারের সদস্য ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী এই ভবনটি তৈরি করেন। ময়মনসিংহ অঞ্চলের জমিদারি ইতিহাসের সঙ্গে এই ভবনটির নাম জড়িয়ে আছে গভীরভাবে। দীর্ঘদিন এটি ছিল এই এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র।

দেশ ভাগের পর ১৯৪৭ সালে এই ভবনে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের শাখা কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত ব্যাংকটির কার্যক্রম সেখানেই চলত। স্বাধীনতার পর ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ভবনটিতে সোনালী ব্যাংকের শাখার কার্যক্রম চলেছে। পরে ব্যাংক নতুন ভবনে চলে গেলে গৌরীপুর লজ একরকম পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভবনটির নিচতলার কয়েকটি ঘর গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর দোতলার পাঁচটি ঘর ব্যবহার করা হচ্ছে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গেস্ট হাউস ও রান্নাঘর হিসেবে।

ঐতিহ্যবাহী এই  স্থাপনার এমন ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী আলী ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘গৌরীপুর লজ এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটিকে গেস্ট হাউস ও রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়, এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণও। এতে ভবনের ঐতিহাসিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।’

আলী ইউসুফের অভিযোগ, দেশ-বিদেশের গবেষক ও দর্শনার্থীরা এসেও অনেক সময় এই ভবনে ঢোকার সুযোগ পান না। তিনি দাবি জানান, ব্যাংক কর্মকর্তাদের থাকার জন্য অন্য ব্যবস্থা করে গৌরীপুর লজ যেন সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

প্রত্নতত্ত্ব অনুরাগী সজল কোরাইশী জানান, ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ছিলেন উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের একজন বড় পৃষ্ঠপোষক। ওই সময়ে তার উদ্যোগে গৌরীপুর লজে নিয়মিত গানের আসর বসত। আসরে উপমহাদেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ওস্তাদ এনায়েত খান, ওস্তাদ মোহাম্মদ আলী খান, ওস্তাদ ওয়াজির খান, ওস্তাদ হাফিজ আলী খান এবং ওস্তাদ মোহাম্মদ দবির খানসহ আরও অনেকে।

স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মীরাও এখন লজটি সংরক্ষণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সদস্যসচিব ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে গৌরীপুর লজ ময়মনসিংহ অঞ্চলের ইতিহাসের এক মূল্যবান অংশ। ভবনটিকে গেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহার বন্ধের দাবিতে গত ৯ জুন সোনালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি টিকিয়ে রাখা খুব দরকার।

তবে সোনালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন এই সমালোচনা মানতে নারাজ। তার দাবি–গৌরীপুর লজ ব্যাংকের নিজস্ব সম্পত্তি এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চেয়েও ব্যাংক এটি ভালো দেখভাল করছে। গেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ভবনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের (ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ফিল্ড অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, গৌরীপুর লজ এখনো অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা নয়। তবে চলতি বছরের জরিপ প্রতিবেদনে ভবনটির নাম অন্তর্ভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, গৌরীপুর লজ আমাদের অতীত গৌরবের স্মৃতি ধরে রেখেছে। ভবনটির স্বার্থে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ছবি: খবরের কাগজ

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী ড. নীলিমা ইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন। ২০০২ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মুক্তবুদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী নীলিমা ইব্রাহিম আমৃত্যু মানবকল্যাণে নিবেদিত ছিলেন। তার জীবনদর্শন ও সাহিত্যকর্মে উদার মানবিকতাবোধের প্রতিফলন পাওয়া যায়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, বেগম রোকেয়া পদক, একুশে পদকসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাটের ফকিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন নীলিমা ইব্রাহিম। শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী নীলিমা ইব্রাহিম ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির অবৈতনিক মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

সাহিত্যচর্চায় তিনি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ, উপন্যাস, নাটক ও অনুবাদকর্মে অবদান রেখে গেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ–‘ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক’, ‘বাংলা নাটক: উৎস ও ধারা’; উপন্যাস: ‘বিশ শতকের মেয়ে’ এবং বহুল আলোচিত কথানাট্য ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’।

শিক্ষা ও সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও কনসার্নড উইমেন ফর ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি নারী উন্নয়ন ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। 

তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১ জুন। ১৯৬৯ সালের এ দিনে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

১৯১১ সালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া গ্রামে মানিক মিয়ার জন্ম। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৩৫ সালে বিএ পাস করে পিরোজপুর মহকুমা হাকিমের আদালতে সহকারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়।

১৯৪৭ সালে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কর্তৃক কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার পরিচালনা বোর্ডের সেক্রেটারি পদে যোগ দেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং সাপ্তাহিক ইত্তেফাকের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫৩ সালে তার সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ইত্তেফাক ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এ রূপান্তরিত হয়।

মানিক মিয়ার সম্পাদনায় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯৫৯ সালে তিনি এক বছর কারাভোগ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন। এ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশনা নিষিদ্ধ এবং নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ফলে তার প্রতিষ্ঠিত অন্য দুটি পত্রিকা ঢাকা টাইমস ও পূর্বাণী বন্ধ হয়ে যায়। গণ-আন্দোলনের মুখে সরকার ইত্তেফাকের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ফলে ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটি ফের প্রকাশিত হয়।

‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’, ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ আর ‘রঙ্গমঞ্চ’ শিরোনামে কলাম লিখে বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতাকামী করে তোলেন মানিক মিয়া। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি আমৃত্যু নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।