ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান চলাকালে কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও ফুটেজে এই আবেগঘন দৃশ্য দেখা গেছে।
ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইরান শাসন করা ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় বিলম্বের পর, গতকাল থেকে ইরানে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই সর্বোচ্চ নেতার সপ্তাহব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কালো পোশাকে আবৃত হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির কফিন রাখা হয়েছে। সেখানে প্রার্থনা চলাকালে পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ এবং তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি শোকে মুহ্যমান হয়ে চোখ মুছছেন এবং একপর্যায়ে তারা ডুকরে কেঁদে ওঠেন।
এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিদেশি কূটনীতিকদের মাথা নত করে গভীর শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়।
বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি ও কড়া নিরাপত্তা
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, খামেনির এই রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে। অন্তত আটটি দেশের সরকারপ্রধান (প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী) এবং ১২টি দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার এই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন।
উপস্থিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন। এছাড়া বাংলাদেশের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তেহরানে এসে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
নিরাপত্তার বিষয়ে তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেঘ মোতামাদিয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, 'শহিদ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।'
ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন করার নিয়ম থাকলেও, যুদ্ধের কারণে তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে খামেনির দাফন স্থগিত রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরই এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করা হয়।
কর্মকর্তাদের অনুমান, এই বহুমাত্রিক শোকানুষ্ঠানে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। সূচি অনুযায়ী, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে আগামী সোমবার রাজধানীতে বিশাল শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর কফিন নেওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে। সেখান থেকে প্রতিবেশি দেশ ইরাকের পবিত্র শিয়া নগরী নাজাফ ও কারবালা হয়ে আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা মাজারের পাশে সমাহিত করা হবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/অমিয়/