ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে বাংলাদেশসহ ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং ৩০টিরও বেশি রাষ্ট্রের কর্মকর্তারা যোগ দেবেন। কয়েক দিনব্যাপী এই চিরবিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে ইরানজুড়ে সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার ডন নিউজ, প্রেস টিভি ও তাসনিম নিউজসহ একাধিক ইরানি সংবাদসংস্থা এ কথা জানিয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, খামেনির জানাজাকে সামনে রেখে ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী দেশের সীমান্তজুড়ে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশটির আকাশসীমার ওপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি রাখছে।
ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী এবং আলি খামেনির চিরবিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির সম্পাদক আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান জানান, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া এবং কিউবাসহ ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাতে আবেদন করেছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
তিনি বলেন, ৯০টিরও বেশি দেশের আলেম, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রয়াত নেতার বিদায়, জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
শেষ বিদায় ও জানাজার অনুষ্ঠান তেহরান, কোম, মাশহাদ এবং প্রতিবেশী ইরাকে অনুষ্ঠিত হবে। তেহরান, কোম ও খোরাসান রাজাভি প্রদেশে প্রাদেশিক সমন্বয় কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে। বাগদাদ অথবা নাজাফ বিমানবন্দরে ইরাকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার আয়োজন শেষে নাজাফ ও কারবালার পবিত্র শহরে জানাজা ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এর পরদিন ৯ জুলাই পবিত্র নগরী মাশহাদে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। সেখানে ইমাম রেজার মাজারের পাশে আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের সমাহিত করার কথা রয়েছে।
ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি ৮৬ বছর বয়সে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসী যুদ্ধের প্রথম দিনে নিহত হন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমও খামেনির জানাজায় অংশ নিতে গতকাল সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হন।