ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু পড়াশোনা ও শখের চমৎকার ভারসাম্য সোনারগাঁয় ১০ টাকা চাঁদার জন্য হত্যা পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নের আর্জেন্টিনা কোচের কড়া জবাব নিয়োগ দেবে মীনা বাজার ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন শুরু আগস্টে মাতামুহুরীতে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের মৃত্যু জাপানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ ‘প্রাকৃতিক সুস্থতার জন্য হিজামা একটি অনন্য সুন্নত’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক নেতায় পরিণত হয়েছেন: এমপি ফখরুল স্বাধীন সাংবাদিকতায় অপতথ্য ও গুজব বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এআই দিয়ে প্রবেশপত্র তৈরি, পরীক্ষার্থীসহ সহযোগীকে অর্থদণ্ড চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেলেন ৬ লেখক নিয়োগ দেবে এসএমসি, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মতলবে ছেলের হাতে মা খুন প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক যুবদল নেতা বহিষ্কার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন রিয়াদ মাহরেজ জার্মানি-নাগেলসম্যানের বিচ্ছেদ! থাইল্যান্ডে ধর্মীয় শোভাযাত্রা দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ৪০ জাল যার-জল তার‌: প্রতিমন্ত্রী টুকু র‌্যাগিংয়ের দায়ে হাবিপ্রবির ৭২ শিক্ষার্থীকে শোকজ ফুটবলের উৎপত্তি প্রসঙ্গে আলাস্কার পাগল স্ল্যাকে১ ফুটবল খেলা চলছে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ব্লু কার্বন ফাইন্যান্স জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী টেড হিউজ ও মিরোস্লাভ হোলুবের কবিতা কৌতুকপ্রিয়তা আর সমাজ-নিরীক্ষণ

বাজেটের প্রভাবে স্থিতিশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৫০ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৫২ এএম
বাজেটের প্রভাবে স্থিতিশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম
মুদি দোকানের ছবি। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঘোষিত শুল্ক ও কর ছাড়ের প্রাথমিক প্রভাবে রাজধানীর খুচরা বাজারে ইতোমধ্যে খোলা সয়াবিন তেল, দেশি পেঁয়াজ ও ব্রয়লার মুরগিসহ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সর্বশেষ দৈনিক বাজারদর প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম কমেছে অথবা স্থিতিশীল রয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব ও সরবরাহসংক্রান্ত উদ্যোগে বাজারে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সিপাহীবাগ, মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউ মার্কেট, রামপুরা ও মহাখালী এলাকার খুচরা বাজারের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত টিসিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩৫-৪৫ টাকায় নেমেছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৮৬-১৯২ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৬০-১৮০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১২০-২১০ টাকা, দেশি আদা ১৩০-১৬০ টাকা এবং শসা ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে কয়েকটি পণ্যের দাম সামান্য বেড়েছে। দেশি রসুন কেজিপ্রতি ৯০-১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০-১৪০ টাকা এবং বেগুন ৭০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সরু চাল (নাজির/মিনিকেট) কেজিপ্রতি ৭২-৮৫ টাকা, মাঝারি চাল (পাইজাম/আটাশ) ৫৫-৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ছোট মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ১৫০-১৬০ টাকা এবং বড় মসুর ডালের দাম ৯০-১০৫ টাকা। গরুর মাংস ৭৮০-৮৫০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০-১ হাজার ৩৫০ টাকা, চিনি ১০৫-১১০ টাকা এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ ৩৮-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাজার বিশ্লেষকরা বলেছেন, প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে উৎসে কর প্রত্যাহার এবং কয়েকটি খাদ্য ও কৃষিপণ্যের অগ্রিম কর কমানোর মতো বাজেটের পদক্ষেপের ফলে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে এবং বাজারে আস্থা বাড়ছে।

এই কর-সুবিধার আওতায় চাল, গম, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চিনি, লবণ, মাছ, পোলট্রি পণ্য, আলু ও বীজসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর লক্ষ্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মসলা, খেজুর, শিশুখাদ্য, সার, পশুখাদ্য, কীটনাশক এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের ওপর শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে উৎপাদন ও বিতরণ ব্যয় কমে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম সম্প্রতি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায়নি। তিনি এর কৃতিত্ব সরকারের জনবান্ধব রাজস্বনীতিকে দেন।

তিনি বলেন, ‘৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট জনকল্যাণকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে।’

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ পণ্যের দাম স্থিতিশীল রেখেছেন। তাদের মতে, পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং নতুন অর্থবছরের রাজস্ব-সুবিধা পুরোপুরি কার্যকর হলে আমদানি ব্যয় আরও কমবে এমন প্রত্যাশাও বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সরকার বাজার তদারকি অব্যাহত রাখবে, যাতে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে।’

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, কর হ্রাসের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন আমদানি, দক্ষ সরবরাহব্যবস্থা এবং কার্যকর বাজার তদারকি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোক্তারা সরকারের দেওয়া রাজস্ব-সুবিধার পূর্ণ সুফল পান।

তারা আরও বলেন, নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রবণতা রোধ করাও জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ (ওএসএল) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রাশেদুর রহমান বলেন, সরবরাহব্যবস্থা কার্যকর থাকলে সরকারের শুল্ক ও কর যৌক্তিকীকরণের পদক্ষেপ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, কেবল আমদানি ব্যয় কমলেই খুচরা বাজারে দাম কমবে না। পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সেই সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা মূল্য কারসাজির যেকোনো প্রচেষ্টা ঠেকাতে কার্যকর বাজার তদারকি অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন আমদানি ও নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকে।’

রাশেদুর রহমান বলেন, এসব সহায়ক ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত রাজস্ব-উদ্যোগগুলো আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্থিতিশীলতা জোরদার করবে এবং ভোক্তা কল্যাণ বাড়াতে সহায়তা করবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুল্ক ও কর হ্রাসের সুফল খুচরা পর্যায়ে পৌঁছানো এবং পুরো অর্থবছরজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার বাজার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে।

বিশ্লেষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলে এবং দেশের সরবরাহব্যবস্থা নির্বিঘ্ন থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

তারা এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে অর্থ, বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ধারাবাহিক সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তামান্না রুপা/

সোনারগাঁয় ১০ টাকা চাঁদার জন্য হত্যা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
সোনারগাঁয় ১০ টাকা চাঁদার জন্য হত্যা
হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহিন মিয়া। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় মুমিনুল মিয়া নামে এক অটোরিকশা চালককে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

দীর্ঘ দেড় মাস পর শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে মেঘনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শাহিন মিয়া দড়িকান্দি এলাকার নসর আলমের ছেলে। শুক্রবার তাকে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন বাদি হয়ে শাহিন মিয়াকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। 

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি বাস ট্যান্ড এলাকায় শাহিন মিয়া একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আওয়ামী সরকার পতনের পর থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন অটোরিকশা ও সিএনজি থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করেন। গত ১৭ মে রবিবার বিকেলে অটোরিকশাচালক মমিনুল মিয়া তার অটোরিকশা নিয়ে দড়িকান্দি বাস স্ট্যান্ডে গেলে শাহিন মিয়া তার কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় মমিনুল মিয়া তাকে এক দফা টাকা দিয়েছেন বলে জানায় এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়। 

পরে শাহিন মিয়া তার লোকজনদের নিয়ে অটোরিকশাচালক মুমিনুল মিয়াকে বেধড়ক মারধর করেন। এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে অটোচালককে মাথায় আঘাত করে। এতে মমিনুল অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্বজনরা ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ২০ মে বুধবার ভোর সাড়ে ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

অটোরিকশাচালক মুমিনুল মারা যাওয়ার পর থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত শাহিন মিয়া এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘ দেড় মাস পর শুক্রবার ভোরে মেঘনা এলাকা থেকে প্রধান আসামি শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। 

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.গোলাম সারোয়ার বলেন, চাঁদার দাবিতে অটোরিকশাচালক মুমিনুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। 

ইমরান/নাঈম

মাতামুহুরীতে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
মাতামুহুরীতে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের মৃত্যু
মারা যাওয়া সহোদর ভাই। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের আজমনগর এলাকায় মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার, স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১ জুলাই) বড় ভাই মিজানুর রহমান হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

এদিকে বড় ভাইয়ের সংকটাপন্ন অবস্থার খবর শুনে ছোট ভাই মুজিবুর রহমান গভীরভাবে মর্মাহত হন। পরদিন বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান। পরিবারের সদস্যরা তখন তার দাফন-কাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরই মধ্যে একই দিন রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বড় ভাই মিজানুর রহমানও শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

একই দিনে মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক তৈরি হয়। 

স্থানীয় সামাজিক নেতা মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, “একই পরিবারের দুই সহোদর ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে। বিকেলে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবরেই আমরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু রাতেই বড় ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ আরও বেশি হৃদয়বিদারক। এমন ঘটনা এই এলাকায় আগে দেখিনি। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং মহান আল্লাহর কাছে দুই ভাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।”

তারেকুর রহমান/নাঈম

স্বাধীন সাংবাদিকতায় অপতথ্য ও গুজব বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
স্বাধীন সাংবাদিকতায় অপতথ্য ও গুজব বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা
ছবি: খবরের কাগজ

স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ এখন অপতথ্য, গুজব ও অপপ্রচার। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৎ, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা আরও জোরদার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে কক্সবাজারের একটি হোটেলে তথ্য অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন ভাবনায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কক্সবাজার স্থানীয় ২৫ জন সাংবাদিক এবং তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন, তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান খান।

কর্মশালায় উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হাছিনা আক্তার বলেন, 'সরকারের নীতি, সিদ্ধান্ত ও উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে সঠিক ও সময়োপযোগীভাবে পৌঁছে দিতে জনসংযোগ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দুর্যোগ ও সংকটকালে গুজব প্রতিরোধ এবং নির্ভুল তথ্য প্রচারেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, এআইভিত্তিক মিডিয়া মনিটরিং, আধুনিক ডিজিটাল নিউজরুম এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।'

গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলা বিষয়ে উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি বাড়ছে। অপতথ্য শুধু জনমনে বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই তথ্য যাচাই করে প্রচারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।'

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা তথ্যপ্রবাহ আরও সহজ করা, নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, 'সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারের সমন্বয় আরও জোরদার হয়েছে। তৃণমূলের সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, "চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পেশাদার সাংবাদিকতার চর্চা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

কর্মশালায় বক্তব্য দেন, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। 

তারেকুর রহমান/তামান্না রুপা/

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এআই দিয়ে প্রবেশপত্র তৈরি, পরীক্ষার্থীসহ সহযোগীকে অর্থদণ্ড

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এআই দিয়ে প্রবেশপত্র তৈরি, পরীক্ষার্থীসহ সহযোগীকে অর্থদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এআই দিয়ে ভুয়া প্রবেশপত্র বানিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে কসবার তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কসবা মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত (১৮) এবং তার ফুফাতো ভাই ইনজামামুল হক (১৯)। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কসবা মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিলেন। কিন্তু জান্নাত তার ফুফাতো ভাই ইনজামামুল হকের সহযোগিতায় এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবি দিয়ে এআই ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য একটি ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং কেন্দ্র সচিব এ. কে. আজাদের বিষয়টি সন্দেহ হলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা উপ-নিয়ন্ত্রককে অবগত করা হয়। পরে যাচাই শেষে প্রবেশপত্রটি ভুয়া প্রমাণিত হলে জান্নাত ও তার ফুফাতো ভাই ইনজামামুলকে আটক করা হয়। 

পরে দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুইজনকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের ভবিষ্যতে আর এমন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়াবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

আজিজুল সঞ্চয়/অন্তরা/

মতলবে ছেলের হাতে মা খুন

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
মতলবে ছেলের হাতে মা খুন
অভিযুক্ত ছেলে। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলব উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নে মো. জনির হাতে তার মা মজিদা বেগম (৫০) খুন হয়েছেন। ওই এলাকার একটি কলাবাগান থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় মজিদা বেগমের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে খুনি জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জনির দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গত ২৫ জুন সকালে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের মাথার খুলি থেকে চুল খসে যায় এবং বাম হাত ও বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ শিয়াল খেয়ে ফেলায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি কাজ শুরু করলেও মৃত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, জনি ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মায়ের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করতেন। তার দাবি, তার মা একাধিক বিয়ে করায় তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই গত ১৭ জুন তিনি তার মা'কে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান এবং সেখানে কলাবাগানের দুই আইলের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, 'ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস। কোনো পরিচয় ছিল না, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের নিরলস তদন্তের মাধ্যমে আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, 'এই মামলাটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের পেশাদারত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেছে।'

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা