পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের বোঝায় ৯৪ হাজার গ্রাহক বিপাকে পড়েছেন। শতকরা ৭০-৮০ শতাংশ গ্রাহকের অভিযোগ, তাদের জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল আগের মাসের চেয়ে দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়তি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে তারা অর্থনৈতিক চাপে পড়েছেন। গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, মিটার না দেখে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মিটার পরিদর্শকরা গ্রাহকদের রীতিমতো জিম্মি করে ফেলেছেন। তারা এমন বিড়ম্বনার প্রতিকার চেয়েছেন।
গ্রাহকদের দাবি, জুন মাসে তাদের লোডশেডিংয়ের ধকল সহ্য করতে হয়েছে। এতে বিদ্যুতের ব্যবহার আগের মাসের তুলনায় কম ছিল। কিন্তু বিল এসেছে তুলনামূলক বেশি। কাউকে দ্বিগুণ, কাউকে তিন গুণ বিল গুনতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুতের গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে বিল পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গণঅধিকার পরিষদ কলাপাড়া উপজেলার সদস্য সচিব ও কলাপাড়া পৌরশহরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা গাজী আব্বাস উদ্দিন বাচ্চু জানান, তার দুটি মিটারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে। একটি মিটারে জুন মাসে বিল এসেছে ৬৫০ ইউনিট ব্যবহারের জন্য ৮০৫৫ টাকা। অথচ একই মিটারে মে মাসে ৪২৫ ইউনিট ব্যবহার দেখানো হয়। এ ছাড়া তার আরেকটি মিটারে মে মাসে ৩১০ ইউনিট ব্যবহারের বিল এসেছিল। জুন মাসে একই মিটারে ৪৫০ ইউনিট ব্যবহার দেখিয়ে বিল এসেছে ৪৬০৩ টাকা। তিনি দাবি করেন, তার মিটারগুলো না দেখেই অনুমাননির্ভর রিডিং বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের জিয়া কলোনির বাসিন্দা ফোরকান হাওলাদার জানান, তাকে প্রতি মাসে গড়ে ২৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকার বিল দেওয়া হতো। কিন্তু কলোনির শতাধিক পরিবারকে এবার দুই থেকে তিন গুণ বেশি বিল দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অধিকাংশ শ্রমজীবী পরিবারের পক্ষে এই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জহির হোসেন জানান, তার প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার বিল আসত। কিন্তু জুন মাসে তার দোকান ও বাসায় আগের সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বিল এসেছে। তিনিও দাবি করেন, মিটার পরিদর্শক অনুমাননির্ভর রিডিং জমা দেওয়ায় তাকে বাড়তি বিলের বোঝা বইতে হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া জোনাল অফিসের অধীনে ৬১ হাজার ৭৫১ জন এবং কুয়াকাটা জোনাল অফিসের অধীন ৩২ হাজার ৩১২ জন গ্রাহক রয়েছে। মোট ৯৪ হাজার ৬৩ জন গ্রাহকের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের অভিযোগ, তাদের জুন মাসে ভৌতিক বিল দেওয়া হয়েছে। মে মাসের চেয়ে তারা বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করেছেন। লোডশেডিংও ছিল। অথচ বিলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইউনিট দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান জানান, তিনিও এমন অভিযোগ পাচ্ছেন। তদন্ত করে যার সত্যতা মিলছে তার বিল সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। তবে লোকবল সংকটে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। তিনি নিশ্চিত করেন, গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।