ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, দুই জনের মৃত্যু ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, আশায় দীপ্যমান শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে? হাতিয়ায় নারীসহ যুবদল নেতা আটক, পদ থেকে বহিষ্কার ৮৮ বছরের খরা কাটিয়ে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র একদিনের ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস বিশ্বকাপের মঞ্চেই বিদায় বলবেন রোনালদো! ছুটির দিনে ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’ এইচএসসিতে ঝরে পড়া বাড়ার দায় কার? লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন নির্ধারিত ৬০ পণ্যে বাজেটের সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি রূপকথা নাকি রাজত্ব লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা সুচালো মাথা ব্যাঙের কথা বিদ্যুৎসংকটে দিশেহারা শেরপুরবাসী বাড়ি যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনার ক্যানভাস ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের কানসাসে নকআউট যুদ্ধ: কলম্বিয়ার সামনে ঘানা ৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের বোঝায় ৯৪ হাজার গ্রাহক বিপাকে পড়েছেন। শতকরা ৭০-৮০ শতাংশ গ্রাহকের অভিযোগ, তাদের জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল আগের মাসের চেয়ে দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়তি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে তারা অর্থনৈতিক চাপে পড়েছেন। গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, মিটার না দেখে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মিটার পরিদর্শকরা গ্রাহকদের রীতিমতো জিম্মি করে ফেলেছেন। তারা এমন বিড়ম্বনার প্রতিকার চেয়েছেন। 

গ্রাহকদের দাবি, জুন মাসে তাদের লোডশেডিংয়ের ধকল সহ্য করতে হয়েছে। এতে বিদ্যুতের ব্যবহার আগের মাসের তুলনায় কম ছিল। কিন্তু বিল এসেছে তুলনামূলক বেশি। কাউকে দ্বিগুণ, কাউকে তিন গুণ বিল গুনতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুতের গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে বিল পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গণঅধিকার পরিষদ কলাপাড়া উপজেলার সদস্য সচিব ও কলাপাড়া পৌরশহরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা গাজী আব্বাস উদ্দিন বাচ্চু জানান, তার দুটি মিটারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে। একটি মিটারে জুন মাসে বিল এসেছে ৬৫০ ইউনিট ব্যবহারের জন্য ৮০৫৫ টাকা। অথচ একই মিটারে মে মাসে ৪২৫ ইউনিট ব্যবহার দেখানো হয়। এ ছাড়া তার আরেকটি মিটারে মে মাসে ৩১০ ইউনিট ব্যবহারের বিল এসেছিল। জুন মাসে একই মিটারে ৪৫০ ইউনিট ব্যবহার দেখিয়ে বিল এসেছে ৪৬০৩ টাকা। তিনি দাবি করেন, তার মিটারগুলো না দেখেই অনুমাননির্ভর রিডিং বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের জিয়া কলোনির বাসিন্দা ফোরকান হাওলাদার জানান, তাকে প্রতি মাসে গড়ে ২৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকার বিল দেওয়া হতো। কিন্তু কলোনির শতাধিক পরিবারকে এবার দুই থেকে তিন গুণ বেশি বিল দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অধিকাংশ শ্রমজীবী পরিবারের পক্ষে এই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। 

কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জহির হোসেন জানান, তার প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার বিল আসত। কিন্তু জুন মাসে তার দোকান ও বাসায় আগের সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বিল এসেছে। তিনিও দাবি করেন, মিটার পরিদর্শক অনুমাননির্ভর রিডিং জমা দেওয়ায় তাকে বাড়তি বিলের বোঝা বইতে হচ্ছে। 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া জোনাল অফিসের অধীনে ৬১ হাজার ৭৫১ জন এবং কুয়াকাটা জোনাল অফিসের অধীন ৩২ হাজার ৩১২ জন গ্রাহক রয়েছে। মোট ৯৪ হাজার ৬৩ জন গ্রাহকের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের অভিযোগ, তাদের জুন মাসে ভৌতিক বিল দেওয়া হয়েছে। মে মাসের চেয়ে তারা বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করেছেন। লোডশেডিংও ছিল। অথচ বিলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইউনিট দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান জানান, তিনিও এমন অভিযোগ পাচ্ছেন। তদন্ত করে যার সত্যতা মিলছে তার বিল সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। তবে লোকবল সংকটে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। তিনি নিশ্চিত করেন, গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, দুই জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, দুই জনের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুর মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়াই একসঙ্গে পাঁচটি নবজাতক সন্তান প্রসাব করেছেন এক মা। জন্মের পর দুটি শিশু মারা গেছে। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকাল ৫ টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে শিশুগুলোর জন্ম হয়। শিশুগুলোর মধ্যে তিনজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে সন্তান ছিল। এর মধ্যে একটি মেয়ে ও একটি ছেলে সন্তান মারা গেছে। 

শিশুদের বাবার নাম মাহামুদুল হাসান ডলার। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের আবুল বেপারীর ছেলে।

হাসপাতাল ও শিশুগুলোর পরিবার সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে নগরকান্দা উপজেলার বড় কাজুলী গ্রামের চাদনী বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় মাহামুদুল হাসান ডলারের। তাদের বিয়ের পরই চাঁদনী বেগম সন্তান সম্ভাব্য হলে এই দম্পতির মুখে হাসি ফুটেছিল। এক পর্যায়ে জানতে পারেন চাঁদনীর গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। পরে চিকিৎসকের দ্বারস্ত হলেও নির্ধারিত সময়ের ১২ সপ্তাহ আগে বাঁচ্চাগুলো প্রসাব করায় দুঃশ্চিতায় রয়েছে পরিবারটি।  

বাচ্চাগুলোর চাচা, ইদ্রিস আলী জানান, আমি বাচ্চাগুলোর চাচা। পাঁচ জনের মধ্যে দুইজন মারা গেছে। তিন জন জীবিত আছে। এর মধ্যে দুই ছেলে এক মেয়ে এখন পর্যন্ত জীবিত আছে। 

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স মিনতি সরকার বলেন, বিকাল ৪ টা ১০ মিনিটে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনেরা। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৫ টা ২০ মিনিটে প্রথম বাচ্চা প্রসাব করেন। এরপর ৩০ মিনিটের মধ্যে বাকি ৪টি বাচ্চা প্রসব করেন। 

তিনি আরও বলেন, বাচ্চাগুলো ২৮ সপ্তাহের সময়ে অস্ত্রোপচার ছাড়াই জন্ম গ্রহণ করেছে কিন্তু স্বাভাবিকভাবে ৪০ সপ্তাহে হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করায় বাঁচ্চাগুলোর ওজন ৫'শ গ্রাম থেকে ৭'শ গ্রামের মধ্যে রয়েছে। আবার কারও চোখ ফোটেনি, সবকিছু মিলে বাঁচ্চাগুলো অস্বাভাবিক বলা যায়। এছাড়া মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, তারও রক্তের প্রয়োজন। 

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ণ) চিকিৎসক প্বীতিরাজ পাল চৌধুরী বলেন, এখানে ৫ টা বাঁচ্চার মধ্যে দুটি বাচ্চা আগেই মারা গেছে। বাচ্চাগুলো সংকটাপন্ন রয়েছে। জীবিত বাচ্চা তিনটির জন্য এনআইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন কিন্তু আমাদের এখানে এনআইসিইউ নেই। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার কথা জানিয়েছি কিন্তু পরিবার সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে। এছাড়া আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। 

এন কে বি নয়ন/অন্তরা/

হাতিয়ায় নারীসহ যুবদল নেতা আটক, পদ থেকে বহিষ্কার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ এএম
হাতিয়ায় নারীসহ যুবদল নেতা আটক, পদ থেকে বহিষ্কার
অভিযুক্ত যুবদল নেতা ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি। ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার ঘটনায় আশরাফ উদ্দিন নামে যুবদল নেতাকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবদল।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক রাইসুল হায়দার বাবুর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জেলা যুবদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আশরাফ উদ্দিনকে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল বহন করবে না বলেও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। 

হানিফ সাকিব/তামান্না রুপা

মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ এএম
মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি
আহত শিক্ষক। ছবি: খবরের কাগজ

মাদারীপুরের কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই শিক্ষককে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলার পশ্চিম আলীপুর এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্বজনরা জানায়, ১৫৮নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের সঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রাজন শিকদারের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টিফিন বিতরণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে প্রায়ই দুই শিক্ষকের মধ্যে তর্কবির্তক হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে লিপি বেগম তার বাড়িতে শিক্ষার্থীদের টিফিন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আপত্তি জানান অপর শিক্ষক রাজন। বিষয়টি নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। পরে বিদ্যালয় ছুটি শেষে ফেরার পথে পশ্চিম আলীপুরের খেয়াঘাট এলাকায় রাজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে লিপি বেগমের ভাই মিলন মোল্লার বিরুদ্ধে। তাকে পিটিয়ে ডান পা ভেঙ্গে দেওয়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।

রাজনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে গুরুতর অবস্থায় ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে প্রথমে ভর্তি করা হয় কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অবস্থার অবনতি হলে রাত ১২টার দিকে পাঠানো হয় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত লিপি বেগম।

ভুক্তভোগী শিক্ষক রাজন শিকদারের অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রায়ই শিক্ষার্থীদের টিফিনের প্যাকেট বাড়িতে নিয়ে যায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক লিপি বেগম। এর প্রতিবাদ করায় আমার ওপর হামলা করে লিপির ভাই মিলন মোল্লা ও তার লোকজন। আমার এক পা ভেঙ্গে দিয়েছে। আরেক পা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ। আমি এই ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’

অভিযুক্ত লিপি বেগম বলেন, 'রাজন শিকদার আমার সঙ্গে প্রায়ই খারাপ আচরণ করে। তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে বারান্দায় গিয়ে বসে থাকেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে তিনি আমার ওপর চড়াও হন। তার ওপর কে বা কারা হামলা চালিয়েছে আমার জানা নেই।’

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া  হবে।’

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ এএম
লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক
ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।

ঝড়ের সময় বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন মহা দুর্ভোগে। পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও ঘটছে ব্যাঘাত।

স্থানীয়রা জানান, চার দিন আগে বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এরপর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট, মোবাইল ফোন চার্জ দিতে সমস্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ায় প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে এবং প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, 'বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

বকুল/তামান্না রুপা

বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত
টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সাবরাং সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থান। ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। গত বুধবার রাত থেকে মংডু শহরে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী ২০-২৫টির মতো বিমান হামলা চালায়। সীমান্তের ওপার থেকে আসা বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এতে সীমান্তবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবি এবং কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং ও পৌরসভার সীমান্তবর্তী এলাকায় বুধবার রাত ৯টা থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অনেক পরিবার আতঙ্কে রাত কাটায়। শিশুদের ঘুম ভেঙে যায় এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্তুতি নেন।

মংডুর এক বাসিন্দা জানান, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিমান হামলার শব্দ না শোনা গেলেও মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

মায়ানমারভিত্তিক গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী ১ জুলাই বুথিডং টাউনশিপের একটি মুসলিম গ্রামে জেট ফাইটার ও ওয়াই-১২ বিমান থেকে দুটি ৫০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে একজন পুরুষ ও দুই শিশু আহত হন এবং প্রায় ১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ১৭ জুন কিয়াউকতাও এলাকায় বিমান হামলায় ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৮ জন আহত হন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী বলেন, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তসংলগ্ন জলসীমায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জেলেদেরও সতর্কতার সঙ্গে মাছ ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, বুধবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।