বিশ্বকাপ ফুটবলে শেষ বত্রিশের লড়াই শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ সময় শনিবার (৪ জুলাই) সকালে কলম্বিয়া ও ঘানার ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াই। কানসাস সিটিতে সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল পেয়ে যাবে শেষ ষোলোতে পা রাখা শেষ দলটিকে। জয়ী দলটি শেষ ষোলোতে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে সুইজারল্যান্ড বা আলজেরিয়াকে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটিই হবে কলম্বিয়া ও ঘানার প্রথম মুখোমুখি লড়াই। ফলে ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ইতিহাস গড়ার উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। গ্রুপ পর্বে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে কলম্বিয়া। গ্রুপ ‘কে’ থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করে তারা। পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট পর্তুগালকে। নেস্টর লরেঞ্জোর দল গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারায়। এরপর ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় তুলে নেয়। শেষ ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেই গ্রুপসেরা হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
আক্রমণভাগের পাশাপাশি রক্ষণেও দুর্দান্ত কলম্বিয়া। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একটি মাত্র গোল হজম করেছে তারা। এর মাঝ দিয়ে দলটি নিজেদের ভারসাম্য ও শৃঙ্খলার প্রমাণ দিয়েছে।
বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার সেরা সাফল্য ২০১৪ সালে। সে সময় তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল। ২০১৮ সালে শেষ ষোলোতে খেললেও ২০২২ বিশ্বকাপে জায়গাই করে নিতে পারেনি। চার বছর পর বড় মঞ্চে ফিরে এবার তারা আরও দূরে যেতে চায়।
অন্যদিকে ঘানা নকআউটে এসেছে সেরা তৃতীয় স্থানধারীদের একটি হিসেবে। গ্রুপ ‘এল’-এ ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার পেছনে থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ঘানা টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়ে। এরপর ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে নিজেদের সামর্থ্য দেখায় তারা। যদিও শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হারতে হয়।
ঘানার অতীত বিশ্বকাপ ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ২০০৬ সালে তারা শেষ ষোলোতে উঠেছিল, আর ২০১০ সালে পৌঁছেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। তাই নকআউটের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের আছে। দলগত শক্তির বিচারে কলম্বিয়া এগিয়ে থাকলেও ঘানাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের দৃঢ় রক্ষণ প্রমাণ করেছে, বড় দলকে আটকে দেওয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে।
কলম্বিয়ার আক্রমণভাগে নজর থাকবে লুইস দিয়াজ, লুইস সুয়ারেজ ও হামেস রদ্রিগুয়েজের ওপর। পর্তুগালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নামা সুয়ারেজ চোট কাটিয়ে মূল একাদশে ফিরতে প্রস্তুত।
ঘানার জন্য সবচেয়ে বড় ভরসা অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড জর্ডান আইয়ু। জাতীয় দলের হয়ে ৩৪ গোল করা এই স্ট্রাইকারের কাঁধেই থাকবে গোলের দায়িত্ব। তবে অ্যান্তোনিও সেমেনয়োর ফিটনেস নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। গোড়ালির চোটে ভুগলেও ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। গোলরক্ষক লরেন্স আতি জিগির ফিটনেস নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে। ফলে পোস্টের নিচে আবারও দেখা যেতে পারে বেঞ্জামিন আসারেকে।
ম্যাচ নিয়ে কলম্বিয়ার অধিনায়ক হামেস রদ্রিগুয়েজ বলেন, গ্রুপ পর্বে আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি, কিন্তু নকআউট সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মঞ্চ। এখানে ছোট ভুলেও বড় মূল্য চোকাতে হয়। ঘানা খুব শারীরিক ও দ্রুতগতির দল। আমাদের শান্ত থাকতে হবে এবং নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
দলটির কোচ নেস্তর লরেঞ্জো বলেন, ‘ঘানাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার প্রমাণ তারা দিয়েছে।’
ঘানার অধিনায়ক জর্ডান আইয়ু বলেন, ‘কলম্বিয়া দুর্দান্ত ফর্মে আছে, কিন্তু আমরা ভয় পাচ্ছি না। বিশ্বকাপের নকআউটে এসে প্রতিটি দলই বিশ্বাস করে যে তারা জিততে পারে।’
দলটির কোচ কার্লোস কুইরোজ বলেন, ‘কলম্বিয়ার আক্রমণভাগ অসাধারণ। আশা করছি আমরা সুযোগ তৈরি করতে পারব। সেগুলো ব্যবহার করতে পারলে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে।’
নকআউট পর্বে ভুলের সুযোগ নেই। এক ম্যাচের ভুলেই শেষ হয়ে যেতে পারে বিশ্বকাপ স্বপ্ন। তাই কানসাস সিটিতে দুই দলের লড়াই যে রুদ্ধশ্বাস হতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়। এখন দেখার বিষয়- গ্রুপ পর্বের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে কলম্বিয়া এগিয়ে যায়, নাকি অঘটন ঘটিয়ে ঘানা লেখে নতুন ইতিহাস।