ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ছুটির দিনে ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’ এইচএসসিতে ঝরে পড়া বাড়ার দায় কার? লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন নির্ধারিত ৬০ পণ্যে বাজেটের সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি রূপকথা নাকি রাজত্ব লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা সুচালো মাথা ব্যাঙের কথা বিদ্যুৎসংকটে দিশেহারা শেরপুরবাসী বাড়ি যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনার ক্যানভাস ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের কানসাসে নকআউট যুদ্ধ: কলম্বিয়ার সামনে ঘানা ৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মেসিকে নিয়ে আবেগ-পেশাদারত্বে কেপ ভার্দে শেষ ষোলোতে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল, ম্যাচ কবে-কখন? নরওয়ের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে ধাক্কা অফসাইডে কপাল পুড়ল ক্রোয়েশিয়ার, শেষ ষোলোতে পর্তুগাল ব্রাজিলের চেয়ে এবার আর্জেন্টিনাই এগিয়ে ৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পর্তুগালকে সমতায় ফেরালেন রোনালদো বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন উনাই সিমন মেসিকে চিঠি লিখে মানুর স্বপ্নপূরণ

ব্রাজিলের চেয়ে এবার আর্জেন্টিনাই এগিয়ে

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
ব্রাজিলের চেয়ে এবার আর্জেন্টিনাই এগিয়ে
হাসানুজ্জামান খান বাবলু। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, ফুটবল যেন ততই তার আসল রূপে ধরা দিচ্ছে। কখনো কখনো শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ, কখনো বা আবার কোনো দলের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন; কিংবা টাইব্রেকারের হৃদয়ভাঙার গল্প। রাউন্ড অব বত্রিশ শুরু হতেই এর সবই তো দেখা হয়ে গেল দর্শকদের।

ব্যক্তিগতভাবে বুধবারের তিনটি ম্যাচের কথা আমি কিছুতেই ভুলতে পারছি না। ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চকর জয়, বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, মেক্সিকোর আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স—প্রতিটি ম্যাচই ছিল আবেগ, উত্তেজনা আর বিস্ময়ের একেকটি অধ্যায়। এখন মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপের প্রকৃত উন্মাদনা কেবল শুরু হলো। ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো ফলই নিশ্চিত নয়, সেটাও আরও একবার পলে পলে অনুভব করলাম আমরা।

গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর বিপক্ষে ইংল্যান্ড তো প্রায় হেরেই গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুই গোল করে ২-১-এ ম্যাচ জিতে নিল তারা। দুটি গোলই করেছেন হ্যারি কেইন। তিনি আসলে প্রমাণ করেছেন, কেন তিনি এই সময়ের অন্যতম সেরা গোলস্কোরার। কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির কথা না বললেই নয়। রীতিমতো দুর্ভেদ্য হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ম্যাচজুড়ে যে আক্রমণগুলো তিনি রুখেছেন, তাতে গোলরক্ষক হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠাই পেয়ে গেলেন বলতে হবে। এর খানিক পরেই শুরু হয় সেনেগাল ও বেলজিয়াম ম্যাচ। সেনেগাল ২-০তে এগিয়ে যাওয়া পরও ৩-২-এ ম্যাচটা হারল। এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো ফুটবলে কোনো কিছুই অসম্ভব না। এখানেই আসলে ফুটবলের আসল আনন্দ। এ জন্যই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ খেলা ফুটবল। আর এবারের বিশ্বকাপ তো বুঝিয়ে দিচ্ছে, দুনিয়া জুড়েই ফুটবলের উন্মাদনা কেবল বাড়ছে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেক্সিকোর ২-০ গোলের জয় পাওয়া ম্যাচটাও বেশ ভালো ছিল। মেক্সিকোকে দেখে মনে হচ্ছে, এই দলটা অনেকদূর যাবে।

এই তিনটি ম্যাচে আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে- খেলোয়াড়দের ফিজিক্যাল ফিটনেস। কঙ্গোর বিপক্ষে অনেক সময় তো ইংল্যান্ডকে খুব ক্লান্তই মনে হয়েছে। ইংল্যান্ডকে নিয়ে নিজের একটা ভাবনা প্রকাশ না করে পারছি না। এখন পর্যন্ত একবারই তারা বিশ্বকাপ পেয়েছে- ১৯৬৬ সালে। ওই আসরটি বসেছিল ইংল্যান্ডেই। সেবার পরিকল্পনা করে বাজে ট্যাকল করে পেলের বিশ্বকাপ শেষ করে দেওয়া হয়েছিল। পেলে কাঁদতে কাঁদতে সেদিন মাঠ ছেড়েছিলেন। বলেছিলেন- ‘বিশ্ব ফুটবল নোংরা হয়ে গেছে, আমি আর এই ফুটবল খেলব না’। মাঝে মধ্যে মনে হয়, এই অভিশাপেই কি ইংল্যান্ডের এত কাল ধরে শিরোপা খরা কাটছে না? এবারের ইংল্যান্ড দলটা অবশ্য ভালো ছন্দ খুঁজে পেয়েছে বলব। ফলে ইংল্যান্ড অন্তত ফাইনালে খেললে অবাক হব না।

রাউন্ড অব বত্রিশ থেকেই নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির ছিটকে যাওয়াটা আমাকে খুব বেদনা দিয়েছে। ছিটকে যাওয়াদের মধ্যে জাপানের কথা আলাদা করে বলতে হয়। ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। তবে খুব লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়েছে। আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাদের এই লড়াকু মনোভাব মানুষ মনে রাখবে। এশিয়ান দেশ হিসেবে তাদের নিয়ে আমি গর্বিত।

আগামীকাল সকালের মধ্যেই শেষ ষোলোর সবগুলো ম্যাচের লাইনআপ চূড়ান্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ ৪৮ দলের বিশ্বকাপ নেমে আসবে ১৬ দলে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি হট-ফেবারিট দল ছিটকে গেছে। সামনে হয়তো এই তালিকা আরও লম্বা হবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই না, প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলো দ্রুত ছিটকে যাক। কারণ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স- এই সব দলগুলোর খেলা দেখেই তো আমাদের বেড়ে ওঠা।

দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এখন পর্যন্ত যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে এবারও তারা ফাইনাল খেলবে। তাদের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে তো গতবারের তুলনায় আরও বেশি পরিপক্ব এবং আরও বেশি গতিশীল মনে হচ্ছে।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যে এবার আমি আর্জেন্টিনাকেই এগিয়ে রাখব। গতবার যে দল নিয়ে আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতেছে, বলতে গেলে সেই দলটাকেই ধরে রেখেছে তারা। লিওনেল মেসি ৩৯ বছর বয়সেও মাঠে যেভাবে পারফর্ম করছে এবং তার নির্দেশনায় অন্যরা যেভাবে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছে, তা দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। ব্রাজিল একটু পিছিয়ে। কারণ অতীতে তারা যে শৈল্পিক ফুটবল খেলত, সেই ছন্দটা এখন আর নেই তাদের। একসময় ব্রাজিলের ১১ জনের মধ্যে ১০ জনই থাকত সুপারস্টার। গত কয়েকটি বিশ্বকাপ ধরেই আমরা যার ব্যতিক্রম দেখতে পাচ্ছি। ফলে লাতিন আমেরিকার এই দুই দলের মধ্যে পাল্লাটা আর্জেন্টিনার দিকে বেশি ভারী বলে মনে হচ্ছে।

তবে মনে রাখতে হবে- ফুটবল শেষ পর্যন্ত গোলের খেলা। পরিসংখ্যান, ইতিহাস, র‌্যাঙ্কিং কিংবা ফেবারিটের তকমা— সবকিছুই মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিতে পারে একটি গোল। যে দল নির্ধারিত দিনে নিজেদের সেরাটা খেলতে পারবে, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারবে, জয়ের হাসিটাও শেষ পর্যন্ত তারাই হাসবে। আপাতত না হয় এই রোমাঞ্চেই আমরা ডুবে থাকি।

লেখক: জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও কোচ

রূপকথা নাকি রাজত্ব

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
রূপকথা নাকি রাজত্ব
মেসিদের টিকে থাকার মিশন শুরু। প্রতিপক্ষ চমক জাগানো নবাগত কেপ ভার্দে। মায়ামিতে আগামীকাল ভোরে মাঠে নামার আগে রণকৌশলে মেসিরা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট মানেই নতুন গল্প লেখার মঞ্চ। কখনো পরাশক্তির দাপট, কখনো আবার ছোট দলের বিস্ময়। এবার সেই মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবলের দুই ভিন্ন জগৎ। এক পাশে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্য পাশে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দে। শক্তির বিচারে এটি নিঃসন্দেহে ডেভিড-গোলিয়াথের লড়াই। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগেই এমন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে যে, মনে হচ্ছে কেপ ভার্দে শুধু মেসির অটোগ্রাফ নিতে নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চ্যালেঞ্জ জানাতেই এসেছে।

আগামীকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর এই মহারণে মুখোমুখি হবে দুই দল। জয়ী দল জায়গা করে নেবে শেষ ষোলোতে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে অস্ট্রেলিয়া অথবা মিসর। 

অভিষেক বিশ্বকাপেই কেপ ভার্দে ইতোমধ্যে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব; তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই হার এড়িয়েছে তারা। মাত্র দুটি গোল হজম করে নকআউটে ওঠা আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি এখন বিশ্বাস করছে, সবচেয়ে বড় বিস্ময় এখনো বাকি।

সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেসের কথাতেও। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নির্দ্বিধায় বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারব। ছোট দেশ হিসেবে সবাইকে চমকে দেওয়াই আমাদের কাজ। আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।’

তবে জয়ের স্বপ্ন দেখলেও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসির প্রতি তাদের শ্রদ্ধার বিন্দুমাত্র কমতি নেই। ম্যাচের আগে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়কের হাতে তুলে দেবে একটি বিশেষ স্মারক জার্সি। নেভেসের ভাষায়, ‘মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। তার বিপক্ষে খেলতে পারাটাই আমাদের জন্য গর্বের।’

কেপ ভার্দের সহকারী কোচ উমবেহতো বেতোঁকু বলেছেন, ‘আলবিসেলেস্তেদের মুখোমুখি হতে পারাই আনন্দের বিষয়। তবে পরিসংখ্যান কেবলই তত্ত্ব। ফুটবলে ইতিহাসের অসংখ্য ম্যাচের ফলাফল যেমন দেখিয়েছে, তেমনি প্রমাণ করে যে, মাঠের ভেতরে কী ঘটছে সেটাই আসল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে আমাদের সম্ভাবনা এক শতাংশ বলা হয়েছিল, এখন চার শতাংশ বলা হলেও সেটি আমাদের কাছে গুরুত্বহীন। আমরা অনেক বেশি মনোযোগী আমাদের লক্ষ্য, প্রত্যাশার দিকে।’

মেসিকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মেসিকে এমন একজন খেলোয়াড় মনে করি, যিনি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন। তবে আমরা সব সময় প্রতিপক্ষের দলগত পারফরম্যান্সের দিকেই নজর দেই- তারা কী ধরনের সমন্বয় তৈরি করতে পারে বা মেসির জন্য তারা কেমন ফাঁকা জায়গা বের করার চেষ্টা করতে পারে, সেটাই আমাদের ভাবনার বিষয়।’

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এসেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। 

টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে ছয় গোল করে তুখোড় ফর্মে রয়েছেন লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে আক্রমণে থাকবেন লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। চোট কাটিয়ে একাদশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোরও।

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি জানেন, নকআউটে অতীতের পরিসংখ্যান খুব একটা কাজে আসে না। ছোট একটি ভুলও শেষ করে দিতে পারে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন। তাই কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।

আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ ঘিরে উৎসবের শহরে পরিণত হয়েছে মায়ামিও। লাতিন আমেরিকার মানুষের বড় বসতি হওয়ায় শহরটি অনেকটাই আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় ঘরের মতো। ইতোমধ্যে হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক সেখানে পৌঁছে গেছেন। অনেকের হাতে টিকিট নেই, তবু প্রিয় দলকে ঘিরে উৎসবের অংশ হতে তারা হাজির হয়েছেন।

তবে গ্যালারির সমর্থন কিংবা পরিসংখ্যান; কোনোটিই কেপ ভার্দেকে ভয় দেখাচ্ছে না। রক্ষণে শৃঙ্খলা আর দলগত লড়াইয়ে ভর করে তারা আরও একটি রূপকথা লিখতে চায়। অন্যদিকে মেসিদের লক্ষ্য একটাই; শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেকটি ধাপ পেরিয়ে যাওয়া।

কাগজে-কলমে এটি অসম এক লড়াই। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার বলেছে, সবচেয়ে বড় বিস্ময়গুলো জন্ম নেয় এমন অসম লড়াই থেকেই। তাই মায়ামির রাতের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই– চ্যাম্পিয়নরা কি নিজেদের রাজত্ব অটুট রাখবে, নাকি আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে লিখবে বিশ্বকাপের নতুন রূপকথা?

শেষ ষোলোতে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল, ম্যাচ কবে-কখন?

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪১ এএম
শেষ ষোলোতে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল, ম্যাচ কবে-কখন?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। টরন্টোতে নাটকীয় এক ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছে দলটি।

ম্যাচের শুরুতে ইভান পেরিসিচের গোলে পিছিয়ে পড়ে পর্তুগাল। তবে পেনাল্টি থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোলে সমতা ফেরে পর্তুগাল। এরপর ইনজুরি টাইমে গনসালো রামোসের গোল ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় পর্তুগালের পক্ষে। শেষ মিনিটে ক্রোয়েশিয়া বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।

এই জয়ের পর শেষ ষোলোতে পর্তুগালের পরবর্তী প্রতিপক্ষ নিশ্চিত হয়েছে। শেষ ষোলোতে পর্তুগাল মুখোমুখি হবে স্পেনের, যারা অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয়।

আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের আরলিংটন, টেক্সাসে অনুষ্ঠিত হবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ।

এসজি/

নরওয়ের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে ধাক্কা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩১ এএম
নরওয়ের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে ধাক্কা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ব্রাজিল। মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)-এর একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার কার্যত বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। যদি ব্রাজিল ফাইনালে যেতে পারে তাহলে আগামী ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তার ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান পাকেতা। সেই ম্যাচেই তিনি কাসেমিরো ও ব্রুনো গুইমারাইসের সঙ্গে মিডফিল্ডে শুরু করেছিলেন।

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখন তার জায়গায় ড্যানিলো সান্তোসকে খেলানোর কথা ভাবতে পারেন, অথবা আক্রমণভাগে পরিবর্তন এনে এন্দ্রিক কিংবা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিকে সুযোগ দিতে পারেন।

অন্যদিকে, ইনজুরি কাটিয়ে ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করেছেন রাফিনিয়া। হাইতির বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচে চোট পাওয়ার পর তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। এখন তার অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে তাকে বেঞ্চে রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

এসজি/ 

অফসাইডে কপাল পুড়ল ক্রোয়েশিয়ার, শেষ ষোলোতে পর্তুগাল

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১০ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম
অফসাইডে কপাল পুড়ল ক্রোয়েশিয়ার, শেষ ষোলোতে পর্তুগাল
ছবি: সংগৃহীত

নাটকীয় এক ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ইনজুরি টাইমে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হওয়ায় শেষ মুহূর্তে ভেঙে পড়ে ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় টরন্টো স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথমার্ধে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় বিরতিতে ম্যাচ থাকে গোলশূন্য।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের গতি বদলে দেয় ক্রোয়েশিয়া। আগের চেয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে তারা। এক পর্যায়ে বক্সের ভেতরে ডিফেন্ডারদের মাঝ দিয়ে এগিয়ে যান মাতেও কোভাচিচ, তবে তার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।

চাপ অব্যাহত রেখেই ম্যাচের ৫৩ মিনিটে সফলতা পায় ক্রোয়েশিয়া। ডান দিক থেকে জোসিপ স্তানিসিচের নিখুঁত ক্রসে ইভান পেরিসিচ বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে পর্তুগালকে পিছিয়ে দেন। এতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।

এরপর আরও আক্রমণ চালায় তারা। ৫৭ মিনিটে আবারও বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। অন্যদিকে ৬০ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো গোল করলে সেটিও অফসাইডে বাতিল করে দেন রেফারি।

ম্যাচে বড় মোড় আসে কর্নারের সময়। বক্সে রেনাটো ভেইগাকে অব দ্য বল অবস্থায় আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার নিকোলা ভ্লাশিচ। ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান রোনালদো।

৭৫ মিনিটে আবারও সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। মাঝমাঠ থেকে দারুণ ড্রাইভে এগিয়ে গিয়ে শট নেন কোভাচিচ, যা পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে দ্বিতীয় শটেও তাকে রুখে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক।

এরপর আবারও অফসাইডের ফাঁদে পড়ে ক্রোয়েশিয়া। পেতার সুচিচ বল জালে পাঠালেও লাইন্সম্যানের পতাকা উঠতেই গোল বাতিল হয়ে যায়। ৮১ মিনিটে রোনালদোর পরিবর্তে মাঠে নামেন রুবেন নেভেস।

ইনজুরি টাইমে (৯০+৪) পর্তুগালের ব্যবধান বাড়ান গনজালো রামোস। বাঁ প্রান্তে দারুণ নৈপুণ্য দেখান রাফায়েল লিয়াও। তার নিখুঁত ও পিন-পয়েন্ট ক্রস বক্সে পৌঁছে যায় সোজা রামোসের মাথায়। তিনি কোনো ভুল করেননি। চমৎকার এক হেডে বল জালে পাঠিয়ে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন। 

শেষ সময়ে একাধিকবার চেষ্টা চালিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। অতিরিক্ত সময়ের ১২ মিনিটে ইয়োস্কো গার্দিওল বল জালে জড়িয়ে ক্রোয়েশিয়াকে উল্লাসে ভাসান। এতে সমতায় ফেরে তারা। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনা করে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। আর রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে কান্নায় ভেঙে পড়েন খেলোয়াড়-সমর্থকরা। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে।

এসজি/

পর্তুগালকে সমতায় ফেরালেন রোনালদো

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৩ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৭ এএম
পর্তুগালকে সমতায় ফেরালেন রোনালদো
ছবি: সংগৃহীত

প্রথমার্ধে আধিপত্য দেখিয়েও গোলের দেখা না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরে আসে ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় তারা। তবে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় টরন্টো স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়। প্রথমার্ধে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল, তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের গতি বদলে যায়। আগের চেয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। এক পর্যায়ে বক্সের ভেতরে কয়েকজন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে এগিয়ে যান মাতেও কোভাচিচ। তবে তার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।

চাপ অব্যাহত রেখেই সফলতা পায় ক্রোয়েশিয়া। ডান দিক থেকে জোসিপ স্তানিসিচের নিখুঁত ক্রসে ইভান পেরিসিচ বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্রুত শটে পর্তুগালকে পিছিয়ে দেন। এতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।

গোলের পর আরও আক্রমণে যায় তারা। ৫৭ মিনিটে আবারও বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। অন্যদিকে ৬০ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো গোল করলেও সেটিও অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন রেফারি।

এরপর ম্যাচে আসে বড় মোড়। কর্নারের সময় বক্সের ভেতর রেনাটো ভেইগাকে অব দ্য বল অবস্থায় আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার নিকোলা ভ্লাশিচ। ঘটনাটি ভিএআর-এ পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

স্পট-কিক থেকে কোনো ভুল করেননি রোনালদো। নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান তিনি।

এসজি/