কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল এলাকায় আবারও ধস দেখা গেছে। গত বুধবার সন্ধ্যার পর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় অবস্থিত ডান তীর রক্ষা বাঁধটির প্রায় ৩০-৩৫ মিটার ব্লক পিচিং অংশ ধসে গেছে। একই সঙ্গে বাঁধের অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কাঁচকোল এলাকায় বাঁধের তিনটি স্থানে যথাক্রমে প্রায় ১০, ১২ ও ৬ মিটার ব্লক পিচিং ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নদীর স্রোতের চাপ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৬ সালে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বর্ষায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বছরের পর বছর বালু উত্তোলন এবং বালুভর্তি ড্যাম্পার ট্রাক চলাচলের কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে ধস দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, চিলমারী উপজেলা রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল থেকে ফকিরেরহাট পর্যন্ত ডান তীর রক্ষা বাঁধের অন্তত ৯টি স্থানে বাঁধ কেটে বালুবাহী ডাম্পার ট্রাক চলাচলের জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরেরহাট বাঁধমোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ৭টি স্থানে বাঁধ কেটে রাস্তা করা হয়েছে। এসব সড়ক নির্মাণে নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ব্লক পিচিং ব্যবহার করা হয়েছে।
কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা মো. খতিব উদ্দিন বলেন, ‘ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর নদী ভাঙনের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র তীর থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে তীর ধসের ঘটনা ঘটছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।’
একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এবারও বাঁধে ধসের পর থেকে উদ্বেগে রাত কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ২০১৬ সালে চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষার জন্য ৪ কিলোমিটার ব্লক পিচিং বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার বাঁধে ধস দেখা দেয়। গত বুধবার এই বাঁধের প্রায় ৩০-৩৫ মিটার ধস দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।