চলমান উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ রাউন্ডের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আফ্রিকান পরাশক্তি মিসর ও এশিয়ার লড়াকু প্রতিনিধি অস্ট্রেলিয়া। নকআউট পর্বের এই ম্যাচে দুই দলের সামনেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি। একদিকে অস্ট্রেলিয়া চাইছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের সেরা অর্জনকে ছাড়িয়ে যেতে, অন্যদিকে মিসর স্বপ্ন দেখছে প্রথমবারের মতো নকআউট জয় তুলে নিতে। ডালাসে দুদলের এমন সমীকরণের ম্যাচ মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় আজ (৩ জুলাই) রাত ১২টায়।
ডালাসের মাঠে এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়। এটি দুই মহাদেশের দুই ফুটবল সংস্কৃতির মর্যাদার লড়াইও। দুই দলের দুই সেরা তারকা মিসরের অধিনায়ক ও ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ম্যাথু রায়ানের দ্বৈরথও ম্যাচে বাড়তি উত্তাপ যোগ করছে। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ১৯৭৪ সালে। এখন পর্যন্ত সাতবার বিশ্বকাপে খেলেছে তারা। অস্ট্রেলিয়ার সেরা সাফল্য ২০০৬ সালে, যখন তারা প্রথমবার শেষ ষোলোতে উঠেছিল। এবারের বিশ্বকাপেও দলটি গ্রুপ পর্বে দারুণ লড়াকু ফুটবল খেলেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে গোছালো ডিফেন্স ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক ছিল তাদের বড় অস্ত্র। কোচ টনি পোপোভিচের অধীনে দলটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত। ‘ডি’ গ্রুপে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারলেও তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে এসেছে অস্ট্রেলিয়া।
মিসর এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে। ১৯৩৪, ১৯৯০, ২০১৮ এবং ২০২৬। অথচ এতদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায়নি আফ্রিকার এই দলটি। কিন্তু এবার ভিন্ন এক মিসর দেখা যাচ্ছে। দলটির আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন সালাহ। তার সঙ্গে ওমর মারমুশের গতি ও সৃজনশীলতা মিসরকে ভয়ংকর করে তুলেছে। কাগজে-কলমে ম্যাচে মিসর কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নকআউট ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তা অস্ট্রেলিয়াকে বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। তাদের মূলমন্ত্রই হচ্ছে, কোনো প্রতিপক্ষকেই সহজে ছেড়ে কথা না বলা। বরং এই ম্যাচ জিতে আরেকবার ইতিহাস গড়ার আশা হলুদ জার্সিধারীদের। অস্ট্রেলিয়ার মতো মিসরও ‘জি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে নকআউটে এসেছে। এই পথে ইরান ও বেলজিয়ামের সঙ্গে ড্র এবং নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে তারা।
ম্যাচটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া কোচ টনি পোপোভিচ বলেন, ‘আমরা জানি মিসর কতটা শক্তিশালী। বিশেষ করে সালাহর মতো খেলোয়াড় ম্যাচের চেহারা এক মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে। তবে আমরা ভয় পাচ্ছি না, আমরা প্রস্তুত।’ অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ম্যাথুউ রায়ান বলেন, ‘এই দলটি ইতিহাস গড়তে চায়। আমরা শুধু খেলতে নামছি না, আমরা জিততে নামছি।’
অন্যদিকে মিসর কোচ হোসাম হাসানও প্রতিপক্ষকে বেশ সমীহ করছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং খুব গোছালো দল। তাদের বিপক্ষে ধৈর্য ধরে খেলতে হবে।’
মিসরের অধিনায়ক ও প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহ বলেন, ‘নকআউট ফুটবলে ছোট ভুলও ক্ষমাহীন। আমাদের সেরাটা দিতে হবে। আমরা জানি আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন দেশবাসী। আফ্রিকার মানুষ। ফুটবল বিশ্বের অনেকে আমাদের জয় দেখতে চায়। আমরা তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আশাবাদী।’
নকআউট মানেই স্নায়ুর যুদ্ধ। একটি ভুল, একটি মুহূর্ত সবকিছু বদলে যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়া দলগত শৃঙ্খলায় এগিয়ে, আর মিসর এগিয়ে তারকাখচিত আক্রমণে। সালাহ যদি ফিট থাকেন, মিসর কিছুটা এগিয়ে থাকবে। তবে অস্ট্রেলিয়াকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। লড়াই জমবে, নাটক হবে, উত্তেজনা থাকবে শেষ বাঁশি পর্যন্ত। একটি দল ইতিহাস লিখবে, অন্য দল থেমে যাবে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা সঙ্গী করে।
মুখোমুখি
মোট ম্যাচ: ২
মিসর জয়: ১
ড্র: ১
অস্ট্রেলিয়া জয়: ০
** বিশ্বকাপের মঞ্চে এই প্রথম মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া-মিসর