ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কৌতুকপ্রিয়তা আর সমাজ-নিরীক্ষণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করবে সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী গ্রামে আমাদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল পদ্মার নৌকাভ্রমণ খামেনির মরদেহ নেওয়া হয়েছে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া দেশে বন্যা হতে পারে জুলাই-আগস্টে: এফএফডব্লিউসি ‘আত্মতুষ্টি আপনাকে শেষ করে দিতে পারে’, অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার পর স্পেন কোচ রস্তায় ফেলে যাওয়া বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু বাজেটের প্রভাবে স্থিতিশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রংপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, দুই জনের মৃত্যু ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, আশায় দীপ্যমান শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে? হাতিয়ায় নারীসহ যুবদল নেতা আটক, পদ থেকে বহিষ্কার ৮৮ বছরের খরা কাটিয়ে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র একদিনের ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস বিশ্বকাপের মঞ্চেই বিদায় বলবেন রোনালদো! ছুটির দিনে ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’ এইচএসসিতে ঝরে পড়া বাড়ার দায় কার? লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন নির্ধারিত ৬০ পণ্যে বাজেটের সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি রূপকথা নাকি রাজত্ব লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি
ছবি: সংগৃহীত

চলমান উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ রাউন্ডের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আফ্রিকান পরাশক্তি মিসর ও এশিয়ার লড়াকু প্রতিনিধি অস্ট্রেলিয়া। নকআউট পর্বের এই ম্যাচে দুই দলের সামনেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি। একদিকে অস্ট্রেলিয়া চাইছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের সেরা অর্জনকে ছাড়িয়ে যেতে, অন্যদিকে মিসর স্বপ্ন দেখছে প্রথমবারের মতো নকআউট জয় তুলে নিতে। ডালাসে দুদলের এমন সমীকরণের ম্যাচ মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় আজ (৩ জুলাই) রাত ১২টায়।

ডালাসের মাঠে এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়। এটি দুই মহাদেশের দুই ফুটবল সংস্কৃতির মর্যাদার লড়াইও। দুই দলের দুই সেরা তারকা মিসরের অধিনায়ক ও ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ম্যাথু রায়ানের দ্বৈরথও ম্যাচে বাড়তি উত্তাপ যোগ করছে। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ১৯৭৪ সালে। এখন পর্যন্ত সাতবার বিশ্বকাপে খেলেছে তারা। অস্ট্রেলিয়ার সেরা সাফল্য ২০০৬ সালে, যখন তারা প্রথমবার শেষ ষোলোতে উঠেছিল। এবারের বিশ্বকাপেও দলটি গ্রুপ পর্বে দারুণ লড়াকু ফুটবল খেলেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে গোছালো ডিফেন্স ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক ছিল তাদের বড় অস্ত্র। কোচ টনি পোপোভিচের অধীনে দলটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত। ‘ডি’ গ্রুপে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারলেও তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে এসেছে অস্ট্রেলিয়া।

মিসর এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে। ১৯৩৪, ১৯৯০, ২০১৮ এবং ২০২৬। অথচ এতদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায়নি আফ্রিকার এই দলটি। কিন্তু এবার ভিন্ন এক মিসর দেখা যাচ্ছে। দলটির আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন সালাহ। তার সঙ্গে ওমর মারমুশের গতি ও সৃজনশীলতা মিসরকে ভয়ংকর করে তুলেছে। কাগজে-কলমে ম্যাচে মিসর কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নকআউট ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তা অস্ট্রেলিয়াকে বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। তাদের মূলমন্ত্রই হচ্ছে, কোনো প্রতিপক্ষকেই সহজে ছেড়ে কথা না বলা। বরং এই ম্যাচ জিতে আরেকবার ইতিহাস গড়ার আশা হলুদ জার্সিধারীদের। অস্ট্রেলিয়ার মতো মিসরও ‘জি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে নকআউটে এসেছে। এই পথে ইরান ও বেলজিয়ামের সঙ্গে ড্র এবং নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে তারা।

ম্যাচটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া কোচ টনি পোপোভিচ বলেন, ‘আমরা জানি মিসর কতটা শক্তিশালী। বিশেষ করে সালাহর মতো খেলোয়াড় ম্যাচের চেহারা এক মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে। তবে আমরা ভয় পাচ্ছি না, আমরা প্রস্তুত।’ অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ম্যাথুউ রায়ান বলেন, ‘এই দলটি ইতিহাস গড়তে চায়। আমরা শুধু খেলতে নামছি না, আমরা জিততে নামছি।’ 

অন্যদিকে মিসর কোচ হোসাম হাসানও প্রতিপক্ষকে বেশ সমীহ করছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং খুব গোছালো দল। তাদের বিপক্ষে ধৈর্য ধরে খেলতে হবে।’ 

মিসরের অধিনায়ক ও প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহ বলেন, ‘নকআউট ফুটবলে ছোট ভুলও ক্ষমাহীন। আমাদের সেরাটা দিতে হবে। আমরা জানি আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন দেশবাসী। আফ্রিকার মানুষ। ফুটবল বিশ্বের অনেকে আমাদের জয় দেখতে চায়। আমরা তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আশাবাদী।’

নকআউট মানেই স্নায়ুর যুদ্ধ। একটি ভুল, একটি মুহূর্ত সবকিছু বদলে যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়া দলগত শৃঙ্খলায় এগিয়ে, আর মিসর এগিয়ে তারকাখচিত আক্রমণে। সালাহ যদি ফিট থাকেন, মিসর কিছুটা এগিয়ে থাকবে। তবে অস্ট্রেলিয়াকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। লড়াই জমবে, নাটক হবে, উত্তেজনা থাকবে শেষ বাঁশি পর্যন্ত। একটি দল ইতিহাস লিখবে, অন্য দল থেমে যাবে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা সঙ্গী করে।

মুখোমুখি
মোট ম্যাচ: ২
মিসর জয়: ১
ড্র: ১
অস্ট্রেলিয়া জয়: ০

** বিশ্বকাপের মঞ্চে এই প্রথম মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া-মিসর

‘আত্মতুষ্টি আপনাকে শেষ করে দিতে পারে’, অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার পর স্পেন কোচ

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ পিএম
‘আত্মতুষ্টি আপনাকে শেষ করে দিতে পারে’, অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার পর স্পেন কোচ
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে রাজি নন। তার মতে, দলের উন্নতির এখনও অনেক জায়গা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘আত্মতুষ্টি আপনাকে শেষ করে দিতে পারে।’

এই টুর্নামেন্টে এখনো কোনো গোল না খাওয়া স্পেন দারুণ আধিপত্যপূর্ণ পারফরম্যান্স উপহার দেয়। মিকেল ওইয়ারসাবাল দুটি এবং পেদ্রো পোরো একটি গোল করে স্পেনকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

দে লা ফুয়েন্তে সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুশি হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। প্রথমত, জয়ের কারণে। আমরা দাপটের সঙ্গে জিতেছি এবং দলের যে চিত্র আমরা তুলে ধরেছি, তা ছিল অসাধারণ। তবে এখনও উন্নতির জায়গা রয়েছে। হয়তো আপনারা মনে করছেন আমাদের সেরাটা দেখে ফেলেছেন, কিন্তু এই দল এখনও নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এখনও আরও অনেক কিছু করার বাকি আছে।’

দে লা ফুয়েন্তে বলেন, স্পেনের এই অগ্রগতি কোনো একটি অসাধারণ পারফরম্যান্সের ওপর দাঁড়িয়ে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়ার ফল। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নকআউট পর্বে আরও উঁচু মানের পারফরম্যান্সের প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, ‘আজকের পারফরম্যান্সই সামনে যা আসছে, তার ভিত্তি হওয়া উচিত। আমরা আরও উন্নতি করব এবং আরও ভালোভাবে খেলব... আমরা এখনো সন্তুষ্ট নই, আমরা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে চাই।’

দে লা ফুয়েন্তে সতর্ক করে বলেন, অস্ট্রিয়া যেখানে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি, সেই দারুণ রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্সের পরও স্পেনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে- এমনটা বিশ্বাস করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘কিছু পরিস্থিতিতে আমাদের উচ্চচাপ প্রয়োগে ঘাটতি ছিল। সব সময়ই উন্নতি করে যেতে হবে। যখন মানুষ আপনার প্রশংসা করে এবং আপনি সেটি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, তখন আপনি আরও দুর্বল হয়ে পড়েন। আত্মতুষ্টি আপনাকে শেষ করে দিতে পারে।’

৬৫ বছর বয়সী এই কোচ তার বাঁ প্রান্তের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেল্লার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ওইয়ারসাবালের দুই গোলেই অ্যাসিস্ট করা কুকুরেল্লাকে তিনি ‘অমূল্য’ এবং ‘সর্বোচ্চ মানের একজন খেলোয়াড়’ বলে আখ্যা দেন।

দে লা ফুয়েন্তে আরও বলেন, ‘পরবর্তী ধাপ আরও কঠিন হতে চলেছে। আমাদের দারুণ সব খেলোয়াড় রয়েছে, কিন্তু আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো নিজেদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যাওয়া।’

অনিক/

শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে?

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে?
ছবি: সংগৃহীত

আজ (৩ জুলাই) ভ্যাঙ্কুভারে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড। প্রথমার্ধে ব্রিল এম্বোলোর গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দান এনদোয়ে আরেকটি গোল করেন। এতেই জয় নিশ্চিত করে তারা।

মুরাত ইয়াকিনের দল এখন শেষ ষোলোয় শুক্রবার কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কলম্বিয়া ও ঘানার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। গ্রুপ ‘বি’-এর শীর্ষ দল হিসেবে নকআউটে উঠেছে সুইজারল্যান্ড। উদ্বোধনী ম্যাচে কাতারের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ১-১ ড্র করার পর তারা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং সহ-আয়োজক কানাডার বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নেয়।

অনিক/

৮৮ বছরের খরা কাটিয়ে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ এএম
৮৮ বছরের খরা কাটিয়ে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড
ছবি: সংগৃহীত

গ্রুপ পর্বের পর নকআউটের প্রথম ধাপও টপকে গেল সুইজারল্যান্ড। আজ (৩ জুলাই) রাউন্ড ৩২-এ আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে পরাস্ত করেন শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দেশটির। দীর্ঘ ৮৮ বছর পর তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের একটি ম্যাচ জিতেছে।

ভ্যাঙ্কুভারে ২০ বছর বয়সী জোহান মানজাম্বির অসাধারণ এক মুহূর্তের জাদু ম্যাচের ১০ মিনিটে ব্রিল এম্বোলোর উদ্বোধনী গোলের পথ তৈরি করে দেয়। আলজেরিয়া মাঝেমধ্যে সম্ভাবনার ঝলক দেখালেও বিরতির মাত্র ৪৮ সেকেন্ড পরই কার্যত ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়ে যায়। রক্ষণভাগের ভয়াবহ ভুলের সুযোগ নিয়ে দান এনদোয়ে বল জড়িয়ে দেন জালের কোণায়।

টানা তৃতীয় ম্যাচের মতো ভ্যাঙ্কুভারেই থাকবে সুইজারল্যান্ড। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া অথবা ঘানা। এই ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে, দুই দলের জন্যই এটি কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে আলজেরিয়ার জন্য এটি ছিল প্রতিভায় ভরপুর একটি দলের যাত্রার অত্যন্ত নিষ্প্রভ সমাপ্তি। সম্ভবত রিয়াদ মাহরেজের বিশ্বকাপ অধ্যায়েরও এটাই শেষ অধ্যায়। শেষটা হলো একেবারেই হতাশার সুরে।

অনিক/

বিশ্বকাপের মঞ্চেই বিদায় বলবেন রোনালদো!

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
বিশ্বকাপের মঞ্চেই বিদায় বলবেন রোনালদো!
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে আরও একধাপ এগিয়ে গেল পর্তুগাল। ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। টরন্টোতে এই ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দেন তার বোন কাতিয়া আভেইরো। তিনি জানান, পর্তুগাল কিংবদন্তি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিতে পারেন।

পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের আগে স্পোর্টটিভির সঙ্গে এক আলাপচারিতায় আভেইরো বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য আছে, সেটি একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া, সে হয়তো বিদায় জানাতে পারে। যতদিন আছে, উপভোগ করুন। আজ হবে না, তবে খুব শিগগিরই। আমার মনে হয়, এটাই হবে তার শেষ নাচ।’

রোনালদো ২০০৩ সালের আগস্টে ১৮ বছর বয়সে পর্তুগালের হয়ে অভিষেক করেন। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ (২৩২টি, যা জোয়াও মুতিনিয়োর চেয়ে ৮৬টি বেশি) এবং সর্বোচ্চ গোলের (১৪৫টি, যা পাউলেতার চেয়ে ৯৮টি বেশি) রেকর্ড তার দখলেই রয়েছে।

৪১ বছর বয়সী রোনালদো বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে খেলা মাত্র তিনজন ফুটবলারের একজন। এছাড়া ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে নকআউট ম্যাচে শুরুর একাদশে নেমে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড়ও তিনি। যদিও তিনি ২০১৬ সালে পর্তুগালকে তাদের ইতিহাসের প্রথম বড় শিরোপা, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, জিতিয়েছিলেন, তবে বিশ্বকাপ শিরোপা এখনো তার অধরাই রয়ে গেছে।

তবে রোনালদোর অবসর নিয়ে যে জল্পনা চলছে, সেটি এখনো পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা নিজে নিশ্চিত করেননি। এদিকে, পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বলেছিলেন, পরবর্তী বিশ্বকাপেও রোনালদো খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই।

গত মাসে কাদেনা সের রেডিওকে মার্তিনেজ বলেছিলেন, ‘সে এটা (বিশ্বকাপ দলে থাকা) অর্জন করেছে। আমি অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করেছি, যারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ব্যালন ডি’অর জিতেছে, আর পরের দিনই তাদের ক্ষুধা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু রোনালদোর মধ্যে আমরা এক ভিন্ন মানসিকতার উদাহরণ দেখি।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এমন একটি লক্ষ্য থাকাই তাকে দীর্ঘ সময় ধরে খেলে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। অবশ্যই এখানে জিনগত একটি দিক রয়েছে, সে যে পরিমাণ পরিশ্রম করে, নিজের শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে- এমন সবকিছুরই সে ব্যবহার করে। আর আছে তার মানসিকতা।’

অনিক/

রূপকথা নাকি রাজত্ব

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
রূপকথা নাকি রাজত্ব
মেসিদের টিকে থাকার মিশন শুরু। প্রতিপক্ষ চমক জাগানো নবাগত কেপ ভার্দে। মায়ামিতে আগামীকাল ভোরে মাঠে নামার আগে রণকৌশলে মেসিরা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট মানেই নতুন গল্প লেখার মঞ্চ। কখনো পরাশক্তির দাপট, কখনো আবার ছোট দলের বিস্ময়। এবার সেই মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবলের দুই ভিন্ন জগৎ। এক পাশে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্য পাশে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দে। শক্তির বিচারে এটি নিঃসন্দেহে ডেভিড-গোলিয়াথের লড়াই। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগেই এমন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে যে, মনে হচ্ছে কেপ ভার্দে শুধু মেসির অটোগ্রাফ নিতে নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চ্যালেঞ্জ জানাতেই এসেছে।

আগামীকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর এই মহারণে মুখোমুখি হবে দুই দল। জয়ী দল জায়গা করে নেবে শেষ ষোলোতে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে অস্ট্রেলিয়া অথবা মিসর। 

অভিষেক বিশ্বকাপেই কেপ ভার্দে ইতোমধ্যে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব; তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই হার এড়িয়েছে তারা। মাত্র দুটি গোল হজম করে নকআউটে ওঠা আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি এখন বিশ্বাস করছে, সবচেয়ে বড় বিস্ময় এখনো বাকি।

সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেসের কথাতেও। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নির্দ্বিধায় বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারব। ছোট দেশ হিসেবে সবাইকে চমকে দেওয়াই আমাদের কাজ। আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।’

তবে জয়ের স্বপ্ন দেখলেও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসির প্রতি তাদের শ্রদ্ধার বিন্দুমাত্র কমতি নেই। ম্যাচের আগে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়কের হাতে তুলে দেবে একটি বিশেষ স্মারক জার্সি। নেভেসের ভাষায়, ‘মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। তার বিপক্ষে খেলতে পারাটাই আমাদের জন্য গর্বের।’

কেপ ভার্দের সহকারী কোচ উমবেহতো বেতোঁকু বলেছেন, ‘আলবিসেলেস্তেদের মুখোমুখি হতে পারাই আনন্দের বিষয়। তবে পরিসংখ্যান কেবলই তত্ত্ব। ফুটবলে ইতিহাসের অসংখ্য ম্যাচের ফলাফল যেমন দেখিয়েছে, তেমনি প্রমাণ করে যে, মাঠের ভেতরে কী ঘটছে সেটাই আসল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে আমাদের সম্ভাবনা এক শতাংশ বলা হয়েছিল, এখন চার শতাংশ বলা হলেও সেটি আমাদের কাছে গুরুত্বহীন। আমরা অনেক বেশি মনোযোগী আমাদের লক্ষ্য, প্রত্যাশার দিকে।’

মেসিকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মেসিকে এমন একজন খেলোয়াড় মনে করি, যিনি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন। তবে আমরা সব সময় প্রতিপক্ষের দলগত পারফরম্যান্সের দিকেই নজর দেই- তারা কী ধরনের সমন্বয় তৈরি করতে পারে বা মেসির জন্য তারা কেমন ফাঁকা জায়গা বের করার চেষ্টা করতে পারে, সেটাই আমাদের ভাবনার বিষয়।’

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এসেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। 

টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে ছয় গোল করে তুখোড় ফর্মে রয়েছেন লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে আক্রমণে থাকবেন লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। চোট কাটিয়ে একাদশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোরও।

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি জানেন, নকআউটে অতীতের পরিসংখ্যান খুব একটা কাজে আসে না। ছোট একটি ভুলও শেষ করে দিতে পারে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন। তাই কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।

আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ ঘিরে উৎসবের শহরে পরিণত হয়েছে মায়ামিও। লাতিন আমেরিকার মানুষের বড় বসতি হওয়ায় শহরটি অনেকটাই আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় ঘরের মতো। ইতোমধ্যে হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক সেখানে পৌঁছে গেছেন। অনেকের হাতে টিকিট নেই, তবু প্রিয় দলকে ঘিরে উৎসবের অংশ হতে তারা হাজির হয়েছেন।

তবে গ্যালারির সমর্থন কিংবা পরিসংখ্যান; কোনোটিই কেপ ভার্দেকে ভয় দেখাচ্ছে না। রক্ষণে শৃঙ্খলা আর দলগত লড়াইয়ে ভর করে তারা আরও একটি রূপকথা লিখতে চায়। অন্যদিকে মেসিদের লক্ষ্য একটাই; শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেকটি ধাপ পেরিয়ে যাওয়া।

কাগজে-কলমে এটি অসম এক লড়াই। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার বলেছে, সবচেয়ে বড় বিস্ময়গুলো জন্ম নেয় এমন অসম লড়াই থেকেই। তাই মায়ামির রাতের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই– চ্যাম্পিয়নরা কি নিজেদের রাজত্ব অটুট রাখবে, নাকি আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে লিখবে বিশ্বকাপের নতুন রূপকথা?