ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্পেন। একের পর এক আক্রমণে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগকে চাপে রাখলেও দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। শেষ পর্যন্ত ৩৬ মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালের গোলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসে। তাতেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে স্পেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে শুরু হয় বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের এই ম্যাচ।
শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্পেন। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই পাল্টা আক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি করেন লামিনে ইয়ামাল। তবে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার বাঁ পায়ের শটটি সহজেই আটকে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার।
সপ্তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে দারুণ একটি ক্রস ভাসিয়ে দেন পেদ্রো পোরো। বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকেই দুর্দান্ত ভলিতে শট নেন দানি ওলমো। কিন্তু বলটি সতীর্থ মিকেল ওয়ারজাবালের গায়ে লেগে দিক বদলে গোলের বাইরে চলে যায়। এতে নিশ্চিত একটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয় স্পেনের।
১২ মিনিটে কনরাড লাইমারের সঙ্গে বলের দখল নিয়ে লড়াই করতে গিয়ে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে পড়ে যান ইয়ামাল। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির আবেদন জানালেও কোনো ফাউল দেখেননি রেফারি। ফলে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
হাইড্রেশন বিরতির পর আবারও আক্রমণের ঝড় তোলে স্পেন। মাঝমাঠ থেকে পেদ্রির নিখুঁত পাস পেয়ে বক্সে অসাধারণ টার্নে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেওয়ার অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলেন দানি ওলমো। তবে শেষ মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ক্লিয়ার করে দেন স্টেফান পসচ। এতে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে রক্ষা পায় অস্ট্রিয়া।
এই আক্রমণ থেকেই কর্নার আদায় করে স্পেন। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল পাঞ্চ করলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি গোলরক্ষক শ্লাগার। ফিরতি বলে কাছ থেকে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন মার্ক কুকুরেয়া। কিন্তু কর্নার নেওয়ার সময় পাউ কুবারসি গোলরক্ষক শ্লাগারকে ফাউল করেছেন বলে গোল বাতিল করেন রেফারি।
৩৩ মিনিটে আবারও গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায় স্পেন। লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে মিকেল ওয়ারজাবালের শট বাঁ দিকের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসাধারণ সেভে ঠেকিয়ে দেন শ্লাগার।
তবে ৩৬ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি অস্ট্রিয়ার। বাঁ প্রান্ত থেকে মার্ক কুকুরেয়ার নিচু ক্রস নিখুঁতভাবে জালে জড়িয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল। বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোল করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের বাকি সময়েও আক্রমণ অব্যাহত রাখে স্পেন। ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া আলেক্স বায়েনার দারুণ বাঁকানো ফ্রি-কিক গিয়ে লাগে ক্রসবারে। ফিরতি বল পেয়ে কঠিন কোণ থেকে বাঁ পায়ে শট নেন ইয়ামাল। কিন্তু আবারও দুর্দান্ত সেভে স্পেনকে দ্বিতীয় গোল থেকে বঞ্চিত করেন শ্লাগার।
প্রথমার্ধে পুরোপুরি আধিপত্য ছিল স্পেনের। তারা ১০টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া দুটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
এসজি/