দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ছয় টুকরো করে লাশ গুমের অভিযোগে ফাতেমা বেগম শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় দেন।
হত্যার দায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লাশ গুমের দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিচার চলাকালে ২৬ জনের মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ফাতেমার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের আমতলী এলাকায় একটা নীল রঙের ড্রামের মধ্যে বনানী থানা-পুলিশ এক ব্যক্তির মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করে। একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছে একটা ব্যাগের মধ্যে উরু থেকে খণ্ডিত দুইটি পা এবং কাঁধ থেকে খণ্ডিত দুইটি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা-পুলিশ। দুই দিনে আলাদা আলাদা স্থান থেকে লাশের ছয় টুকরো উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎপরতায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হয় ফাতেমা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশকে জানায়, পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা বণ্টন ও একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে পরিকল্পনা করে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করে। জবাইয়ের পর দেহকে ছয়টি টুকরো করে।
লাল রঙের একটি কাপড়ের ব্যাগে মাথা, শরীরের মূল অংশ নীল রঙের পানির ড্রামে এবং খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে। এরপর ১ হাজার ৩০০ টাকায় রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলে দেয়, পরে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত, দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে বাসায় আসে। সেখান থেকে খণ্ডিত মস্তকের ব্যাগটি বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে গুলশান লেকে ফেলে দেয়।
পরে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় ফাতেমা।
নিহত ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ১ জুন মামলা করেন।
এম এ জলিল উজ্জ্বলে/এএফ