ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের একাদশে ২ পরিবর্তন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে জাকিয়া খান চন্দনার পরাবাস্তববাদী চিত্রপ্রদর্শনী নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ নৌবহরে যুক্ত হলো জাপানের পাঁচটি পেট্রোল বোট সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১ ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার সিরিয়ায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫, আহত অন্তত ১৬ জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান এইচএসসির আগেই থেমে যাচ্ছে শিক্ষা সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড মুক্তির আগেই বাজিমাত চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থীর বিষয়ে আদালতের রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায় ৫৪ বছরে প্রথমবার জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশ যত দ্রুত চাইবে চীন সেভাবে কাজ করবে: রাষ্ট্রদূত ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড ভার্চুয়াল শত্রুতার বলি আমার প্রিয় ঠিকানা হালদা নদীর সব মাছেই মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা বর্তমান কোচিং স্টাফ থাকলে দলে ফিরবেন না পেপে গুয়ে! ঢাবিতে ২৭৭ প্রজাতির ১৭ হাজারের বেশি গাছ আছে

বর্ষাকালের ভাইরাল জ্বর

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
বর্ষাকালের ভাইরাল জ্বর
ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ রোগীভেদে ভিন্ন হতে পারে।

বর্ষাকাল প্রকৃতিকে যেমন সজীব করে তোলে, তেমনি এই সময়ে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়। আর্দ্রতা বৃদ্ধি, পরিবেশের পরিবর্তন এবং জীবাণুর দ্রুত বিস্তারের কারণে ভাইরাল জ্বর এ মৌসুমের অন্যতম সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। শিশু, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। যদিও অধিকাংশ ভাইরাল জ্বর কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়, তবু সচেতনতা ও সঠিক পরিচর্যার অভাবে জটিলতা দেখা দিতে পারে।


লক্ষণ

ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ রোগীভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত সংক্রমণের এক থেকে তিন দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়।
◉ সাধারণ লক্ষণ: হঠাৎ জ্বর আসা এবং শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর শুরু হওয়া। অতিরিক্ত দুর্বলতা ও অবসাদ। শরীর ও পেশিতে ব্যথা। জয়েন্টে ব্যথা বা অস্বস্তি। 
◉ মাথা ও চোখের লক্ষণ: মাথাব্যথা। চোখ ভারী লাগা বা চোখের পেছনে ব্যথা। আলোতে অস্বস্তি অনুভব করা। কিছু ক্ষেত্রে চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
◉ শ্বাসতন্ত্রের লক্ষণ: গলাব্যথা। শুকনো বা কফযুক্ত কাশি। নাক দিয়ে পানি পড়া। নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। বারবার হাঁচি হওয়া।
◉ পরিপাকতন্ত্রের লক্ষণ: ক্ষুধামন্দা। বমি বমি ভাব। হালকা বমি বা পাতলা পায়খানা। পেটে অস্বস্তি।
◉ শিশুদের ক্ষেত্রে: অস্থিরতা বা অতিরিক্ত কান্না। দুধ বা খাবার খেতে না চাওয়া। অতিরিক্ত ঘুম বা ঝিমুনি। খেলাধুলায় অনীহা।

 

প্রকারভেদ

◉ সাধারণ ভাইরাল জ্বর: ঋতু পরিবর্তনের সময় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কয়েক দিনের জ্বরের সঙ্গে শরীরব্যথা ও দুর্বলতা থাকে।
◉ ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত জ্বর: ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে হয়। এতে কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা এবং তীব্র ক্লান্তি বেশি থাকে।
◉ শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসজনিত জ্বর: এ ধরনের সংক্রমণে গলা, নাক ও ফুসফুস বেশি আক্রান্ত হয়। ফলে কাশি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
◉ মশাবাহিত ভাইরাসজনিত জ্বর: বর্ষাকালে জমে থাকা পানিতে মশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো ভাইরাসজনিত জ্বরের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এসব রোগের লক্ষণ ও জটিলতা সাধারণ ভাইরাল জ্বর থেকে আলাদা হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
৬৫ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তি।
অন্তঃসত্ত্বা নারী।
ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি বা ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।
যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল।
স্কুল, কলেজ, অফিস বা জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা।

লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক

পেটের আলসারের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
পেটের আলসারের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
অনেকের ধারণা, কেবল ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার খেলেই আলসার হয়, যা আসলে একটি বড় ভুল ধারণা।

পেটের সবচেয়ে সাধারণ অথচ অবহেলিত সমস্যা হলো ‘স্টমাক আলসার’ বা পাকস্থলীর ক্ষত। আমাদের পেটের ভেতরে যে অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যাসিড থাকে, তা থেকে পাকস্থলীকে রক্ষা করার জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক স্তর থাকে। কোনো কারণে যখন এই স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অ্যাসিড সরাসরি পাকস্থলীর দেয়ালে আঘাত করে, তখন সেখানে এক ধরনের খোলা ক্ষত বা ঘা তৈরি হয়। একেই চিকিৎসাশাস্ত্রে পেটের আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার বলা হয়। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। সাধারণ মনে হলেও সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা না করালে এটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে।


আলসারের লক্ষণ

পাকস্থলীর আলসার হলে সাধারণত বুকের ঠিক নিচে, পেটের ওপরের দিকে মাঝখানে বা কিছুটা বাম পাশে এক ধরনের তীব্র জ্বালাপোড়া বা কামড়ানোর মতো ব্যথা অনুভূত হয়। এ ছাড়া আরও কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়–
হজমে সমস্যা ও পেট ফাঁপা: খাওয়ার ঠিক পরপরই পেট অতিরিক্ত ভরা মনে হওয়া, গ্যাস বা পেট ফোলার সমস্যা।
অম্বল বা বুক জ্বালা: টক ঢেকুর ওঠা এবং বুক ও গলায় অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অনুভূতি।
বমি বমি ভাব: অনেকের ক্ষেত্রে সকালের দিকে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
নীরব আলসার: কিছু মানুষের আলসার থাকলেও কোনো বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশ পায় না। হঠাৎ করে রক্তক্ষরণ বা পেটে তীব্র ছিদ্র না হওয়া পর্যন্ত তারা বুঝতেও পারেন না যে ভেতরে কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে।

 

কেন হয় এই আলসার?

অনেকের ধারণা, কেবল ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার খেলেই আলসার হয়, যা আসলে একটি বড় ভুল ধারণা। ঝাল খাবার আলসারের ব্যথা বাড়াতে পারে, কিন্তু আলসার তৈরি করে না। প্রায় ৯৯ শতাংশ আলসারের জন্য মূলত দুটি কারণ দায়ী–
এইচ. পাইলোরি (H. pylori) ব্যাকটেরিয়া: এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ ব্যাকটেরিয়া, যা মানুষের পাকস্থলীতে বংশবৃদ্ধি করে এবং পাকস্থলীর সুরক্ষাকারী স্তরটিকে ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলে।
ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হরহামেশা আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন বা এসপিরিনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস পাকস্থলীর দেয়ালকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান এবং তীব্র মানসিক চাপ (যেমন- বড় কোনো অস্ত্রোপচার বা দুর্ঘটনা) আলসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসা

যদি আপনার আলসারের লক্ষণ থাকে, তবে চিকিৎসক সাধারণত একটি অ্যান্ডোস্কোপি পরীক্ষার পরামর্শ দেন। এই পরীক্ষায় একটি ছোট ক্যামেরাযুক্ত নল মুখের ভেতর দিয়ে পাকস্থলীতে প্রবেশ করিয়ে সরাসরি ক্ষতটি দেখা হয় এবং প্রয়োজনে ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষার জন্য সামান্য টিস্যু নেওয়া হয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি

অ্যান্টিবায়োটিক: এইচ. পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া ধরা পড়লে তা দূর করতে চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট মেয়াদের অ্যান্টিবায়োটিক দেন।
অ্যাসিড কমানোর ওষুধ: কিছু ওষুধ পেটের অ্যাসিড উৎপাদন কমিয়ে ক্ষত শুকিয়ে যেতে সাহায্য করে।
পাকস্থলীর দেয়াল রক্ষাকারী ওষুধ: সুক্রালফেটের মতো কিছু ওষুধ ক্ষতের ওপর একটি প্রলেপ তৈরি করে, যাতে অ্যাসিড সরাসরি সেখানে লাগতে না পারে।

কখন হাসপাতালে যাবেন

আলসার থেকে যদি ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হয়, তবে রোগীর শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা চরম দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। যদি মল কালো রঙের হয়, বমির সঙ্গে কফির দানার মতো রক্ত আসে কিংবা পেটে হঠাৎ তীব্র, সহ্যাতীত ব্যথা শুরু হয়–তবে দেরি না করে রোগীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে। কারণ এটি পাকস্থলী ফুটো হয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

লেখক: চিকিৎসক, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ

তরুণীদের স্তনের সাধারণ সমস্যা ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
তরুণীদের স্তনের সাধারণ সমস্যা ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা
ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা হলো স্তনের ফাইব্রাস ও গ্রন্থিযুক্ত টিস্যুর অস্বাভাবিক কিন্তু নিরাপদ বৃদ্ধি।

স্তনে কোনো ছোট চাকা বা গাঁট অনুভব করলেই যেকোনো নারীর মনে প্রথম যে ভয়টি জাগে, তা হলো ক্যানসার। তবে আশার কথা হলো, স্তনের সব চাকা বা টিউমার ক্যানসার নয়। স্তনের অত্যন্ত সাধারণ এবং সম্পূর্ণ অ-ক্যানসারজনিত (Benign) একটি টিউমারের নাম ‘ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা’। সাধারণত এটি ক্ষতিকর নয় এবং সঠিক সময়ে সচেতন হলে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে তরুণী ও কিশোরীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা কী এবং কেন হয়?

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা হলো মূলত স্তনের ফাইব্রাস (তুনাযুক্ত) ও গ্রন্থিযুক্ত টিস্যুর একটি অস্বাভাবিক কিন্তু নিরাপদ বৃদ্ধি। এটি কোনো ক্যানসার নয় এবং সাধারণত ক্যানসারে রূপান্তরিতও হয় না। এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো চিকিৎসাবিজ্ঞানে অজানা, তবে হরমোনের তারতম্য (বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন হরমোন) এর জন্য প্রধানত দায়ী বলে মনে করা হয়। নারীদের প্রজননক্ষম বয়সে হরমোনের আধিক্যের কারণে এটি বেশি দেখা যায়। ফলে গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এর আকার বৃদ্ধি পেতে পারে। আবার মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় এটি আকারে ছোট হয়ে যেতে পারে।

কাদের এই সমস্যা বেশি হয়?

সাধারণত ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণী ও কিশোরীদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। কিশোরীদের স্তনে কোনো চাকা দেখা দিলে তার সিংহভাগই ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা। মেনোপজের পর অর্থাৎ বয়স বাড়লে এই টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

 

লক্ষণ ও উপসর্গ

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমার কিছু সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা হাত দিয়ে স্পর্শ করলেই খুব সহজে অনুমান করা যায়—
স্তনে একটি গোল বা ডিম্বাকৃতির সুনির্দিষ্ট সীমানাযুক্ত চাকা অনুভব করা।
এটি স্পর্শ করলে বেশ শক্ত কিন্তু কিছুটা রবারের মতো নরম ও মসৃণ অনুভূত হয়।
সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, হাত দিয়ে চাপ দিলে এটি স্তনের ভেতর সহজেই একস্থান থেকে অন্যস্থানে নড়াচড়া করে। এই নড়নশীলতার কারণে চিকিৎসাশাস্ত্রে একে রসিকতা করে ‘Breast Mouse’ বা ‘স্তনের ইঁদুর’ বলা হয়ে থাকে।
এটি সাধারণত সম্পূর্ণ ব্যথাহীন হয় এবং এক বা একাধিক হতে পারে।

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমার প্রকারভেদ

গঠন ও আকারের ওপর ভিত্তি করে এটি চার ধরনের হতে পারে–
Simple (সাধারণ): এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং এতে ক্যানসারের কোনো ঝুঁকি থাকে না।
Complex (জটিল): এর ভেতরে ছোট সিস্ট বা ক্যালসিফিকেশন থাকতে পারে।
Giant (বিশাল): আকার ৫ সেন্টিমিটারের বেশি হলে একে জায়ান্ট বলা হয়।
Juvenile (কৈশোরকালীন): কিশোরীদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

স্তনে চাকা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণত চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা (Physical Examination), তরুণীদের জন্য স্তনের আল্ট্রাসাউন্ড এবং বয়স ৪০-এর বেশি হলে ম্যামোগ্রাফি করার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হয়। কোনো সন্দেহ থাকলে সুঁই ফুটিয়ে টিস্যু পরীক্ষা বা বায়োপসি করা হতে পারে।

চিকিৎসা পদ্ধতি মূলত তিনভাবে করা হয়—
পর্যবেক্ষণ: টিউমারটি আকারে ছোট এবং কোনো উপসর্গ না থাকলে কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত ডাক্তারের ফলো-আপে থাকাই যথেষ্ট। অনেক সময় এটি নিজে থেকেই মিলিয়ে যায়।
অস্ত্রোপচার: চাকাটি আকারে বড় হলে, দ্রুত বৃদ্ধি পেলে, ব্যথা বা অস্বস্তি তৈরি করলে অথবা কসমেটিক কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা অপসারণ করা হয়।
আধুনিক পদ্ধতি: বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই ভ্যাকুয়াম-সহায়ক পদ্ধতির (Vacuum-assisted excision) মাধ্যমে এটি অপসারণ করা সম্ভব।

রোগীর সচেতনতা ও শেষ কথা

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা নিয়ে প্যানিক বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ এর পূর্বাভাস অত্যন্ত চমৎকার এবং ক্যানসারে রূপান্তরের হার খুবই বিরল। তবে প্রত্যেক নারীর উচিত প্রতি মাসে নিয়মিত নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করা। যদি স্তনে নতুন কোনো চাকা দেখা যায়, চামড়ার রং পরিবর্তন হয় বা বোঁটা থেকে রক্ত কিংবা পুঁজ নিঃসৃত হয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতনতাই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

লেখিকা: সহকারী অধ্যাপক, জেনারেল অ্যান্ড কলোরেক্টাল সার্জন, চেম্বার আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা

প্রস্রাবে ফেনা হওয়াকে অবহেলা নয়

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
প্রস্রাবে ফেনা হওয়াকে অবহেলা নয়
প্রস্রাবে ফেনার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো প্রোটিন বের হওয়া।

প্রস্রাবের কারণে দেহের ভেতরের বর্জ্য পদার্থ বের হয়। এতে যেমন বর্জ্য পদার্থ দেহ হতে বের হয়, তেমনি অনেক রোগের নীরব বার্তাও প্রদান করে। প্রস্রাব নিঃসরণে ফেনা দেখা দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এ ফেনা কখনো কখনো কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও ধরা হয়। প্রস্রাব নিঃসরণের পর জমা প্রস্রাবের ওপর সাদা, ঘন ও স্থায়ী বুদবুদ দেখা যায়। একে আমরা ফেনা বলি। সাধারণত স্বাভাবিক প্রস্রাবেও অল্প সময়ের জন্য ফেনা দেখা যায়। যদি ফেনা বারবার হয় এবং অনেকক্ষণ স্থায়ী হয়, তা কিডনি রোগের সংকেত হিসেবে ধরা যায়।

সাধারণ কারণ

• দ্রুত বা জোরে প্রস্রাব বের হলে পানিতে বাতাস মিশে ফেনা তৈরি হয়, যা অল্প সময়েই মিলিয়ে যায়।
• সারা রাত জমে থাকা প্রস্রাব নিঃসরণের পর সামান্য ফেনা দেখা দিতে পারে।
• শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়। ঘন প্রস্রাব হলে ফেনা দেখা দিতে পারে।
• টয়লেটে জমে থাকা সাবান বা ডিটারজেন্টের ফলেও ফেনা তৈরি হতে পারে।

প্রধান রোগজনিত কারণ

• প্রস্রাবে ফেনার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো প্রোটিন বের হওয়া। কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে প্রস্রাব বের করে এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন শরীরে রাখে। কোনো কারণে কিডনির ছাঁকনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রোটিন প্রস্রাবে চলে আসে। আর এ প্রোটিনের কারণে প্রস্রাব ঘন, সাবানের মতো ফেনা তৈরি হয়– যা কিডনি রোগের প্রধান কারণ।
• কিডনির ছাঁকনিতে প্রদাহ হলেও ফেনা তৈরি হয়। কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত হয় এবং শরীর ফুলে যায়।
• নেফ্রোটিক সিনড্রোম রোগের কারণেও প্রস্রাবে ফেনা হয়।
• প্রস্রাবের প্রদাহের ফলে ফেনা, দুর্গন্ধময় প্রস্রাব, জ্বালা ও জ্বর দেখা দিতে পারে।
• অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালি নষ্ট করে। শুরুতে লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে ফেনা ও প্রোটিন দেখা দেয়। আমাদের দেশে কিডনি বিকলের প্রধান কারণ হিসেবে ডায়াবেটিসকে ধরা হয়।
• উচ্চ রক্তচাপ নীরবে কিডনির রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা কমে যায়। প্রস্রাবে প্রোটিন বের হয় এবং ফেনা দেখা দেয়।
• পুরুষদের ক্ষেত্রে রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন বা বীর্যজনিত সমস্যার কারণে প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেয়।

 

কখন ঝুঁকিপূর্ণ?

প্রস্রাবে প্রতিদিন ফেনা হয়, সাদা, ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। চোখ, মুখ, পা ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি। খাবারে অরুচি, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

রোগ নির্ণয়

• প্রস্রাবের আরই প্রোটিন অ্যালবুমিন, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, অ্যালবুমিন ক্রিয়েটিনিন রেশিও।
• ইজিএফআর
• রক্তচাপ মাপা, রক্তে শর্করা পরীক্ষা
• ইউরিন এসিআর

করণীয়

পর্যাপ্ত পানি পান করা। অতিরিক্ত লবণ ও চিনি খাওয়া কমানো। ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা। নিয়মিত ব্যায়াম করা। প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ চেপে না রাখা। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। নিয়মিত চিকিৎসা করানো। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং শরীর হঠাৎ ফুলে গেলে, প্রস্রাব বন্ধ হলে, ফেনার  সঙ্গে তলপেটে তীব্র ব্যথা ও রক্তপাত হলে ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে ফেনা দেখা দিলে অতিদ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

লেখক: চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্য নিবন্ধকার

বিড়াল যদি কামড়ে দেয়

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
বিড়াল যদি কামড়ে দেয়
বিড়াল কামড় দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

বিড়ালের কামড় বিপজ্জনক এবং এতে ত্বকের গভীরে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। যেহেতু বিড়ালের দাঁত খুব ধারালো ও সূক্ষ্ম, তাই এগুলো সুচের মতো কাজ করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে ত্বকের গভীরে প্রবেশ করিয়ে দেয়। অর্ধেকেরও বেশি বিড়ালের কামড়ে সংক্রমণ হয়।

তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসার পদক্ষেপ

১. ভালোভাবে ধুয়ে নিন: উষ্ণ, চলমান জলের নিচে মৃদু সাবান দিয়ে ক্ষতস্থানটি কমপক্ষে ৫ মিনিট ধরে ধুয়ে ফেলুন।
২. রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করুন: একটি পরিষ্কার, শুকনো কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে সরাসরি ও দৃঢ়ভাবে চাপ দিয়ে রক্ত বন্ধে পদক্ষেপ নিন।
৩. ব্যান্ডেজ: সম্ভব হলে একটি জীবাণুমুক্ত ও আঠালো নয় এমন ড্রেসিং দিয়ে ক্ষতস্থানটি ঢেকে দিন।

 

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিড়ালের কামড়ের জন্য গভীর টিস্যু বা জয়েন্টের সংক্রমণ রোধ করতে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জোরালোভাবে বাঞ্ছনীয়–
১. কামড়ে চামড়া ছিঁড়ে গেছে (ছিদ্রজনিত ক্ষত)।
২. কামড়টি হাত, পা, মুখ বা কোনো অস্থিসন্ধির কাছাকাছি হলে ।
৩. কামড়টি একটি ভবঘুরে বা বন্য বিড়ালের।
৪. আপনি গত ৫-১০ বছরে টিটেনাসের টিকা নেননি।
৫. বিড়ালটি আক্রমণাত্মক আচরণ করছিল অথবা জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখাচ্ছিল (যেমন- মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়া, বিনা উসকানিতে আক্রমণ)।

সংক্রমণের সতর্কীকরণ লক্ষণ

পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কামড়ের স্থানে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনোটি দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিন–
১. ক্ষতের চারপাশে লালচে ভাব, ফোলা ভাব বা উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়া।
২. কামড়ের স্থান থেকে পুঁজ বা তরল বের হওয়া।
৩. কামড়ের স্থান থেকে লাল দাগগুলো বাইরের দিকে চলে যাওয়া।
৪. জ্বর বা শরীরে ব্যথা।

প্রতিরোধ

বিড়ালের কামড় প্রতিরোধ করা যায়–
১. বিড়াল থেকে দূরে থাকা।
২. শিশুদের বিড়াল অথবা অন্য পশু থেকে দূরে রাখা।
৩. অপরিচিত বিড়ালকে সাবধানতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা।
৪.পরিচিত বিড়ালকেও সাবধানতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা।
৫. বিড়াল এবং বিড়ালছানার সঙ্গে খুব এলোমেলোভাবে খেলা না করা।

লেখক: কনসালন্ট্যাট, আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা 

বিশ্ব শ্বেতী দিবস ২০২৬ শ্বেতী রোগে প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
শ্বেতী রোগে প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা
শ্বেতী রোগ বা ধবল রোগ হলো ত্বকের একটি অটোইমিউন সম্পর্কিত দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা।

আজ ২৫ জুন বিশ্ব শ্বেতী দিবস। বিশ্বজুড়ে এ দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো শ্বেতী বা ভিটিলিগো সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগীদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য দূর করা এবং সঠিক চিকিৎসা বিষয়ে মানুষকে অবহিত করা।
শ্বেতী একটি দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের রোগ, যেখানে শরীরের বিভিন্ন স্থানে সাদা দাগ বা ছোপ দেখা যায়। এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় না। তবু অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ভুল ধারণার কারণে অনেক রোগী সামাজিকভাবে অবহেলার শিকার হন এবং মানসিক কষ্টে ভোগেন।
এই রোগে ত্বকের রং তৈরিকারী মেলানোসাইট কোষ ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে মেলানিন উৎপাদন কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায় এবং ত্বকের নির্দিষ্ট অংশ ধীরে ধীরে সাদা হয়ে যায়।

শ্বেতী রোগ কী?

শ্বেতী রোগ বা ধবল রোগ হলো ত্বকের একটি অটোইমিউন সম্পর্কিত দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের মেলানোসাইট কোষকে আক্রমণ করে। এই কোষগুলো ত্বকের স্বাভাবিক রং বজায় রাখে। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ত্বকের কিছু অংশ রং হারিয়ে ফেলে। শ্বেতী সাধারণত যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে ১০ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিসংখ্যান

বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা যায়, শ্বেতী রোগ তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি ত্বকের সমস্যা। আনুমানিকভাবে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.৩ থেকে ০.৭ শতাংশ মানুষ এতে আক্রান্ত। এ রোগে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার হার প্রায় সমান। শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত ১০-১৮ বছর বয়সে শুরু হওয়ার প্রবণতা বেশি। 

বৈশ্বিক তথ্য
• বিশ্বে আনুমানিক ৫ থেকে ১০ কোটি মানুষ শ্বেতী রোগে আক্রান্ত
• সব বর্ণ, জাতি ও অঞ্চলে রোগটি দেখা যায়
• দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলক হার কিছুটা বেশি

শ্বেতী রোগের কারণ

শ্বেতীর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে–
• অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া (শরীর নিজের কোষকে আক্রমণ করে)
• বংশগত বা জিনগত প্রভাব
• দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ
• ত্বকে আঘাত বা ঘর্ষণ
• কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শ
• থাইরয়েডসহ অন্যান্য অটোইমিউন রোগ

 

শ্বেতী প্রাণঘাতী রোগ নয়।

 

লক্ষণ ও উপসর্গ

শ্বেতীর প্রধান লক্ষণ হলো ত্বকে দুধ-সাদা দাগ দেখা দেওয়া। সাধারণত মুখ, ঠোঁট, চোখের চারপাশে দাগ থাকে। পাশাপাশি হাত, আঙুল, কনুই, হাঁটু ও পায়েও ছড়িয়ে পড়ে। 

অন্যান্য লক্ষণ

দাগ ধীরে ধীরে বড় হওয়া, নতুন স্থানে ছড়িয়ে পড়া, চুল, ভ্রু বা দাড়ি সাদা হয়ে যাওয়া। এসব দাগে সাধারণত ব্যথা বা চুলকানি থাকে না।

শ্বেতী রোগের প্রকারভেদ

১. ফোকাল ভিটিলিগো: শরীরের এক বা কয়েকটি স্থানে সীমাবদ্ধ দাগ।
২. সেগমেন্টাল ভিটিলিগো: শরীরের একপাশে বা নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ থাকে।
৩. অ্যাক্রোফেসিয়াল ভিটিলিগো: হাত-পা, আঙুল, ঠোঁট ও মুখে বেশি দেখা যায়।
৪. ভিটিলিগো ভালগারিস: সবচেয়ে সাধারণ ধরন, শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
৫. ইউনিভার্সাল ভিটিলিগো: বিরল ধরনের, যেখানে শরীরের অধিকাংশ ত্বক রং হারায়।

রোগ নির্ণয়

শ্বেতী নির্ণয়ে সাধারণত ত্বকের পর্যবেক্ষণ, উডস ল্যাম্প পরীক্ষা এবং রক্ত পরীক্ষা (থাইরয়েডসহ) করা হয়। প্রয়োজনে বায়োপসি করা হতে পারে।

জটিলতা

শ্বেতী প্রাণঘাতী রোগ নয়, তবে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া। এ ছাড়া মানসিক চাপ ও হতাশা, সামাজিক সংকোচ, সূর্যের আলোয় ত্বক সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অন্যান্য অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

ঘরোয়া ও দৈনন্দিন করণীয়

• সানস্ক্রিন ব্যবহার করা
• অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলা
• ত্বককে আঘাত থেকে রক্ষা করা
• সুষম খাদ্য গ্রহণ
• পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক শান্তি বজায় রাখা
• চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ভেষজ ব্যবহার না করা

সামাজিক সচেতনতা

শ্বেতী কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং এটি কুষ্ঠ রোগও নয়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবহেলা করা বা আলাদা করে দেখা উচিত নয়। সচেতনতা, মানবিক আচরণ এবং সঠিক তথ্য রোগীর জীবনকে সহজ করে।
পরিশেষে বলা যায়, শ্বেতী একটি দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের রোগ হলেও প্রাণঘাতী কোনো রোগ নয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, সচেতনতা এবং সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক