ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে চুক্তি করল ইন্দোনেশিয়া-ভারত টানা বর্ষণে প্লাবিত চকরিয়া-পেকুয়া, অনিশ্চয়তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা শুরুতেই এগিয়ে গেল মিশর, পেনাল্টি মিস করলেন মেসি জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে চসিকের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন ইবিতে 'লোক্যাল ইমপ্যাক্ট অব গ্লোবাল লার্নিং' বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স বার্নার্দো সিলভার কাছে ক্ষমা চাইলেন রদ্রি কসবায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে হত্যা আমার হাতে পুলিশ নয়, মুরগি আছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ১৩ জুলাই বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী চিনিকল চালুর দাবিতে ঢাকায় বড় কর্মসূচির ঘোষণা তারাকান্দায় মাদক সেবন করায় তিনজনের কারাদণ্ড আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ফরাসি রেফারি বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা প্রকাশ, শীর্ষে কোন বিভাগ? মিশরের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা এনসিপির সমাবেশে হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে: আইনমন্ত্রী স্বেচ্ছাচারিতার অবসান, জবাবদিহিতা ফিরেছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত বিলে বিএমইউ-এর চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার শঙ্কা বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্নফাঁস ও অনলাইন জালিয়াতি রোধে সংসদে বিল পাস ভারতীয় চিকিৎসায় শ্রবণশক্তি ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশি শিশু জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নে শিক্ষা, গবেষণা ও সুশাসনকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদদের জামালপুরে আইন কর্মকর্তার অফিস থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার ঈশ্বরগঞ্জে একরাতে ১০ গরু চুরি, আতঙ্কে কৃষক মুক্তির আগেই বিতর্ক থানচিতে ফিরেছে শতাধিক পর্যটক, পথে আরও ১৮ জন ইবি ছাত্রশক্তির কমিটিকে ‘হাইব্রিড পকেট কমিটি’ দাবি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার ধৈর্যই আমাদের জয়ের চাবিকাঠি:  স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ১৩ বিরতি ভেঙে ফিরছেন বুবলি নামাজের শেষ মুহূর্তের এক মহামূল্যবান সুযোগ

তেলাপোকা দেখলে ভয় লাগে? চলুন জেনে নিই ক্যাটসারাইডাফোবিয়া সম্পর্কে

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৮ মে ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
চলুন জেনে নিই ক্যাটসারাইডাফোবিয়া সম্পর্কে
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় তেলাপোকার প্রতি তীব্র ও অযৌক্তিক ভয়কে বলা হয় ‘কাটসারাইডিফোবিয়া’।

রান্নাঘরের কোণে সামান্য একটু খড়খড় শব্দ, আর তাতেই ড্রয়িংরুম পর্যন্ত এক লাফে চলে যাওয়া! কিংবা বাথরুমে ঢুকে দেওয়ালের গায়ে ডানা ঝাপটানো ছোট্ট একটি পোকা দেখেই ভয়ে চিৎকার করে ওঠা। দৃশ্যগুলো আমাদের অনেকের ঘরেই খুব পরিচিত। ঘরের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ানো এই ছোট্ট তেলাপোকা বা আরশোলাটি অনেকের জীবনেই এক মূর্তিমান আতঙ্ক। কিন্তু সাধারণ একটি পোকা দেখে কেন আমাদের এই তীব্র ভয়? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে কী বলে এবং কীভাবে এই ভয় থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব, চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক।

তেলাপোকার ভয় বা ‘কাটসারাইডিফোবিয়া’ কী?

সাধারণ মানুষের কাছে এটি কেবলই একটা পোকার ভয় হতে পারে, কিন্তু মনোবিজ্ঞানের ভাষায় তেলাপোকার প্রতি এই তীব্র ও অযৌক্তিক ভয়কে বলা হয় ‘কাটসারাইডিফোবিয়া’ (Katsaridaphobia)। এটি এক ধরণের ‘স্পেসিফিক ফোবিয়া’ বা নির্দিষ্ট কোনো বস্তুর প্রতি চরম আতঙ্ক। এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা কেবল তেলাপোকা সামনে দেখলেই নয়, বরং তেলাপোকার কথা চিন্তা করলে কিংবা ছবিতে দেখলেও প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তির হার্টবিট বেড়ে যায়, শরীর কাঁপতে থাকে এবং দমবন্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তেলাপোকার ভয় যখন চরমে পৌঁছায়, তখন মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়।

 

আমরা তেলাপোকাকে কেন এতো ভয় পাই?

অনেকে ভাবতে পারেন, সিংহ বা সাপের মতো হিংস্র প্রাণীকে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক, কারণ তারা ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু তেলাপোকা তো কামড়ায় না, তবে কেন এই ভয়? এর পেছনে মূলত কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও বিবর্তনগত কারণ রয়েছে —

◉ অপ্রত্যাশিত গতি ও ওড়ার ক্ষমতা: তেলাপোকার চলাচলের কোনো নির্দিষ্ট দিক নেই। এরা হঠাৎ করে দিক পরিবর্তন করে এবং সোজা মানুষের গায়ের ওপর উড়ে এসে পড়তে পারে। এই অনিশ্চিত গতি আমাদের মস্তিষ্কে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ (লড়ো অথবা পালাও) রেসপন্স তৈরি করে।

◉ অপরিচ্ছন্নতা ও রোগের উৎস: তেলাপোকা সাধারণত নোংরা আবর্জনা, ড্রেন বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় থাকে। আমাদের অবচেতন মন জানে যে এরা টাইফয়েড, কলেরার মতো জীবাণু ছড়ায়। ফলে এদের দেখলে এক ধরণের সহজাত ঘৃণা ও ভীতি কাজ করে।

◉ শৈশবের অভিজ্ঞতা বা ট্রমা: ছোটবেলায় পরিবারে কাউকে তেলাপোকা দেখে চিৎকার করতে দেখলে বা ভয় পেতে দেখলে শিশুরা ধরে নেয় এটি একটি বিপজ্জনক প্রাণী। এছাড়া ঘুমের মধ্যে গায়ে তেলাপোকা হাঁটার মতো কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতাও এই ভয়ের কারণ হতে পারে।

মনোবিজ্ঞান বলে, যেকোনো ফোবিয়া বা ভয়কে জয় করা সম্ভব।

ভয় যখন মানসিক স্বাস্থ্য ট্রমা

তেলাপোকার ভয় যখন চরমে পৌঁছায়, তখন মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়। ফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা রাতে একা রান্নাঘরে যেতে পারেন না, অন্ধকার ঘরে ঢুকতে ভয় পান এবং সারাক্ষণ এক ধরণের মানসিক শান্তিতে ভোগেন। এই ফোবিয়া একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে অ্যানজাইটি বা উদ্বেগের জন্ম দেয়।

তেলাপোকার ভয় কাটানোর বৈজ্ঞানিক উপায়

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান বলে, যেকোনো ফোবিয়া বা ভয়কে জয় করা সম্ভব। তেলাপোকার এই তীব্র আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে নিচের উপায়গুলো দারুণ কার্যকরী হতে পারে —

◉ কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT)
এটি ফোবিয়া দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একজন থেরাপিস্টের সহায়তায় মনের অবচেতন স্তরের ভুল ধারণাগুলো দূর করা হয়। তেলাপোকা যে আসলে কামড়ায় না বা সরাসরি কোনো শারীরিক ক্ষতি করে না—এই যুক্তিটি মস্তিষ্ককে বারবার বোঝানো হয়।

◉ এক্সপোজার থেরাপি (Exposure Therapy)
ভয়ের মুখোমুখি হয়েই ভয়কে জয় করার পদ্ধতি এটি। প্রথমে তেলাপোকার ছবি বা খেলনা তেলাপোকা দূর থেকে দেখা, তারপর ধীরে ধীরে দূরত্ব কমানো এবং একপর্যায়ে জীবন্ত তেলাপোকা দেখেও শান্ত থাকার অভ্যাস করা। এটি হঠাৎ করে একা একা না করে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে করা উচিত।

◉ ঘর পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা
ভয় কাটানোর পাশাপাশি ভয়ের উৎস দূর করা জরুরি। ঘর সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এবং নিয়মিত পেস্ট কন্ট্রোল (কীটপতঙ্গ দমন) করলে তেলাপোকার উপদ্রব কমে যাবে। ঘরে তেলাপোকা না থাকলে ধীরে ধীরে মনের ভেতরের আতঙ্কও কমে আসবে।

◉ রিল্যাক্সেশন টেকনিক
হঠাৎ সামনে তেলাপোকা চলে আসলে প্যানিক বা আতঙ্কিত না হয়ে দীর্ঘশ্বাস (Deep Breathing) নেওয়ার অভ্যাস করুন। নিজেকে বলুন, ‘আমি নিরাপদ, এই পোকাটি আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’

তেলাপোকার ভয় থেরাপি এবং সচেতনতার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।

 

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

তেলাপোকা দেখে সামান্য ভয় পাওয়া বা অস্বস্তি বোধ করা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু এই ভয় যখন আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে শুরু করে, তখন চিকিৎসকের বা একজন সাইকোলোজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। যদি দেখেন —


• তেলাপোকার ভয়ে আপনি রাতে ঘুমাতে পারছেন না বা একা ঘরে থাকতে পারছেন না।
• ঘরের কোথাও তেলাপোকা থাকতে পারে— এই চিন্তায় সারাক্ষণ চরম উদ্বেগের (Anxiety) মধ্যে কাটে।
• হঠাৎ তেলাপোকা সামনে পড়লে বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, হাত-পা কাঁপা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হয়।
• ভয়ের কারণে ঘরবাড়ি অতিরিক্ত ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করার এক ধরণের বাতিক বা অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD) তৈরি হয়।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে এটি সাধারণ ভয় নয়, বরং একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। এই অবস্থায় সংকোচ না করে দ্রুত একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঘরের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ানো এই ছোট্ট তেলাপোকা বা আরশোলাটি অনেকের জীবনেই এক মূর্তিমান আতঙ্ক।

 

মনে রাখবেন, তেলাপোকার ভয় কোনো লজ্জার বিষয় নয়। এটি একটি মানসিক অবস্থা যা থেরাপি এবং সচেতনতার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। পরিবার বা বন্ধুদের মধ্যে কেউ এমন সমস্যায় ভুগলে তাকে নিয়ে উপহাস না করে তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। সঠিক পদক্ষেপ এবং একটুখানি সাহসের মাধ্যমেই এই ছোট্ট পোকার আতঙ্ক থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সূত্র: হেলথ লাইন

ভারতীয় চিকিৎসায় শ্রবণশক্তি ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশি শিশু

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ভারতীয় চিকিৎসায় শ্রবণশক্তি ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশি শিশু
ছবি:এআই

জন্মগতভাবে বহিঃকর্ণ ও কর্ণনালী ছাড়াই জন্ম নেওয়া ৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কন্যাশিশুর সফল বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্ট সম্পন্ন হয়েছে কলকাতার সিএমআরআই সিকে বিড়লা হাসপাতালে। আধুনিক এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটি প্রথমবারের মতো স্বাভাবিকভাবে শুনতে পারার ক্ষমতা পাচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির অন্তঃকর্ণ স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেও বহিঃকর্ণ, কর্ণনালী এবং কানের পর্দা না থাকায় শব্দ অন্তঃকর্ণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছিল না। ফলে সে সম্পূর্ণরূপে শ্রবণ শক্তিহীন ছিল। গত সপ্তাহে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মাথার খুলির হাড়ের নিচে একটি চৌম্বকীয় অভ্যন্তরীণ ইমপ্লান্ট বসানো হয়। ক্ষত সম্পূর্ণ সেরে উঠলে প্রায় তিন সপ্তাহ পর একটি বাহ্যিক সাউন্ড প্রসেসর সংযুক্ত করা হবে, যা চারপাশের শব্দ সংগ্রহ করে অভ্যন্তরীণ ইমপ্লান্টে পাঠাবে এবং সেখান থেকে শব্দের কম্পন সরাসরি অন্তঃকর্ণে পৌঁছে যাবে।

অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন, হাসপাতালের ওটোলজিস্ট ও কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জন ডা. এনভিকে মোহন।

তিনি জানান, এটি কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট নয়, বরং এমন রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হয় যাদের অন্তঃকর্ণ সুস্থ থাকলেও শব্দ পরিবহনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত থাকে।

তিনি আরও জানান, শিশুটির কর্ণনালী পুনর্গঠন সম্ভব হলেও তাতে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতো এবং সফলতার নিশ্চয়তা কম ছিল। তাই চিকিৎসক দল বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্টকেই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে বেছে নেন।

চিকিৎসকদের মতে, বাহ্যিক সাউন্ড প্রসেসরটি একটি ছোট চৌম্বকীয় ডিভাইসের মতো, যা সহজেই খুলে রাখা যায়। গোসল, ঘুম বা প্রয়োজন অনুযায়ী এটি খুলে রাখা সম্ভব। শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ভবিষ্যতে শিশুটির বহিঃকর্ণ পুনর্গঠন বা কৃত্রিম কান প্রতিস্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অস্ত্রোপচারের পর শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তিন সপ্তাহ পর পুনরায় হাসপাতালে এনে বাহ্যিক সাউন্ড প্রসেসর সংযুক্ত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে তার শ্রবণক্ষমতা মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

রবিউল/নাঈম

বর্ষাকালের ভাইরাল জ্বর

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
বর্ষাকালের ভাইরাল জ্বর
ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ রোগীভেদে ভিন্ন হতে পারে।

বর্ষাকাল প্রকৃতিকে যেমন সজীব করে তোলে, তেমনি এই সময়ে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়। আর্দ্রতা বৃদ্ধি, পরিবেশের পরিবর্তন এবং জীবাণুর দ্রুত বিস্তারের কারণে ভাইরাল জ্বর এ মৌসুমের অন্যতম সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। শিশু, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। যদিও অধিকাংশ ভাইরাল জ্বর কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়, তবু সচেতনতা ও সঠিক পরিচর্যার অভাবে জটিলতা দেখা দিতে পারে।


লক্ষণ

ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ রোগীভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত সংক্রমণের এক থেকে তিন দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়।
◉ সাধারণ লক্ষণ: হঠাৎ জ্বর আসা এবং শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর শুরু হওয়া। অতিরিক্ত দুর্বলতা ও অবসাদ। শরীর ও পেশিতে ব্যথা। জয়েন্টে ব্যথা বা অস্বস্তি। 
◉ মাথা ও চোখের লক্ষণ: মাথাব্যথা। চোখ ভারী লাগা বা চোখের পেছনে ব্যথা। আলোতে অস্বস্তি অনুভব করা। কিছু ক্ষেত্রে চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
◉ শ্বাসতন্ত্রের লক্ষণ: গলাব্যথা। শুকনো বা কফযুক্ত কাশি। নাক দিয়ে পানি পড়া। নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। বারবার হাঁচি হওয়া।
◉ পরিপাকতন্ত্রের লক্ষণ: ক্ষুধামন্দা। বমি বমি ভাব। হালকা বমি বা পাতলা পায়খানা। পেটে অস্বস্তি।
◉ শিশুদের ক্ষেত্রে: অস্থিরতা বা অতিরিক্ত কান্না। দুধ বা খাবার খেতে না চাওয়া। অতিরিক্ত ঘুম বা ঝিমুনি। খেলাধুলায় অনীহা।

 

প্রকারভেদ

◉ সাধারণ ভাইরাল জ্বর: ঋতু পরিবর্তনের সময় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কয়েক দিনের জ্বরের সঙ্গে শরীরব্যথা ও দুর্বলতা থাকে।
◉ ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত জ্বর: ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে হয়। এতে কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা এবং তীব্র ক্লান্তি বেশি থাকে।
◉ শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসজনিত জ্বর: এ ধরনের সংক্রমণে গলা, নাক ও ফুসফুস বেশি আক্রান্ত হয়। ফলে কাশি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
◉ মশাবাহিত ভাইরাসজনিত জ্বর: বর্ষাকালে জমে থাকা পানিতে মশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো ভাইরাসজনিত জ্বরের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এসব রোগের লক্ষণ ও জটিলতা সাধারণ ভাইরাল জ্বর থেকে আলাদা হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
৬৫ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তি।
অন্তঃসত্ত্বা নারী।
ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি বা ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।
যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল।
স্কুল, কলেজ, অফিস বা জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা।

লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক

পেটের আলসারের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
পেটের আলসারের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
অনেকের ধারণা, কেবল ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার খেলেই আলসার হয়, যা আসলে একটি বড় ভুল ধারণা।

পেটের সবচেয়ে সাধারণ অথচ অবহেলিত সমস্যা হলো ‘স্টমাক আলসার’ বা পাকস্থলীর ক্ষত। আমাদের পেটের ভেতরে যে অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যাসিড থাকে, তা থেকে পাকস্থলীকে রক্ষা করার জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক স্তর থাকে। কোনো কারণে যখন এই স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অ্যাসিড সরাসরি পাকস্থলীর দেয়ালে আঘাত করে, তখন সেখানে এক ধরনের খোলা ক্ষত বা ঘা তৈরি হয়। একেই চিকিৎসাশাস্ত্রে পেটের আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার বলা হয়। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। সাধারণ মনে হলেও সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা না করালে এটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে।


আলসারের লক্ষণ

পাকস্থলীর আলসার হলে সাধারণত বুকের ঠিক নিচে, পেটের ওপরের দিকে মাঝখানে বা কিছুটা বাম পাশে এক ধরনের তীব্র জ্বালাপোড়া বা কামড়ানোর মতো ব্যথা অনুভূত হয়। এ ছাড়া আরও কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়–
হজমে সমস্যা ও পেট ফাঁপা: খাওয়ার ঠিক পরপরই পেট অতিরিক্ত ভরা মনে হওয়া, গ্যাস বা পেট ফোলার সমস্যা।
অম্বল বা বুক জ্বালা: টক ঢেকুর ওঠা এবং বুক ও গলায় অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অনুভূতি।
বমি বমি ভাব: অনেকের ক্ষেত্রে সকালের দিকে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
নীরব আলসার: কিছু মানুষের আলসার থাকলেও কোনো বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশ পায় না। হঠাৎ করে রক্তক্ষরণ বা পেটে তীব্র ছিদ্র না হওয়া পর্যন্ত তারা বুঝতেও পারেন না যে ভেতরে কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে।

 

কেন হয় এই আলসার?

অনেকের ধারণা, কেবল ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার খেলেই আলসার হয়, যা আসলে একটি বড় ভুল ধারণা। ঝাল খাবার আলসারের ব্যথা বাড়াতে পারে, কিন্তু আলসার তৈরি করে না। প্রায় ৯৯ শতাংশ আলসারের জন্য মূলত দুটি কারণ দায়ী–
এইচ. পাইলোরি (H. pylori) ব্যাকটেরিয়া: এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ ব্যাকটেরিয়া, যা মানুষের পাকস্থলীতে বংশবৃদ্ধি করে এবং পাকস্থলীর সুরক্ষাকারী স্তরটিকে ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলে।
ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হরহামেশা আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন বা এসপিরিনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস পাকস্থলীর দেয়ালকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান এবং তীব্র মানসিক চাপ (যেমন- বড় কোনো অস্ত্রোপচার বা দুর্ঘটনা) আলসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসা

যদি আপনার আলসারের লক্ষণ থাকে, তবে চিকিৎসক সাধারণত একটি অ্যান্ডোস্কোপি পরীক্ষার পরামর্শ দেন। এই পরীক্ষায় একটি ছোট ক্যামেরাযুক্ত নল মুখের ভেতর দিয়ে পাকস্থলীতে প্রবেশ করিয়ে সরাসরি ক্ষতটি দেখা হয় এবং প্রয়োজনে ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষার জন্য সামান্য টিস্যু নেওয়া হয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি

অ্যান্টিবায়োটিক: এইচ. পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া ধরা পড়লে তা দূর করতে চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট মেয়াদের অ্যান্টিবায়োটিক দেন।
অ্যাসিড কমানোর ওষুধ: কিছু ওষুধ পেটের অ্যাসিড উৎপাদন কমিয়ে ক্ষত শুকিয়ে যেতে সাহায্য করে।
পাকস্থলীর দেয়াল রক্ষাকারী ওষুধ: সুক্রালফেটের মতো কিছু ওষুধ ক্ষতের ওপর একটি প্রলেপ তৈরি করে, যাতে অ্যাসিড সরাসরি সেখানে লাগতে না পারে।

কখন হাসপাতালে যাবেন

আলসার থেকে যদি ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হয়, তবে রোগীর শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা চরম দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। যদি মল কালো রঙের হয়, বমির সঙ্গে কফির দানার মতো রক্ত আসে কিংবা পেটে হঠাৎ তীব্র, সহ্যাতীত ব্যথা শুরু হয়–তবে দেরি না করে রোগীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে। কারণ এটি পাকস্থলী ফুটো হয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

লেখক: চিকিৎসক, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ

তরুণীদের স্তনের সাধারণ সমস্যা ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
তরুণীদের স্তনের সাধারণ সমস্যা ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা
ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা হলো স্তনের ফাইব্রাস ও গ্রন্থিযুক্ত টিস্যুর অস্বাভাবিক কিন্তু নিরাপদ বৃদ্ধি।

স্তনে কোনো ছোট চাকা বা গাঁট অনুভব করলেই যেকোনো নারীর মনে প্রথম যে ভয়টি জাগে, তা হলো ক্যানসার। তবে আশার কথা হলো, স্তনের সব চাকা বা টিউমার ক্যানসার নয়। স্তনের অত্যন্ত সাধারণ এবং সম্পূর্ণ অ-ক্যানসারজনিত (Benign) একটি টিউমারের নাম ‘ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা’। সাধারণত এটি ক্ষতিকর নয় এবং সঠিক সময়ে সচেতন হলে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে তরুণী ও কিশোরীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা কী এবং কেন হয়?

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা হলো মূলত স্তনের ফাইব্রাস (তুনাযুক্ত) ও গ্রন্থিযুক্ত টিস্যুর একটি অস্বাভাবিক কিন্তু নিরাপদ বৃদ্ধি। এটি কোনো ক্যানসার নয় এবং সাধারণত ক্যানসারে রূপান্তরিতও হয় না। এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো চিকিৎসাবিজ্ঞানে অজানা, তবে হরমোনের তারতম্য (বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন হরমোন) এর জন্য প্রধানত দায়ী বলে মনে করা হয়। নারীদের প্রজননক্ষম বয়সে হরমোনের আধিক্যের কারণে এটি বেশি দেখা যায়। ফলে গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এর আকার বৃদ্ধি পেতে পারে। আবার মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় এটি আকারে ছোট হয়ে যেতে পারে।

কাদের এই সমস্যা বেশি হয়?

সাধারণত ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণী ও কিশোরীদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। কিশোরীদের স্তনে কোনো চাকা দেখা দিলে তার সিংহভাগই ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা। মেনোপজের পর অর্থাৎ বয়স বাড়লে এই টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

 

লক্ষণ ও উপসর্গ

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমার কিছু সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা হাত দিয়ে স্পর্শ করলেই খুব সহজে অনুমান করা যায়—
স্তনে একটি গোল বা ডিম্বাকৃতির সুনির্দিষ্ট সীমানাযুক্ত চাকা অনুভব করা।
এটি স্পর্শ করলে বেশ শক্ত কিন্তু কিছুটা রবারের মতো নরম ও মসৃণ অনুভূত হয়।
সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, হাত দিয়ে চাপ দিলে এটি স্তনের ভেতর সহজেই একস্থান থেকে অন্যস্থানে নড়াচড়া করে। এই নড়নশীলতার কারণে চিকিৎসাশাস্ত্রে একে রসিকতা করে ‘Breast Mouse’ বা ‘স্তনের ইঁদুর’ বলা হয়ে থাকে।
এটি সাধারণত সম্পূর্ণ ব্যথাহীন হয় এবং এক বা একাধিক হতে পারে।

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমার প্রকারভেদ

গঠন ও আকারের ওপর ভিত্তি করে এটি চার ধরনের হতে পারে–
Simple (সাধারণ): এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং এতে ক্যানসারের কোনো ঝুঁকি থাকে না।
Complex (জটিল): এর ভেতরে ছোট সিস্ট বা ক্যালসিফিকেশন থাকতে পারে।
Giant (বিশাল): আকার ৫ সেন্টিমিটারের বেশি হলে একে জায়ান্ট বলা হয়।
Juvenile (কৈশোরকালীন): কিশোরীদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

স্তনে চাকা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণত চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা (Physical Examination), তরুণীদের জন্য স্তনের আল্ট্রাসাউন্ড এবং বয়স ৪০-এর বেশি হলে ম্যামোগ্রাফি করার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হয়। কোনো সন্দেহ থাকলে সুঁই ফুটিয়ে টিস্যু পরীক্ষা বা বায়োপসি করা হতে পারে।

চিকিৎসা পদ্ধতি মূলত তিনভাবে করা হয়—
পর্যবেক্ষণ: টিউমারটি আকারে ছোট এবং কোনো উপসর্গ না থাকলে কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত ডাক্তারের ফলো-আপে থাকাই যথেষ্ট। অনেক সময় এটি নিজে থেকেই মিলিয়ে যায়।
অস্ত্রোপচার: চাকাটি আকারে বড় হলে, দ্রুত বৃদ্ধি পেলে, ব্যথা বা অস্বস্তি তৈরি করলে অথবা কসমেটিক কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা অপসারণ করা হয়।
আধুনিক পদ্ধতি: বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই ভ্যাকুয়াম-সহায়ক পদ্ধতির (Vacuum-assisted excision) মাধ্যমে এটি অপসারণ করা সম্ভব।

রোগীর সচেতনতা ও শেষ কথা

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা নিয়ে প্যানিক বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ এর পূর্বাভাস অত্যন্ত চমৎকার এবং ক্যানসারে রূপান্তরের হার খুবই বিরল। তবে প্রত্যেক নারীর উচিত প্রতি মাসে নিয়মিত নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করা। যদি স্তনে নতুন কোনো চাকা দেখা যায়, চামড়ার রং পরিবর্তন হয় বা বোঁটা থেকে রক্ত কিংবা পুঁজ নিঃসৃত হয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতনতাই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

লেখিকা: সহকারী অধ্যাপক, জেনারেল অ্যান্ড কলোরেক্টাল সার্জন, চেম্বার আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা

প্রস্রাবে ফেনা হওয়াকে অবহেলা নয়

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
প্রস্রাবে ফেনা হওয়াকে অবহেলা নয়
প্রস্রাবে ফেনার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো প্রোটিন বের হওয়া।

প্রস্রাবের কারণে দেহের ভেতরের বর্জ্য পদার্থ বের হয়। এতে যেমন বর্জ্য পদার্থ দেহ হতে বের হয়, তেমনি অনেক রোগের নীরব বার্তাও প্রদান করে। প্রস্রাব নিঃসরণে ফেনা দেখা দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এ ফেনা কখনো কখনো কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও ধরা হয়। প্রস্রাব নিঃসরণের পর জমা প্রস্রাবের ওপর সাদা, ঘন ও স্থায়ী বুদবুদ দেখা যায়। একে আমরা ফেনা বলি। সাধারণত স্বাভাবিক প্রস্রাবেও অল্প সময়ের জন্য ফেনা দেখা যায়। যদি ফেনা বারবার হয় এবং অনেকক্ষণ স্থায়ী হয়, তা কিডনি রোগের সংকেত হিসেবে ধরা যায়।

সাধারণ কারণ

• দ্রুত বা জোরে প্রস্রাব বের হলে পানিতে বাতাস মিশে ফেনা তৈরি হয়, যা অল্প সময়েই মিলিয়ে যায়।
• সারা রাত জমে থাকা প্রস্রাব নিঃসরণের পর সামান্য ফেনা দেখা দিতে পারে।
• শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়। ঘন প্রস্রাব হলে ফেনা দেখা দিতে পারে।
• টয়লেটে জমে থাকা সাবান বা ডিটারজেন্টের ফলেও ফেনা তৈরি হতে পারে।

প্রধান রোগজনিত কারণ

• প্রস্রাবে ফেনার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো প্রোটিন বের হওয়া। কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে প্রস্রাব বের করে এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন শরীরে রাখে। কোনো কারণে কিডনির ছাঁকনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রোটিন প্রস্রাবে চলে আসে। আর এ প্রোটিনের কারণে প্রস্রাব ঘন, সাবানের মতো ফেনা তৈরি হয়– যা কিডনি রোগের প্রধান কারণ।
• কিডনির ছাঁকনিতে প্রদাহ হলেও ফেনা তৈরি হয়। কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত হয় এবং শরীর ফুলে যায়।
• নেফ্রোটিক সিনড্রোম রোগের কারণেও প্রস্রাবে ফেনা হয়।
• প্রস্রাবের প্রদাহের ফলে ফেনা, দুর্গন্ধময় প্রস্রাব, জ্বালা ও জ্বর দেখা দিতে পারে।
• অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালি নষ্ট করে। শুরুতে লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে ফেনা ও প্রোটিন দেখা দেয়। আমাদের দেশে কিডনি বিকলের প্রধান কারণ হিসেবে ডায়াবেটিসকে ধরা হয়।
• উচ্চ রক্তচাপ নীরবে কিডনির রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা কমে যায়। প্রস্রাবে প্রোটিন বের হয় এবং ফেনা দেখা দেয়।
• পুরুষদের ক্ষেত্রে রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন বা বীর্যজনিত সমস্যার কারণে প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেয়।

 

কখন ঝুঁকিপূর্ণ?

প্রস্রাবে প্রতিদিন ফেনা হয়, সাদা, ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। চোখ, মুখ, পা ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি। খাবারে অরুচি, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

রোগ নির্ণয়

• প্রস্রাবের আরই প্রোটিন অ্যালবুমিন, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, অ্যালবুমিন ক্রিয়েটিনিন রেশিও।
• ইজিএফআর
• রক্তচাপ মাপা, রক্তে শর্করা পরীক্ষা
• ইউরিন এসিআর

করণীয়

পর্যাপ্ত পানি পান করা। অতিরিক্ত লবণ ও চিনি খাওয়া কমানো। ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা। নিয়মিত ব্যায়াম করা। প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ চেপে না রাখা। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। নিয়মিত চিকিৎসা করানো। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং শরীর হঠাৎ ফুলে গেলে, প্রস্রাব বন্ধ হলে, ফেনার  সঙ্গে তলপেটে তীব্র ব্যথা ও রক্তপাত হলে ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে ফেনা দেখা দিলে অতিদ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

লেখক: চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্য নিবন্ধকার