ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ নিয়ে অপ্টার ভবিষ্যদ্বাণী ঈশ্বরদীতে ব্যাটারি চুরির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা হতাশাজনক! ফেনীতে বাড়ছে নদীর পানি, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ পাউবোর ইনফোসিস ফিন্যাকল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডসে গোল্ড জিতল কমিউনিটি ব্যাংক কুড়িগ্রামে টিসিবি ডিলারদের মানববন্ধন গেম ডিস্ক বন্ধ করছে সনি প্লেস্টেশন নরসিংদীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার রাঙামাটিতে গাছের গুঁড়ি পড়ে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মৃদুল-সম্পাদক শান্ত এনসিপির সমাবেশে হামলার বিষয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা পড়ে পাওয়া গল্পের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি করল সরকার খাগড়াছড়ি হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে নিহত ৩ তরুণের দেহ মাদারগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় সাপেকাটা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ সিংগাইরে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর মিরসরাইয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরির গার্ডরুমে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ২০৩০ বিশ্বকাপ সরাসরি খেলবে ছয় দেশ পাঠকের গল্প : ল্যান্ডফোনের ক্রসকানেকশন মাঠের বাইরের বিতর্কের জবাব বেলজিয়াম দিল মাঠেই শিবচরে হতদরিদ্র ৬ পরিবারের মাঝে গাভী বিতরণ যেভাবে চাকরি খুঁজবেন যেসব দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা পাচ্ছেন পর্যটকরা গজারিয়ায় রাস্তা উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কেপ ভার্দে ধাক্কার পর মিশরকে নিয়ে সতর্ক আর্জেন্টিনা ভারী বর্ষণে ডুবল চট্টগ্রাম, পাহাড়ধসের শঙ্কা ১০ মিনিটে ৬৬টি হটডগ খেয়ে জিতলেন সাড়ে ৯ লাখ টাকা বেরোবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালনকারীদের ফ্যান খুলে নেওয়ার অভিযোগ দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলে নিহত ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪০৬ সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

হাতিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ মিলনের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:২৩ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
হাতিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ মিলনের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মো. মিলন উদ্দিন (৫০) নামে এক জেলে নিখোঁজের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) ৫নং ওয়ার্ডের মুন্সি গ্রামের আব্দুল বাবির ছেলে মো. মিলন উদ্দিন জোয়ারের সময় মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার সময় তিনি নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

দুপুরের দিকে অনুসন্ধান চালিয়ে মিলন উদ্দিনের ব্যবহৃত মাছ ধরার জাল উদ্ধার করেন। তবে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় নদীতে আরও অনুসন্ধান চালানো হলে একপর্যায়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান লাভলী বেগম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খবরের কাগজকে বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের নিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মিলন উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

হানিফ উদ্দিন/থিওটোনিয়াস/

ফেনীতে বাড়ছে নদীর পানি, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ পাউবোর

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:২২ পিএম
ফেনীতে বাড়ছে নদীর পানি, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ পাউবোর
ছবি: খবরের কাগজ

২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনো মন থেকে মুছতে পারেননি ফেনীবাসী। ঘরবাড়ি, ফসল আর সহায়-সম্বল হারানোর সেই ক্ষত এখনো দগদগে। এর মধ্যেই উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে ফেনীর প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার পর জেলাজুড়ে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক।

ফেনী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বিশেষ করে চরাঞ্চল ও নদীপাড়ের বাসিন্দারা আবারও এক অজানা আশঙ্কায় দিন পার করছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায়, ৭ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু বেশ সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।’

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়লে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার বেড়িবাঁধগুলো নিয়ে। ২০২৪ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলোর বেশ কিছু জায়গায় জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হলেও তীব্র পানির চাপ তা কতটা সহ্য করতে পারবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর সংশয় রয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ফেনী জেলার প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা মো. সাহেদ আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেন, ‘২০২৪ সালের বন্যার কথা মনে হলে এখনো রাতে ঘুম আসে না। ঘরের চাল পর্যন্ত পানি উঠেছিল। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলাম। আবারও নদী উপচে পানি বাড়ার কথা শুনে বুকটা কাঁপছে।’

তবে মাঠপর্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে আশ্বস্ত করেছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, ফেনীসহ পাঁচ জেলায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের একটি পূর্বাভাস রয়েছে। জেলায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যদি অতিবৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢল নামে, তবে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফাহাদ্দিস হোসাইন বলেন, ‘মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৫৫ মিটার। সেখানে মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত নদীর পানি ৮ দশমিক ২৮ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সকাল থেকে নদীর পানি বাড়ছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘নদীর পানির উচ্চতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে বৃষ্টিপাতের অবস্থাও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার মজুত এবং স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো দুর্যোগ দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।’

এর আগে, ২০২৪ সালের আগস্টে ফেনীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বন্যায় জেলার ছয়টি উপজেলার প্রায় ১৮ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। প্রাণ হারান অন্তত ২৯ জন। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় লাখো মানুষকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছিল। সেই ট্রমা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকেই। বিশেষ করে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার মানুষ নদীর পানি সামান্য বাড়লেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

রিফাত/

কুড়িগ্রামে টিসিবি ডিলারদের মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
কুড়িগ্রামে টিসিবি ডিলারদের মানববন্ধন
মানববন্ধন করেছে টিসিবি ডিলাররা/ ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামে চুক্তি নবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলাররা।

ডিলারদের দাবি, জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের নবায়নযোগ্য ডিলার এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে মেয়াদোত্তীর্ণ নবায়নযোগ্য টিসিবি ডিলারদের সঙ্গে অবিলম্বে চুক্তি নবায়ন করতে হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ‘টিসিবি ডিলার বাঁচাও আন্দোলন, জেলা কুড়িগ্রাম’ এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার টিসিবি ডিলাররা অংশ নেন।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

ফুলবাড়ী উপজেলার টিসিবি ডিলার হারুন অর রশিদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, কুড়িগ্রাম সদরের টিসিবি ডিলার রোকনুজ্জামান রোকন, মোহাম্মদ রোকন আলী, রিপন মিয়া, উলিপুর উপজেলার টিসিবি ডিলার আতাউর রহমান, চিলমারী উপজেলার ডিলার পলাশসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে টিসিবির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদনে নবায়নের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও আমাদের সঙ্গে এখনো চুক্তি সম্পাদন করা হয়নি। এতে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। অবিলম্বে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী নবায়নযোগ্য ডিলারদের সঙ্গে পুনঃচুক্তি সম্পাদন করে আমাদের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে। 

তারা বলেন, টিসিবি ডিলাররা নিম্নআয়ের মানুষের কাছে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অথচ বৈধ ও নবায়নযোগ্য ডিলারদের দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখায় তারা আর্থিক ও পারিবারিক সংকটে পড়েছেন। এ অবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।"

জিএম সিরাজ/তামান্না রুপা/

রাঙামাটিতে গাছের গুঁড়ি পড়ে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
রাঙামাটিতে গাছের গুঁড়ি পড়ে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির
ছবি: খবরের কাগজ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার পশ্চিম লাইল্যাঘোনা এলাকায় গড়িয়ে পড়া গাছের গুঁড়ির চাপায় লক্ষ্মীবিলাশ চাকমা (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। 
 
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় দিকে এ ঘটনা ঘটে। লক্ষ্মীবিলাশ চাকমা নিহত দ্রোনোচার্জ্য চাকমার ছেলে।
 
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
লক্ষ্মীবিলাশ চাকমার বড় ভাই বিমলেন্দু চাকমা জানান, রাতে বৃষ্টিপাতের ফলে বসতঘরের পাশের অংশে মাটিধসে পড়ে। লক্ষ্মীবিলাশ ধসে পড়া মাটি সরাতে গেলে উপর থেকে গাছের গুঁড়িটি গড়িয়ে তার গায়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 
 
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে লক্ষ্মীর পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দেন। এ ছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসরতদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করে মাইকিং করা হয়। 
 
বাঘাইছড়ি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল ইসলা মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।
 
জিয়াউর জুয়েল/খাদিজা রুমি/

খাগড়াছড়ি হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে নিহত ৩ তরুণের দেহ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
খাগড়াছড়ি হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে নিহত ৩ তরুণের দেহ
ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মধুমঙ্গলপাড়ায় গুলিতে নিহত তিন তরুণের মরদেহ ঘটনার একদিন পরও স্বজনেরা নেননি। চব্বিশ ঘণ্টা পার হলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। মরদেহগুলো বর্তমানে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতদের কোনো স্বজন এখন পর্যন্ত মরদেহ নিতে থানায় বা হাসপাতালে আসেননি। মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত শেষে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রাখা আছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা অপেক্ষা করছি, পরিবারের সদস্যরা আসলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়ায় পাহাড়ের দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের গোলাগুলিতে পদ্ম চাকমা (১৮), ধনা চাকমা (১৮) ও রিয়েল চাকমা (১৮) নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পদ্ম চাকমা ও ধনা চাকমার বাড়ি রাঙামাটিতে এবং রিয়েল চাকমার বাড়ি পানছড়ি উপজেলায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি দুটি মিসফায়ার হওয়া গুলি, ১৪টি ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং চারটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। 

এদিকে নিহত তিনজনই ইউপিডিএফের সদস্য বলে স্থানীয়রা জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা দাবি করেন, এটি জেএসএস সন্তু গ্রুপের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ। সোমবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জেএসএস সন্তু গ্রুপের মধ্যে সাধারণ কর্মীদের বিদ্রোহ থেকে এই ঘটনা ঘটেছে।

দিদারুল আলম/রিফাত/

মাদারগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় সাপেকাটা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:২১ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
মাদারগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় সাপেকাটা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাপেকাটা রমিছা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ করছেন তার স্বজনরা।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়।

রমিছা বেগম উপজেলার তারতাপাড়া এলাকার চান মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে রমিছা বেগমকে সাপে কামড় দেয়। পরে দ্রুত তাকে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও হাসপাতালের স্টাফরা বিষধর সাপের কামড় নয় বরং অন্য কোনো প্রাণীর কামড় বলে ধারণা করেন।

স্বজনরা দাবি করেন, এ কারণেই রোগীকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করা হয়নি। সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) দেওয়া হয়নি।

পরে হাসপাতালের বাইরে অবস্থানকালে রমিছা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়, পরে স্বজনরা তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরে জামালপুর নেওয়ার পথেই রমিছার মৃত্যু হয়।

মৃতের ছেলে লিটন মিয়া বলেন, ‘আমার মাকে সাপে কামড় দেওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়, চিকা বা অন্য কিছু কামড় দিয়েছে। কোনো অ্যান্টিভেনম দেননি। পরে মায়ের অবস্থা খারাপ হলে আবার হাসপাতালে নিয়ে গেলে জামালপুরে পাঠানো হয়। কিন্তু পথে আমার মা মারা যায়। চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাহিদ বলেন, ’সাপেকাটা রোগী এলে আমরা সরকারি চিকিৎসা প্রোটোকল অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি বিষধর সাপের কামড়ের বিভিন্ন লক্ষণ যেমন, চোখে ঝাপসা দেখা, ঘাড় বেঁকে যাওয়া ও অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ পরীক্ষা করা হয়। ওই রোগীর মধ্যে এসব লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তাই তখন অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।’

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, রোগীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছিল। অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও রোগীর স্বজনরা তাকে নিয়ে চলে যান। পরে আবার হাসপাতালে নিয়ে এলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসমাউল আসিফ/খাদিজা রুমি/