সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কাজিরবাজার মৎস্য ও তরকারি বাজারের ব্যবস্থাপনা ও ইজারা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এবং বাজার কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) ইজারাদারকে কাজিরবাজারে মৎস্য ও তরকারি বাজার হস্তান্তর করার জন্য গিয়েছিল। তবে বাজার কমিটির নেতাদের বাধার মুখে ইজারাদারকে বাজার হস্তান্তর করতে পারেনি সিসিক কর্তৃপক্ষ।
সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য সিলেটের কাজিরবাজার মৎস্য ও তরকারি বাজার ইজারা দিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন।
তবে ইজারা বুঝিয়ে দিতে না পারলেও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কাজিরবাজার মৎস্য ও তরকারি বাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। +
এ সময় তিনি বলেন, নথিপত্র ও আইনি দিক পর্যালোচনা করে কাজিরবাজার মৎস্য ও তরকারি বাজারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেবসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট সিটি করপোরেশন বলছে, সিলেটের কাজিরবাজার মৎস্য ও তরকারি বাজার জেলা প্রশাসনের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত একটি বাজার। আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত বাজারগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের ওপর ন্যস্ত। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য বাজারটি ইজারা দেওয়া হয় এবং পহেলা বৈশাখ থেকে ইজারাগ্রহীতার কাছে বাজারের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে বাজার পরিদর্শনকালে বাজারের একাংশ মৎস্য আড়ৎদার বাজার ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা সিসিক প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন। নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ।
তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ’বিষয়টি নিয়ে কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র এবং আইনি বিষয় যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’
তিনি ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান এবং আশ্বস্ত করেন যে, সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খাদিজা রুমি/