রাজবাড়ী সদরের চর খানখানাপুর গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগে এক তরুণ ও এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে গৃহবধূর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ (তালাক) সম্পন্ন করে ওই তরুণের সঙ্গে গৃহবধূর বিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গত শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার খানখানাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গত রবিবার বিকেলে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির উঠানে মেহগনিগাছের সঙ্গে একই রশিতে এক তরুণ ও এক গৃহবধূকে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থলে নারী-পুরুষসহ অসংখ্য উৎসুক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, বাঁধা অবস্থায় ওই তরুণ বারবার স্থানীয়দের রশি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করছেন। এক যুবকের হাত ধরে অনুরোধ করলে তিনি জানান, রশি খুললে উপস্থিত লোকজন তাকে মারধর করবেন। এ সময় কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি এগিয়ে এসে রশি খুলতে নিষেধ করেন। কেউ খুললে তাকে মারধরের হুমকি দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার নবুওছিমদ্দিন এলাকার নিলয় মোল্লার (২৪) সঙ্গে চর খানখানাপুর গ্রামের ফুপাতো ভাই আকাশের স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল। শনিবার রাত প্রায় ১২টার দিকে নিলয় ওই গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করতে গেলে আকাশ তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর আকাশ ও তার পরিবারের সদস্যরা নিলয়কে মারধর করেন। গৃহবধূসহ দুজনকে বাড়ির উঠানে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
সেখানে থাকা নবুওছিমদ্দিন এলাকার বাসিন্দা হাসেম শেখ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা রাতেই সেখানে যাই। দেখি নিলয় ও আকাশের স্ত্রীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। আকাশ জানিয়ে দেয়, সে আর এই মেয়ের সঙ্গে সংসার করবে না। পরে স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে একজন মৌলভীকে ডেকে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ সম্পন্ন করা হয়। এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে নিলয়ের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভোরের দিকে তারা একসঙ্গে চলে যান। গাছে বেঁধে রাখার ঘটনাটি আকাশ ও তার পরিবারের লোকজন করেছেন। আমরা শুধু স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি।’
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘ভিডিওটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি জানার জন্য স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে এবং তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’