টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক নারীসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। এমন একটি ভিডিও গত শুক্রবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযুক্ত মির্জাপুর উপজেলার ১ নম্বর মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নূপুর। ৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিভাষ সরকার নূপুরের হাতে একটি চিকন লাঠি। তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে আসছেন। পরে একটি মাটির স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে থাকা এক নারীকে অশালীন ভাষায় গালি দেন। ওই নারী প্রতিবাদ করলে তিনি প্রথমে গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারেন। পরে ওই নারী ও তাদের মেয়ে এগিয়ে এলে তাদেরও পেটাতে দেখা যায়।
জানা গেছে, ভিডিওটি ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়েছিল। উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের তেঘরী কেশব গ্রামের বাসন্তী রানীর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকার, স্থানীয় উপেন্দ্র মণ্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন। তার দুই মেয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে তিনি তার জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। প্রায় আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যু হলে সেখানে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তার দুই মেয়ে রত্ম সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে লিখে দেন।
বাসন্তী রানী অভিযোগ করেন, তার চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।
বাসন্তী রানী বলেন, ‘চেয়ারম্যান রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাষ সরকার নূপুর। তিনি বলেন, ‘ওই মহিলা ভালো না। বাউন্ডারির বাইরেও স্কুলের পাঁচ-ছয় ফুট জায়গা আছে। উপেন্দ্রর চলাচলের জন্য সেখানে রাস্তা করার সময় ওই মহিলা বাধা দেন। এ জন্য তাদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।’
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, ‘কে কাকে মারছে ভিডিও দেখে চেনার উপায় নেই। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’