বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের ৬ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়া সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের মাতারবাড়ী, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৫ দিনের মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
রবিবার (৫ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গতকাল সকাল থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টায় রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ১৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৮৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৪০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, মাতারবাড়ী, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগসহ ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, আসামের বরাক উপত্যাকা এবং মায়ানমারের পার্বত্য এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
কোথাও কোথাও মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর ফলে ৫ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদ-নদীর পানি আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।