চার মাসেরও বেশি সময় বিরতির পর সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের সরাসরি ফ্লাইট আবারও চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
সোমবার (৫ জুলাই) ম্যানচেস্টার থেকে ২৬৮ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইট (বিজি ২০৮) সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাত্রীদের মধ্যে ২২৭ জন সিলেটে এবং ৪১ জন ঢাকায় নামেন।
এ সময় সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির যাত্রীদের এয়ারপোর্টে ফুল দিয়ে বরণ করেন।
জানা যায়, হজ মৌসুমের কারণে ফ্লাইটসংকটের কথা বলে প্রায় চার মাস আগে এই রুটের ফ্লাইট সাময়িক স্থগিত করেছিল সরকার। রুটটি বন্ধ হওয়ার পরপরই প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়, এটি আদৌ আর চালু হবে কিনা তা নিয়ে।
সিলেটের প্রবাসীদের অধিকাংশই ম্যানচেস্টারসহ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে বসবাস করেন, তারা দেশে ও প্রবাসে দুই জায়গাতেই আন্দোলন চালিয়ে যান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বারবার স্মারকলিপি জমা দেন। তাদের মূল দাবি ছিল একটাই সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হোক।
সরকারও হজ মৌসুম শেষ হলেই এই লাভজনক রুট পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই দাবিকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও এই রুট চালু থাকা নিশ্চিত করাসহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আজকে এই ফ্লাইট এখানে এসে পৌঁছেছে। সিলেটবাসীর প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একটা আলাদা সফট কর্নার আছে, এবং আমরাও সেই সফট কর্নারের মধ্যে চলে এসেছি। প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য শুরু হওয়া এই সেবা ধারাবাহিকভাবে চালু থাকবে এবং যাত্রীসেবা আরও নিশ্চিত ও নির্ভরযোগ্য করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে।’
সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট ভবিষ্যতে আবার বন্ধ হয়ে যাবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ’আমরা কোনো আন্দোলন চাই না। আমরা চাই যে রুটটা চালু করেছি, সেটা চালুই থাকবে। আর সে ব্যাপারে আপনাদের সবার সহযোগিতাও লাগবে। আপনারা জানেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এটা চালু হয়েছে। সুতরাং এটা বন্ধ হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। আমরা ইতোমধ্যে বিমান লিজ নিচ্ছি। এয়ারক্রাফট চলে এলে এটা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা আর থাকবে না।’
তিনি আরও বলেন, ’সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট চালু ছিল একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এবং একজন উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সহযোগিতায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে।’
হিথ্রো থেকে ঢাকা ও সিলেটের ভাড়ার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য (৭০০-৮০০ পাউন্ডের বিপরীতে ১২০০ পাউন্ড) নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ’এটা আমি যখন লন্ডনে গিয়েছিলাম, তখনও শুনেছি। এটা নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা কাজ করছি। বিশেষ করে আমাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধারা যারা আছেন, তাদের একটু বেশি প্রায়োরিটি দিয়ে ভাড়া আরও কমানো যায় কিনা, সেদিকে কাজ করছি।’
সিলেট-ঢাকা রুটে টিকিটের দাম ১০-১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ’দীর্ঘদিনের একটা অব্যবস্থাপনা থেকে বের হয়ে আসতে আমাদের একটু সময় লাগবে। বিমান ভাড়া নিয়ে আমরা কাজ করছি। মধ্যবিত্তরা যাতে স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারেন, আমরা সেদিকেও কাজ করছি।’
সিলেট-কক্সবাজার রুট বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ’বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যে আলাপ হয়েছে, এটা নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। আমরা চাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব এটা চালু করার চেষ্টা করব।’
বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আরও বলেন, ’সিলেট বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প এক্সটেনশনের কাজ চলছে, আপনারা ধরে নিতে পারেন ২০২৭ সালের দিকে আমরা হয়তো এটা হাতে পেয়ে যাব। এটা আন্তর্জাতিকভাবে আরও ফোকাসড হয়ে যাবে। আমাদের লক্ষ্য এটাকে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া, কারণ এখানে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা অনেক বেশি আসতে চান। আমরা শুধু বিমান যাত্রী আনা-নেওয়াই নয়, আমরা চাই ট্যুরিজমটাও সিলেটে একটা ভালো পর্যায়ে নিয়ে যেতে। এখানে অনেক জায়গা আছে, যেটাকে ট্যুরিজম হাব হিসেবে তৈরি করা যায়। আমরা সেভাবেই কাজ করছি।’
আজহার/