শফি উল্লাহর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার আগেই নেমে এলো এক মর্মান্তিক পরিণতি। গত ২৬ জুন তার কাবিন সম্পন্ন হয়েছিল। স্বপ্ন ছিল অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নতুন সংসার শুরু করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাবরাং ইউনিয়নের পুরান পাড়া এলাকায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার শিকার হন শফি উল্লাহ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। যে বাড়িতে বিয়ের আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর শোকের মাতম। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে টেকনাফে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। নিহত শফি উল্লাহ (২৫) সাবরাং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানপাড়া এলাকার হাফেজ মুক্তার আহমদের ছেলে। তিনি মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
নিহত শফি উল্লাহর বড় ভাই হাবিব উল্লাহ জানান, চলাচলের রাস্তা নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন ছিল। বিচার শেষ হওয়ার আগেই তার চাচা মৌলবি জহির আহমদ এবং তার ছেলে ইসমাইল, ইসহাক, ইদ্রিস, ইলিয়াস ও ওসামাসহ কয়েকজন তাদের ওপর দাঁড়ালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। একপর্যায়ে শফি উল্লাহকে বেধড়ক মারধর করার সময় গুরুতর হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় এবং শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
শফি উল্লাহর পিতা হাফেজ মুক্তার আহমদ করেন, তার ছেলে শফি উল্লাহকে ইদ্রিস লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এলাকাবাসী জানান, শফি উল্লাহ শান্ত স্বভাবের একজন যুবক ছিলেন। সম্প্রতি তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা (কাবিন) সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের আগেই পরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাঁদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা দাবি করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত শফি উল্লাহর বোন তার ভাইয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তিনি সরকারের ও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এ দেশে যেন বিচার নেই। হামলাকারীরা প্রভাবশালী বলেই তারা বারবার এমন নৃশংস হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে। আমার ভাইয়ের ওপরও তারা নির্মমভাবে আঘাত করেছে। আমরা এর ন্যায়বিচার চাই।
টেকনাফ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ মিত্র জানান, শনিবার রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবরাং পুরান পাড়া এলাকার বাসিন্দা শফি উল্লাহ মারা যান। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, রবিবার সকালে ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে জানা যায় বাড়ির পাশের পথ ব্যবহার নিয়ে শফি উল্লাহর সঙ্গে তার চাচাত ভাইদের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরে শফি উল্লাহর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানতে পারি। নিহতের মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় শফি উল্লাহ নিহত হন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোঃ শাহীন/এসএন