রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বর এলাকার একটি বাসায় আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিফা বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। স্বজনদের অভিযোগ, স্বামী সোহেল শিফার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন। সেই ঘটনায় মারাত্মক দগ্ধ হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে মারা যান তিনি।
গৃহবধূ শিফার বাবা জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রায় আট মাস আগে গার্মেন্টসকর্মী সোহেলের সঙ্গে তার মেয়ে শিফার বিয়ে দেন। শিফা মিরপুর-২ এর বড়বাগ এলাকায় আমজাদ গার্মেন্টসের পাশের বাড়ির ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে থাকতেন।
জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে জামাই সোহেলসহ তার পরিবারের সদস্যরা নানা রকম অত্যাচার-নির্যাতন করতেন। গত ২৪ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে জামাই তার মেয়ে শিফার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা সেই রাত ১২টার দিকে শিফাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করান। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে শিফার দগ্ধ হওয়ার ঘটনাটি তাদেরকে জানানো হয়। এই কয়েকটা দিন মেয়ে শিফা বার্ন ইউনিটে যন্ত্রণায় ছটছট করে শেষ পর্যন্ত আজ রবিবার বিকেলে মারা গেছেন। মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ তুলে এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালে কান্না জড়িত কন্ঠে জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, ‘যৌতুকের লোভে জামাই সোহেল আমার মেয়ের শরীরে কেরাসিন ঢেলে দিয়ে আগুন দিয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় মেয়ে নিজের মুখেই এ বিষয়গুলো আমাদেরকে জানিয়েছেন।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক জানান, শিফার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকেও অবগত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে থানা পুলিশ আগে অবগত ছিল না। গৃহবধূ মারা যাওয়ার পর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ওই বাসার একটি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেটি বিশ্লেষণ করা হবে। পাশাপাশি স্বামী আগুন লাগিয়ে দেন নাকি কীভাবে তিনি অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন সে বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলমগীর হোসেন/এসএন