ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড বিশ্বে জাহাজভাঙা শিল্পে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার: পাটমন্ত্রী তানধান ডিপিটি রিনিউয়েবল ডিভিশনের সৌর ও লিথিয়াম পাওয়ার সলিউশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সূচনা বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট চলতি বছরে সুদানে অন্তত ৩৩০ শিশু হতাহত: জাতিসংঘ জুলাইয়ের প্রথম পাঁচদিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ধসের শঙ্কা: রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরতে মাইকিং নাটোরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে হিন্দু যুবক কারাগারে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৫ম শ্রেণির ছাত্রের বিষপান চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজায় শুরু হচ্ছে গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য-সহিংসতা প্রতিরোধে সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি: ডেপুটি স্পিকার পাকুন্দিয়ায় বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জনের মৃত্যু চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে নিখোঁজ কলেজ শিক্ষার্থী বাংলাদেশি সিনেমায় যুক্ত হলেন বলিউডের অনুরাগ কাশ্যপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাদকবিরোধী ভূমিকা নিয়ে নাহিদ ইসলামের সমালোচনা ব্রাজিলের বিদায়ে মেহজাবীনের উল্লাস, মন ভেঙেছে সাফার ফরিদপুরে পৌর রাজস্ব সংগ্রহে পৌরসভার সঙ্গে ইউসিবির চুক্তি শেষ বিশ্বকাপের ঘোষণা রোনালদোর! দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ঘরবাড়ি ছেড়েছেন হাজারো মানুষ সৃষ্টিকর্মে চিরকাল বেঁচে থাকবেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক জন-আকাঙ্ক্ষার বাইরে ক্ষমতায় থাকা যায় না উখিয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ প্রথম দৃষ্টিতেই ফুটে উঠুক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ব্যালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতে ফিফাকে তীব্র সমালোচনায় সেপ ব্লাটার এনআইডি-সংক্রান্ত জরুরি সেবা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসি এক মাসে ১০০ ধর্ষণ, শিশুর জন্য অনিরাপদ রাষ্ট্র! সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত সামাজিক অবক্ষয় সমাজ ও রাষ্ট্রের নীরবতা

দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সমস্যা থাকবেই। সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশ এক সময় আমাদের চেয়েও অনুন্নত ছিল। অথচ আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। সবাই একসঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করলে সেটি অবশ্যই সম্ভব।’

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘সভায় প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

একইসঙ্গে সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও গতিশীল করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া, কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে দ্রুত সমাধানযোগ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুপারিশসহ রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সমন্বয়ে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সিটি কর্পোরেশনসহ মাঠ পর্যায়ে ভেজাল বিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে এ সভা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন।

বিশেষ করে জেলাপর্যায়ে জনবল বাড়ানো, উন্নত মানের ল্যাবরেটরি স্থাপন, মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য আধুনিক সরঞ্জামসহ সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা বাড়ানোরও দাবি জানান তারা।

উপ-প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্কটের কথাগুলো অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে  শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এ জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।’

জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেকের ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দেন। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক লেকই আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব আবর্জনা সমাজের শিক্ষিত মানুষরাই ফেলছেন। যাদের সচেতন হওয়ার কথা, অনেক সময় তারাই সচেতন হন না। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদেরও সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’

সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার, বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

রিফাত/

বিশ্বে জাহাজভাঙা শিল্পে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার: পাটমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
বিশ্বে জাহাজভাঙা শিল্পে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার: পাটমন্ত্রী
শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: খবরের কাগজ

একসময় বিশ্বে জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। বর্তমানে সেই অবস্থান সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেলেও সরকার আবারও বিশ্বে এক নম্বর অবস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন, শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সোমবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সাগর উপকূলে অবস্থিত এসএন কর্পোরেশন, আরব শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং লিমিটেড, পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শনকালে ইয়ার্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন।

গ্রিন শিপইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে দুপুরে উপজেলার শীতলপুর এলাকায় অবস্থিত আবুল খায়ের গ্রুপের বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের স্টিল ইন্ডাষ্ট্রিজও পরিদর্শন করে শিল্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন।

কারখানার ব্যবস্থাপক (এইচআরএডমিন) ইমরুল কাদের ভুঁইয়া জানিয়েছেন, মাননীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পুরো কারখানা ঘুরে দেখেছেন। স্থানীয় ও ব্যবসায়ীক নানা বিষয়ে মাননীয় মন্ত্রী বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। 

গ্রিন শিপইয়ার্ড পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, শিপ ব্রেকিং শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সব প্রতিষ্ঠানকে গ্রিন লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার।

একসময় শিপ ব্রেকিং শিল্প নিয়ে পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক শোষণ ও অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের নানা অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে গ্রিন ইয়ার্ডগুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।

শিপ ব্রেকিং শিল্পের চাঁদাবাজি, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যায় পড়লে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিল্প-কারখানায় জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার ক্র্যাশ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ সংকটকে দীর্ঘদিনের, এটা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সংকট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করেছে। এসব ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাহাজ পুনর্ব্যবহার করছে। যারা এখনও গ্রিন লাইসেন্স পায়নি, তাদেরও একই মানদণ্ডে আসতে হবে। সরকার তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, জাহাজভাঙা শিল্পের সংগঠন বিএসবিআরএ নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মহসিন চৌধুরী, শওকত আলী চৌধুরী, কামাল উদ্দিন আহমেদ, লিয়াকত আলী চৌধুরী, মাস্টার আবুল কাসেম, নুর উদ্দিন রুবেল, আমজাদ হোসেন চৌধুরীসহ শীর্ষস্থায়ী শিপব্রেকার্সরা। 

মুসলেহ উদ্দীন/নাঈম

দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সমস্যা থাকবেই। সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশ এক সময় আমাদের চেয়েও অনুন্নত ছিল। অথচ আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। সবাই একসঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করলে সেটি অবশ্যই সম্ভব।’

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘সভায় প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

একইসঙ্গে সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও গতিশীল করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া, কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে দ্রুত সমাধানযোগ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুপারিশসহ রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সমন্বয়ে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সিটি কর্পোরেশনসহ মাঠ পর্যায়ে ভেজাল বিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে এ সভা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন।

বিশেষ করে জেলাপর্যায়ে জনবল বাড়ানো, উন্নত মানের ল্যাবরেটরি স্থাপন, মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য আধুনিক সরঞ্জামসহ সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা বাড়ানোরও দাবি জানান তারা।

উপ-প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্কটের কথাগুলো অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে  শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এ জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।’

জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেকের ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দেন। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক লেকই আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব আবর্জনা সমাজের শিক্ষিত মানুষরাই ফেলছেন। যাদের সচেতন হওয়ার কথা, অনেক সময় তারাই সচেতন হন না। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদেরও সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’

সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার, বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

রিফাত/

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য-সহিংসতা প্রতিরোধে সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি: ডেপুটি স্পিকার

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য-সহিংসতা প্রতিরোধে সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
ছবি: খবরের কাগজ

নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও পরিবারের সমন্বিত উদ্যোগ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সোমবার (৬ জুলাই) সংসদ ভবনে ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের পক্ষ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ ঘোষণা, নারী উন্নয়ন নীতি ও জাতীয় শিশুনীতিতে কন্যাশিশুবিষয়ক পৃথক ধারা সংযোজন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সংশোধন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠন এবং গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরা হয়।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারেই কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। ছেলে সন্তানের প্রতি সামাজিক অগ্রাধিকার এবং নারীকে অবমূল্যায়নের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন আইনগত ও নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে।

এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলে নারী ও কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এলিস/এএফ

সৃষ্টিকর্মে চিরকাল বেঁচে থাকবেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
সৃষ্টিকর্মে চিরকাল বেঁচে থাকবেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক
আবুল কাসেম ফজলুল হক। ছবি: খবরের কাগজ

আদর্শ-নিষ্ঠার সঙ্গে ৮৬ বছরের এক বর্ণাঢ্য জীবন অতিবাহিত করেলেন প্রয়াত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। এই বর্ণাঢ্য জীবনে, কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়াননি; ক্ষুরধর বক্তব্য, লেখনিতে সব দল-মতের ঊর্ধ্বে গিয়ে নিজের স্বর-জারি রেখেছিলেন, বরাবরই জাতিকে দেখিয়েছেন আলোর দিশা। এছাড়া গড়েছেন অসংখ্য গুণী মানুষও। পারাপারে পাড়ি জমালেও শিক্ষার্থী ও ভক্ত-অনুরাগীদের প্রত্যাশা, রেখে যাওয়া সৃষ্টি কর্মের মধ্যেই বেঁচে থাকবেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। 

সোমবার (৬ জুলাই) সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় শেষ বিদায় নিলেন প্রতিথযশা এই মানুষটি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফা শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে মিরপুরের শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। এর আগে বাদ ফজর মিরপুরে পল্লবীর মসজিদুল আমান মসজিদে অধ্যাপক আবুল কাসেম বজলুল হকের প্রথম নামাজ-ই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ১০টা শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কর্মস্থল বাংলা একাডেমিতে নেওয়া হয়। পরে একাডেমির নজরুল মঞ্চে তার কফিন রাখা হলে একে একে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সহকর্মী, লেখক, সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

এছাড়া অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন স্বাধীনতাকামী দেশপ্রেমিক ছিলেন। দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় তার অবদান অবিস্মরণীয়; হয়তো এমন আলোকিত পৃথিবীতে কমই আছে। তিনি মারা গেলেও তার চিন্তা-চেতনা ও আদর্শের মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন।’

অধ্যাপক ফজলুল হকের কাজ-স্মৃতি সংরক্ষণ করা হবে জানিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, ‘অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অসমাপ্ত কাজ ও স্মৃতি ধরে রাখতে যা যা করণীয় তা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় করবে।’

পরে বাংলা একাডেমিতে আবুল কাসেম ফজলুল হকের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে বেলা ১১টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানাতে মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে, সেখানে বেলা ১২টা পর্যন্ত চলে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব। জাতীয় কবিতা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই পর্বে শেষবারের মতো ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন সমাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।

শ্রদ্ধা নিবেদন এসে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যার শুধু একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছিলেন। জীবনের শুরুতে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমিও ওই ছাত্র সংগঠন করতাম। তার সঙ্গে বিশেষ স্মৃতি হলো তিনি আমাদের শিক্ষক ছিলেন। তাকে আমি দেখেছি, একজন চিন্তক মানুষ হিসেবে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত, তিনি চেয়েছিলেন একটি প্রগতির রাজনীতির উত্থান হোক, কেননা তারাই দেশকে রক্ষা করতে পারে। তাই আমি মনে করি, মস্তিষ্ক কারো কাছে বন্ধক না রেখে আজকের তরুণ প্রজন্মরা যদি স্যারকে অনুসরণ করে, একজন চিন্তাশীল মানুষ হয়, তবে সেটিই হবে স্যারের প্রতি সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।’

তার মৃত্যুর শূন্যতা পূরণ হবার না উল্লেখ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘যখন দেশ-জাতি কোন সংকটের মধ্যে পড়েছে, তখনই আবুল কাসেম ফজলুল হক তার বক্তৃতা-লেখনির মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সুচিন্তা-সুবুদ্ধি এবং সংস্কৃতি ক্ষেত্রে আমাদের যে যাত্রা, তার এই সময়ে চলে যাওয়া আমাদের জন্য বিশাল একটি ক্ষতি এবং এটি পূরণ হবার নয়।’

স্মৃতিচারণ করে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘স্যারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক প্রায় ৩৫ বছরের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) যখন আমি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, তার এক বছরের পর স্যারের স্নেহের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছিল। এই সুযোগটি হয়েছিল স্যারের ও আমার গ্রামের বাড়ি এক জায়গা হওয়ার কারণে। যখন আমি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি (উপাচার্য) হলাম, কথা ছিল তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন কিন্তু মৃত্যুর কারণে সেটি পূরণ হলো না।’

আবুল কাসেমের শিক্ষার্থী এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘শারীরিকভাবে বিদায় নিলেও তিনি একটি বর্ণাঢ্য জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি অধ্যাপনা করতেন, ক্লাসে লম্বা বক্তৃতা দিতেন। অন্যকে উদ্বুদ্ধ করতে চাইতেন এবং বুঝিয়ে ও পরিষ্কারভাবে বলার দিকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন। যারা তার লেখা ছেপেছেন, তারা হয়ত জানেন তিনি অনবরত সংশোধন করতেন এবং নতুন করে কথা যুক্ত করতেন, কেননা নিজের কথা তিনি সব সময় পরিচ্ছন্ন রাখতে চাইতেন। তিনি আসলে সত্য-সুন্দর আদর্শের ধ্যান করতেন, সেই কল্যাণকামিতাই লিখা-বলার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইতেন। আমি তার জীবনকে আমি একটি সফল জীবন বলব। তার একটা চমৎকার জীবনী প্রণয়ন হওয়া উচিত, কেননা তার জীবনী আমাদের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে।’

সাবেক অন্তর্বতী সরকারের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, ‘স্যার যখন কোন বক্তব্য দিতো, মনে হতো যেন এটি ক্লাসের লেকচার। সবসময় তিনি ইতিহাসের কনটেক্সটে কথা বলতেন। উনার এই চলে যাওয়াতে হয়ত একটি শূন্যতা অবশ্যই তৈরি হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী স্যারের সান্নিধ্যে পেয়েছে, তারা তার মতোই স্কলার হবেন; এটিই প্রত্যাশা। স্যারকে ভীষণ ভালোবাসি, আজকে তাকে বিদায় দিতে হচ্ছে।’

ভয় উপেক্ষা করে আবুল কাসেম ফজলুল কথা বলে গেছেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দীন স্টালিন বলেন, ‘তিনি কখনো ভয় পেয়ে কথা বলা বন্ধ করেননি, কোন শক্তিই তার কণ্ঠকে অবদমিত করতে পারেনি। উগ্রবাদীরা তার সন্তানকে হত্যা করার পরও তিনি দমে যাননি। তার লেখনী ও সম্পাদিত পত্রিকার মাধ্যমে তিনি অবিচলভাবে কাজ করে গেছেন।’

কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বাবার জন্য দোয়া চেয়ে প্রয়াত অধ্যাপকের মেয়ে শুচিতা শারমিন বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে আমার বাবা কাজ করতে চেয়েছিলেন। সব সময় চেষ্টা করেছেন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের যাতে ভালো হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করতে। তিনি সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই তার দেখানো সেই আদর্শের পথেই চলব। আপনারা সবাই আমার বাবার আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করবেন।’

এদিকে বেলা প্রায় ১২ শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হতে না হতে না ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়তে পরতে থাকে। এর মধ্যেই শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনে জন্য দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবুল কাশেম ফজলুল হকের মরদেহ নেওয়া হয়। বেলা ১২টা ২০ মিনিটে মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যানগাড়ি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌঁছায়। ফ্রিজার ভ্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছামাত্রই বৃষ্টির বেগ বাড়তে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে কলা ভবনের প্রধান ফটকের সামনের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে। 

শ্রদ্ধা নিবেদন এসে প্রয়াত অধ্যাপককে ফজলুল হককে শিক্ষকদের শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সুপারনিউমারি অধ্যাপক ফেরদৌস হোসাইন বলেন, ‘আবুল কাসেম হক বাংলা বিভাগের শুধু শিক্ষক না, আমাদের মতো যারা শিক্ষক রয়েছেন, তিনি সেইসব শিক্ষকদের শিক্ষক। শিক্ষকদের সেই শিক্ষক বিদায় নিলেন কিন্তু রেখে গেলেন অনেক কিছু। আমাদের উচিৎ তার রেখে যাওয়া কীর্তি সমুন্নত রাখা এবং তার আদর্শ ও চেতনা অনুসরণ করে এগিয়ে চলা।’

বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তার কর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব এবং তাকে আজীবন স্মরণ করব। তার প্রস্থান বাংলাদেশের এক প্রতিবাদী সত্তার অবসান।’

কর্মে বেঁচে থাকবেন আবুল কাসেম ফজলুল হক উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ফজলুল স্যার একজন বিদগ্ধ মানুষ ছিলেন। এমন একজন মানুষ চলে যাওয়াতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। মানুষটি চলে গেছে কিন্তু তার কর্ম তাকে বেঁচে রাখবে। তার জীবন-চিন্তা ও আদর্শ আমরা চর্চা করব যাতে করে তিনি তার কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকেন। সেই সঙ্গে তার যেসব অসমাপ্ত কাজ রয়েছে; আশা করি, বাংলা বিভাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমারা যারা আছি তারা তা সমাপ্ত করবে।’

কলা ভবনের সামনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মসজিদুল জামি’আতে মরদেহ আনা হয়। সেখানে বাদ জোহর জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। সেখানে বিকেল সাড়ে ৩টায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে রবিবার বিকালে মিরপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলা একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

আরিফ জাওয়াদ/রিফাত/

এনআইডি-সংক্রান্ত জরুরি সেবা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
এনআইডি-সংক্রান্ত জরুরি সেবা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসি
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরির জরুরি সেবা কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) থেকে পরিচালিত এনআইডি সংশোধনের জরুরি সেবা কার্যক্রমে সাময়িক পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে শুধু মহাপরিচালকের দপ্তরে ‘ঘ’ ক্যাটাগরির জরুরি সেবা কার্যক্রম ছাড়া অন্য সব ক্যাটাগরির সংশোধন মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।

সোমবার (৬ জুলাই) ইসির এনআইডি শাখার পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক আদেশে আরও জানানো হয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

আদেশে বলা হয়, মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন ছাড়া নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনে ‘ক-১’, ‘ক’, ‘খ-১’, ‘খ’, ‘গ-১’ ও ‘গ’ ক্যাটাগরির এনআইডি সংশোধন-সংক্রান্ত জরুরি সেবা কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া যেসব আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর হার্ডকপি আর গ্রহণ করা হবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ক-১’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তি করবেন সংশ্লিষ্ট সহকারী থানা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ‘ক’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকবেন থানা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

অন্যদিকে ‘খ-১’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তি করবেন অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ‘খ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তি করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। ‘গ-১’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ‘গ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তি করবেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। 

এর আগে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ‘ক-১’, ‘ক’, ‘খ-১’ ও ‘খ’ ক্যাটাগরির এনআইডি সংশোধনের আবেদন জরুরি ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হতো। নতুন নির্দেশনার ফলে এসব আবেদন এখন সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।

এলিস/রিফাত/