ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পাহাড়ধসের শঙ্কা: রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরতে মাইকিং নাটোরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে হিন্দু যুবক কারাগারে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৫ম শ্রেণির ছাত্রের বিষপান চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজায় শুরু হচ্ছে গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য-সহিংসতা প্রতিরোধে সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি: ডেপুটি স্পিকার পাকুন্দিয়ায় বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জনের মৃত্যু চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে নিখোঁজ কলেজ শিক্ষার্থী বাংলাদেশি সিনেমায় যুক্ত হলেন বলিউডের অনুরাগ কাশ্যপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাদকবিরোধী ভূমিকা নিয়ে নাহিদ ইসলামের সমালোচনা ব্রাজিলের বিদায়ে মেহজাবীনের উল্লাস, মন ভেঙেছে সাফার ফরিদপুরে পৌর রাজস্ব সংগ্রহে পৌরসভার সঙ্গে ইউসিবির চুক্তি শেষ বিশ্বকাপের ঘোষণা রোনালদোর! দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ঘরবাড়ি ছেড়েছেন হাজারো মানুষ সৃষ্টিকর্মে চিরকাল বেঁচে থাকবেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক জন-আকাঙ্ক্ষার বাইরে ক্ষমতায় থাকা যায় না উখিয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ প্রথম দৃষ্টিতেই ফুটে উঠুক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ব্যালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতে ফিফাকে তীব্র সমালোচনায় সেপ ব্লাটার এনআইডি-সংক্রান্ত জরুরি সেবা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসি এক মাসে ১০০ ধর্ষণ, শিশুর জন্য অনিরাপদ রাষ্ট্র! সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত সামাজিক অবক্ষয় সমাজ ও রাষ্ট্রের নীরবতা সোনারগাঁয় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির উদ্বোধন ফিফার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ উয়েফা টপ টেনে নেই ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির হালান্ড মাশরাফি-রুবেলকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড নাহিদ রানার গৌরীপুরে ১০ দিনে ৩ খুন: জনমনে আতঙ্ক অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি চলছে: ইসি মাছউদ King Lear and Three Daughters বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৯ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র

দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ঘরবাড়ি ছেড়েছেন হাজারো মানুষ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ঘরবাড়ি ছেড়েছেন হাজারো মানুষ
দাবানলের আগুনের ধোঁয়া। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হাজারো মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দাবানলের ভয়াবহতা আগের চেয়েও বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বিখ্যাত ট্যুর দ্য ফ্রান্স সাইকেল প্রতিযোগিতার একটি ধাপে দর্শক প্রবেশও নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স ও গ্রিসে কয়েক শত দমকলকর্মী দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। এসব আগুনে ১৯ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি পুড়ে গেছে। এর আয়তন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের দ্বিগুণেরও বেশি।

এরই মধ্যে আবারও তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। সম্প্রতি রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের ধাক্কা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি এই অঞ্চল।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পেরপিনিয়াঁ শহরের কাছে দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ‘বিশাল’ দাবানল নিয়ন্ত্রণে ৭০০ দমকলকর্মী এবং বিশেষায়িত বিমান কাজ করছে। এ ঘটনায় ১০ হাজারের বেশি স্থানীয় বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রবল বাতাস, তীব্র গরম এবং অস্বাভাবিক শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে রবিবার ভোরের পর থেকে আগুনের বিস্তার প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এতে ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আহত হয়েছেন একজন দমকলকর্মী ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা।

নিজের পদবি প্রকাশে অনিচ্ছুক ত্রেভিয়াখ গ্রামের ৫৩ বছর বয়সী বাসিন্দা পাত্রিস বলেন, ‘আগুন বাড়িঘর থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে চলে আসে। এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়বে, তা কল্পনাও করিনি। পরিস্থিতি আতঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।’

৩০ বছর বয়সী শার্লট পিনিওল বলেন, রবিবার ভোরে যাদের প্রথমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তিনি তাদের একজন।

তিনি বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধোঁয়া দেখতে পাই। এরপর ধীরে ধীরে তা আমাদের আরও কাছে চলে আসে। রাত ১টার দিকে সিটি হলের একজন এসে দরজায় কড়া নেড়ে আমাদের চলে যেতে বলেন।’

গত জুনের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পরপরই এই দাবানল দেখা দিল। এটি ছিল ইউরোপের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ তাপপ্রবাহ। এতে অতিরিক্ত কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিজ্ঞানীদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন জানায়, জলবায়ু পরিবর্তন না হলে এমন তাপপ্রবাহ ‘প্রায় অসম্ভব’ ছিল।

আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ বলছে, এ বছরের গ্রীষ্মকালীন দাবানলের মৌসুম স্বাভাবিক সময়ের এক মাস আগেই শুরু হয়েছে।

ফরাসি ফায়ার সার্ভিসের কর্নেল এরিক বেলজিওইনো বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাস্তবতা। আমরা এর পরিণতি ভোগ করছি। অথচ জুলাই মাসের শুরুই মাত্র।’

পিরেনিজ পর্বতমালার কাছে দাবানল এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই করা সদস্যদের জন্য মৌসুমটি দীর্ঘ হবে। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন।’

এদিকে, ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার পিরেনিজ অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ট্যুর দ্য ফ্রান্স সাইকেল প্রতিযোগিতার তৃতীয় ধাপ দর্শক ছাড়া আয়োজন করা হবে।

প্রতিযোগিতার এ ধাপে সাইক্লিস্টরা সোমবার স্পেন থেকে ফ্রান্সে প্রবেশ করবেন। আঞ্চলিক প্রিফেক্ট পিয়ের রেনো দ্য লা মোথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফ্রান্সের অংশে শুধু প্রতিযোগী সাইক্লিস্ট এবং প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন চলাচল করবে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে রেসের পথ কিংবা গন্তব্যস্থলের কাছে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। অর্থাৎ, দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, অন্তত ফ্রান্সের অংশে এবার ট্যুর দ্য ফ্রান্স দর্শকশূন্যভাবেই অনুষ্ঠিত হবে।’

অপরদিকে, গ্রিসে সপ্তাহের শেষে উত্তরাঞ্চলীয় থেসালোনিকিতে বনাঞ্চলের আগুন ছড়িয়ে পড়ে দু’টি কারখানায়। এতে আশপাশের এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বাসিন্দাদের জানালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোস্তা ব্রাভা উপকূলের কাছে লাগা আগুন দুই দিনে ২ হাজার ২০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। দমকল বাহিনী জানায়, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আগুনের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা স্থানের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কঠিন হবে।

পর্তুগালে জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, দেশটির উত্তরাঞ্চলে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর বন ও ঝোপঝাড় ধ্বংস করা দাবানলের প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।

এ ছাড়া ক্রোয়েশিয়ার হভার দ্বীপ ও আলবেনিয়ার তালে এলাকায় বড় ধরণের দাবানলে কয়েক শত হেক্টর বন, আঙুরখেত ও ঝোপঝাড় পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পর্তুগাল, স্পেন ও দক্ষিণ ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েক দিনের জন্য তাপপ্রবাহ সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানান, সোমবার শুরু হওয়া নতুন তাপপ্রবাহ উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়বে এবং আগামী সপ্তাহের শেষ দিক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ঘরবাড়ি ছেড়েছেন হাজারো মানুষ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ঘরবাড়ি ছেড়েছেন হাজারো মানুষ
দাবানলের আগুনের ধোঁয়া। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হাজারো মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দাবানলের ভয়াবহতা আগের চেয়েও বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বিখ্যাত ট্যুর দ্য ফ্রান্স সাইকেল প্রতিযোগিতার একটি ধাপে দর্শক প্রবেশও নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স ও গ্রিসে কয়েক শত দমকলকর্মী দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। এসব আগুনে ১৯ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি পুড়ে গেছে। এর আয়তন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের দ্বিগুণেরও বেশি।

এরই মধ্যে আবারও তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। সম্প্রতি রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের ধাক্কা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি এই অঞ্চল।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পেরপিনিয়াঁ শহরের কাছে দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ‘বিশাল’ দাবানল নিয়ন্ত্রণে ৭০০ দমকলকর্মী এবং বিশেষায়িত বিমান কাজ করছে। এ ঘটনায় ১০ হাজারের বেশি স্থানীয় বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রবল বাতাস, তীব্র গরম এবং অস্বাভাবিক শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে রবিবার ভোরের পর থেকে আগুনের বিস্তার প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এতে ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আহত হয়েছেন একজন দমকলকর্মী ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা।

নিজের পদবি প্রকাশে অনিচ্ছুক ত্রেভিয়াখ গ্রামের ৫৩ বছর বয়সী বাসিন্দা পাত্রিস বলেন, ‘আগুন বাড়িঘর থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে চলে আসে। এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়বে, তা কল্পনাও করিনি। পরিস্থিতি আতঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।’

৩০ বছর বয়সী শার্লট পিনিওল বলেন, রবিবার ভোরে যাদের প্রথমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তিনি তাদের একজন।

তিনি বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধোঁয়া দেখতে পাই। এরপর ধীরে ধীরে তা আমাদের আরও কাছে চলে আসে। রাত ১টার দিকে সিটি হলের একজন এসে দরজায় কড়া নেড়ে আমাদের চলে যেতে বলেন।’

গত জুনের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পরপরই এই দাবানল দেখা দিল। এটি ছিল ইউরোপের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ তাপপ্রবাহ। এতে অতিরিক্ত কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিজ্ঞানীদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন জানায়, জলবায়ু পরিবর্তন না হলে এমন তাপপ্রবাহ ‘প্রায় অসম্ভব’ ছিল।

আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ বলছে, এ বছরের গ্রীষ্মকালীন দাবানলের মৌসুম স্বাভাবিক সময়ের এক মাস আগেই শুরু হয়েছে।

ফরাসি ফায়ার সার্ভিসের কর্নেল এরিক বেলজিওইনো বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাস্তবতা। আমরা এর পরিণতি ভোগ করছি। অথচ জুলাই মাসের শুরুই মাত্র।’

পিরেনিজ পর্বতমালার কাছে দাবানল এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই করা সদস্যদের জন্য মৌসুমটি দীর্ঘ হবে। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন।’

এদিকে, ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার পিরেনিজ অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ট্যুর দ্য ফ্রান্স সাইকেল প্রতিযোগিতার তৃতীয় ধাপ দর্শক ছাড়া আয়োজন করা হবে।

প্রতিযোগিতার এ ধাপে সাইক্লিস্টরা সোমবার স্পেন থেকে ফ্রান্সে প্রবেশ করবেন। আঞ্চলিক প্রিফেক্ট পিয়ের রেনো দ্য লা মোথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফ্রান্সের অংশে শুধু প্রতিযোগী সাইক্লিস্ট এবং প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন চলাচল করবে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে রেসের পথ কিংবা গন্তব্যস্থলের কাছে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। অর্থাৎ, দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, অন্তত ফ্রান্সের অংশে এবার ট্যুর দ্য ফ্রান্স দর্শকশূন্যভাবেই অনুষ্ঠিত হবে।’

অপরদিকে, গ্রিসে সপ্তাহের শেষে উত্তরাঞ্চলীয় থেসালোনিকিতে বনাঞ্চলের আগুন ছড়িয়ে পড়ে দু’টি কারখানায়। এতে আশপাশের এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বাসিন্দাদের জানালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোস্তা ব্রাভা উপকূলের কাছে লাগা আগুন দুই দিনে ২ হাজার ২০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। দমকল বাহিনী জানায়, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আগুনের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা স্থানের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কঠিন হবে।

পর্তুগালে জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, দেশটির উত্তরাঞ্চলে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর বন ও ঝোপঝাড় ধ্বংস করা দাবানলের প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।

এ ছাড়া ক্রোয়েশিয়ার হভার দ্বীপ ও আলবেনিয়ার তালে এলাকায় বড় ধরণের দাবানলে কয়েক শত হেক্টর বন, আঙুরখেত ও ঝোপঝাড় পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পর্তুগাল, স্পেন ও দক্ষিণ ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েক দিনের জন্য তাপপ্রবাহ সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানান, সোমবার শুরু হওয়া নতুন তাপপ্রবাহ উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়বে এবং আগামী সপ্তাহের শেষ দিক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৪

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও  ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৪
ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করার ধারাবাহিকতায়, সোমবার (৬ জুলাই) ভোর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় চারজন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি বাহিনী চলন্ত যানবাহন ও ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সবশেষ ঘটনায়, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, খান ইউনিসের উত্তরে আল-মাতাহিন মোড়ের কাছে দ্বিতীয় আরেকটি গাড়ি লক্ষ্য করেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা চালায়, তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে ভোরে, গাজা সিটির দক্ষিণে তেল আল-হাওয়া এলাকায় দগমশ পরিবারের একটি বাড়িতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা চালায়। এতে এক ফিলিস্তিনি ও তার স্ত্রী নিহত হন এবং আরও ছয়জন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পর ওই বাড়িতে আগুন ধরে যায়, যা পরবর্তীতে সিভিল ডিফেন্স টিম এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়ন্ত্রণে আনেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত ইসরায়েল কর্তৃক এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার আহত হয়েছেন।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েল ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে আহত করেছে। এর পাশাপাশি গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি

তামান্না রুপা/

শ্রীলঙ্কায় কারাগারে সংঘর্ষে নিহত ২৫, আহত শতাধিক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
শ্রীলঙ্কায় কারাগারে সংঘর্ষে নিহত ২৫, আহত শতাধিক
ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার কারাগারে দ্বিতীয় দিনের মতো চলা সংঘর্ষে বন্দি ও কারারক্ষীসহ অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) নেগোম্বো কারাগারে দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের গুলি চালায় বলে জানাচ্ছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'আদা দেরানা' জানায়, নিহতদের মধ্যে ৫ জন কারা কর্মকর্তা এবং ২০ জন বন্দি।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, এই সংঘর্ষে প্রায় ১০০ জনের মতো মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

দ্বীপরাষ্ট্রটির পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত নেগোম্বো কারাগারে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর বন্দি ও কারা কর্মকর্তাদের মধ্যকার এই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার সেখানে সেনা মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে নিউজ ওয়ার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বন্দি ও কারা কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বিরোধের জের ধরে এই উত্তেজনার সূত্রপাত। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত রবিবার হাজতি এবং সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই দিনের সংঘর্ষে ২ বন্দি নিহত এবং ৩৮ জন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কারাগারটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে ২ হাজার ৪১৭ জন বন্দি থাকা এই কারাগারের সংঘর্ষের মূল কারণ উদঘাটনে কারা কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র: আনাদোলু  অ্যাজেন্সি

তামান্না রুপা/

প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন
ছবি: বাসস

চীন প্রশান্ত মহাসাগরে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষামূলক নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

পাপুয়া নিউ গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নিউজিল্যান্ড সরকারের একটি সূত্র এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে।

পাপুয়া নিউ গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাস্টিন টকাচেঙ্কো এএফপিকে জানান, চীন এ বিষয়ে আমাকে অবহিত করেছে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, চীন আমাকে জানিয়েছে। চীনা রাষ্ট্রদূত নিজে আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন।’

নিউজিল্যান্ড সরকারের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, চীন তাদের আসন্ন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছে।

আজহার/

ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সফরের আগে কিয়েভে রুশ হামলা, নিহত ৯

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ পিএম
ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সফরের আগে কিয়েভে রুশ হামলা, নিহত ৯
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনের প্রাক্কালে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ রুশ হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া।

এ হামলায় আবাসিক ভবনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব বহুতল ভবনের বাসিন্দারা আটকা পড়েছেন। শহরের রাস্তায় গাড়ি জ্বলতে দেখা গেছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, এ হামলায় পোডিলস্কি জেলার একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে উদ্ধারকারীরা বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়াও শহরজুড়ে বিমান হামলায় সাইরেন বেজে ওঠলে বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, ‘মস্কো একটি নতুন ব্যাপক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া তুরস্ক সম্মেলনের প্রেক্ষাপট হবে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ।

তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানায়, আঙ্কারায় অবস্থানরত ট্রাম্প গত রবিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় ৯০ মিনিটের এক টেলিফোন আলাপে আবারও যুদ্ধ শেষ করতে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শনিবার জেলেনস্কির সঙ্গেও কথা বলেছেন।

এ হামলাটি গত বৃহস্পতিবার কিয়েভে রাশিয়ার এক ভয়াবহ হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার কয়েকদিন পর চালানো হলো, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ মারাত্মক হামলা।

থিওটোনিয়াস/