বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন ব্যালোগানকে খেলানোর অনুমতি দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পরও বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করায় ফিফার এই সিদ্ধান্তকে ‘অবোধ্য এবং অসমর্থনযোগ্য’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
রবিবার (৫ জুলাই) এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে ব্যালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাকে আগামী এক বছরের জন্য পর্যবেক্ষণে (প্রবেশন) রাখে ফিফা। প্রচলিত শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পর ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এক বিবৃতিতে উয়েফা অভিযোগ করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়ে ফিফা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করে ফিফা মূলত ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করেছে।
উয়েফা আরও বলেছে, ‘কখনও কখনও নিয়মের ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই ঘটনায় সেই সুযোগ নেই। যখন নিয়মের রক্ষকেরাই নিয়মের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হন, তখন খেলার সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়।’
ফিফার এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সাবেক বিশ্বকাপ তারকা ও কোচরাও। ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর নরওয়ের কোচ স্টেল সলবাকেন বলেন, ‘এটি অত্যন্ত বাজে একটি সিদ্ধান্ত। এর ফলে বিশ্বকাপের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
বর্তমান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে উয়েফার সম্পর্ক অতীতেও একাধিকবার উত্তপ্ত হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উয়েফার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে নেওয়া সর্বশেষ সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে উয়েফা বলেছে, ‘এমন নজিরবিহীন, অবোধ্য এবং অসমর্থনযোগ্য সিদ্ধান্তে আমরা গভীর বিস্ময় প্রকাশ করছি।’
এদিকে, ব্যালোগানকে খেলানোর অনুমতির বিরুদ্ধে জরুরি আপিল করতে সিয়াটেলে ফিফা-নিযুক্ত আপিল বিচারকের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন।
পাপ্পু/রিফাত/