নাম আর্লিং হালান্ড। কিন্তু জার্সির পেছনে শুধু ‘হালান্ড’ বা ‘আর্লিং হালান্ড’ লেখা নেই। এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার খেলছেন ‘ব্রাউট হালান্ড’ নাম নিয়ে। তার মা গ্রি মারিতা ব্রাউটের পারিবারিক নাম ‘ব্রাউট’ এবং বাবা আল্ফ-ইঙ্গে হালান্ডের নাম থেকে নেওয়া ‘হালান্ড’- এই দুই অভিভাবকের উপাধিই তিনি জার্সিতে ব্যবহার করছেন।
নরওয়ের সংস্কৃতিতে মা ও বাবার পারিবারিক নাম একসঙ্গে ব্যবহারের চল রয়েছে। অনেক নরওয়েজিয়ান ফুটবলারও জার্সিতে দুই পরিবারের পরিচয় বহন করেন। হালান্ডও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তার সবচেয়ে কাছের দুই মানুষের নাম সঙ্গে নিয়েই মাঠে নামছেন।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে হালান্ডের জোড়া গোলে ২–০ ব্যবধানে জিতেছে নরওয়ে। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকা ম্যাচে শেষ ১১ মিনিটে দুই গোল করে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ করে দেন ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই ফরোয়ার্ড।
প্রথম গোলটি তিনি করেন হেডে। ব্রাজিলের দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে লাফিয়ে বল জালে পাঠান হালান্ড। দ্বিতীয় গোলটি আসে বাঁ পায়ের নিচু শটে। সামনে একাধিক ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষক থাকা সত্ত্বেও তার শট জালে জড়িয়ে যায়।
ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেন, ‘যদি এক-দুটো সুযোগ পাই, তার মধ্যেই গোল করে ফেলি। আমি জানি না কীভাবে করি, কিন্তু হয়ে যায়।’
জোড়া গোলের পরও তার উদ্যাপন ছিল সংযত। ম্যাচ শেষে অবশ্য সতীর্থ ও সমর্থকদের সঙ্গে নরওয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ উদ্যাপনে অংশ নেন তিনি।
নরওয়ের জন্য এবারের বিশ্বকাপ বিশেষ। ২৮ বছর পর দলটি আবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে এবং প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠেছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আট ম্যাচে ১৬ গোল করা হালান্ড মূল পর্বেও সেই ফর্ম ধরে রেখেছেন।
ক্লাব ফুটবলে ইতিমধ্যেই নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ২০২৩ সালে প্রিমিয়ার লিগে ৩৬ গোল করে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন তিনি। একই মৌসুমে দলটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগও জেতেন এই নরওয়েজিয়ান তারকা।
বিশ্বকাপের স্বপ্নপূরণের মঞ্চে তাই হালান্ডের জার্সিতে ‘ব্রাউট হালান্ড’ নামটি শুধু পরিচয়ের অংশ নয়, তাঁর পরিবারকেও সঙ্গে নিয়ে পথচলার প্রতীক।
অমিয়/