ইতিহাসের পাতায় মাঝে মাঝেই এমন কিছু ক্ষণ আসে, যা একটি জাতির আত্মপরিচয়কে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে। মানুষ যখন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়, তখন ক্ষমতার সমস্ত সমীকরণ বদলে যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব থেকে ইতিহাসের বাস্তবতায় এই সত্য বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, একটি স্বাধীন দেশের ক্ষমতার মূল মালিক আপামর জনসাধারণ। গত চব্বিশের ৫ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্ববাসীকে আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে যে, গণ-আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বড় কোনো শক্তি রাষ্ট্রে হতে পারে না। জনগণের সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া কোনো শাসনব্যবস্থাই চিরস্থায়ী বা প্রশ্নাতীত হতে পারে না।
কোনো দেশের জনগণকে আড়ালে রেখে বা তাদের মৌলিক অধিকার ও মতামতকে উপেক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদি শাসন পরিচালনা করা অসম্ভব। একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্রে জনগণের ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ব। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সার্থক হয়, যখন তা প্রতিটি নাগরিকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে মেগা প্রজেক্টের জৌলুসও ফিকে হয়ে যায়। জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই সরকারের প্রতি জনআস্থার জন্ম হয়, যা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর। চব্বিশের ঐতিহাসিক শিক্ষা আমাদের এই বার্তাই দেয় যে, ক্ষমতার অহংকার বা জনবিচ্ছিন্নতা কোনো শুভ ফল বয়ে আনে না। টেকসই দেশ গঠনে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং তাদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।
ওসমান গনি
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[email protected]