ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
তানধান ডিপিটি রিনিউয়েবল ডিভিশনের সৌর ও লিথিয়াম পাওয়ার সলিউশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সূচনা বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট চলতি বছরে সুদানে অন্তত ৩৩০ শিশু হতাহত: জাতিসংঘ জুলাইয়ের প্রথম পাঁচদিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ধসের শঙ্কা: রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরতে মাইকিং নাটোরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে হিন্দু যুবক কারাগারে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৫ম শ্রেণির ছাত্রের বিষপান চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজায় শুরু হচ্ছে গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য-সহিংসতা প্রতিরোধে সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি: ডেপুটি স্পিকার পাকুন্দিয়ায় বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জনের মৃত্যু চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে নিখোঁজ কলেজ শিক্ষার্থী বাংলাদেশি সিনেমায় যুক্ত হলেন বলিউডের অনুরাগ কাশ্যপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাদকবিরোধী ভূমিকা নিয়ে নাহিদ ইসলামের সমালোচনা ব্রাজিলের বিদায়ে মেহজাবীনের উল্লাস, মন ভেঙেছে সাফার ফরিদপুরে পৌর রাজস্ব সংগ্রহে পৌরসভার সঙ্গে ইউসিবির চুক্তি শেষ বিশ্বকাপের ঘোষণা রোনালদোর! দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ঘরবাড়ি ছেড়েছেন হাজারো মানুষ সৃষ্টিকর্মে চিরকাল বেঁচে থাকবেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক জন-আকাঙ্ক্ষার বাইরে ক্ষমতায় থাকা যায় না উখিয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ প্রথম দৃষ্টিতেই ফুটে উঠুক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ব্যালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতে ফিফাকে তীব্র সমালোচনায় সেপ ব্লাটার এনআইডি-সংক্রান্ত জরুরি সেবা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসি এক মাসে ১০০ ধর্ষণ, শিশুর জন্য অনিরাপদ রাষ্ট্র! সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত সামাজিক অবক্ষয় সমাজ ও রাষ্ট্রের নীরবতা সোনারগাঁয় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির উদ্বোধন ফিফার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ উয়েফা

জন-আকাঙ্ক্ষার বাইরে ক্ষমতায় থাকা যায় না

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
জন-আকাঙ্ক্ষার বাইরে ক্ষমতায় থাকা যায় না

ইতিহাসের পাতায় মাঝে মাঝেই এমন কিছু ক্ষণ আসে, যা একটি জাতির আত্মপরিচয়কে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে। মানুষ যখন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়, তখন ক্ষমতার সমস্ত সমীকরণ বদলে যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব থেকে ইতিহাসের বাস্তবতায় এই সত্য বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, একটি স্বাধীন দেশের ক্ষমতার মূল মালিক আপামর জনসাধারণ। গত চব্বিশের ৫ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্ববাসীকে আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে যে, গণ-আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বড় কোনো শক্তি রাষ্ট্রে হতে পারে না। জনগণের সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া কোনো শাসনব্যবস্থাই চিরস্থায়ী বা প্রশ্নাতীত হতে পারে না।

কোনো দেশের জনগণকে আড়ালে রেখে বা তাদের মৌলিক অধিকার ও মতামতকে উপেক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদি শাসন পরিচালনা করা অসম্ভব। একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্রে জনগণের ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ব। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সার্থক হয়, যখন তা প্রতিটি নাগরিকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে মেগা প্রজেক্টের জৌলুসও ফিকে হয়ে যায়। জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই সরকারের প্রতি জনআস্থার জন্ম হয়, যা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর। চব্বিশের ঐতিহাসিক শিক্ষা আমাদের এই বার্তাই দেয় যে, ক্ষমতার অহংকার বা জনবিচ্ছিন্নতা কোনো শুভ ফল বয়ে আনে না। টেকসই দেশ গঠনে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং তাদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।

ওসমান গনি 
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[email protected]

প্রথম দৃষ্টিতেই ফুটে উঠুক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
প্রথম দৃষ্টিতেই ফুটে উঠুক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তার প্রথম পরিচয় বহন করে তার প্রধান ফটক। একজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা অতিথি ক্যাম্পাসে প্রবেশের আগেই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে প্রথম ধারণা পান এই প্রবেশদ্বার দেখেই। তাই প্রধান ফটক শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, রুচিবোধ ও মর্যাদার প্রতীক। দুঃখজনক হলেও সত্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও এর আশপাশের পরিবেশ বর্তমানে সেই পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিভিন্ন সময়ের স্লোগান, রং ও দেয়াললিখনের কারণে ফটকটির স্বাভাবিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়েছে। আন্দোলন ও প্রতিবাদের ইতিহাস অবশ্যই সংরক্ষণ করা উচিত, তবে তার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারকে দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রাখা একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির সঙ্গে মানানসই নয়। শুধু ফটক নয়, এর আশপাশের এলাকাও আরও পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন করা জরুরি। সবুজায়ন, উন্নত আলোকসজ্জা, নিয়মিত পরিচর্যা ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে এ স্থানকে আরও আকর্ষণীয় করা সম্ভব। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার, যাতে ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া কেউ ফটক বা আশপাশের সৌন্দর্য নষ্ট করতে না পারে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই প্রধান ফটক ও এর আশপাশের পরিবেশকে আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও নান্দনিক করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

মোসা. সাদিয়া আক্তার 
শিক্ষার্থী, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
[email protected]

সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি বন্ধ করুন

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি বন্ধ করুন

দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সড়ক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দেশের সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে তৎপর থাকা জরুরি। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় সড়ক সংস্কারের কাজ কিছু সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু চলমান। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, কিছু কিছু সড়ক সংস্কার করা হয়েছে কেবল কাদামাটি দিয়ে লেপন করার মতো। চার-ছয় ইঞ্চির স্থলে দুই ইঞ্চি ঢালাই এবং এক দিন না যেতেই উঠে পড়ছে ঢালাইয়ের স্তর। অপরদিকে ১০ ইঞ্চির স্থলে পাঁচ ইঞ্চি এবং পাঁচ ইঞ্চির স্থলে দেড় থেকে দুই  ইঞ্চি সুতা রডের ব্যবহার একটি শীর্ষ পর্যায়ের দুর্নীতি। অনেক ক্ষেত্রে বাঁশের ব্যবহারও পরিলক্ষিত। দেখা যায় যে, বাজেটের এক অংশও কাজ সম্পন্ন হয় না। অতএব, সরকার কর্তৃক বাজেটের প্রতিটি খাত যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক সংস্কারে সব দুর্নীতি দমনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

আবদুর রশিদ
শিক্ষক, উত্তর সাতকানিয়া দারুল আরকাম একাডেমি, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
[email protected]

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই

গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় সংঘটিত মা ও তিন মেয়ে সায়মা আক্তার, ইকরা আক্তার এবং শিফা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনা পুরো দেশকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একটি নিরীহ পরিবারের চার সদস্যকে নিজ বাসায় নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবিকতা ও সভ্যতার প্রতি এক ভয়াবহ আঘাত। প্রাথমিকভাবে অন্তর মজুমদার নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য সামনে এলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পেছনের রহস্য এখনো পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হওয়ায় তদন্ত আরও জটিল হয়ে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে–এটি কি এককভাবে সংঘটিত অপরাধ, নাকি এর পেছনে আরও কেউ জড়িত? কী কারণে একটি পরিবারের চারজন নিরপরাধ সদস্যকে এত নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হলো। এর উত্তর দেশবাসী জানতে চায়।

এ অবস্থায় নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পেশাদার তদন্তের কোনো বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। তদন্তে যদি অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাকেও দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য, গুজব বা অপপ্রচার ছড়িয়ে তদন্তকে প্রভাবিত না করার বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমান সময়ে অনেক ঘটনাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষণস্থায়ী আলোচনার ভিড়ে হারিয়ে যায়। কিন্তু রায়পুরের এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড যেন সেই পরিণতির শিকার না হয়। আমরা চাই, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হোক, অপরাধীরা আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পাক এবং নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার লাভ করুক। এটাই আজ দেশবাসীর প্রত্যাশা।

তানহা খানম
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 
[email protected]

সন্তানের কর্মসংস্থান চাই

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
সন্তানের কর্মসংস্থান চাই

চারপাশের কত শত আয়োজন, উৎসব আর প্রাপ্তির ভিড়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। দুনিয়ার হিসাবনিকাশ বা ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার বড় কোনো উচ্চাশাও নেই। আমার কাছে এই জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া আর পূর্ণতা খুব সাধারণ ও নির্দিষ্ট। যেদিন আমার বিবিএ এবং এমবিএ পাস করা সন্তান নিজের যোগ্যতায় একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, সেদিনই হবে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। যেদিন সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে, সেদিনই আমি অনুভব করব বাবা হিসেবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্বটি আমি সফলভাবে পালন করতে পেরেছি।

সন্তানকে তিলে তিলে বড় করা, তার পড়াশোনার পেছনে জীবনের সেরা সময় ও উপার্জন ব্যয় করার সার্থকতা কেবল তার একটি সুন্দর ভবিষ্যতের মাঝেই নিহিত। তাই বাইরের হাজারো কোলাহল আর সাফল্য আমাকে স্পর্শ করে না; আমার সব অপেক্ষা কেবল সেই বিশেষ দিনটির জন্য–যেদিন আমার সন্তানের মুখে হাসি ফুটবে এবং সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ারের পথে পা রাখবে।

লিয়াকত হোসেন খোকন 
রূপনগর, ঢাকা
[email protected]

মোহসিন মিয়ার পুলিশ সংস্কার প্রস্তাব

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
মোহসিন মিয়ার পুলিশ সংস্কার প্রস্তাব

কিছুদিন আগে খবরের কাগজের ডাকঘর বিভাগে মোহসিন মিয়া নামে এক ভদ্রলোকের একটি চিঠি ছাপা হয়েছে, যা অনেক চিঠির মধ্যে অনন্য কিরণে উদ্ভাসিত। চিঠিতে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন নিয়ে লেখকের যুক্তি পরম দেশপ্রেম, নীতিনিষ্ঠা, দরিদ্র দেশের গণসম্পদ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মিতব্যয়িতা, দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার আদর্শ সাহসের সঙ্গে প্রস্ফুটিত হয়েছে। যেকোনো সরকারি বিভাগেই দুর্নীতির চর্চা অপ্রতিরোধ্য বলে স্বীকার করা হয়। বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীলরাও বলছেন, ‘দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে, বিষদাঁত উপড়ে ফেলা হবে, পরিচয় যাই হোক কোনো দুর্নীতিবাজকে কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না’ ইত্যাদি। পুলিশ বিভাগ যেহেতু এ বিষয়ের সঙ্গে তথা দুর্নীতি দমনে ওতপ্রোতভাবে সংশ্লিষ্ট, তাই তাদের দায়িত্ববোধ আরও উঁচু করার কাজটি সম্পাদন করা, তাদের পোশাক পরিবর্তন করার চেয়ে অধিকতর জরুরি। সরকারপ্রধান দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই বলেছেন, ‘পুলিশকে জনগণের আরও কাছে যেতে হবে এবং আস্থা অর্জন করতে হবে’। চমৎকার কথা। তার মানে দূরত্ব রয়েছে, আস্থারও ফাঁক আছে। কাজেই কোনো ঠিকাদারের মুনাফা বৃদ্ধি করার চেয়ে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে পুলিশের আচরণের সংস্কৃতির আরও উন্নতিসাধনের লক্ষ্যই যেন সরকারের কাছে গুরুত্ব পায়। কোনো গ্রেপ্তার, আটক, জব্দ, তদন্ত, সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও চার্জশিট চূড়ান্ত করার কাজে পুলিশকর্তা সন্দেভাজনের শরীরে হাত দিতে পারবেন না। এ কাজগুলো করার সময় পুলিশ তাদের সঙ্গে জেলা কমিশনার কর্তৃক বরাদ্দ করা ফৌজদারি সরকারি উকিল/ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন নেবে। পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ/ মামলা পুলিশ তদন্ত করতে পারবে না, তা আইন/ ম্যাজিস্ট্রেসি বিভাগ কর্তৃক করাতে হবে। পুলিশের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন সম্পাদন করবেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। দেশের অতি বিশিষ্ট বাতিঘর শিক্ষক আন্দোলনের সময় একটি ছবি দেখে বলেছিলেন, ‘পুলিশ শিক্ষককে লাঠিচার্জ করছে আর সেই শিক্ষক পুলিশ কনস্টেবলকে স্যার সম্বোধন করে বলছেন, মারবেন না’। কাজেই এগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার, পোশাক পরিবর্তনের দিকে নয়। বরং স্বরাষ্ট্র সচিব এটা নিশ্চিত করুন যে, থানায় থানায় পুলিশ সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে আইনানুগ আচরণ করছে। 

মাসুদ আহমেদ
সাবেক সিনিয়র সচিব ও প্রজাতন্ত্রের সাবেক কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল
[email protected]