ময়মনসিংহের নান্দাইলে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় সালিশে নিষ্পত্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে ধর্ষণের দায় স্বীকার করার পর তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং কয়েকটি চড়থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রবিবার (৫ জুলাই) ঘটনাটি জানাজানি হয়। এর আগে গত শনিবার সকালে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের কুরাটি বাজারে এই সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুরাটি গ্রামের নিরু মোদকের ছেলে লিটন মোদক (৪০) গত বৃহস্পতিবার পাশের বাড়ির এক কিশোরীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে কিশোরী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালেও সামাজিক লজ্জার ভয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হননি। স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার চাইলে শনিবার কুরাটি বাজারে সালিশের আয়োজন করা হয়। বাজারের খোলা স্থানে চেয়ার বসিয়ে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। অভিযুক্ত লিটন মোদককে হাত বাঁধা অবস্থায় সেখানে আনা হয়। অন্যদিকে নির্যাতনের শিকার কিশোরী পাশের একটি বাড়িতে অবস্থান করছিল।
সালিশ চলাকালে মোবাইল ফোনের লাউডস্পিকারে কিশোরীর বক্তব্য শোনানো হয়। পরে অভিযুক্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান বলে উপস্থিত কয়েকজন জানান। এরপর সেখানে থাকা কয়েকজন অভিযুক্তকে লাথি, কিল-ঘুষি ও চড়থাপ্পড় মারেন। পরে সালিশকারীরা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেন। শারীরিকভাবে সামান্য শাস্তি দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি ঘোষণা করেন।
সালিশে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম খান রিপন জানান, তিনি কিছু সময় সেখানে ছিলেন। অভিযুক্ত ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। তবে সালিশের পুরো কার্যক্রমে তিনি ছিলেন না। সালিশকারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সালিশে যেতে চাইছিলাম না। এলাকার চাপে যেতে হয়েছে। অকপটে সব স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে কিছু শাস্তি দিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ আরেক সালিশকারী মন্টু খাঁ বলেন, ‘উপস্থিত ছিলাম, চড়থাপ্পড় দিয়ে মীমাংসা করে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা আইনত অবৈধ। ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’