বান্দরবানের থানচিতে টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর উজানে পানি বেড়ে যাওয়ায় তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য মৌখিক সতর্কতা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃষ্টিতে ওই এলাকায় দেড় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে সাঙ্গু নদীসহ আশপাশের ছোট ছোট পাহাড়ি ছড়াগুলোতে পানির প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমে পর্যটকদের ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে, তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন জানান, তিন্দুর বড় পাথর এলাকায় পর্যটকবাহী একটি নৌকা তীব্র স্রোতে ডুবে যায়। তবে নৌকার মাঝি আগে থেকেই পর্যটকদের নিরাপদে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ বলেন, সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় দেড় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। এর মধ্যে শুধু নাফাখুম এলাকাতেই সোমবার প্রায় ৭০ জন পর্যটক অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সভাপতিও রয়েছেন। বৃষ্টি কমে নদীর পানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফিরে আসা সম্ভব হবে না।
তবে পর্যটক আটকা পড়ার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।
তিনি বলেন, ‘অতিবৃষ্টিতে ছোট ছোট খাল এবং সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম ভ্রমণের বিষয়ে মৌখিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের এসব এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’
রিজভী রাহাত/অমিয়/