ঢাকার ধামরাইয়ে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সুতিপাড়া, সোমভাগ ও সানোড়াসহ তিন ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কালামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, ‘ধামরাই পৌর শহরের গ্যাস সরবরাহ থাকলেও কালামপুর, গোয়ালদী, বাটুলিয়াসহ ১০ গ্রামে দীর্ঘদিন যাবৎ গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। গ্যাস সরবরাহ না পেলেও নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে। যদি বিল পরিশোধ না করা হয় তাহলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবে। কিন্তু আমরা রান্নার কাজে কোনো গ্যাসই পাই না।’
এ সময় তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘ডাউটিয়া এলাকায় প্রতীক সিরামিক ও কালামপুর এলাকার করিম টেক্সটাইল নামে দুইটি কারখানায় অবৈধভাবে অতিরিক্ত বুস্টার সংযোগ দিয়ে গ্যাস টেনে নিয়ে যাওয়ায় সকাল-বিকেল কোনো সময় গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি না। এ বিষয়ে বার বার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।’
গ্রাহকদের দাবি, আবাসিক লাইনে যে পর্যন্ত পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হবে ততদিন পর্যন্ত তাদের গ্যাস বিল মওকুফ করতে হবে। সেই সঙ্গে গ্যাসের ব্যবহারভিত্তিক বিল আদায়ের জন্য আবাসিক সংযোগে গ্যাসের মিটার স্থাপনেরও দাবি জানান তারা।
মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধনের বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে আসেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্যেশ্যে বলেন, এ বিষয় নিয়ে গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এমন আশ্বাসে বেলা ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
আগামীতে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ না পেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অচল করে দেওয়ার কথাও জানান আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে ধামরাই তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, কালামপুরের পরে কাওয়ালীপাড়া এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছে না গ্রাহকরা।
রুহুল আমিন/খাদিজা রুমি/