লক্ষ্মীপুরে ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মামলা প্রত্যাহার না করায় মো. মহসিন (৬০) নামে এক মামলার বাদীকে অপহরণ করে হত্যার চেষ্টা করেছে মামলার আসামিরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের মো. মহসিনকে তার ছেলেকে অপহরণ মামলার আসামি একই ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলম, মনি রাসেলসহ কয়েকজন অপহরণ করে লক্ষ্মীপুর স্টেডিয়ামে আটকে রাখে।
মহসিন তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার না করায় তাকে মারধর করে এক পর্যায়ে হত্যার চেষ্টা চালায় সন্ত্রাসীরা। তার চিৎকারে স্টেডিয়ামের কর্মচারীরা ছুটে আসেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যান।
পরে পুলিশ তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হামলায় মহসিনের একটি পা ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
লক্ষ্মীপুর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হাসান জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মো. মহসিনের ছেলে ইকবাল হোসেন রবিবার (৫ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে তার বাবা ও পরিবারের উপর সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলার বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, ২০২৪ সালে তিনি নিজ বাড়িতে একটি পাকা ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করলে স্থানীয় সন্ত্রাসী আজাদ,মনির, জাহাঙ্গীর, রাসেলসহ কয়েকজন তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা ইকবালকে অপহরণ করে পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দুই লাখ টাকা দিলেও ইকবালকে তারা মুক্তি দেননি। পরবর্তীতে সুধারাম থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে ইকবালের বাবা মো. মহসিন সুধারাম থানায় একটি মামলা করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
এরপর থেকে মামলার আসামিরা মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য তাদেরকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন। গত ঈদুল আজহার পরের দিন মামলার আসামি রাফি, জুয়েল,নাসিমসহ কয়েকজন ইকবালের ছোট ভাই শাকিলকে বাড়ি থেকে অপহরণের চেষ্টা করেন। এ ব্যাপারে ইকবালের বাবা মো. মহসিন বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় আরও একটি মামলা করেন।
এতে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তারা মহসিনকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিতে থাকেন। কিন্তু তিনি মামলা প্রত্যাহার না করায় আসামিরা তাকে অপহরণ করে হত্যার চেষ্টা করেন।
মামলার আসামি আজাদ জানান, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি স্টেডিয়ামে মহসিনকে উদ্ধার করতে গিয়েছেন। মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি ও অপহরণের ঘটনা সত্য নয়।
রফিকুল ইসলাম/অদিতি/