ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টাঙ্গাইলে নারীকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বরিশালে কথিত যুবদল নেতা গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রে সুপার টাইফুনে নিহত ৫ কূটনৈতিক টানাপড়েনে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয়ে ভাটা স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বোমা ফাটালেন রোনালদো বরগুনায় সংরক্ষিত বন দখল ও গাছ কাটার অভিযোগে ৫ জন কারাগারে ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৫০ নারী-পুরুষ নান্দাইলে ধর্ষণের বিচার চড়থাপ্পড় ও জরিমানায় হালান্ডের জোড়া গোলে বিদায় ব্রাজিল, মধ্যরাতে উল্লাস মৌলভীবাজারে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র পাবনায় পিস্তল-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৭ স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারমূলক ভাষণ ২৩ বছর ধরে আমাকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে: রোনালদো কৃষিকে আধুনিকায়নে ঝিনাইদহে ৯০ কৃষকের হাতে উঠল স্প্রে মেশিন দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা করতে হাইকোর্টে রিট জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন আইরিন খান ট্রাম্পের ফোনে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ফিফা, বিশ্বকাপে তোলপাড় ৩ বছর পর বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে মুখোমুখি ৬ বিভাগে ভারী বৃষ্টি, ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা ইস্টার্ন ব্যাংকের আলী রেজার দুর্নীতি: তথ্যের অপেক্ষায় অনুসন্ধান স্থবির আ.লীগের বিচার হবে কি না, তদন্ত চলছে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ শিশু বলাৎকার ও যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ শূলের মঞ্চে দুই রাকাত নামাজ লুঙ্গি পরা যুবকের ‘প্যান্টের পকেটে’ মিলেছে গাঁজা! কোয়ার্টার ফাইনালে কার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড? কালো লেডিবার্ড বিটল ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান, ইরানে ক্ষোভের আগুন এনসিটি পরিচালনার ভার পাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ড!

ইস্টার্ন ব্যাংকের আলী রেজার দুর্নীতি: তথ্যের অপেক্ষায় অনুসন্ধান স্থবির

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ এএম
ইস্টার্ন ব্যাংকের আলী রেজার দুর্নীতি: তথ্যের অপেক্ষায় অনুসন্ধান স্থবির
ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) সাবেক এমডি ও সিইও আলী রেজা ইফতেখার

অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) সাবেক এমডি ও সিইও আলী রেজা ইফতেখারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান থেমে আছে। গত বছর শুরু হওয়া অনুসন্ধানের স্বার্থে তথ্য চেয়ে ইবিএল কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েক দফা চিঠি দেয় দুদক। প্রতিবারই সময় চেয়ে পাল্টা চিঠি দেন ইবিএলের কর্মকর্তারা। সর্বশেষ ১০ কর্মদিবস সময় বেঁধে গত মাসে চূড়ান্ত নোটিশ দেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

এই নোটিশে বলা হয়, তথ্য পাওয়া না গেলে দায়ী ইবিএলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চিঠিতেও কাজ হয়নি। অবশ্য পরে ইবিএল কর্মকর্তারা অতি সামান্য কিছু তথ্য সরবরাহ করেন। বাকি তথ্যের জন্য আবারও তিন মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেন। ফলে সেসব তথ্যের অপেক্ষায় থেমে আছে অনসুন্ধান।

ঋণজালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফতের বিরুদ্ধে গত বছর ১৩ এপ্রিল মামলা করে দুদক। সেই মামলার তদন্তের একপর্যায়ে আলী রেজা ইফতেখারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। সেসব তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধেও আলাদা অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে। তিনি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আলী রেজা ইফতেখারের বিষয়ে ৬ রকমের নথিপত্র চেয়ে ইবিএলের কাছে একটি চিঠি পাঠান। কর্তৃপক্ষ সময় চাইলে তা মঞ্জুর করা হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে ফের ৩ মে ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে ইস্টার্ন ব্যাংকে থাকা আলী রেজা ইফতেখারের ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপি, মোবাইল ও টেলিফোন নম্বরসহ বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বেতন-ভাতার সমুদয় হিসাববিবরণী, তার নামে পরিচালিত সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য (চালু ও বন্ধ) এবং এ যাবৎ তাকে দেওয়া অবসরকালীন সুবিধাসহ সব আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র চাওয়া হয়।

নথি সরবরাহের জন্য ইস্টার্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ১৭ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে ইস্টার্ন ব্যাংক নথি সরবরাহে ব্যর্থ হয়। এরপর আরও ১০ কর্মদিবস সময় চেয়ে দুদকে আবেদন করে ইস্টার্ন ব্যাংক। সার্বিক বিবেচনায় ৭ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন দুদকের কর্মকর্তা। সে অনুসারে গত ৩ জুনের মধ্যে সব নথি দুদকে দাখিল করার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেও নথিপত্র সরবরাহ করা হয়নি। উপরন্তু আরও ৩ মাস সময় চেয়ে ৪ জুন আবেদন করেন ইবিএলের ডিএমডি মাহমুদুন নবী চৌধুরী ও হেড অব এএমএলডি মো. শাহজাহান আলী।

এই আবেদনে ক্ষুব্ধ দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ৮ জুন ইবিএলের এমডিকে কড়া ভাষায় নোটিশ দেন। নোটিশে ১৮ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব নথি সরবরাহের চূড়ান্ত বার্তা দেওয়া হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ১৯(৩) ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়।

চূড়ান্ত বার্তার পর অতি সামান্য তথ্য সরবরাহ করে ইবিএল কর্তৃপক্ষ। বাকি তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় অনুসন্ধানকাজ আপাতত থেমে আছে।

এদিকে তথ্য সরবরাহে টালবাহানার পরিপ্রেক্ষিতে ইবিএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ১৯(৩) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন দুদক কর্মকর্তারা। এ জন্য কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। কমিশন না থাকায় এখনই সেই ব্যবস্থাও নিতে পারছেন না দুদক কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, আলী রেজা ইফতেখার ২০০৪ সালে ইবিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৬ সালে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। ২০০৭ সালে তিনি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিযুক্ত হন। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল তিনি অবসরে যান। বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি কোনো ব্যাংকেই কোনো এমডি এত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। দীর্ঘ সময়ে অন্তত ৫ বার তাকে এমডি পদে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়। 

আলী রেজা ইফতেখার ২০১২ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ‘সিইও অব দ্য ইয়ার ২০১২’ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০২০-২১ এবং ২০১৪-১৫ মেয়াদে দেশের ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

কূটনৈতিক টানাপড়েনে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয়ে ভাটা

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ এএম
কূটনৈতিক টানাপড়েনে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয়ে ভাটা
ছবি: সংগৃহীত

সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয় বেড়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯ টাকা। এ ছাড়া অনিয়মিত পণ্য আমদানির কারণে রাজস্ব আয়ও কমেছে। মূলত, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েনের জেরে বাংলাদেশ থেকে উচ্চ চাহিদসম্পন্ন বেশ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার, যার প্রভাব পড়ে আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে। ফলে সামগ্রিকভাবে বন্দরের রপ্তানি আয় আশানুরূপ বাড়েনি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলছে। আমদানির চেয়ে রপ্তানি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় রপ্তানিমুখী বন্দর হিসেবে বিবেচিত হয় আখাউড়া স্থলবন্দর। প্রতিদিন হিমায়িত মাছ, রড, সিমেন্ট, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়। যদিও বন্দরের সূচনালগ্নে রপ্তানি পণ্যের তালিকা দীর্ঘ ছিল। বর্তমানে রপ্তানি হওয়া পণ্যের প্রায় অর্ধেকই হিমায়িত মাছ। রপ্তানিকৃত পণ্য ত্রিপুরার আগরতলা স্থলবন্দর হয়ে সরবরাহ করা হয় দেশটির উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে।

তবে ব্যবসায়ীদের অনীহায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো পণ্যই আমদানি হয়নি। এ কারণে রাজস্ব আয় কমে গেছে। পণ্য আমদানি অনিয়মিত হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে, তার অধিকাংশই ত্রিপুরার বাইরের রাজ্য থেকে আনতে হয়। যার ফলে আমদানি খরচ মিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা করা যায় না।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ৫২৪ কোটি ২ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৮ টাকার পণ্য। রপ্তানি পণ্যের তালিকায় ছিল হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুঁটকি, আটা-ময়দা, ভোজ্যতেলসহ কয়েকটি পণ্য। আর বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯ টাকার পণ্য।

অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থছরে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকার চাল, আগরবাতি ও জিরা। এ থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ টাকা। আর বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৯ টাকার জিরা, ডাল ও কাজু বাদাম। ওই অর্থবছরে আমদানি পণ্য থেকে রাজস্ব আসে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৯ টাকা।

মূলত, ২০২৫ সালের ১৭ মে স্থলবন্দরগুলো দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। ফলে আখাউড়া স্থলবন্দরে পণ্য রপ্তানি কমেছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ভারতের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফলের স্বাদযুক্ত জুস, পিভিসিসামগ্রী এবং তুলার মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য রপ্তানি করতে না পারায় বন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মূলত, হিমায়িত মাছের পর সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হতো প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজত খাবার ও পিভিসিসামগ্রী।

বন্দরের আরেক ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন জানান, পণ্য আমদানি বাড়াতে হলে স্থানীয় বাজারে যখন যে পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে, সেই পণ্য আমদানির অনুমতি দিতে হবে। অন্যথায় পণ্য আমদানি বাড়া বা নিয়মিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ দিনের পর দিন লোকসান দিয়ে কেউ পণ্য আমদানি করবেন না।

আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে যে টানাপড়েন ছিল, তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। তবে আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। কিন্তু সেটি না করায় এবার আমাদের রপ্তানি আয় আশানুরূপভাবে বাড়েনি। আমাদের দাবি থাকবে, দুই দেশের সরকার আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নিষেধাজ্ঞাটি প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করবে।’

এ বিষয়ে আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাদরুল হাসান চৌধুরী জানান, পণ্য আমদানি অনিয়মিত হওয়ার কারণে রাজস্ব আয় কিছুটা কমেছে। তবে আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদর সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে শুল্ক কর্তৃপক্ষ। আর ব্যবসায়ীদের সব পণ্য আমদানির অনুমতি দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। 

জুলাইয়ের প্রথম ৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫ কোটি ডলার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
জুলাইয়ের প্রথম ৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫ কোটি ডলার
ছবি: সংগৃহীত

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ৪ দিনে দেশে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। 

রবিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫১ কোটি ৫১ লাখ ডলার।

বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার।

রিফাত/

বেনাপোল বন্দরে রাজস্বে বড় ধাক্কা, ঘাটতি ৪৭৩১ কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
বেনাপোল বন্দরে রাজস্বে বড় ধাক্কা, ঘাটতি ৪৭৩১ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধস নেমেছে। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার অনেক কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি ও শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তন রাজস্ব কমার অন্যতম কারণ।

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। কিন্তু বছর শেষে আদায় হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ কম। একই সময়ে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন।

আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ হাজার ২৯ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল এবং আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন এবং রাজস্ব কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা।

বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি কমে যাওয়া সরাসরি রাজস্ব আদায়ে প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, আমদানি নীতির পরিবর্তন ও কিছু পণ্যে শুল্কহার সমন্বয়ের কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ধীরগতি এসেছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্বে আদায়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া বন্দরের একটি অসাধু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের পণ্য খালাস করছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান বলেন, উচ্চ শুল্কযোগ্য পণ্যের আমদানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিল্পের কাঁচামাল, ইলেকট্রনিকস পণ্য, যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল আমদানি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এসব পণ্য থেকেই সরকারের শুল্ক ও ভ্যাট আয়ের বড় অংশ আসে। ফলে এসব পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে সরাসরি ও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন বলেন, ‘আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৫৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হতো, এখন তা কমে ২৫০ থেকে ৩০০টিতে নেমেছে। একইভাবে রপ্তানি ট্রাকের সংখ্যা ৩০০ থেকে ১৫০টিতে নেমে এসেছে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের ডিরেক্টর শামীম হোসেন জানান, ওজন স্কেলে কারচুপি এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, ‘সরকারের এক টাকার রাজস্বও যাতে ফাঁকি না যায়, সেদিকে কাস্টমস সর্বোচ্চ সতর্ক। ওজন স্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

ইসলামী ব্যাংক: ছুটি থেকে এসে জানতে পারেন চাকরি নেই

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
ইসলামী ব্যাংক: ছুটি থেকে এসে জানতে পারেন চাকরি নেই
ছবি: সংগৃহীত

অফিস থেকে ছুটি নিয়ে কেউ ছিলেন ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে। আর কেউ ছিলেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। কেউ ছিলেন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালের বিছানায়। কোনো কিছুতেই মন গলেনি ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই ঢালাওভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। 

ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. আবদুল মুমিন খবরের কাগজকে জানান, তিনি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যান। দেশের বাইরে যাওয়ার পর হঠাৎ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২৩ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার নোটিশ জারি করে। সবাইকে ২৭ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি সে সময় দেশে না থাকায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তিনি ওমরাহ পালন শেষে আসেন ৫ অক্টোবর এবং পরদিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর ফের কর্মস্থলে যোগ দেন। কিন্তু কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে ৯ অক্টোবর চাকরিচ্যুত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অথচ কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, যারা পরীক্ষায় বসবেন এবং পাস করবেন তাদের চাকরি থাকবে। তবে কর্তৃপক্ষ তাকে পরীক্ষায় বসার সুযোগটুকুও দেয়নি। 

রুমা আকতার নামে ইসলামী ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা খবরের কাগজকে জানান, তিনি মাইজদী শাখায় কর্মকর্তা পদে ২০১৯ সালে যোগ দেন।  চাকরিচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। গত বছরের ৫ অক্টোবর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অথচ তার আগে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন। তার ছুটি অনুমোদন হয় ২৩ সেপ্টেম্বর। ছুটি থেকে এসে তিনি জানতে পারেন তার চাকরি নেই। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ ৯টা মাস আমার চাকরিটা নেই। অথচ ছুটিতে যাওয়ার আগে অনাগত সন্তান নিয়ে কত কিছুই না ভেবেছিলাম। তার জন্য কত কিছু করব। অথচ আমার বাচ্চা পৃথিবীতে আসার পর আমার চাকরি গেল। এখন বাচ্চার অতীব জরুরি চাহিদাগুলোও মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমার চাকরি ফেরত চাই। আমি কারও কাছে করুণা চাই না। 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আমার প্রশ্ন–কেন আমাকে চাকরিচ্যুত করা হলো? একজন কর্মকর্তা হিসেবে আজ আমি পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। আমার বাচ্চার খরচ চালাতে পারছি না। আমরা কি অবৈধ–এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়োগপত্র দিয়েছে বলেই তো যোগ দিতে পেরেছি। সুনামের সঙ্গে কাজ করেছি। এখন আমার সংসার কে চালাবে? আমি আমার ন্যায্য অধিকার ফেরত চাই। 

আরেক ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল জব্বার খবরের কাগজকে বলেন, তিনি ২০১৯ সালে ইসলামী ব্যাংকে যোগ দেন। সব ঠিকঠাক চলছিল। অফিসে সুনামের সঙ্গে কাজ করছিলেন। ২৪ সালের ২৪ নভেম্বর অফিসে যাওয়ার সময় তিনি মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হন। সেই গাড়িতে তার স্ত্রীও ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী দুইজনই গুরুতর আহত হন। ওই দুর্ঘটনায় তাদের গাড়িতে থাকা এক আত্মীয় মারা যান। তার দুই পা ভেঙে যায়। মাথা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম হয়। এখনো তিনি এবং তার স্ত্রী ক্রাচে ভর দেওয়া ছাড়া হাঁটতে পারেন না। এরই মধ্যে তার কাছে চিঠি এসেছে চাকরিচ্যুতির। এর চেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাদের দুজনের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে তারা একপ্রকার নিঃস্ব এখন। বর্তমানে তার নিজের চিকিৎসা চালানোর সক্ষমতাও নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গু হয়ে ঘরে বসে আছেন। চাকরিটাও চলে গেল। অন্য কোনো খাত থেকে উপার্জন নেই। মানবিক বিবেচনাটুকুও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ করেনি। অথচ তারা সবকিছু জানে। জেনেশুনে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত তারা বাস্তবায়ন করেছে। 

চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্ল্যাটফর্ম চিটাগাং অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোক্তার রশিদ খবরের কাগজকে বলেন, অসুস্থতা, ওমরাহ পালনসহ নানা কারণে অফিস থেকে ছুটি নেওয়া আরও অনেকেই আছেন, যারা জানতেন না তাদের চাকরি চলে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের অনেককে ছুটি থেকে এসে চাকরিতে যোগদানের সুযোগও দেয়নি। কেউ কেউ যোগদানের কয়েকদিনের মধ্যে চাকরি হারিয়েছেন। যা অমানবিক।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ
কার্গো জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জুন মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির কারণে এ সাফল্য এসেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি থেকে আয় করেছে ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের একই মাসে এ আয় ছিল ৩৩৪ কোটি মার্কিন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।

তবে সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) পুরো সময়জুড়ে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ বার্ষিক হিসাবে রপ্তানি আয় সামান্য কমেছে।

ইপিবির ভাষ্য, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে চাহিদা কম থাকার পরও আগের অর্থবছরের কাছাকাছি রপ্তানি আয় ধরে রাখা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা ও অভিযোজন ক্ষমতার প্রমাণ।

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক খাত জুন মাসে ৩৩৯ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের জুনে এ খাতের আয় ছিল ২৭৯ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ।

অন্যান্য খাতের মধ্যে জুন মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। পুরো অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি আয় হয়েছে ১২৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি জুনে বেড়েছে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থবছরজুড়ে এ খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

হোম টেক্সটাইল খাতে জুনে রপ্তানি বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং পুরো অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি জুনে বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং অর্থবছরে ২১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষিপণ্যের রপ্তানিও জুন মাসে ৪৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশভিত্তিক বাজারের মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৯০৫ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হিসেবে যথাক্রমে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। জুন মাসে বাংলাদেশের শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবি আশা করছে, রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে এবং তা দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নাঈম/