ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
হালান্ডের জোড়া গোলে বিদায় ব্রাজিল, মধ্যরাতে উল্লাস মৌলভীবাজারে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারমূলক ভাষণ ২৩ বছর ধরে আমাকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে: রোনালদো কৃষিকে আধুনিকায়নে ঝিনাইদহে ৯০ কৃষকের হাতে উঠল স্প্রে মেশিন দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা করতে হাইকোর্টে রিট জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন আইরিন খান ট্রাম্পের ফোনে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ফিফা, বিশ্বকাপে তোলপাড় ৩ বছর পর বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে মুখোমুখি ৬ বিভাগে ভারী বৃষ্টি, ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা ইস্টার্ন ব্যাংকের আলী রেজার দুর্নীতি: তথ্যের অপেক্ষায় অনুসন্ধান স্থবির আ.লীগের বিচার হবে কি না, তদন্ত চলছে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ শিশু বলাৎকার ও যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ শূলের মঞ্চে দুই রাকাত লুঙ্গি পরা যুবকের ‘প্যান্টের পকেটে’ মিলেছে গাঁজা! কোয়ার্টার ফাইনালে কার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড? কালো লেডিবার্ড বিটল ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান, ইরানে ক্ষোভের আগুন এনসিটি পরিচালনার ভার পাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ড! মেক্সিকোর বিপক্ষে নাটকীয় জয় ১০ জনের ইংল্যান্ডের এনবিআরের অদক্ষতায় নিষ্পত্তি হচ্ছে না রাজস্ব মামলা! মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচ ড্র হলে ভবিষ্যৎ কী? স্পেন-পর্তুগালের ডু অর ডাই কর্ণফুলী টানেল: নিয়ম ভেঙে লুটপাটের মহোৎসব ফিফা বিশ্বকাপে কতজন ইংলিশ খেলোয়াড় হ্যাটট্রিক করেছেন? ৬ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সিলেটে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৩ স্কুলছাত্র নিহত এখনো নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় ট্রাম্পের আক্ষেপ ৬ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল

‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান, ইরানে ক্ষোভের আগুন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান, ইরানে ক্ষোভের আগুন
প্রতিশোধের দাবিতে ফেটে পড়া জনতা 'আমেরিকার ধ্বংস চাই' এবং 'ইসরায়েলের ধ্বংস চাই' বলে স্লোগান দিতে থাকে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পরলোকগত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে তেহরান।

 তেহরানের ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রান্তরজুড়ে সমবেত লাখো মানুষের মুখে প্রতিধ্বনিত হয়েছে 'ট্রাম্পকে হত্যা করো' স্লোগান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনেই এবং তার পরিবারের চার সদস্য। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ চার মাস বিলম্বের পর অবশেষে ইরানে সপ্তাহব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়েছে।  

প্রতিশোধের লাল পতাকা ও স্লোগান

জানাজার নামাজের আগে থেকে শুরু করে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে এক আবেগঘন রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়। সমবেত জনতার হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা এবং প্রতিশোধের প্রতীক 'লাল পতাকা'। সেই সঙ্গে খামেনির ছবি ও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর গুপ্তহত্যার ডাক দেওয়া পোস্টার-গ্রাফিতিতে ছেয়ে যায় চারপাশ।  

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তথা প্রখ্যাত ইরানি কবি মোহাম্মদ রাসুলি লাউডস্পিকারে জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, 'আমরা আপনার রক্তের কসম খেয়ে বলছি, ট্রাম্পের হত্যা এখন আমাদের দায়িত্ব। পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষটি কেন এখনও বেঁচে থাকবে? ট্রাম্পের জন্য পৃথিবী আর নিরাপদ জায়গা নয়।' তার এই বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে পুরো মাঠ একযোগে স্লোগান দিতে শুরু করে। 

মুদি দোকানে কর্মরত ২৯ বছর বয়সী গোলামরেজা সাবুনি নামের এক ইরানি যুবক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আমি এখানে এসেছি ক্ষোভ প্রকাশ করতে এবং প্রতিশোধের দাবি তুলতে। তারা আমাদের ইমামকে হত্যা করেছে, আমাদেরও উচিত তাদের নেতা ট্রাম্পকে হত্যা করা।' সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’-এর নাম পরিবর্তন করে আবার ‘প্যাসিফিক কমান্ড’ করেছে। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’-এর নাম পরিবর্তন করে আবার ‘প্যাসিফিক কমান্ড’ করেছে। পেন্টাগনের দাবি, এটি কেবল আগের নামেই ফিরে যাওয়া। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিবর্তন কেবল নামের নয়; বরং এটি ওয়াশিংটনের বৃহত্তর কৌশলগত অগ্রাধিকারেরও একটি বার্তা।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কমান্ডটির নামের সঙ্গে ‘ইন্দো’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বোঝাতে চেয়েছিল, চীন তার প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ভারত হচ্ছে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অংশীদার। তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেছিলেন, নাম পরিবর্তনটি ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সংযোগের স্বীকৃতি।
ভারতের সংসদ সদস্য শশী থারুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, ‘কোয়াডের কফিনে আরেকটি পেরেক?’

দক্ষিণ এশিয়ায় বদলাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি
যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে এমন একটি যুগ থেকে বেরিয়ে আসছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মাধ্যমে আঞ্চলিক নীতি পরিচালনার প্রবণতা ছিল। পাকিস্তানকে নিরাপত্তা-সংকট, বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং নেপালকে ভারতের নিরাপত্তাবলয়ের অংশ হিসেবেই দেখা হতো। ছোট দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র বলা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই ভারতের প্রভাববলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক জোরদার করছে। এসব দেশকে সক্ষমতা ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্বাধীন অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্নায়ুযুদ্ধের ধাঁচের জোট রাজনীতি নয়। বরং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে এমন অংশীদারত্ব গড়ে তোলা, যেখানে পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা করা হবে, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী চীন, রাশিয়া, ভারত বা অন্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব হবে।

ভারতের ভূমিকা নিয়ে নতুন হিসাব

ভারতের কিছু কৌশলবিশারদ মনে করছেন, এ পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিকভাবে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারে। ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে ভারতের অগ্রগতি ভবিষ্যতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারে। চীনের উত্থানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ওয়াশিংটন ভারতের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে না।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে

পাকিস্তানকে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক এখন নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পাকিস্তানকে উপসাগরীয় পুঁজি, মার্কিন প্রযুক্তি এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনীতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

তামা, স্বর্ণসহ বিপুল খনিজ সম্পদ পাকিস্তানকে চীনের সরবরাহব্যবস্থার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১৯ শতাংশ শুল্কহার এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার মতো কূটনৈতিক সুবিধা পেয়েছে।

অন্যদিকে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের তীরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এটি উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও অস্থিতিশীল মায়ানমারের কাছাকাছি হওয়ায় ওয়াশিংটনের আগ্রহ বাড়ছে।

বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়াতে পারে, একই সঙ্গে চীনের কাছ থেকে সরঞ্জাম কেনা এবং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যও চালিয়ে যেতে পারে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মায়ানমারে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা নিলে ঢাকায় তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

নতুন বাস্তবতায় দক্ষিণ এশিয়া

অতীতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। চীনের ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র অনেক সময় অংশীদারত্ব ও নির্ভরতার সীমারেখা মুছে ফেলেছিল।

‘প্যাসিফিক কমান্ড’ নাম পুনর্বহাল সেই যুগের সমাপ্তি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। বরং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এখন আরও বাস্তববাদী ও স্বার্থভিত্তিক হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়া এখন এমন এক ভূ-রাজনৈতিক পরিসরে পরিণত হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি দেশ নিজ নিজ স্বার্থে ভিন্ন ভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। পাকিস্তান নিরাপত্তা ও খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করছে, একই সঙ্গে চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখছে। বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ালেও অন্য অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে।

‘ইন্দো’ শব্দটি বাদ দেওয়ার মাধ্যমে পেন্টাগন কেবল এমন একটি বাস্তবতাকেই স্বীকৃতি দিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে দৃশ্যমান। এখন এই অঞ্চলকে এখন একাধিক স্বাধীন শক্তির সমন্বয়ে গঠিত বহুমাত্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিসর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারমূলক ভাষণ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ এএম
স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারমূলক ভাষণ
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত শনিবার ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে নির্বাচনি সমাবেশের আদলে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ৪০ মিনিটের এ ভাষণে তিনি দেশপ্রেমের আহ্বানের পাশাপাশি নতুন ভোটার নিবন্ধনে বিধিনিষেধ, ‘কমিউনিজমের হুমকি’ এবং নিজ প্রশাসনের বিভিন্ন সাফল্যের দাবি তুলে ধরেন। 

ঝড়ের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ডাকযোগে ভোট সীমিত করা এবং ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার আইন দ্রুত পাস করা উচিত। 

তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসন ইরানের সামরিক শক্তিকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে। ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজয়, চাঁদে মানুষের অবতরণ, রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রথম উড্ডয়ন এবং দেশটির গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রশংসা করেন। 

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজমের বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তার মতে, ‘এটি ক্যানসারের মতো, শুরুতেই কেটে ফেলতে হবে।’ যদিও তিনি সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের নাম উল্লেখ করেননি, অতীতে বামপন্থি ডেমোক্র্যাট নেতাদের ‘কমিউনিস্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। 

২০১৯ সালের পর আবারও স্বাধীনতা দিবসে ন্যাশনাল মলে ভাষণ দিলেন ট্রাম্প। ১৯৫১ সালের পর এ ধরনের আয়োজন খুবই বিরল। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সঙ্গে লড়াই করে দর্শনার্থীরা অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। এই রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের কারণে এলাকার বেশ কয়েকটি প্যারেড ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় একপর্যায়ে সবাইকে কাছাকাছি জাদুঘর ও সরকারি ভবনে আশ্রয় নিতে বলা হয়। 

ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, তিনি ‘খুব দীর্ঘ’ ভাষণ দেবেন। শেষ পর্যন্ত তার বক্তব্য ৪০ মিনিটেরও কম স্থায়ী হয়। এদিন শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট’-এর সদস্যরাও ওয়াশিংটনে মিছিল করেন। যদিও পুলিশ কোনো সহিংস ঘটনার খবর পায়নি। 

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ফ্রিডম ২৫০’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল মলে আয়োজন করা হয়েছে ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’। সেখানে নাগরদোলাসহ নানা বিনোদনমূলক রাইডের পাশাপাশি রক্ষণশীল সংগঠন ও প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের স্টলও স্থান পেয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এই আয়োজনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, উদ্ভাবন, ঐতিহ্য ও জাতীয় অর্জনকে তুলে ধরা হচ্ছে।

তবে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি পাঠায়নি এবং নির্ধারিত অনেক শিল্পীও অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। তাদের অভিযোগ, জাতীয় উদযাপনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক–যার মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ডেমোক্র্যাট এবং অর্ধেক রিপাবলিকান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে।

রাজধানী ওয়াশিংটনকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ফোয়ারা ও ভাস্কর্য সংস্কার করা হলেও লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার প্রকল্প নানা সমস্যায় পড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান, ইরানে ক্ষোভের আগুন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান, ইরানে ক্ষোভের আগুন
প্রতিশোধের দাবিতে ফেটে পড়া জনতা 'আমেরিকার ধ্বংস চাই' এবং 'ইসরায়েলের ধ্বংস চাই' বলে স্লোগান দিতে থাকে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পরলোকগত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে তেহরান।

 তেহরানের ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রান্তরজুড়ে সমবেত লাখো মানুষের মুখে প্রতিধ্বনিত হয়েছে 'ট্রাম্পকে হত্যা করো' স্লোগান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনেই এবং তার পরিবারের চার সদস্য। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ চার মাস বিলম্বের পর অবশেষে ইরানে সপ্তাহব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়েছে।  

প্রতিশোধের লাল পতাকা ও স্লোগান

জানাজার নামাজের আগে থেকে শুরু করে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে এক আবেগঘন রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়। সমবেত জনতার হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা এবং প্রতিশোধের প্রতীক 'লাল পতাকা'। সেই সঙ্গে খামেনির ছবি ও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর গুপ্তহত্যার ডাক দেওয়া পোস্টার-গ্রাফিতিতে ছেয়ে যায় চারপাশ।  

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তথা প্রখ্যাত ইরানি কবি মোহাম্মদ রাসুলি লাউডস্পিকারে জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, 'আমরা আপনার রক্তের কসম খেয়ে বলছি, ট্রাম্পের হত্যা এখন আমাদের দায়িত্ব। পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষটি কেন এখনও বেঁচে থাকবে? ট্রাম্পের জন্য পৃথিবী আর নিরাপদ জায়গা নয়।' তার এই বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে পুরো মাঠ একযোগে স্লোগান দিতে শুরু করে। 

মুদি দোকানে কর্মরত ২৯ বছর বয়সী গোলামরেজা সাবুনি নামের এক ইরানি যুবক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আমি এখানে এসেছি ক্ষোভ প্রকাশ করতে এবং প্রতিশোধের দাবি তুলতে। তারা আমাদের ইমামকে হত্যা করেছে, আমাদেরও উচিত তাদের নেতা ট্রাম্পকে হত্যা করা।' সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/

এখনো নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় ট্রাম্পের আক্ষেপ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
এখনো নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় ট্রাম্পের আক্ষেপ
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে এখনো নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নোবেল পুরস্কার আমেরিকানরা পেলেও তাকে একটি নোবেল পুরস্কারও দেওয়া হয়নি।

মাউন্ট রাশমোরে দেওয়া ওই ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, সংগীত, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে দেশটির সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় আমেরিকানরা সবচেয়ে বেশি অলিম্পিক পদক জিতেছে। সবচেয়ে বেশি নোবেল পুরস্কারও পেয়েছে।’ এর পরই যোগ করেন, ‘তবে আমাকে তারা একটি নোবেলও দেয়নি।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন, তবু তাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি। তিনি প্রায়ই এ দাবি করলেও সমালোচকদের মতে, এটি অতিরঞ্জিত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২০ জনেরও বেশি ব্যক্তি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান বা শারীরবিদ্যা, সাহিত্য, অর্থনীতি এবং শান্তিতে অসামান্য অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই তিনি প্রকাশ্যে এ পুরস্কারের জন্য নিজের কথা বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছেন। গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি এ পুরস্কারের যোগ্য আর কাউকে ভাবতে পারেন না।’

তবে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে। পরে তিনি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে নিজের পদক ট্রাম্পকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর পর পরই নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানায়, এ পদক্ষেপ কেবল প্রতীকী। পুরস্কারের সম্মান ও স্বীকৃতি সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই যুক্ত থাকবে, যাকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে।

গত বছরের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদের এক সাবেক সহকারী বলেন, ট্রাম্প মনে করেন, নোবেল পুরস্কারই হবে এমন একটি স্বীকৃতি, যা ইতিহাসে তাকে কীভাবে স্মরণ করা হবে, তার চূড়ান্ত মাইলফলক। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মাত্র দুই প্রেসিডেন্ট নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন উড্রো উইলসন (১৯২০) এবং বারাক ওবামা (২০০৯)।

ট্রাম্পকে নিয়ে হান্টার বাইডেনের ব্যঙ্গ
গত সপ্তাহে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্যঙ্গাত্মক একটি পোস্টে লেখেন, তিনি ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিচ্ছেন, কারণ ট্রাম্প ‘কমপক্ষে ৩৮ বার’ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন।

তিনি লেখেন, ‘ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্ট একই যুদ্ধ এতবার শেষ করেননি। আর তিনি এখনো যুদ্ধ শেষ করেই চলেছেন। নোবেল কমিটির স্বীকৃতির জন্য এটি অবশ্যই একটি রেকর্ড।’ সূত্র: দ্য হিল

‘এত যুদ্ধ থামালাম, নোবেল পেলাম না’: ট্রাম্পের রসিকতা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
‘এত যুদ্ধ থামালাম, নোবেল পেলাম না’: ট্রাম্পের রসিকতা
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রসঙ্গে রসিকতা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভাষণে নিজের পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি এ পর্যন্ত আটটি যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রেখেছেন। তবে এত কিছুর পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার পাননি—এ কথা হাস্যরসের সঙ্গেই উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর এ মন্তব্য অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যেও হাস্যরসের সৃষ্টি করে।

বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ট্রাম্প তার প্রশাসনের বৈদেশিক নীতি, বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বোঝাতে চান, তার নেওয়া বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণেই বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েকটি বড় যুদ্ধ ও সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। 

ট্রাম্পের ‘আটটি যুদ্ধ থামানোর’ দাবি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এটি তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বক্তব্য ও আত্মপ্রচারের ধারাবাহিকতারই অংশ। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি অনুষ্ঠানে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা উদাহরণ উপস্থাপন করেননি।

এর আগেও প্রথম মেয়াদে Abraham Accords-সহ বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য বলে একাধিকবার মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণেও তিনি একই প্রসঙ্গ হাস্যরসের সুরে তুলে ধরেন।

ট্রাম্পের ভাষণের নোবেল-সংক্রান্ত অংশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।

এসএন/