ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
রাজধানীজুড়ে একদিনে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০৮ ইসলামের প্রথম শহীদ একজন নারী শতভাগ ফিট না হলেও নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে রাফিনহা হাতিয়ায় রুপালি ইলিশের আকাল, শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা ‘বিএনপিরে মামলা দিমু, আওয়ামী লীগরে কোলে লইয়া নাচুম’ ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম সাধ্যের মধ্যেই! কোথায় সমস্যা হচ্ছে আর্জেন্টিনার? খামেনির শোকসভায় প্রতিশোধের বার্তা প্রচার করছে ইরান! দিনাজপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের মিছিল বায়ু দূষণের শীর্ষে নয়া দিল্লি, ঢাকার বাতাস আজ সহনীয় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ওয়াশিংটনে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের মিছিল নরসিংদীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত সাম্বার ছন্দ নাকি ভাইকিং ঝড়? হবিগঞ্জ ও সিলেটে ‘দুরন্ত স্পোর্টস গ্যালারি’ এর নতুন শোরুম চালু বিশ্বকাপে ১৫০ গোল স্পর্শ করল ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করতে দেওয়া যাবে না: এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি পররাষ্ট্রনীতি থেকে দূরে থাকার সুযোগ নেই: কিয়ার স্টারমার জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার ঢাকাসহ দেশের ৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রে ‘কমিউনিস্ট হুমকির’ সমালোচনা ট্রাম্পের বরিশালে তরুণদের ঘিরে মাদকের বিস্তার ২৫ আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবীর মতো গ্রহ ইউক্রেনের কোস্তিয়ান্তিনিভকা দখলের দাবি রাশিয়ার, জেলেনস্কির নাকচ সারজিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেন জুলাই শহিদের মা সর্বাধিক গোল দিয়ে মেসির সমকক্ষ হলেন এমবাপ্পে রবিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ উত্তরা মোটর্স নিয়ে এলো নতুন ইসুজু লাক্সারি এনকিউআর বাস উচ্চতার চ্যালেঞ্জে ইংল্যান্ড, দুর্দান্ত ছন্দে মেক্সিকো ভারতে জনপ্রিয় হচ্ছে নতুন আধ্যাত্মিক ট্রেন্ড ‘ভজন ক্লাবিং’ সুশাসন চর্চা থেকে অবিচল আস্থা: ব্র্যাক ব্যাংক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করতে দেওয়া যাবে না: এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করতে দেওয়া যাবে না: এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে ইসরায়েলকে কোনোভাবেই নস্যাৎ করতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সমর্থন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টা কখনোই সফল হতে পারে না।

শনিবার (৪ জুলাই) ইস্তাম্বুলে সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, 'আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা এবং অবদানকে পাশে রেখে তৈরি করা কোনো সমাধানই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।'

তুর্কি নেতা অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের বর্তমান প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারক নস্যাৎ করার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।

এরদোয়ান বলেন, 'আমরা এই চুক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য ইসরায়েলি প্রশাসনের নানা অপচেষ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যুদ্ধাসক্ত বর্তমান ইসরায়েলি সরকারকে আমাদের এই অঞ্চলকে আবারও বারুদ আর রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দিতে দেওয়া যাবে না।'

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত সপ্তাহে হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পর তৈরি হওয়া চরম আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এরদোয়ানের এই মন্তব্য সামনে এল। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চুক্তি এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এই কূটনৈতিক অগ্রগতির পরও চুক্তিটি বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। চুক্তির শর্তাবলীর ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার জেরে গত সপ্তাহেই ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের ওপর পাল্টা সামরিক হামলা চালিয়েছে।

এই উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ঘোষণা করেছেন যে, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর জন্য তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেল বা হটলাইন স্থাপন করবে।

গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কট্টর সমালোচক এরদোয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে কূটনৈতিক পথকে যেকোনো ধরনের বাহ্যিক বাধা থেকে রক্ষা করা অপরিহার্য। সূত্র: আল জাজিরা

আজহার/

খামেনির শোকসভায় প্রতিশোধের বার্তা প্রচার করছে ইরান!

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
খামেনির শোকসভায় প্রতিশোধের বার্তা প্রচার করছে ইরান!
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্য তেহরানে বড় আকারের গণশোকসভা শুরু হয়েছে, যেখানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহিকতা এবং তার হত্যার প্রতিশোধের বার্তা প্রচার করছে।

প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইরানকে শাসন করার পর, ৮৬ বছর বয়সি খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা শোকসভাস্থলে এবং অন্যান্য গণসমাবেশে লাল পতাকা দেখা গেছে, যা সাধারণত শাহাদাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও শিয়া ইসলামে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

এ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক স্লোগান ছিল ‘আমাদের অবশ্যই জেগে উঠতে হবে’।

শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই সর্বোচ্চ নেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ ধর্মীয় কমপ্লেক্সের ভেতরে জড়ো হয়েছিলেন। তখন ইসলামিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য পুরুষ ও নারীদের একটি বড় প্রতিবন্ধক দিয়ে আলাদা করা হয়েছিল। এ ছাড়াও কমপ্লেক্সের চারপাশে  ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’ উচ্চস্বরে বাজছিল।

কড়া নিরাপত্তা

রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে এবং বিদায় অনুষ্ঠানগুলোর আশেপাশের এলাকায় সাঁজোয়া যান, মেশিনগান ও স্নাইপারদের দেখা গেছে।

এ ছাড়াও শোকসভায় প্রবেশের সময় পুরুষদের দেহ তল্লাশি করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়ার ব্যাংক, ইয়ারফোন ও লাইটারের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া মিছিল

আগামীকাল সোমবার মিছিলের মাধ্যমে খামেনির মরদেহ তেহরানের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে তার নিজ বাড়িতে দাফনের আগে, মরদেহটি কোম, নাজাফ এবং কারবালাসহ শিয়াদের কয়েকটি পবিত্রতম স্থান অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার জনসমক্ষে এসে আইআরজিসির সর্বাধিনায়ক আহমদ ভাহিদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘শত্রুরা আমাদের আত্মসমর্পণের যে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, তা যেন তারা কবরে নিয়ে যায়। শত্রুদের অবশ্যই জানতে হবে, বিশ্বব্যাপী কাফের শক্তির বিরুদ্ধে প্রিয় ইসলামের বিজয়ের পথে আমাদের শহিদ ইমামের পবিত্র রক্ত ​​ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।’

উল্লেখ্য, মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে আসেননি। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তার বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়ও যোগ দেবেন না বলে শোনা যাচ্ছে।

থিওটোনিয়াস/

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করতে দেওয়া যাবে না: এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করতে দেওয়া যাবে না: এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে ইসরায়েলকে কোনোভাবেই নস্যাৎ করতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সমর্থন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টা কখনোই সফল হতে পারে না।

শনিবার (৪ জুলাই) ইস্তাম্বুলে সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, 'আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা এবং অবদানকে পাশে রেখে তৈরি করা কোনো সমাধানই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।'

তুর্কি নেতা অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের বর্তমান প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারক নস্যাৎ করার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।

এরদোয়ান বলেন, 'আমরা এই চুক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য ইসরায়েলি প্রশাসনের নানা অপচেষ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যুদ্ধাসক্ত বর্তমান ইসরায়েলি সরকারকে আমাদের এই অঞ্চলকে আবারও বারুদ আর রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দিতে দেওয়া যাবে না।'

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত সপ্তাহে হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পর তৈরি হওয়া চরম আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এরদোয়ানের এই মন্তব্য সামনে এল। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চুক্তি এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এই কূটনৈতিক অগ্রগতির পরও চুক্তিটি বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। চুক্তির শর্তাবলীর ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার জেরে গত সপ্তাহেই ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের ওপর পাল্টা সামরিক হামলা চালিয়েছে।

এই উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ঘোষণা করেছেন যে, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর জন্য তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেল বা হটলাইন স্থাপন করবে।

গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কট্টর সমালোচক এরদোয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে কূটনৈতিক পথকে যেকোনো ধরনের বাহ্যিক বাধা থেকে রক্ষা করা অপরিহার্য। সূত্র: আল জাজিরা

আজহার/

পররাষ্ট্রনীতি থেকে দূরে থাকার সুযোগ নেই: কিয়ার স্টারমার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
পররাষ্ট্রনীতি থেকে দূরে থাকার সুযোগ নেই: কিয়ার স্টারমার
ছবি: খবরের কাগজ

বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তার উত্তরসূরিকে আন্তর্জাতিক সংকট ও কূটনীতিতে তার মতোই পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তিনি মনে করেন, বর্তমান বিশ্বের অস্থির বাস্তবতায় পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার।

স্টারমার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বিষয় আর অভ্যন্তরীণ বিষয় সামলানোর মধ্যে সঠিক ভারসাম্য কী হওয়া উচিত– এ নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। কিন্তু বাস্তবে দুটো একই বিষয়।’ তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভবিষ্যতের কোনো প্রধানমন্ত্রী কি তার তুলনায় কূটনীতিতে কম সময় দিতে পারবেন? জবাবে স্টারমার বলেন, ‘আমি মনে করি এটা অসম্ভব।’

পররাষ্ট্রনীতিতে বেশি সময় ব্যয় করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার মুখেও পড়েছেন স্টারমার। তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় থাকা সংসদ সদস্য অ্যান্ডি বার্নহাম জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, আবাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বেশি ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো অভ্যন্তরীণ ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ‘উইথ কিয়ার’ শিরোনামের একটি ভিডিওতে স্টারমার তার সরকারের আন্তর্জাতিক ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, তার নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ফিরে পেয়েছে। তিনি ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোটে সক্রিয় অংশগ্রহণকে তার সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্টারমার বলেন, ‘এখন অন্য দেশগুলো নেতৃত্বের জন্য আমাদের দিকে তাকায়- সরকারে গত দুই বছরে এমনটা অর্জন করতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, শিশুদারিদ্র্য কমানো এবং ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) সেবার উন্নয়নও তার সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে।’ সূত্র: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে ‘কমিউনিস্ট হুমকির’ সমালোচনা ট্রাম্পের

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে ‘কমিউনিস্ট হুমকির’ সমালোচনা ট্রাম্পের
ছবি: খবরের কাগজ

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সামরিক বাহিনীর ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ডেমোক্র্যাট সোশ্যালিস্টদের তীব্র সমালোচনা করে দেশজুড়ে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের এই উগ্র জাতীয়তাবাদী বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে মাউন্ট রাশমোরে গ্রানাইট স্মৃতিস্তম্ভের নিচে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী তৈরি করেছি। আমরা দুটি বিশ্বযুদ্ধে জয়ী হয়েছি।’ তিনি দাবি করেন, স্নায়ুযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুরা ইতিহাসে হারিয়ে গেছে।

তিনি ইরান ও ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরান এখন সমঝোতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শোকের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, ‘আমরা ভালো মানুষ বলেই শোক পালনের জন্য তাদের এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি।’

তার ভাষণের বড় অংশ জুড়ে ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধীদের আক্রমণ। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “আমেরিকায় নতুন আসা কিছু অভিবাসীর হাত ধরে দেশে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ বাড়ছে, যারা মার্কিন জীবনযাত্রার বিরোধী।” তিনি কমিউনিজমকে সংবিধানের শত্রু আখ্যা দিয়ে দেশ থেকে তা তাড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি বামপন্থি নেতা ও অবৈধ অভিবাসীদের দেশছাড়া করার ইঙ্গিত দেন।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক, কলোরাডো ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রগতিশীল প্রার্থীদের জয়ের পরই ট্রাম্প এই কড়া অবস্থান নিলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর আমেরিকার রাজনৈতিক বিভেদ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

রিপাবলিকান স্ট্র্যাটেজিস্ট ইলি ব্রেমার বলেন, ‘ট্রাম্পের কিছু কথা সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের মতো শোনালেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ডানে আর বামে যে বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা আগে কখনো ছিল না।’

ডেমোক্র্যাটিক স্ট্র্যাটেজিস্ট আমেশিয়া ক্রস বলেন, ‘ট্রাম্প আসলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যময় ইতিহাস মুছে দিতে চান। তরুণ ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ট্রাম্প ভয় পাচ্ছেন এবং বুঝতে পারছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে তার নিয়ন্ত্রণ ফসকে যাচ্ছে। তা ছাড়া কয়েক দিন আগেই সুপ্রিম কোর্টে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করার মামলায় হেরে গিয়ে ট্রাম্প এই ক্ষোভ ঝাড়ছেন। একই সময়ে নিউইয়র্কের প্রগতিশীল মেয়র জোহরান মামদানি ভিন্নমত প্রকাশকে দেশপ্রেম আখ্যা দিয়ে অভিবাসীদের প্রশংসা করেছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

ইউক্রেনের কোস্তিয়ান্তিনিভকা দখলের দাবি রাশিয়ার, জেলেনস্কির নাকচ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
ইউক্রেনের কোস্তিয়ান্তিনিভকা দখলের দাবি রাশিয়ার, জেলেনস্কির নাকচ
ছবি: খবরের কাগজ

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় শহর কোস্তিয়ান্তিনিভকা এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ। গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) তারা শহরটি দখলের রাশিয়ার দাবি সরাসরি নাকচ করেন।

রাশিয়ার সেনাবাহিনী গত শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানায়, তাদের বাহিনী কোস্তিয়ান্তিনিভকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। দোনেৎস্ক অঞ্চলে অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই শহরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে মস্কো।

জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘অবশ্যই এটি সত্য নয়। এটি রাশিয়ার আরেকটি মিথ্যা এবং কৃত্রিমভাবে একটি সংবাদ তৈরির চেষ্টা।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোস্তিয়ান্তিনিভকা সত্যিই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকত, তাহলে হয়তো সেখানে এসে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে পুতিনের কোনো আপত্তি থাকত না।’

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা জেনারেল স্টাফও এক বিবৃতিতে জানায়, কোস্তিয়ান্তিনিভকা এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইস্টার্ন গ্রুপিংয়ের ১৯তম আর্মি কোরের বিভিন্ন ইউনিট শহরের ভেতর এবং এর প্রবেশপথে নির্ধারিত প্রতিরক্ষা অবস্থানে থেকে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।’

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের চারটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত কোস্তিয়ান্তিনিভকা। শিল্পসমৃদ্ধ দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এই শহরগুলোকে ঘিরেই ইউক্রেনের প্রধান প্রতিরক্ষা লাইন গড়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোস্তিয়ান্তিনিভকা দখল করতে পারলে রুশ বাহিনী উত্তর দিকে এই প্রতিরক্ষা বেষ্টনী বরাবর আরও অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পাবে। তাদের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য এটিই। 

গত কিছুদিন ধরেই রাশিয়া দাবি করে আসছে, তারা কোস্তিয়ান্তিনিভকার কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শহরটি দোনেৎস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের বহুল আলোচিত ও সুরক্ষিত ‘ফোর্ট্রেস বেল্ট’-এর অন্যতম প্রধান নগরী।সূত্র: রয়টার্স