ঢাকার ধামরাইয়ে বিদ্যুৎসংকটের কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে, এর পরও বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপে দিশেহারা সাধারণ গ্রাহকরা। তারা বলছেন গত মাসের চেয়ে বিল বেশি এসেছে।
অনেকে মনে করছেন, ‘জুন ক্লোজিংয়ের কারণে এমন বিল এসেছে’! আবার অনেকে ‘পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে’ বলেও মনে করছেন।
গত কয়েক দিন ধরে ভুক্তভুগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয় নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলছেন। পাশাপাশি প্রতিবাদও জানাচ্ছেন।
প্রচণ্ড গরমে শুধু বয়স্ক লোকজনই নয়, কোমলমতি শিক্ষার্থী বিশেষ করে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সাধারণ জনজীবনও পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
একদিকে বিদ্যুৎসংকট, অপরদিকে বেশি বিল, এ ভোগান্তি নিয়ে মোখলেছুর রহমান নামে ধামরাইয়ের এক বাসিন্দা ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টকে কেন্দ্র করে সাধারণ গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। কমেন্টে সাধারণ গ্রাহকেরা তাদের নিজেদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে নানা মন্তব্য করতে শুরু করেন।
ওয়াসিম আকরাম রানা নামে এক গ্রাহক লিখেছেন, ‘গত মে মাসে বিল এসেছে মাত্র ৮০০ টাকা আর জুন মাসে এসেছে ১৯০০ টাকা। প্রায় দ্বিগুণ এর চেয়েও বিল বেশি এসেছে। বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন কি তাহলে বিদ্যুৎ খরচের ইউনিট বেশি লিখেছেন নাকি অন্য কোন কারণ রয়েছে।’
বিপ্লব ঘোষ লিখেছেন, ‘গত মাসে বিদ্যুৎ বিল ছিল ২১ হাজার টাকা আর জুন মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৩১ হাজার টাকা। প্রায় ১০ হাজার টাকা বিল বেশি এসেছে। এভাবে বিল বেশি আসতে থাকলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা বিপাকে পড়বে।’
মো: কাদের নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘আমার ৮০০ টাকার বিল এসেছে ৭০০০ হাজার টাকা। এটি কিভাবে সম্ভব। প্রায় ৭ গুনের বেশি বিল এসেছে। পরিশোধ করা এখন কষ্ট সাধ্য বিষয়।’
শিপু আহমেদ লিখেছেন, ‘৭০০০ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করতে হয়েছে ১২০০০ হাজার টাকা। এটি কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সাধারণ জনগণ বিদ্যুৎ বিলের চাপে এখন দিশেহারা। এটিকে ভূতুরে বিল বললেও ভুল হবে। এযেন এক ধরনের প্রকাশ্য ডাকাতি।’
এ ছাড়াও তাসলিমা আক্তার, জুলহাস রাহাত, বোরহান উদ্দিন সহ প্রায় দুই শত মানুষ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন।
সাব্বির হোসেন নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘আমারও বেশি বিল এসেছে। মে-জুন মাস হলো পল্লী বিদ্যুতের ডাকাতির মাস। জুন ক্লোজিং-এর নামে প্রচুর টাকা গড়মিল করে। ফলে গ্রাহকদের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এই নিম্নমানের ডিজিটাল মিটার হলো তার হাতিয়ার। কিছু মিটার না চালালেও অটো পালসের মাধ্যমে কিলোওয়াট উঠতেই থাকে। এতে পল্লী বিদ্যুৎ হলো একটি বিষফোঁড়া দূর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান।’
রুহুল আমিন/খাদিজা রুমি/