বিকেলে সম্ভাব্য বজ্রঝড় ও বন্যাজনিত বিঘ্নের আশঙ্কা থাকলেও মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচটি পূর্বনির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।
রবিবার (৫ জুলাই) মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদসংস্থা এপি-কে জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগের কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছিল ফিফা।
তবে আলোচনার পর ম্যাচের সময় অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা।
সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগুইরে। শুক্রবার রেডিও ফর্মুলাকে তিনি বলেন, ‘এটা বড় ধাক্কা। আমাদের সবকিছু বদলাতে হবে। ছয় ঘণ্টার পরিকল্পনা বাতিল করতে হচ্ছে। আমি বিষয়টি একেবারেই পছন্দ করছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই ফিফা যা বলবে, আমরা তা মেনে চলব। কিন্তু আমার খেলোয়াড় বা আমি কেউই এতে খুশি নই।’
ম্যাচের সময় এগিয়ে আনা হলে ইংল্যান্ডের প্রস্তুতিও প্রভাবিত হতে পারত। থ্রি লায়ন্সদের শুক্রবার রাতে মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছানোর কথা ছিল। রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে ইউনাম পুমাসের মাঠে শনিবার তাদের অনুশীলনের সূচি রয়েছে। ফলে মেক্সিকো সিটির উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের সময় কমে যেত।
এস্তাদিও আজতেকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ৩০০ ফুটের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত। এই উচ্চতায় বায়ুচাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকায় খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ে।
ক্রীড়া বিজ্ঞানীদের মতে, উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাধারণত অন্তত দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে তীব্র উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই ম্যাচের যতটা সম্ভব কাছাকাছি সময়ে পৌঁছানোর ‘ফ্লাই-ইন, ফ্লাই-আউট’ পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়।
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলও মেক্সিকো সিটির উচ্চতাকে দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার বোঝাপড়া অনুযায়ী, আমরা উচ্চতার সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারব না। এটি মেক্সিকোর জন্য বড় সুবিধা হবে। মানিয়ে নিতে অনেক সময় লাগে।’
চলতি বিশ্বকাপে মেক্সিকো সিটিতে এটি হবে পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ। সূত্র: এনডিটিভি
অমিয়/