ফুটবল মাঠে প্রতিটি জাতীয় দলের জার্সিতে থাকে নিজস্ব পরিচয়ের প্রতীক। ফ্রান্স তার ব্যতিক্রম নয়। তাদের জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায় একটি মোরগ, যা শুধু নকশা নয়, বরং দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক।
ফরাসি ভাষায় এই প্রতীককে বলা হয় ‘কক গ্যালোয়া’ বা গ্যালিক মোরগ। প্রাচীনকালে বর্তমান ফ্রান্স অঞ্চল ‘গল’ নামে পরিচিত ছিল। ল্যাটিন ভাষায় ‘Gallus’ শব্দটি যেমন গল অঞ্চলের মানুষকে বোঝাত, তেমনি মোরগকেও বোঝাত। এই শব্দগত মিল থেকেই মোরগ ধীরে ধীরে ফ্রান্সের প্রতীকে পরিণত হয়।
প্রথমে এটি ব্যঙ্গের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরে ফরাসিরা একে গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করে।
মোরগকে সাহস, সতর্কতা, আত্মবিশ্বাস ও নতুন সূচনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। প্রতিকূলতার মধ্যেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার মানসিকতার প্রতিফলনও এতে ফুটে ওঠে।
ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন ১৯০০-এর দশকের শুরু থেকেই মোরগের প্রতীক ব্যবহার করছে। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি শুধু দলের পরিচয় নয়, বরং দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। বিশ্বকাপ বা ইউরোর মতো আসরে এই প্রতীক কোটি ফরাসি সমর্থকের আবেগ বহন করে।
শুধু ফুটবল নয়, ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা ও অলিম্পিক দলের প্রতীকেও মোরগের ব্যবহার রয়েছে। যদিও এটি আনুষ্ঠানিক জাতীয় প্রতীক নয়, তবুও ফরাসিদের কাছে মোরগ প্রায় জাতীয় পরিচয়ের মর্যাদা পেয়েছে।
পাপ্পু/এএফ