ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কক্সবাজারে হাম উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ২০ ফ্রান্সের জার্সিতে কেন থাকে মোরগের প্রতীক? রজতজয়ন্তীতে গ্রাহকদের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের আকর্ষণীয় অফার খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য খুলে দেওয়া হলো ৫০০০ স্কুল জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যাংক থেকে টাকা তুললেন? প্রতারকদের সুযোগ দেবেন না প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগে সতর্ক ফ্রান্স কোচ দেশম, বড় বাধা তীব্র গরম শাহজাদপুরে বিদ্যালয়ে মদ্যপান করা সেই প্রধান শিক্ষককে শোকজ জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে জইশ-ই-মোহাম্মদের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার নরওয়ে ম্যাচে রাফিনহাকে পাচ্ছে না ব্রাজিল তামিলনাড়ুতে অ্যামোনিয়া গ্যাস দুর্ঘটনা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ খুলনায় কিশোরী গুলিবিদ্ধ সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, স্বাভাবিক অবসর সমন্বয় ও নিঃসরণ অধ্যায়ের ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান জুলাই-আগস্টে বন্যার শঙ্কা, সতর্কতা এফএফডব্লিউসির মুফতি মেঙ্কের কাছে কালিমা পড়ে মুসলিম হলেন বিশ্বকাপ তারকা টেটে জৈন্তাপুরে বিজিবি-শ্রমিক উত্তেজনা, সড়ক অবরোধ হামলার আশঙ্কায় বাবার শেষকৃত্যে থাকার সম্ভাবনা কম মোজতবা খামেনির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে গর্বিত গোলরক্ষক ভোজিনিয়া শেষ ষোলোর সমীকরণ চূড়ান্ত: কার প্রতিপক্ষ কে? ইরানি কূটনীতিকদের হত্যার প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলল ইসরায়েল খামেনির জানাজায় ১৪ মাস বয়সি নাতনির ছোট্ট কফিন ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ২৬৪৫ মৃত্যু, আহত ১২ হাজার ৬৬৬ খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়: লাখো মানুষের ঢল, আবেগাপ্লুত শীর্ষ ইরানি নেতৃত্ব শেরপুরে নিখোঁজের ১ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার বিশ্ব এখন আমাদের চেনে: ডিফেন্ডার পিকো লোপেস দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা শৈলকুপায় ইজিবাইক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত

মুফতি মেঙ্কের কাছে কালিমা পড়ে মুসলিম হলেন বিশ্বকাপ তারকা টেটে

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ পিএম
মুফতি মেঙ্কের কাছে কালিমা পড়ে মুসলিম হলেন বিশ্বকাপ তারকা টেটে
ছবি: সংগৃহীত

মাঠের সবুজ ঘাসে বুটের গতি আর গ্যালারির গগনবিদারী চিৎকার—ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই টানটান উত্তেজনা। কিন্তু এই মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও কখনো কখনো এমন কিছু মানবিক ও আধ্যাত্মিক গল্প তৈরি হয়, যা সীমানা পেরিয়ে ছুঁয়ে যায় কোটি মানুষের হৃদয়। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন ও মুসলিম উম্মাহ সাক্ষী হলো এমনই এক অভূতপূর্ব ঘটনার। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড টেটে ইয়ঙ্গি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আর এই যাত্রায় তার সঙ্গী হয়েছেন বিশ্বখ্যাত ইসলামিক স্কলার মুফতি মেঙ্ক।

বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার ঠিক আগের কথা। নিজের শহর এডিলেইডের একটি মসজিদে জুময়ার নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন টেটে ইয়ঙ্গি। সেখানেই আকস্মিকভাবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় ইসলামিক দাঈ মুফতি মেঙ্ক। নামাজ শেষে মুফতি মেঙ্কের সাথে কুশল বিনিময় ও করমর্দন করার সময় তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। মুফতি মেঙ্ক যখন মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, শাহাদাহ পাঠ করা হয়েছে কি না?—ইয়ঙ্গি আর মুহূর্তকালও দ্বিধা করেননি। পরম শ্রদ্ধায় মুফতি মেঙ্কের হাত ধরে কালিমা শাহাদাহ পাঠ করে জীবনের এক নতুন ও পবিত্রময় অধ্যায়ের সূচনা করেন এই উদীয়মান ফুটবলার।

পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার জানান, ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি কোনো আকস্মিক আবেগ বা হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল না। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি ইসলামের জীবনবিধান, অনুশাসন ও সৌন্দর্যের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হচ্ছিলেন। মসজিদে মুফতি মেঙ্কের সাথে সেই দেখা হওয়াটা যেন তার ভেতরের সুপ্ত ইচ্ছাকেই বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক ঐশ্বরিক উসিলা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ধর্মীয় জীবনের এই নতুন আলো যেন টেটে ইয়ঙ্গির মাঠের পারফরম্যান্সকেও আরও সমৃদ্ধ করেছে। ১.৯৭ মিটার উচ্চতার এই দীর্ঘকায় ফরোয়ার্ড বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশ্বকাপের মূল আসরে নামার ঠিক আগে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে অভিষেক হয় তার। আর অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত এক গোল করে দলের ড্র নিশ্চিত করে নিজের আগমনী বার্তা জানান দেন জাপানি ক্লাব 'মাচিদা জেলভিয়া'-তে খেলা এই ফুটবলার।

চলমান বিশ্বকাপেও জাতীয় দলের কোচ টনি পপোভিকের আস্থার প্রতিদান দিয়ে চলেছেন তিনি। গ্রুপ পর্বের কঠিন লড়াইয়ে তুর্কীর বিপক্ষে ২৪ মিনিট এবং প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৭ মিনিট মাঠে থেকে দলের আক্রমণে দারুণ ধার দেখিয়েছেন তিনি। গতি আর নিখুঁত ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখতে ও দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে তিনি এখন মরিয়া।

নিজের নতুন ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ভীষণ গর্বিত ও উছ্বসিত টেটে ইয়ঙ্গি। তিনি বিশ্বাস করেন, ইসলাম তাকে মানসিক শান্তি ও জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। বিশ্বমঞ্চের এই বিশাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে নিজের সততা, খেলোয়াড়সুলভ আচরণ ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে ইসলামের প্রকৃত, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর রূপ ফুটিয়ে তুলতে চান এই অজি তারকা।

ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত জীবন ও বিশ্বাসের রূপান্তর সবসময়ই ভক্তদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। টেটে ইয়ঙ্গির এই আধ্যাত্মিক রূপান্তরও ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এক নতুন পজিটিভ বার্তার জন্ম দিয়েছে, যা চলমান বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা এক অফ-ফিল্ড গল্প হিসেবে টিকে থাকবে বহুদিন।

 

মুফতি মেঙ্কের কাছে কালিমা পড়ে মুসলিম হলেন বিশ্বকাপ তারকা টেটে

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ পিএম
মুফতি মেঙ্কের কাছে কালিমা পড়ে মুসলিম হলেন বিশ্বকাপ তারকা টেটে
ছবি: সংগৃহীত

মাঠের সবুজ ঘাসে বুটের গতি আর গ্যালারির গগনবিদারী চিৎকার—ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই টানটান উত্তেজনা। কিন্তু এই মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও কখনো কখনো এমন কিছু মানবিক ও আধ্যাত্মিক গল্প তৈরি হয়, যা সীমানা পেরিয়ে ছুঁয়ে যায় কোটি মানুষের হৃদয়। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন ও মুসলিম উম্মাহ সাক্ষী হলো এমনই এক অভূতপূর্ব ঘটনার। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড টেটে ইয়ঙ্গি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আর এই যাত্রায় তার সঙ্গী হয়েছেন বিশ্বখ্যাত ইসলামিক স্কলার মুফতি মেঙ্ক।

বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার ঠিক আগের কথা। নিজের শহর এডিলেইডের একটি মসজিদে জুময়ার নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন টেটে ইয়ঙ্গি। সেখানেই আকস্মিকভাবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় ইসলামিক দাঈ মুফতি মেঙ্ক। নামাজ শেষে মুফতি মেঙ্কের সাথে কুশল বিনিময় ও করমর্দন করার সময় তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। মুফতি মেঙ্ক যখন মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, শাহাদাহ পাঠ করা হয়েছে কি না?—ইয়ঙ্গি আর মুহূর্তকালও দ্বিধা করেননি। পরম শ্রদ্ধায় মুফতি মেঙ্কের হাত ধরে কালিমা শাহাদাহ পাঠ করে জীবনের এক নতুন ও পবিত্রময় অধ্যায়ের সূচনা করেন এই উদীয়মান ফুটবলার।

পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার জানান, ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি কোনো আকস্মিক আবেগ বা হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল না। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি ইসলামের জীবনবিধান, অনুশাসন ও সৌন্দর্যের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হচ্ছিলেন। মসজিদে মুফতি মেঙ্কের সাথে সেই দেখা হওয়াটা যেন তার ভেতরের সুপ্ত ইচ্ছাকেই বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক ঐশ্বরিক উসিলা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ধর্মীয় জীবনের এই নতুন আলো যেন টেটে ইয়ঙ্গির মাঠের পারফরম্যান্সকেও আরও সমৃদ্ধ করেছে। ১.৯৭ মিটার উচ্চতার এই দীর্ঘকায় ফরোয়ার্ড বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশ্বকাপের মূল আসরে নামার ঠিক আগে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে অভিষেক হয় তার। আর অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত এক গোল করে দলের ড্র নিশ্চিত করে নিজের আগমনী বার্তা জানান দেন জাপানি ক্লাব 'মাচিদা জেলভিয়া'-তে খেলা এই ফুটবলার।

চলমান বিশ্বকাপেও জাতীয় দলের কোচ টনি পপোভিকের আস্থার প্রতিদান দিয়ে চলেছেন তিনি। গ্রুপ পর্বের কঠিন লড়াইয়ে তুর্কীর বিপক্ষে ২৪ মিনিট এবং প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৭ মিনিট মাঠে থেকে দলের আক্রমণে দারুণ ধার দেখিয়েছেন তিনি। গতি আর নিখুঁত ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখতে ও দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে তিনি এখন মরিয়া।

নিজের নতুন ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ভীষণ গর্বিত ও উছ্বসিত টেটে ইয়ঙ্গি। তিনি বিশ্বাস করেন, ইসলাম তাকে মানসিক শান্তি ও জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। বিশ্বমঞ্চের এই বিশাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে নিজের সততা, খেলোয়াড়সুলভ আচরণ ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে ইসলামের প্রকৃত, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর রূপ ফুটিয়ে তুলতে চান এই অজি তারকা।

ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত জীবন ও বিশ্বাসের রূপান্তর সবসময়ই ভক্তদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। টেটে ইয়ঙ্গির এই আধ্যাত্মিক রূপান্তরও ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এক নতুন পজিটিভ বার্তার জন্ম দিয়েছে, যা চলমান বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা এক অফ-ফিল্ড গল্প হিসেবে টিকে থাকবে বহুদিন।

 

সাহাবিদের গল্প—০২ ‘আহাদ! আহাদ!’

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
‘আহাদ! আহাদ!’
ছবি: সংগৃহীত

দুপুরের মক্কা। সূর্য যেন আগুন ঢালছে। উত্তপ্ত বালুর ওপর শুইয়ে রাখা হয়েছে এক হাবশি ক্রীতদাসকে। মালিক উমাইয়া ইবনে খালাফের নির্দেশে তাঁর ওপর চলছে অমানুষিক নির্যাতন— শুধু একটি ‘অপরাধে’: তিনি বলেছেন, আমার রব আল্লাহ।

নির্যাতনকারীরা শর্ত দিল— লাত-উজ্জার নাম নাও, মুক্তি পাবে। জ্বলন্ত শরীর, ফেটে যাওয়া ঠোঁট। সেই ঠোঁট নড়ে উঠল। কী বললেন তিনি? ‘আহাদ! আহাদ!’— আল্লাহ এক! আল্লাহ এক!

তিনি বিলাল ইবনে রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, প্রকাশ্যে ইসলাম ঘোষণাকারী প্রথম সাতজনের একজন ছিলেন বিলাল। মুশরিকরা তাঁদের লোহার বর্ম পরিয়ে কাঠফাটা রোদে ফেলে রাখত। সবার কোনো না কোনো সামাজিক সুরক্ষা ছিল, কিন্তু বিলালের ছিল না কেউ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তিনি নিজের ওপর সব নির্যাতন তুচ্ছ করে নিয়েছিলেন। শেষে শিশু-কিশোরদের হাতে তুলে দেওয়া হলো— তারা তাঁকে মক্কার অলিগলিতে টেনে বেড়াত, আর তিনি বলতেই থাকতেন: ‘আহাদ! আহাদ!’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৫০)

আরো পড়ুন: মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে

সিরাতগ্রন্থগুলোতে (ইবনে হিশাম) আরও এসেছে— বুকের ওপর বিশাল পাথর চাপা দিয়ে রাখা হতো তাঁর। এই বিবরণটি ঐতিহাসিক বর্ণনা হিসেবেই আমরা উল্লেখ করছি। অবশেষে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে কিনে মুক্ত করে দেন।

তারপর ইতিহাসের সেই মধুর প্রতিদান— যে কণ্ঠকে চাবুক স্তব্ধ করতে পারেনি, সেই কণ্ঠই হলো ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ। যে মানুষটিকে মক্কার বালুতে টেনে-হিঁচড়ে অপমান করা হয়েছিল, মক্কা বিজয়ের দিন তিনিই কাবার ছাদে দাঁড়িয়ে আজান দিলেন।

আজকের জীবনে আমাদের ঈমানের পরীক্ষা হয়তো জ্বলন্ত বালুতে হয় না। আমাদের পরীক্ষা হয় অফিসে, বন্ধুমহলে, সোশ্যাল মিডিয়ায়— যেখানে দ্বীন মানতে গেলে কখনো উপহাস শুনতে হয়, কখনো সুবিধা হারাতে হয়। বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু শেখালেন: পরিচয়, পদ, অর্থ— সব কেড়ে নেওয়া যায়; কিন্তু ‘আহাদ’ বলা অন্তরকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।

হে আল্লাহ! আমাদের ঈমানকে বিলালের ঈমানের মতো অটল করে দিন— যা কোনো লোভ কিনতে পারে না, কোনো ভয় ভাঙতে পারে না। আমিন।

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক

৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৪ জুলাই ২০২৬, শনিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৬ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান
ছবি: সংগৃহীত

রোজা, হজ, কোরবানি, ঈদসহ ইসলামের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিধান চন্দ্রমাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য হিজরি মাসের হিসাব সংরক্ষণ করা এবং নতুন চাঁদের খবর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীনি দায়িত্ব। ইসলামের ইতিহাস ও মুসলিম সমাজের ঐতিহ্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, নতুন চাঁদ দেখা ছিল মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও চাঁদ দেখতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে চাঁদ দেখতে উৎসাহিত করতেন। বিশেষত রমজান ও জিলহজের চাঁদ দেখার ব্যাপারে অসংখ্য হাদিসে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আজও সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের বহু দেশে রমজানের আগে রাষ্ট্রীয়ভাবে জনসাধারণকে চাঁদ অনুসন্ধানে উৎসাহ দেওয়া হয়। সাধারণ মুসলমানরাও অত্যন্ত আগ্রহ ও আনন্দের সঙ্গে আকাশে নতুন চাঁদ খোঁজেন।

আমাদের দেশেও দুই-তিন দশক আগ পর্যন্ত শহর ও গ্রামাঞ্চলে দলবেঁধে রোজা ও ঈদের চাঁদ দেখার এক সুন্দর সংস্কৃতি ছিল। বিকেলের পর মানুষ ছাদে, মাঠে কিংবা খোলা প্রান্তরে জড়ো হতেন। শিশু-কিশোরদের মাঝেও ছিল ভিন্নরকম উৎসাহ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আধুনিকতার প্রবাহে সেই সুন্দর চর্চা আজ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।

বর্তমান যুগে আমরা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছি। মোবাইল, টেলিভিশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকি; অথচ নিজেরা চাঁদ দেখার প্রয়োজন অনুভব করি না। এমনকি অনেক মুসলমানই হিজরি মাসের তারিখ ও মাসের নাম সম্পর্কে অজ্ঞ। অথচ ইসলামে হিজরি মাসের হিসাব সংরক্ষণ ও নতুন চাঁদ অনুসন্ধানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামি আইনজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, চন্দ্রমাসের হিসাব সংরক্ষণ করা মুসলিম উম্মাহর জন্য ওয়াজিব আলাল কিফায়া। অর্থাৎ মুসলিম সমাজের অন্তত একটি দল সর্বদা হিজরি মাসের হিসাব সংরক্ষণ ও নতুন চাঁদের অনুসন্ধানে নিয়োজিত থাকবে। যদি পুরো সমাজ এ দায়িত্ব থেকে গাফেল হয়ে যায়, তবে সবাই গুনাহগার হবে। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ১/১৯৭)

এ কারণে প্রতি মাসের ২৯ তারিখে প্রত্যেক এলাকার কিছু মানুষের নতুন চাঁদ অনুসন্ধানে উদ্যোগী হওয়া উচিত। এটি শুধু একটি সামাজিক রীতি নয়; বরং সুন্নাহর অনুসরণ এবং এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নতুন চাঁদ দেখার সময় নবিজি (সা.) এই দোয়া পাঠ করতেন-

আরবি উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-আমনি ওয়াল ঈমান, ওয়াস-সালামাতি ওয়াল ইসলাম, ওয়াত-তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা, রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ। অর্থ: হে আল্লাহ! এই নতুন চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করুন নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। আর আপনি যা ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন, তার তৌফিক দান করুন। (হে চাঁদ!) আমাদের এবং তোমার রব হলেন আল্লাহ। (তিরমিজি, ৩৪৫১)

দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ আমরা অনেক সুন্নাহ ও দ্বীনি চর্চার মতো নতুন চাঁদ দেখার এই গুরুত্বপূর্ণ আমল থেকেও দূরে সরে যাচ্ছি। অথচ এটি মুসলিম পরিচয় ও ইসলামি সংস্কৃতির একটি জীবন্ত প্রতীক। আসুন, আমরা শুধু চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করি। পরিবার ও সন্তানদের মাঝেও এ ব্যাপারে আগ্রহ সৃষ্টি করি। অবহেলিত এই ওয়াজিব বিধান ও সুন্দর সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করতে সচেষ্ট হই। আল্লাহতায়ালা আমাদের তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: মুহাদ্দিস, দিলু রোড মাদ্রাসা, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা

সাক্ষাৎকার ‘প্রাকৃতিক সুস্থতার জন্য হিজামা একটি অনন্য সুন্নত’

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
‘প্রাকৃতিক সুস্থতার জন্য হিজামা একটি অনন্য সুন্নত’
ছবি: খবরের কাগজ

আধুনিক জীবনযাত্রার নানা স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মধ্যে মানুষ ক্রমেই প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। এমনই এক বহুল আলোচিত চিকিৎসা পদ্ধতি হলো হিজামা বা কাপিং থেরাপি। হিজামার উপকারিতা, ইসলামে এর অবস্থান, নিরাপদ চর্চা এবং বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন হিজামা থেরাপিস্ট সৈয়দ নুর নবী, ডিএমএস, ডিপিএম, সিপি। তিনি হাই লেভেল ওয়েলনেস (যুক্তরাজ্য) থেকে হিজামা থেরাপিতে সনদপ্রাপ্ত, ওএমটি ট্রেনিং (যুক্তরাজ্য) থেকে আইডিএমসিটি এবং ইউডেমি থেকে এএইচডিসিটি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত তিব্ব হিদায়া হিজামা সেন্টারের ফাউন্ডার ও প্রধান হিজামা থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুফতি উমর ফারুক আশিকী

হিজামা কী?

সৈয়দ নুর নবী: হিজামা বা Wet Cupping Therapy একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে বিশেষ কাপের মাধ্যমে ত্বকের নির্দিষ্ট স্থানে সাকশন বা নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এরপর ত্বকের ওপরের স্তরে Superficial Incision দেওয়া হয়। হিজামা শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার একটি পদ্ধতি। এটি একটি সুন্নাহভিত্তিক থেরাপি হিসেবে পরিচিত।

ইসলামে হিজামার গুরুত্ব কী? এ বিষয়ে কি কোনো সহিহ হাদিস রয়েছে?

সৈয়দ নুর নবী: হিজামার গুরুত্ব ইসলামে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে হিজামা গ্রহণ করেছেন এবং সাহাবিদেরও উৎসাহিত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা যেসব চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকো তার মধ্যে হিজামা হলো সর্বোত্তম চিকিৎসা। (আবু দাউদ, ৩৮৫৭)

এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মিরাজের রাতে আমি ফেরেশতার যে দল সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করেছি, তারা সবাই বলেছেন, হে মুহাম্মাদ! আপনার উম্মতকে হিজামার নির্দেশ দিন। (তিরমিজি, ২০৫২) সুতরাং মুসলমানদের কাছে এটি শুধু একটি থেরাপি নয়, বরং সুন্নাহ পালনের একটি মাধ্যমও।

বর্তমানে মানুষ কেন হিজামার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে?

সৈয়দ নুর নবী: বর্তমানে মানুষ আগের তুলনায় স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক সচেতন। তারা শুধু রোগের চিকিৎসাই নয়, বরং সুস্থতা বজায় রাখা, ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের দিকেও আগ্রহী হচ্ছেন। এ কারণেই হিজামা ধীরে ধীরে মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কোন কোন সমস্যায় হিজামা উপকারী?

সৈয়দ নুর নবী: একসময় সাধারণ মানুষ হিজামাকে মূলত ঘাড়, কাঁধ, কোমর, পিঠ ও হাঁটু ব্যথার চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত মনে করতেন। কিন্তু বর্তমানে মাইগ্রেন, ফ্যাটি লিভার, উচ্চ কোলেস্টেরল, অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, অনিদ্রা, নির্দিষ্ট কিছু চর্মরোগ, এলার্জি এবং গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে অনেক মানুষ হিজামা গ্রহণ করে উপকার পাচ্ছেন। বিভিন্ন গবেষণায় হিজামার উপকারিতার তথ্য পাওয়া গেছে, যা মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।

হিজামা করার জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো সময় বা সুন্নাহ তারিখ রয়েছে?

সৈয়দ নুর নবী: হাদিসে চন্দ্রমাসের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে হিজামা করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি (চন্দ্রমাসের) ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে হিজামা করবে, তা তার জন্য বিভিন্ন রোগ থেকে আরোগ্যের কারণ হবে। (ইবনে মাজাহ, ৩৪৮৬) এছাড়া হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) চন্দ্রমাসের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে হিজামা গ্রহণ করতেন। (তিরমিজি, ২০৫১)

ফকিহরা বলেছেন, এ তারিখগুলোতে হিজামা করা মুস্তাহাব বা উত্তম বলে বিবেচিত হলেও জরুরি চিকিৎসাগত প্রয়োজন দেখা দিলে নির্দিষ্ট তারিখের অপেক্ষা না করে যেকোনো সময় হিজামা করা বৈধ। সুন্নাহ তারিখের ফজিলত স্বীকার গ্রহণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনভিত্তিক হিজামার অনুমতি ইসলামে রয়েছে।

হিজামা করার সময় কি ব্যথা লাগে?

সৈয়দ নুর নবী: হিজামার ক্ষেত্রে যে সূক্ষ্ম ইনসিশন দেওয়া হয়, সেটি খুব অগভীর হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষ শুধু হালকা খোঁচা অনুভব করেন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কিছু রোগী হিজামা করার সময় এতটাই স্বস্তি অনুভব করেন যে, তারা হিজামার বেডেই ঘুমিয়ে পড়েন। আবার অনেক রোগী তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বলেছেন, তারা কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যথা অনুভব করেননি; বরং হালকা সুড়সুড়ি ধরনের অনুভূতি হয়েছে। প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের মাধ্যমে সঠিক পদ্ধতিতে হিজামা করা হলে এটি সাধারণত সহনীয় একটি প্রক্রিয়া।

মজার বিষয় হলো, রোগীরা হিজামা শেষে ব্যথার কথা নয়, বরং শরীরের হালকা অনুভূতি, স্বস্তি এবং প্রশান্তির কথাই বেশি উল্লেখ করেন।

প্রথমবার যারা হিজামা করতে চান তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

সৈয়দ নুর নবী: প্রথমবার হিজামা করতে আগ্রহীদের জন্য আমার পরামর্শ হলো–প্রথমে হিজামা সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জন করুন এবং একজন প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট নির্বাচন করুন। হিজামা করার আগে নিজের স্বাস্থ্যগত তথ্য, পূর্বের রোগ, নিয়মিত গ্রহণ করা ওষুধ বা বিশেষ কোনো শারীরিক অবস্থা থাকলে তা অবশ্যই থেরাপিস্টকে জানানো উচিত। এতে রোগীর জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

যারা এখনো হিজামা সম্পর্কে দ্বিধায় আছেন, তাদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

সৈয়দ নুর নবী: হিজামাকে অলৌকিক কোনো চিকিৎসা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই, আবার কম জানার কারণে অবহেলাও করা উচিত নয়। এটি একটি সুন্নাহভিত্তিক ও প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যা সঠিকভাবে এবং প্রশিক্ষিত ব্যক্তির মাধ্যমে গ্রহণ করা উচিত। সচেতনতা, বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা এবং নিরাপদ চর্চাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশে হিজামা থেরাপির সম্ভাবনা আপনি কীভাবে দেখছেন?

সৈয়দ নুর নবী: আমি মনে করি বাংলাদেশে হিজামা থেরাপির সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। কারণ, হিজামা কোনো নতুন বিষয় নয়; এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চর্চিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে Hijama একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় Therapy হিসেবে চর্চা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও হিজামা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা ও আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে সুন্নাহভিত্তিক চিকিৎসা, প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিকল্প থেরাপি সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে হিজামা ধীরে ধীরে আরও পরিচিত হয়ে উঠছে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রশিক্ষিত থেরাপিস্ট তৈরি, স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল চর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিক শিক্ষা, গবেষণা ও পেশাদারত্বের সমন্বয় ঘটলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও হিজামা আরও ব্যাপক আকারে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।