তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার সময় শীর্ষস্থানীয় ইরানি মধ্যস্থতাকারীদের হত্যার পরিকল্পনা করার যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমে এই খবর ছড়ালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একে ‘বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিকৃতি’ বলে অভিহিত করে।
সম্প্রতি লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। ঠিক এই আবহেই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।
এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় স্পষ্ট জানায়, যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত ইরানি কূটনীতিকদের ওপর হামলা চালানোর কোনো উদ্দেশ্য ইসরায়েলের ছিল না।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যথারীতি, ইসরায়েল এবং ইরানি মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের সর্বশেষ খবরটি একটি ভুয়া খবর। এটি সম্পূর্ণ মনগড়া ও অবাস্তব।’
প্রতিবেদনে যা দাবি করা হয়
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যখন তেহরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় ব্যস্ত ছিল, তখন ইসরায়েল দুজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল বলে আশঙ্কা করছিলেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত ওই দুই নেতা হলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তারা দুজনেই যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা গতি পায়, তখন থেকেই ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা আশঙ্কা করছিলেন যে, এই দুই ইরানি নেতাকে হত্যা করা হলে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাবে এবং নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে। মার্কিন প্রশাসন এতটাই উদ্বিগ্ন ছিল যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মাধ্যমে ইরানকে এই সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে সতর্কবার্তা পর্যন্ত পাঠিয়েছিল।
শান্তি আলোচনার অন্তরালে মার্কিন উদ্বেগ
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে আরাগচি এবং গালিবাফকে ইসরায়েল তাদের ‘প্রধান লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করতেই পারত, কারণ ইসরায়েলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের কট্টরপন্থি সরকারকে উৎখাত করা।
তবে এপ্রিল মাসে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন যে, এই মুহূর্তে তাদের ওপর কোনো হামলা হলে তা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে এবং যুদ্ধবিরতির সব আশা শেষ হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। অভিযানটি আংশিকভাবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিভি
তামান্না রুপা/অমিয়/