ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে গর্বিত গোলরক্ষক ভোজিনিয়া শেষ ষোলোর সমীকরণ চূড়ান্ত: কার ভাগ্যে কোন প্রতিপক্ষ? ইরানি কূটনীতিকদের হত্যার প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলল ইসরায়েল খামেনির জানাজায় ১৪ মাস বয়সি নাতনির ছোট্ট কফিন ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ২৬৪৫ মৃত্যু, আহত ১২ হাজার ৬৬৬ খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়: লাখো মানুষের ঢল, আবেগাপ্লুত শীর্ষ ইরানি নেতৃত্ব শেরপুরে নিখোঁজের ১ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার বিশ্ব এখন আমাদের চেনে: ডিফেন্ডার পিকো লোপেস দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা শৈলকুপায় ইজিবাইক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত কঠিন লড়াইয়ের মানসিকতা থাকতে হবে: মার্তিনেস ফ্রান্সের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ বনাম গিল প্রাচীর ‘আহাদ! আহাদ!’ ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া নগরকান্দায় প্রবাসীর বাড়ি দখল করে তালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা বুবিস্তার নাটোরে ৩৫ ফুট কালী প্রতিমা ঘিরে পূজা ও মেলা মায়ানমারে বিমান হামলার আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ পদ্মায় শতাধিক ড্রেজারে বালু উত্তোলন ডাকসুর উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি-অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে কিনশাসা খবরের কাগজ ‘বন্ধুজন’ শৈলকুপা উপজেলা কমিটি গঠিত সহজ প্রতিপক্ষ বলা সমালোচকদের জবাব দিলেন স্কালোনি ইতিহাসের সাক্ষী জিগাগাড়ী জামে মসজিদ জুলাই শহিদদের স্মরণে আজ বিশেষ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসালেন মেসি আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ তিব্বতের পতাকা নিয়ে জাতিসংঘের সামনে আত্মহত্যা বাড়ছে জমি নিবন্ধনের খরচ

খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ এএম
খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের ছয় দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রা ইরাকেও অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে দাফন করা হবে।

বিশাল এই প্রাঙ্গণের মূল চত্বর শোকাহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। এ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে কঠোর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনেক মানুষ কয়েক কিলোমিটার হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন মানুষ, যাতে তারা জানাজা ও দাফনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। 

ইরানি কূটনীতিকদের হত্যার প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলল ইসরায়েল

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩০ এএম
ইরানি কূটনীতিকদের হত্যার প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলল ইসরায়েল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি , ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার সময় শীর্ষস্থানীয় ইরানি মধ্যস্থতাকারীদের হত্যার পরিকল্পনা করার যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমে এই খবর ছড়ালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একে ‘বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিকৃতি’ বলে অভিহিত করে।

সম্প্রতি লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। ঠিক এই আবহেই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।

এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় স্পষ্ট জানায়, যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত ইরানি কূটনীতিকদের ওপর হামলা চালানোর কোনো উদ্দেশ্য ইসরায়েলের ছিল না।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যথারীতি, ইসরায়েল এবং ইরানি মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের সর্বশেষ খবরটি একটি ভুয়া খবর। এটি সম্পূর্ণ মনগড়া ও অবাস্তব।’

প্রতিবেদনে যা দাবি করা হয়

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যখন তেহরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় ব্যস্ত ছিল, তখন ইসরায়েল দুজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল বলে আশঙ্কা করছিলেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত ওই দুই নেতা হলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তারা দুজনেই যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা গতি পায়, তখন থেকেই ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা আশঙ্কা করছিলেন যে, এই দুই ইরানি নেতাকে হত্যা করা হলে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাবে এবং নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে। মার্কিন প্রশাসন এতটাই উদ্বিগ্ন ছিল যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মাধ্যমে ইরানকে এই সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে সতর্কবার্তা পর্যন্ত পাঠিয়েছিল।

শান্তি আলোচনার অন্তরালে মার্কিন উদ্বেগ

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে আরাগচি এবং গালিবাফকে ইসরায়েল তাদের ‘প্রধান লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করতেই পারত, কারণ ইসরায়েলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের কট্টরপন্থি সরকারকে উৎখাত করা।

তবে এপ্রিল মাসে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন যে, এই মুহূর্তে তাদের ওপর কোনো হামলা হলে তা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে এবং যুদ্ধবিরতির সব আশা শেষ হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। অভিযানটি আংশিকভাবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

খামেনির জানাজায় ১৪ মাস বয়সি নাতনির ছোট্ট কফিন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:১৪ এএম
খামেনির জানাজায় ১৪ মাস বয়সি নাতনির ছোট্ট কফিন
খামেনির জানাজায় ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট্ট কফিন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। তেহরানের ইমাম খামেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে আয়োজিত এই শোকানুষ্ঠানের একটি হৃদয়বিদারক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির বড় কফিনটির ঠিক পাশেই রাখা ছিল একটি ছোট্ট কফিন। এটি খামেনির ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানির। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলার প্রথম দিনেই একই বিস্ফোরণে আলি খামেনি, তার মেয়ে, জামাতাসহ পরিবারের মোট চার সদস্য নিহত হন।

বড় বড় কফিনগুলোর পাশে রাখা এই নিষ্পাপ শিশুর ক্ষুদ্র কফিনটি চলমান যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের এক করুণ প্রতীক হয়ে ওঠেছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) আয়োজিত এই বিশেষ বিদায়ী অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি ইজেইসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের অশ্রুসিক্ত চোখে মরদেহের প্রতি সম্মান জানাতে দেখা যায়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক ঊর্ধ্বতন কমান্ডার মহসেন রেজায়ি এই দৃশ্য দেখে প্রকাশ্যে কেঁদে ফেলেন।

আগামী কয়েক দিনে এই জানাজা ও শোকমিছিলে লাখ লাখ সাধারণ ইরানি নাগরিক অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রক্রিয়া পবিত্র নগরী কোম ও ইরাকের শিয়া অধ্যুষিত কারবালা-নাজাফ হয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে শেষ হবে।

এই জানাজা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, রাশিয়া, চীন ও ভারতের প্রতিনিধি দলসহ প্রায় ৯০টি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। তবে কোনো পশ্চিমা দেশের প্রতিনিধিকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ইতোমধ্যেই খামেনেইর মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনেইকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ২৬৪৫ মৃত্যু, আহত ১২ হাজার ৬৬৬

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ২৬৪৫ মৃত্যু, আহত ১২ হাজার ৬৬৬
ছবি: সংগৃহীত

জোড়া ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ভেনিজুয়েলা। ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৬৪৫ জন।  আহত ১২ হাজার ৬৬৬ জনের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে দেশটির হাসপাতালগুলো।

শুক্রবার (৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে ভেনিজুয়েলার যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ৪৬২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮৬ হাজার ১১৭টি পরিবারকে সহায়তা দেয়া হয়েছে। এই ভূমিকম্পে ৮৮৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৮৯টি কাঠামো ধসে পড়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত এলাকায় ৩৩০০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। কারাকাসে ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত ৮৯০টি আফটারশক হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অনুসারে, গত ২৪ জুন ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুইটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।

৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি ইয়ারাচুই রাজ্যের ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে আঘাত হানে। অন্যদিকে, ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটি একই রাজ্যের সান ফেলিপে থেকে ২৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আঘাত হানে। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি

এএফ/

খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ এএম
খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের ছয় দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রা ইরাকেও অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে দাফন করা হবে।

বিশাল এই প্রাঙ্গণের মূল চত্বর শোকাহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। এ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে কঠোর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনেক মানুষ কয়েক কিলোমিটার হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন মানুষ, যাতে তারা জানাজা ও দাফনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। 

আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়: লাখো মানুষের ঢল, আবেগাপ্লুত শীর্ষ ইরানি নেতৃত্ব

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০১ এএম
আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়: লাখো মানুষের ঢল, আবেগাপ্লুত শীর্ষ ইরানি নেতৃত্ব
ইরানের তেহরানে ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জনতার সমাগম। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান চলাকালে কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও ফুটেজে এই আবেগঘন দৃশ্য দেখা গেছে।

ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইরান শাসন করা ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় বিলম্বের পর, গতকাল থেকে ইরানে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই সর্বোচ্চ নেতার সপ্তাহব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কালো পোশাকে আবৃত হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির কফিন রাখা হয়েছে। সেখানে প্রার্থনা চলাকালে পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ এবং তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি শোকে মুহ্যমান হয়ে চোখ মুছছেন এবং একপর্যায়ে তারা ডুকরে কেঁদে ওঠেন।

এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিদেশি কূটনীতিকদের মাথা নত করে গভীর শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়।

বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি ও কড়া নিরাপত্তা

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, খামেনির এই রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে। অন্তত আটটি দেশের সরকারপ্রধান (প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী) এবং ১২টি দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার এই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন।

উপস্থিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন। এছাড়া বাংলাদেশের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তেহরানে এসে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নিরাপত্তার বিষয়ে তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেঘ মোতামাদিয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, 'শহিদ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।'

ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন করার নিয়ম থাকলেও, যুদ্ধের কারণে তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে খামেনির দাফন স্থগিত রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরই এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করা হয়।

কর্মকর্তাদের অনুমান, এই বহুমাত্রিক শোকানুষ্ঠানে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। সূচি অনুযায়ী, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে আগামী সোমবার রাজধানীতে বিশাল শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর কফিন নেওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে। সেখান থেকে প্রতিবেশি দেশ ইরাকের পবিত্র শিয়া নগরী নাজাফ ও কারবালা হয়ে আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা মাজারের পাশে সমাহিত করা হবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/