রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুছ ছালাম (৬১) মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে ড. এস এম আব্দুছ ছালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
দীর্ঘ বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনে তিনি আরবি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শিক্ষা ও গবেষণায় তার অনন্য অবদান রয়েছে। তার রচিত একাধিক গ্রন্থ এবং উচ্চমানের গবেষণা প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান সাময়িকী ও জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদ্বয় বলেন, শিক্ষা, শিক্ষার্থীবৎসলতা ও গবেষণার ক্ষেত্রে মরহুম অধ্যাপক ড. আব্দুছ ছালামের অসামান্য অবদান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। তার এই প্রস্থান উচ্চশিক্ষা অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
শোকবার্তায় তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শাকিবুল/এএফ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রধান ফটকে রাতের আঁধারে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানার টাঙানোর ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে ক্যাম্পাস জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় স্থানীয় পথচারীরা ব্যানারটি প্রথম দেখতে পান।
ব্যানারটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তামিম হাসান এর নাম উল্লেখ রয়েছে।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে কে বা কারা ব্যানারটি লাগিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, আমরা সিসিটিভি ফুটেজে দেখেছি রাত আনুমানিক ৩টার সময় দুইজন প্রধান ফটকের দেয়ালে ব্যানার টানিয়ে ছবি তুলেছে এবং খুলে নিয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি এবং তারা তা বের করতে কাজ করছে। তবে আমার মনে হয় এটা তারা নিজেদের হাইলাইট বা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের প্যানিক করার জন্য করেছে।
শাকিবুল/এএফ
দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ এবং ২৬ ব্যাচের ৭২ শিক্ষার্থীকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে হাবিপ্রবির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে নতুন ভর্তি হওয়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে র্যাগিংয়ে যুক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ওই দুটি ব্যাচের ৭২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রশাসন এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।
র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে র্যাগিংয়ের অপসংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল করতে প্রশাসন কঠোর হস্তে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।
শোকজের নোটিশ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভেটেরিনারি অনুষদের ২৬ ব্যাচের ২৬ জন, ২৫ ব্যাচের ১৩ জন, ইইই বিভাগের ২৬ ব্যাচের ২১ জন, ২৫ ব্যাচের ১০ জন এবং কৃষি অনুষদের ২৫ ও ২৬ ব্যাচের ১ জন করে ২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনে ক্যাম্পাসের পাশে বিসিএস গলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন কর্ণাই গ্রাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর পাড় এবং আবাসিক মেসে নতুন শিক্ষার্থীদের সাথে র্যাগিংয়ের খবর পেয়ে তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম।
এ সময় টিমের সদস্যরা র্যাগিংয়ের প্রাথমিকভাবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন। র্যাগিংয়ে প্রত্যকটি ঘটনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ এবং ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধানে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তাদের প্রত্যেকে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। শোকজ নোটিশে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তাদের ৭২ জনের প্রত্যেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে স্ব-শরীরে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বাসসকে বলেন, 'র্যাগিংয়ের অভিযোগে ৭২ শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়েছে।'
শোকজের লিখিত জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্তে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্তে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন বলে তিনি ব্যক্ত করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের একটি কক্ষের বারান্দায় কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। একই ঘটনায় ওই কক্ষের চার আবাসিক শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১লা জুলাই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক হলের ওয়ার্ডেন অধ্যাপক ড. মীর ফেরদৌস হোসেন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন হলের ওয়ার্ডেন সহযোগী অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল এবং সহকারী অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন। কমিটিকে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
হল প্রশাসন জানায়, ২ জুলাই চার শিক্ষার্থী রসায়ন বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের আরিফ হাসনাত শামীম, রসায়ন বিভাগের ৫২তম ব্যাচের মো. গিয়াসউদ্দিন, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের মো. রাকিব এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের সাদ আব্দুর রহমানকে পৃথকভাবে একই ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, গত ২৭ জুন হলের তৃতীয় তলার ‘এ’ ব্লকের ৩০২ নম্বর কক্ষের বারান্দায় একটি কালেমা খচিত পতাকা টানানো দেখা যায়। পরে এ–সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কক্ষটির আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে এ ঘটনার দায় তারা এড়াতে পারেন না। আগামী ৫ জুলাই সকাল ১০টার মধ্যে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের কার্যালয়ে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মীর ফেরদৌস হোসেন বলেন, “আজ আমরা প্রথম বৈঠক করেছি। চার শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি, তবে বাকিদের পাওয়া যায়নি। তাই সবাইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা রবিবার সকাল ১০টার মধ্যে লিখিত বক্তব্য জমা দেবেন। এরপর সোমবার আবার বৈঠকে বসে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে যার সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে লিখিত বক্তব্য পাওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে আরিফ হাসনাত শামীম বলেন, “আমাদের ওই রকম কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা একজন মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে এবং দাওয়াতের নিয়তে পতাকাটি টাঙিয়েছিলাম। মানুষ ফুটবল নিয়ে যেভাবে মত্ত হয়ে আছে, সেখান থেকে ধর্মীয় সচেতনতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”
তিনি বলেন, পতাকাটি প্রায় দুইদিন টানানো ছিল। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে সেটি নামিয়ে ফেলা হয়।
তালেবান বা অন্য কোনো উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে পতাকাটির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের ওই রকম কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এ ধরনের কোনো প্রশ্নই আসে না।”
তদন্ত কমিটির বিষয়ে আরিফ হাসনাত শামীম বলেন, পরীক্ষার কারণে তিনি প্রথম বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হল প্রশাসনের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লিখিতভাবে দেবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৩০২ নম্বর কক্ষের বারান্দায় কালেমা খচিত একটি পতাকা টানানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে হল প্রশাসনের নির্দেশে পতাকাটি নামিয়ে ফেলা হয়।
আমানউল্লাহ/নাঈম