ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস গণতন্ত্র, জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক অগ্রগতির ইতিহাস। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দিয়েছে। আগামী দিনেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ১০৬তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনে ছিল দিনব্যাপী নানা আয়োজন।
সকাল থেকেই দিবসটি উদযাপনে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল, হোস্টেল ও প্রশাসনিক ভবন থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রাসহকারে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হন। সেখান থেকে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন এবং কেক কাটা হয়। এ সময় সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত, উদ্দীপনামূলক দেশাত্মবোধক গান ও থিম সং পরিবেশিত হয়। এ ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অন্য একটি সংগীত পরিবেশিত হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, নারী শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনন্য। তবে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা, জ্ঞানসৃষ্টি, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে হবে। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ ও জ্ঞানচর্চার সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনেও জাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতি গঠনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদানের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আশা করি, আগামীতেও জাতির সংকটের প্রতিটি মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির প্রত্যাশা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’
আলোচনায় আরও অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়াসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিকেল ৪টায় সাইক্লিং ক্লাবের উদ্যোগে বাইসাইকেল র্যালি এবং স্টান্ট শো আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের দ্বিতীয় দিনে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আয়োজনে আর সি মজুমদার আর্টস মিলনায়তনে ‘১০৫ বছরে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ: অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদি এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার ও ইরান দূতাবাসের ঢাকাস্থ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মাহদি মৌলায়ি আরানি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।