ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কঠিন লড়াইয়ের মানসিকতা থাকতে হবে : মার্তিনেস ফ্রান্সের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ বনাম গিল প্রাচীর ‘আহাদ! আহাদ!’ ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা বুবিস্তার নাটোরে ৩৫ ফুট কালী প্রতিমা ঘিরে পূজা ও মেলা মায়ানমারে বিমান হামলার আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ পদ্মায় শতাধিক ড্রেজারে বালু উত্তোলন ডাকসুর উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি-অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে কিনশাসা খবরের কাগজ ‘বন্ধুজন’ শৈলকুপা উপজেলা কমিটি গঠিত সহজ প্রতিপক্ষ বলা সমালোচকদের জবাব দিলেন স্কালোনি ইতিহাসের সাক্ষী জিগাগাড়ী জামে মসজিদ জুলাই শহিদদের স্মরণে আজ বিশেষ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসালেন মেসি আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ তিব্বতের পতাকা নিয়ে জাতিসংঘের সামনে আত্মহত্যা বাড়ছে জমি নিবন্ধনের খরচ ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন অভিজ্ঞতার ঢাল, গতির তলোয়ার ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে যে বার্তা দিলেন মিশরের কোচ ইসলামী ব্যাংক: ছুটি থেকে এসে জানতে পারেন চাকরি নেই আরাগচি-গালিবাফকেও হত্যা করতে চেয়েছিল ইসরায়েল কষ্টার্জিত জয়ে আত্মসমালোচনায় মেসি চট্টগ্রামে রাজস্ব আদায়ে শীর্ষে জ্বালানি-গাড়ি আমদানি অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে মেসির আরও একটি নতুন ইতিহাস উদাস করা বাবলা ফুল ৪ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহক ভোগান্তি

তেহরানকে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র আরাগচি-গালিবাফকেও হত্যা করতে চেয়েছিল ইসরায়েল

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আরাগচি-গালিবাফকেও হত্যা করতে চেয়েছিল ইসরায়েল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের শুরুতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে হত্যার চেষ্টা হতে পারে বলে তেহরানকে পরোক্ষভাবে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত বৃহস্পতিবার এমন তথ্য প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল শীর্ষ দুই ইরানি আলোচককে হত্যার পরিকল্পনা করতে পারে–এমন আশঙ্কা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা। সে কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মাধ্যমে তেহরানকে সতর্কবার্তা পাঠায় ওয়াশিংটন।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েল যখন ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল, তখন আরাগচি ও গালিবাফও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। ওই সময় জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খাররাজিসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে পারতেন–এমন আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়।

এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আরাগচি ও গালিবাফ ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিতে শুরু করলে তাদের ওপর হামলা হলে শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়তে পারত এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন।

মার্চে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে আরাগচি ও গালিবাফকে টার্গেট না করার আহ্বান জানায়। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা তখন বলেন, এই দুই নেতাকে হত্যা করা হলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মতো কার্যকর কোনো পক্ষ অবশিষ্ট থাকত না। এর পরই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সরে দাঁড়াতে বলে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ইরানে ইসরায়েলের হামলার সময় এবং চলতি বছর আরেকটি ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান গালিবাফ। উভয় ক্ষেত্রেই হামলার শিকার ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক শেষে গালিবাফ দেশে ফেরার সময়ও তার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। ইরান সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা চেয়েছিল এবং পাকিস্তান ইরানি প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল।

ফেরার পথে ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গালিবাফের বিমানকে সতর্ক করে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যে ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইরাকের আকাশসীমা দিয়ে দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানে প্রবেশ করেছে বলেও তথ্য পাওয়া যায়।

এরপর গালিবাফের বিমানটি জরুরি ভিত্তিতে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি ও তার প্রতিনিধিদল প্রায় ৮ ঘণ্টার সড়কপথে তেহরানে ফিরে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

তিব্বতের পতাকা নিয়ে জাতিসংঘের সামনে আত্মহত্যা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
তিব্বতের পতাকা নিয়ে জাতিসংঘের সামনে আত্মহত্যা
জাতিসংঘের সদর দপ্তরের তিব্বতের পতাকা হাতে লোবগা রাংজেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে তিব্বতের পতাকা হাতে নিয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ৯১১-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ৫২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নির্বাসিত তিব্বতিদের সংবাদমাধ্যম ‘ভয়েস অব তিব্বত’ জানায়, ওই ব্যক্তি তিব্বতের মানবাধিকারকর্মী। তার নাম ‘লোবগা রংজেন’। তবে স্থানীয় পুলিশ এখনো ঘটনার কারণ এবং নিহতের পরিচয় প্রকাশ করেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের এক ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বিপরীতে ফার্স্ট অ্যাভিনিউতে তিব্বতের পতাকা হাতে দাঁড়ান এবং তার শরীর আগুনে ঝলসে যায়। রাস্তায় গাড়ি চলাচলের সময়ই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখানে থাকা দুজন ব্যক্তি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় তিব্বতের নির্বাসিত সরকার পেনপা সেরিং বলেন, তিনি এই ঘটনায় খুবই মর্মাহত। তিনি তিব্বতিদের তাদের জীবনের মূল্য অনুধাবন করার আহবান জানান।
সূত্র : সিএনএন

ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ এএম
ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন
ইনস্টাগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে শিশু যৌন নির্যাতনের ভিডিও বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগ উঠেছে ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে। ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে প্রকাশিত এসব বিজ্ঞাপনে ‘রেপ ভিডিও’ ও ‘চাইল্ড ভিডিও’র মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসিআই। বিজ্ঞাপনগুলো থেকে ব্যবহারকারীদের মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে মাত্র ৯৯ রুপিতেই এসব ভিডিও কেনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগে সেগুলো প্ল্যাটফর্মটির স্বয়ংক্রিয় পর্যালোচনা ব্যবস্থার অনুমোদন পায়। অথচ বিবিসি একটি বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার ২৪ ঘণ্টা পর ইনস্টাগ্রাম জানায়, সেটি তাদের কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘন করেনি।

পরে বিবিসি বিষয়টি নিয়ে ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা ইতোমধ্যে কয়েকটি বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে এবং নীতিমালা লঙ্ঘনকারী আরও কনটেন্টের লিংক ব্লক করেছে। মেটার দাবি, শিশু যৌন নির্যাতন একটি জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের কার্যক্রম ঠেকাতে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

টেলিগ্রাম জানিয়েছে, ২০২৬ সালে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ২ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি গ্রুপ ও চ্যানেল সরিয়ে ফেলেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও মানবীয় তদারকির সমন্বয়ে তারা এ ধরনের কনটেন্ট দমনে কাজ করছে। প্রকাশ্যে এ ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া প্রায় নির্মূল করা হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে বিবিসি ভারতে ছদ্মনামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুলে কয়েকজন যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট নির্মাতাকে অনুসরণ করে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সেই অ্যাকাউন্টে ভিডিও কলের প্রস্তাব, পর্নোগ্রাফি এবং পরে শিশুদের নিয়ে যৌন নির্যাতনের ইঙ্গিতপূর্ণ বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু হয়। মোট প্রায় ৩০টি ভিন্ন বিজ্ঞাপনে শিশু যৌন নির্যাতনের ভিডিও প্রচার করা হয় এবং আরও প্রায় ২০টি বিজ্ঞাপনে প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফি দেখানো হয়।

ভারতের আইনে শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদান এবং পর্নোগ্রাফি বিতরণ–উভয়ই ফৌজদারি অপরাধ। মেটার বিজ্ঞাপন নীতিতেও শিশুদের যৌন শোষণ, নগ্নতা কিংবা এ ধরনের কনটেন্ট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিবিসি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন ও টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর তথ্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছেও হস্তান্তর করেছে।

একটি বিজ্ঞাপনে প্রায় ১২ বছর বয়সী এক ছেলে ও এক মেয়েকে যৌন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত অবস্থায় দেখানো হয়। আরেকটিতে ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সঙ্গে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর ছবি দিয়ে লেখা ছিল, ‘আরও দেখতে ক্লিক করুন’, যা একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে যায়।

বিবিসি জানায়, একটি বিজ্ঞাপনে যৌন নির্যাতনের শিকার বলে মনে হওয়া এক শিশুকন্যার ছবি ছিল। সেটি রিপোর্ট করার পরও ইনস্টাগ্রাম জানায়, বিজ্ঞাপনটি তাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি। পরে মেটা স্বীকার করে, তাদের পর্যালোচনা ব্যবস্থা সব ধরনের নীতিমালা লঙ্ঘন শনাক্ত করতে সক্ষম নয়।

মেটা জানায়, তারা শিশু শোষণের অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি)-এ রিপোর্ট করে। ২০২৫ সালে সংস্থাটির সাইবার টিপলাইন থেকে ভারতে ১৯ লাখ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০ লাখ অভিযোগ পাঠানো হয়।

ভারতের সাবেক সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি মদন লোকুর বিবিসিকে বলেন, এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রাম কার্যত একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে অর্থ উপার্জন করছে। তার মতে, বিষয়টি এতটাই গুরুতর যে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে।

ফেসবুকের (বর্তমান মেটা) সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান বোল্যান্ডও বিবিসির অনুসন্ধানে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম ক্রমেই আরও উত্তেজক কনটেন্ট দেখায়। তার ভাষায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার চেয়ে আয়ের বিষয়টি কোম্পানির কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মেটা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের দিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন অনুপযুক্ত ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দেয় না। ২০২৫ সালে সন্দেহজনক আচরণের কারণে ৪০ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা হয় বলেও জানায় মেটা।

ভারতের শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, ইনস্টাগ্রাম থেকে টেলিগ্রামে সহজে চলে যাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা একই ধরনের কনটেন্ট বারবার ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের মতে, এ অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও জোরদার করা জরুরি। সূত্র: বিবিসি

‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ইহুদিদের একটি বড় অংশ কেন এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে সমর্থন করে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বন্ধুসুলভ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে কড়া সমালোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ইহুদিদের ভোটদানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “একজন ইহুদি কীভাবে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিতে পারে, তা আমি বুঝি না। কারণ, ইসরায়েলের ইতিহাসে আমিই সেরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তারা তা স্বীকারও করে। আমি মনে করি ইসরায়েলে আমার জনপ্রিয়তার হার ৯৯ শতাংশ বা এরকম কিছু।”

তবে ইসরায়েলিদের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা থাকলেও সম্প্রতি তা কমেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্ইয়ের পর ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এমনটি হয়েছে।

অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের ওবামার আমলের চুক্তির চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট-এর গত মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কাছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় বলে মনে করেন মাত্র ৪৪ শতাংশ ইসরায়েলি।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিজের প্রথম মেয়াদ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময়ও বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন মার্কিন ইহুদিরা ঐতিহাসিকভাবে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেয়? তিনি বলেছিলেন, যেসব ইহুদি ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেয়, তাদের “মাথা পরীক্ষা করা উচিত।”

২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ ইহুদি ট্রাম্পের পরিবর্তে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকেই ভোট দিয়েছে। গত এপ্রিলের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র ২২ শতাংশ মার্কিন ইহুদি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কার্যকলাপ সমর্থন করে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল/এসএন

ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে জুনের শেষ দিকে হওয়া ভয়াবহ দাবদাহে ৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে তাদের মৃত্যুর তথ্য ইলেকট্রনিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। এ ছাড়াও তাপপ্রবাহের সময় অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা (আইএনএসইই) এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ত বলেন, এই তথ্য এখনো প্রাথমিক এবং চূড়ান্ত নয়। কারণ ইলেকট্রনিক মৃত্যুর সনদ দেশজুড়ে সব মৃত্যুর তথ্য কভার করে না।

কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান তথ্য সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা উচিত এবং এতে তাপপ্রবাহের প্রকৃত প্রভাব পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে। দেশে ইলেকট্রনিক মৃত্যু সনদ প্রায় ৬০ শতাংশ মৃত্যুকে কভার করে, তবে অঞ্চলভেদে এই হার ভিন্ন।

ফ্রান্সে সম্প্রতি একাধিক দিন ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা তীব্র গরম পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। সূত্র: বিবিসি

এএফ/

ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ
ছবি: এআই

নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা চালু করার মাধ্যমে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের টানাপড়েন কমার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে চীনের বিনিয়োগের চেষ্টা এবং সেই সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ সামলানোর বিষয়টি এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চীনের কাছ থেকে বিনিয়োগ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকাকে অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সতর্ক হতে হবে। গতকাল শুক্রবার হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ সতর্কবাতা তুলে ধরেছে।

গত রবিবার থেকে ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা আবেদন নেওয়া শুরু করেছে। আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এই সেবা প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হতে থাকে। তবে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এখনও কিছুটা কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করে রেখেছে।

সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ভারতের ও.পি. জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরধা দত্ত বলেন, কেবল পর্যটন ভিসা চালু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সীমান্ত বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিষয়গুলোও স্বাভাবিক হবে। এটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।

গত বছর দিল্লি একটি ট্রানজিট সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য ভারতের স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহার করে অন্যান্য বাজারে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে বাংলাদেশের নতুন প্রশাসন একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত মাসে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং দেশের ভেতরে চীনের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ আনা। অধ্যাপক শ্রীরধা দত্ত জানান, বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট যেমন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানি ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেটাই এখন বাংলাদেশ সরকারের মূল লক্ষ্য।

চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া চীন মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে, যা বেইজিংকে সরাসরি বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রবেশাধিকার দেবে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী সরু অংশ 'চিকেনস নেক'-এর কাছাকাছি মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত করিডোরের মতো প্রকল্পে চীনের এই অংশগ্রহণকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দিল্লি। লন্ডনের লেখক প্রিয়জিৎ দেব সরকার মনে করেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভারতের অস্বস্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ হয়ত এই বিনিয়োগের দিকে এগিয়ে যাবে। তবে ঢাকাকে খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে, যাতে দুই দেশের বিনিয়োগ একে অপরকে বাধাগ্রস্ত না করে। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ভারতের সঙ্গে সাপ্লাই চেইন ও যাতায়াত সহজ, যা বাংলাদেশের বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী।

এদিকে ভারতের অশোকা ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদয় চন্দ্র বলেন, মায়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে চীন-বাংলাদেশ করিডোরটি এখনই বাস্তবায়ন হওয়া কঠিন। এটি বর্তমানে একটি রাজনৈতিক বার্তা মাত্র। তবে এর কৌশলগত প্রভাব ভারতের ওপর পড়বে। চীনের এমন প্রভাব ঠেকাতে ভারতকে আরও ভালো অর্থনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ভারতকে বাংলাদেশের জন্য সহজ বাণিজ্য শর্ত, সস্তা ট্রানজিট এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামোর সুবিধা দিতে হবে। তবে পর্যটন ভিসা চালু হওয়াটা দুই দেশের বরফ গলার প্রথম বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

সাউথ চায়না মনিং পোস্ট/এসএন