ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মেসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা মেসির গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মিশর টাইব্রেকারে গড়াল মিশর-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড অতিরিক্ত সময়ে গড়াল অস্ট্রেলিয়া-মিশর ম্যাচ আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে কারা জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার মিশরের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে বড় সতর্কবার্তা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিশর বন্যার ঝুঁকিতে জুলাই-আগস্ট, সতর্কবার্তা এফএফডব্লিউসির খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’ ‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি, উপজেলা জামায়াতের আমির অব্যাহতি মিশরকে হারালেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে কি খেলবেন মোহাম্মদ সালাহ? সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের মিশরের ফুটবলারদের সঙ্গে ডালাস পুলিশের হাতাহাতি ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি এরনান গিল। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে ৮ দিন ধরে আটকে থাকার পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

দেশটির জরুরি উদ্ধারকর্মীরা এরনান গিল নামের ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করার ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় পর চেষ্টা চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেছেন। ভবনের ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করার কথা জানিয়েছেন জরুরি সেবাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভেনেজুয়েলায় এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে চিলির এক অগ্নিনির্বাপক কর্মী এই উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে বলেছিলেন, ‌‌‘‘এটি আমার মোকাবিলা করা সবচেয়ে জটিল এবং প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে কঠিন উদ্ধার অভিযান। এটা নিয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই।

গত ২৪ জুনের ওই জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। 

এছাড়া স্মরণকালের ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে  আরও হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে গিলের সন্ধান পাওয়ার পর থেকে তাকে উদ্ধারে শত শত উদ্ধারকর্মী দিনরাত এক করে কাজ করছিলেন। তাকে উদ্ধারের এই অভিযানে ভেনেজুয়েলা, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী বিভিন্ন দল একসঙ্গে কাজ করেছে।

গিলের কাছে পৌঁছানোর জন্য উদ্ধারকারীদের তৈরি করা সুড়ঙ্গের কিছু অংশ কয়েকবার ধসে পড়েছিল; যা তার পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীদের জন্যও কাজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দলগুলোর সদস্যরা অবশেষে বুধবার রাতে গিলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন।

গিল যেখানে আটকে ছিলেন, সেখানে প্রবেশ করানো একটি ছোট ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে চিলির এক অগ্নিনির্বাপক কর্মীকে গিলের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, তিনি যেন তার মাথা ক্যামেরার দিকে ঘোরান। এ সময় তার একটি চোখ রক্তবর্ণ (লাল) এবং মুখে একটি মাস্ক পরা ছিল। উদ্ধারকাজে তৈরি হওয়া ধুলাবালি ও ধ্বংসাবশেষ থেকে রক্ষা করার জন্য উদ্ধারকর্মীরা এর আগে একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে ওই মাস্ক তার কাছে পাঠিয়েছিলেন।

উদ্ধারকারীরা চারপাশের ধ্বংসস্তূপ সতর্কতার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার সময় চোখের সুরক্ষার জন্য অগ্নিনির্বাপক কর্মীকে তাকে একটি চশমাও (গগলস) পরে নেওয়ার অনুরোধ করেন। কোস্টারিকান রেড ক্রসের সদস্য রিকার্দো আরিয়াস স্থানীয় সাংবাদিক জোয়ান কামারগোকে বলেছেন, গিলের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। তারা গিলকে পানি দিতে পেরেছেন এবং একটি ইন্ট্রাভেনাস ড্রিপ লাগাতে সক্ষম হয়েছেন।

আরিয়াস বলেন, শপিং সেন্টারটি ধসে পড়ার সময় গিল অলৌকিকভাবে চাপা পড়া থেকে বেঁচে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গিল আমাদের বলেছেন, তার নখের ওপরও কোনও চাপ লাগেনি। তিনি ভালো আছেন।

জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় ভেনেজুয়েলার কাতিয়া লা মারের ‘গ্যালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে মল’ সংলগ্ন পার্কিং লটের বেসমেন্টে একটি ছোট কংক্রিটের বুথে দায়িত্বরত ছিলেন গিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছোট বুথটি তার চারপাশে একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করেছিল; যা তাকে চারপাশ থেকে ধসে পড়া ১৪০ টন ওজনের ধ্বংসস্তূপের হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। সূত্র: বিবিসি।

এএফ/

‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ইহুদিদের একটি বড় অংশ কেন এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে সমর্থন করে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বন্ধুসুলভ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে কড়া সমালোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ইহুদিদের ভোটদানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “একজন ইহুদি কীভাবে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিতে পারে, তা আমি বুঝি না। কারণ, ইসরায়েলের ইতিহাসে আমিই সেরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তারা তা স্বীকারও করে। আমি মনে করি ইসরায়েলে আমার জনপ্রিয়তার হার ৯৯ শতাংশ বা এরকম কিছু।”

তবে ইসরায়েলিদের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা থাকলেও সম্প্রতি তা কমেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্ইয়ের পর ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এমনটি হয়েছে।

অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের ওবামার আমলের চুক্তির চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট-এর গত মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কাছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় বলে মনে করেন মাত্র ৪৪ শতাংশ ইসরায়েলি।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিজের প্রথম মেয়াদ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময়ও বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন মার্কিন ইহুদিরা ঐতিহাসিকভাবে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেয়? তিনি বলেছিলেন, যেসব ইহুদি ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেয়, তাদের “মাথা পরীক্ষা করা উচিত।”

২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ ইহুদি ট্রাম্পের পরিবর্তে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকেই ভোট দিয়েছে। গত এপ্রিলের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র ২২ শতাংশ মার্কিন ইহুদি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কার্যকলাপ সমর্থন করে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল/এসএন

ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে জুনের শেষ দিকে হওয়া ভয়াবহ দাবদাহে ৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে তাদের মৃত্যুর তথ্য ইলেকট্রনিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। এ ছাড়াও তাপপ্রবাহের সময় অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা (আইএনএসইই) এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ত বলেন, এই তথ্য এখনো প্রাথমিক এবং চূড়ান্ত নয়। কারণ ইলেকট্রনিক মৃত্যুর সনদ দেশজুড়ে সব মৃত্যুর তথ্য কভার করে না।

কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান তথ্য সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা উচিত এবং এতে তাপপ্রবাহের প্রকৃত প্রভাব পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে। দেশে ইলেকট্রনিক মৃত্যু সনদ প্রায় ৬০ শতাংশ মৃত্যুকে কভার করে, তবে অঞ্চলভেদে এই হার ভিন্ন।

ফ্রান্সে সম্প্রতি একাধিক দিন ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা তীব্র গরম পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। সূত্র: বিবিসি

এএফ/

ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ
ছবি: এআই

নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা চালু করার মাধ্যমে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের টানাপড়েন কমার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে চীনের বিনিয়োগের চেষ্টা এবং সেই সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ সামলানোর বিষয়টি এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চীনের কাছ থেকে বিনিয়োগ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকাকে অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সতর্ক হতে হবে। গতকাল শুক্রবার হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ সতর্কবাতা তুলে ধরেছে।

গত রবিবার থেকে ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা আবেদন নেওয়া শুরু করেছে। আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এই সেবা প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হতে থাকে। তবে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এখনও কিছুটা কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করে রেখেছে।

সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ভারতের ও.পি. জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরধা দত্ত বলেন, কেবল পর্যটন ভিসা চালু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সীমান্ত বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিষয়গুলোও স্বাভাবিক হবে। এটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।

গত বছর দিল্লি একটি ট্রানজিট সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য ভারতের স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহার করে অন্যান্য বাজারে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে বাংলাদেশের নতুন প্রশাসন একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত মাসে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং দেশের ভেতরে চীনের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ আনা। অধ্যাপক শ্রীরধা দত্ত জানান, বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট যেমন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানি ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেটাই এখন বাংলাদেশ সরকারের মূল লক্ষ্য।

চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া চীন মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে, যা বেইজিংকে সরাসরি বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রবেশাধিকার দেবে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী সরু অংশ 'চিকেনস নেক'-এর কাছাকাছি মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত করিডোরের মতো প্রকল্পে চীনের এই অংশগ্রহণকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দিল্লি। লন্ডনের লেখক প্রিয়জিৎ দেব সরকার মনে করেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভারতের অস্বস্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ হয়ত এই বিনিয়োগের দিকে এগিয়ে যাবে। তবে ঢাকাকে খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে, যাতে দুই দেশের বিনিয়োগ একে অপরকে বাধাগ্রস্ত না করে। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ভারতের সঙ্গে সাপ্লাই চেইন ও যাতায়াত সহজ, যা বাংলাদেশের বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী।

এদিকে ভারতের অশোকা ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদয় চন্দ্র বলেন, মায়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে চীন-বাংলাদেশ করিডোরটি এখনই বাস্তবায়ন হওয়া কঠিন। এটি বর্তমানে একটি রাজনৈতিক বার্তা মাত্র। তবে এর কৌশলগত প্রভাব ভারতের ওপর পড়বে। চীনের এমন প্রভাব ঠেকাতে ভারতকে আরও ভালো অর্থনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ভারতকে বাংলাদেশের জন্য সহজ বাণিজ্য শর্ত, সস্তা ট্রানজিট এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামোর সুবিধা দিতে হবে। তবে পর্যটন ভিসা চালু হওয়াটা দুই দেশের বরফ গলার প্রথম বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

সাউথ চায়না মনিং পোস্ট/এসএন

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির
রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা নিয়ে চীনের সঙ্গে চলমান আলোচনা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে 'জে-১০সিই' যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা এবং প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর (সিএমবিসি) ঘিরে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ওপর গভীর নজর রাখছে ভারত।

শুক্রবার (৩ জুলাই) নয়াদিল্লিতে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর যেকোনো উন্নয়নমূলক, অর্থনৈতিক বা কৌশলগত কর্মকাণ্ড ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং এসব বিষয়ে তারা সচেতন রয়েছে।

জয়সওয়াল আরও বলেন, 'আমরা আমাদের প্রতিবেশী অঞ্চলের এই ধরণের সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।'

সম্প্রতি চীনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর এবং চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার খবর সামনে আসে। 

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় এই বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পেয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই মন্তব্য করেন।

সফরকালে তিস্তা নদীর উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তার বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতির বিষয়েও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দেন জয়সওয়াল।

তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়টি একটি পারস্পরিক সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে।

তিস্তা নদী প্রকল্প প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে নয়াদিল্লির দৃষ্টিভঙ্গি আগেই বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো কৌশলগত, অর্থনৈতিক বা অবকাঠামোগত উদ্যোগ ভারতের বৃহত্তর আঞ্চলিক নীতির অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে ঘিরে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নই নয়াদিল্লি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেই আলোকে নিজেদের নীতিগত অবস্থান নির্ধারণ করবে।

এসএন/

শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান
পতাকায় মোড়ানো কফিন—খামেনির শেষযাত্রার আবেগঘন দৃশ্য। ছবি: এআই

তেহরানে শোকাবহ পরিবেশে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত খামেনির কফিন ধীরগতিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গ্র্যান্ড মোসাল্লার দিকে—যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার কেন্দ্র।

দাফনের পূর্ববর্তী শোকানুষ্ঠানে কালো পোশাকে অংশগ্রহণকারীরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে কফিনটি নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করেন। লাল ফুলে সজ্জিত প্রাঙ্গণ আর চারদিকে উড়তে থাকা সাদা প্রজাপতি যেন শোক, শ্রদ্ধা ও বিদায়ের প্রতীক হয়ে পুরো পরিবেশকে আরও গম্ভীর ও আবেগময় করে তোলে।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই দাফন প্রক্রিয়া কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রতীকী তাৎপর্য।

ইরানের শাসকগোষ্ঠী এই আয়োজনকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের সমর্থন ও আনুগত্যের প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরছে।

একই সঙ্গে বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে দেশটির বিপ্লবী আদর্শ ও রাষ্ট্রীয় ঐক্য এখনো অটুট রয়েছে—এমন বার্তাই দেশ-বিদেশে পৌঁছে দিতে চাইছে তেহরান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সব জাতি, ধর্ম ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ইরানিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের ব্যাপক উপস্থিতি সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত জবাব হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের কাছে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, ইরানি জাতি তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দেরিতে দাফন নিয়ে একটি মহল নেতিবাচক কথা বলছেন। 

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধ অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিপজ্জনক রূপ নেওয়ায় তখন শেষকৃত্য করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় এই বিশাল জানাজার আয়োজন করা হচ্ছে।

সে দেশের কর্মকর্তারা আরও জানান, ধর্মীয় ও আইনি নিয়ম মেনেই এতদিন তার মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ইসলাম ধর্মে রাসায়নিক দিয়ে লাশ মমি বা তাজা রাখা নিষেধ। তাই খামেনির মরদেহ মমি না করে আধুনিক ফরেনসিক মর্গের হিমাগারে (ফ্রিজে) বরফ করে রাখা হয়েছিল। শিয়া ধর্মীয় আইন অনুযায়ী, বিশেষ জরুরি পরিস্থিতিতে লাশ ফ্রিজে রেখে দাফন দেরিতে করার সুযোগ রয়েছে। 

শুক্রবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৩৬ বছরেরও বেশি সময় দেশটির নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, খামেনির শেষ বিদায়ে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন। তা হলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান।

তেহরানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায়, যেখানে লাখো ভক্ত-অনুসারী শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন। এরপর আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে। এই দীর্ঘ পরিক্রমার মাধ্যমে ইরান কেবল একজন নেতাকে বিদায়ই জানাচ্ছে না, বরং তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তরাধিকারের প্রতিও আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।

এসএন/